যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভয়াবহ অচলাবস্থা, এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে বাতিল ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS)-এর সিস্টেমে দেখা দেওয়া ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে অন্তত দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ের জেরে বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাজ্যের ১৫টি প্রধান বিমানবন্দরে চরম অচলাবস্থা দেখা দেয়।
হাজার হাজার যাত্রীকে রানওয়েতে থাকা উড়োজাহাজের ভেতর কিংবা টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকতে হয়। অনেক বিমানবন্দর বাধ্য হয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং ভুল গন্তব্যে আটকে থাকা প্লেনগুলোকে সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্বে থাকা সংস্থা এনএটিএস (NATS) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের একটি ত্রুটির কারণেই মূলত এই বিপত্তি ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মূল কারিগরি সমস্যাটির সমাধান করা হলেও, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবিলায় এয়ারলাইনসগুলোকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গত তিন বছরে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এয়ার ট্রাফিক সিস্টেম ধসে পড়ার ঘটনায় এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার এনএটিএস-এর প্রধান নির্বাহী মার্টিন রোলফের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই সংস্থাটির প্রধান হিসেবে মার্টিন রোলফ অবশ্য যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থা এখনো বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও কার্যকর সিস্টেম।
এদিকে আকস্মিক এই বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ও 'দ্য ওয়াকিং ডেড' কমিক সিরিজের কার্টুনিস্ট চার্লি অ্যাডলার্ড ইতালির সিসিলিতে একটি সম্মেলনে যাওয়ার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে এই বিশৃঙ্খলার কবলে পড়েন।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি তার এই সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে একটি "অযথা ও অপচয়মূলক যাত্রা" হিসেবে আখ্যায়িত করে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। শুধু হিথ্রো নয়, লন্ডনের গ্যাতউইক বিমানবন্দরেও যাত্রীদের স্যুটকেসের পাশে খালি মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আগ পর্যন্ত ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি অত্যাধুনিক ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান। বুধবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌযান ও বাহিনীর ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যাপক হামলার অংশ হিসেবে এই আক্রমণ চালায় তেহরান। জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইরানের ব্যবহৃত এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটিতে মূলত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সিকার বা বিশেষ সেন্সর যুক্ত রয়েছে, যা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং আলোর সাহায্যে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি জিপিএস প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে কাজ করে, যার ফলে আধুনিক জ্যামিং সিস্টেম দিয়ে একে সহজে বিভ্রান্ত করা যায় না। গত বছরের শেষের দিকে ইরান ‘কাসেম বাসির’ নামের মাঝারি পাল্লার এমনই একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে এনেছিল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সেক্রেটারি মহসিন রেজাই বুধবারের এই হামলাকে তার দেশের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি এই নতুন অস্ত্রটিকে বিশেষ ‘অ্যান্টি-ডেস্ট্রয়ার’ বা ডেস্ট্রয়ার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করার পরই তার কড়া জবাব দিতে এই পাল্টা হামলা চালাল তেহরান। এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার থেকেই তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরে থাকা মার্কিন জাহাজে এই হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে আইআরজিসি বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা সামরিক ঘাঁটি এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও যেকোনো মুহূর্তে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং জাহাজের নাবিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আঞ্চলিক এই সংঘাত এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার প্রভাবে জুলাই মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভয়াবহ অচলাবস্থা, এয়ার ট্রাফিক ত্রুটিতে বাতিল ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট
ফুড পয়জনিং ভেবে কয়েক মাসের অবহেলা, পরে ধরা পড়ল তৃতীয় স্টেজের ক্যানসার
অ্যাসাইলাম বাতিল: ৮ বছর পর কানাডা ছাড়তে হলো এক ভারতীয় পরিবারকে!
বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে গরুর মাংসকে নিজের পছন্দের খাবার হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন টালিউডের অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে শুটিং করতে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি গরুর মাংস ও ইলিশ মাছ পছন্দের কথা জানান। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একদিকে সমালোচনা, অন্যদিকে তার খাদ্যপছন্দের অধিকারের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে। বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশে এসে তিনি দুপুরে মাংস-ভাত খেয়েছেন এবং রাতে গরুর মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। কেউ কেউ তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার অনেকে বলেছেন, একজন মানুষ কী খাবেন, সেটি একান্তই তার ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। বিতর্কের মূল জায়গাটি অবশ্য শুধু খাদ্যপছন্দে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রয়েছে। ফলে একজন পরিচিত পাবলিক পার্সোনালিটি নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে তার বক্তব্যের সামাজিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় আসে। একটি পক্ষের বক্তব্য, খাদ্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক ব্যক্তিগত অধিকারের অংশ। কে গরুর মাংস খাবেন, কে খাবেন না কিংবা কে কোন খাবার পছন্দ করবেন, সেটি নিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, সমালোচকদের যুক্তি হলো, ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার থাকলেও পাবলিক পার্সোনালিটির প্রকাশ্য বক্তব্যে সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো খাবার বা অভ্যাস যখন ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তখন সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় সম্ভাব্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ বিশ্বজিতের বক্তব্যকে ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি অসংবেদনশীলতা হিসেবে দেখেছেন। আবার অন্যরা মনে করছেন, শুধু কোনো খাবার পছন্দ করার কারণে একজন মানুষকে আক্রমণ করা বা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। এর আগেও বাংলাদেশি খাবার ও গরুর মাংস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন অঙ্গনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৪ সালে সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাংলাদেশি রান্নার একটি ভিডিও ঘিরেও একই ধরনের সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের মন্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন: ব্যক্তিগত খাদ্যস্বাধীনতা যেমন সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, তেমনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্য বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কি একজন পরিচিত ব্যক্তির বাড়তি দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন? সামাজিক মাধ্যমের বিতর্কে আপাতত দুই মতই জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
হাসপাতালে শুয়েও লুকিয়ে ভ্যাপ, ৬ বছরের আসক্তির পর স্ট্র দিয়ে শ্বাসের মতো অবস্থা
মেয়েকে বন্দি জীবন থেকে বাঁচাতে ১০ বছর ছেলে করে রাখলেন আফগান বাবা
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
খুচরা বিক্রয় বাজারের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘কস্টকো হোলসেল’ তাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১৪টি নতুন ওয়্যারহাউস বা শোরুম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসেই বাজারে আসছে এক ডজনের বেশি নতুন শাখা। নতুন এসব ওয়্যারহাউসে গ্রাহকরা তাঁদের জনপ্রিয় কির্কল্যান্ড (Kirkland) ব্র্যান্ডের পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্যের ফুড কোর্ট আইটেম এবং সুলভ মূল্যে জ্বালানি তেল নেওয়ার সুবিধা পাবেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, টেক্সাস, ইউটাহ ও উইসকনসিনের পাশাপাশি মেক্সিকো এবং তাইওয়ানে সফলভাবে স্টোর চালুর পর এবার এই বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রন ভ্যাচ্রিস এবং প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) গ্যারি মিলারচিপের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৩০টি বা তার বেশি নতুন ওয়্যারহাউস চালুর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কস্টকো। যার অর্ধেকটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বাস্তবায়িত হবে। তবে রোড আইল্যান্ড, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বা ওয়োমিংয়ের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখনই নতুন কোনো শাখা খোলার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অক্টোবরের মধ্যে মিসৌরির লিস সামিট, টেক্সাসের দ্য কলোনি, নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট, কানসাসের লরেন্স এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যামেরিলোতে পাঁচটি নতুন স্টোর চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া নভেম্বর মাসে কানাডার অ্যালবার্টা ও অন্টারিওর বিভিন্ন এলাকাসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো, ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, ভার্জিনিয়া এবং উইসকনসিনে আরও নয়টি নতুন ওয়্যারহাউস বা বিজনেস সেন্টার খোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
আজ থেকে কানাডার পাল্টা ট্যারিফ, আমেরিকানদের ব্যবসা ও চাকরিতে কতটা প্রভাব?
যুদ্ধের ময়দানে এবার মানুষ নয়, রোবট! হিউম্যানয়েড সেনা তৈরিতে চীনের তোড়জোড়