সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
তথ্যপ্রযুক্তি

এআই নজরদারি ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে, সতর্ক করলেন বারাক ওবামা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৩
AI আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাবে—তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপদও ডেকে আনতে পারে
AI আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাবে—তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপদও ডেকে আনতে পারে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ নজরদারি না থাকলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটির একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন ওবামা। তার বক্তব্যের আংশিক প্রতিলিপি পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয় এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা প্রকাশ করে।

 

ওবামার মূল উদ্বেগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং এর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে এআই মানুষের জন্য বড় ধরনের সুফলও বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

 

এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রযুক্তিটি ওষুধ তৈরির গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে দিতে পারে এবং রোগ নিরাময়ের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তবে ওবামার উদ্বেগ শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়। এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা, শিশুদের ওপর এর প্রভাব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকেও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এআই নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওবামা।

 

ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তাহলে এআই নিয়ে একটি বিস্তৃত ও প্রকাশ্য নীতিগত আলোচনা শুরু করার জন্য জেফরিসকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওবামা। তবে জেফরিস এখনো হাউসের স্পিকার নন; তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই তিনি সেই পদে যেতে পারেন।

 

এআই ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ভোটারদের মধ্যে চাকরি, বিদ্যুৎ খরচ, গোপনীয়তা এবং এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

 

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এআই নিয়ে নীতিগত অবস্থান তৈরির চাপ বাড়ছে। এর আগে দলটির কয়েকজন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ ও এআই নিরাপত্তা সমর্থক মিলে ‘টুমরো টুগেদার’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা।

 

সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
AI আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাবে—তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপদও ডেকে আনতে পারে
এআই নজরদারি ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে, সতর্ক করলেন বারাক ওবামা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ নজরদারি না থাকলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   ১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটির একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন ওবামা। তার বক্তব্যের আংশিক প্রতিলিপি পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয় এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা প্রকাশ করে।   ওবামার মূল উদ্বেগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং এর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে এআই মানুষের জন্য বড় ধরনের সুফলও বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।   এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রযুক্তিটি ওষুধ তৈরির গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে দিতে পারে এবং রোগ নিরাময়ের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তবে ওবামার উদ্বেগ শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়। এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা, শিশুদের ওপর এর প্রভাব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকেও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এআই নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওবামা।   ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তাহলে এআই নিয়ে একটি বিস্তৃত ও প্রকাশ্য নীতিগত আলোচনা শুরু করার জন্য জেফরিসকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওবামা। তবে জেফরিস এখনো হাউসের স্পিকার নন; তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই তিনি সেই পদে যেতে পারেন।   এআই ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ভোটারদের মধ্যে চাকরি, বিদ্যুৎ খরচ, গোপনীয়তা এবং এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এআই নিয়ে নীতিগত অবস্থান তৈরির চাপ বাড়ছে। এর আগে দলটির কয়েকজন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ ও এআই নিরাপত্তা সমর্থক মিলে ‘টুমরো টুগেদার’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৩
অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপারদের ২৭০ কোটি ডলারের মামলা

আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ০.৮৫ শতাংশ বলে পূর্বাভাস দিয়েছে একটি এআই সিস্টেম

মানুষের জন্য এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ কোথায়, জানাল এআইই

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। এর ডিসপ্লে সরবরাহ করবে স্যামসাং ডিসপ্লে। ছবি: সংগৃহীত

আইফোন ডুওর ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে প্রতি ইউনিটে ২৫০ ডলার দেবে অ্যাপল

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম প্রেজেন্টেশনেই স্টিভ জবসের কৌশল অনুসরণ করলেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন।   ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন।   নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য।   জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে।   এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে।   আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।   ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন।   সূত্র: ফোর্বস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৭
ক্লড মডেলের আচরণ নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক পরিবেশ ছেড়ে বাস্তবের ইন্টারনেটে হানা, পাসওয়ার্ড চুরির সফটওয়্যারও বানিয়েছে ক্লড

আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’

আপনার হয়ে ই-মেইল পেমেন্ট করবে মেটার নতুন এআই ‘মিউজ’

ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় আজ নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করছে অ্যাপল। ছবি: সংগৃহীত

বড় চমক নিয়ে আজ অ্যাপলের ইভেন্ট, আসছে আইফোন ১৮ ও ভাঁজ করা আইফোন!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে বৈশ্বিক চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ে কোন চাকরি টিকবে? বিল গেটসের ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে ৩ পেশা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি।    গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।   তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।    তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত।    তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন।    গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:৪৯
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। ছবি: সংগৃহীত

এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

মানুষ না হয়েও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা। ছবি: সংগৃহীত

আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!

0 Comments