সামরিক ড্রোন পাঠানোর দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ শুক্রবার (১২ জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট হাইভোল্টেজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পরিচালিত ওই ড্রোন অভিযানের গোপন পরিকল্পনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন শুরু থেকেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিচারক তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শত্রুপক্ষকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করার গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
আদালতে পেশ করা অভিযোগ অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠিয়ে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল ইউনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি মূলত এই উত্তেজনাকে পুঁজি করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে সামরিক আইন জারির একটি মোক্ষম অজুহাত তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তবে সাবেক এই রক্ষণশীল নেতা আদালতের কাঠগড়ায় তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, তিনি কখনো এই ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি এবং এটি সামরিক আইন জারির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর একটি স্বাভাবিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল এই ড্রোন মিশন।
এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া থেকে জানা যায়, এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশটির সরকারি প্রসিকিউটররা ইউনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন, যা আদালত বহাল রাখলেন। এই ঐতিহাসিক রায় ক্ষমতাচ্যুত রক্ষণশীল এই নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া একাধিক আদালতের রায়ের সর্বশেষ সংযোজন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক শীর্ষ প্রসিকিউটর থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া ইউনের বিতর্কিত সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তটি দেশটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে ফেলেছিল, যার রেশ এখনো কাটেনি।
বিতর্কিত এই নেতার আইনি জটিলতা এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্য আরেকটি মামলায় সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে তাকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংবিধান আদালত তার অভিশংসন বহাল রাখার পর গত বছর ইউনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে দেশে অনুষ্ঠিত আগাম সাধারণ নির্বাচনে উদারপন্থী নেতা লি জে-মিয়ং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠন করেন। বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন অবশ্য শুক্রবারের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ১৯৯৩ সালের আলোচিত সম্পর্কের ঘটনার তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ড. রুথ বার। ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকা বার এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং তার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুর সময়ের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন। ১৯৯৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ইসরায়েলের তৎকালীন একমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ানে সরাসরি সম্প্রচারে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর কথা স্বীকার করেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি লিকুদ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এবং রুথ বার ছিলেন তার কৌশলগত উপদেষ্টা। ঘটনাটি সামনে আসে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর। নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারাকে ফোন করে জানানো হয়, তার স্বামীর সঙ্গে রুথ বারের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও টেপ রয়েছে এবং নেতানিয়াহু লিকুদ নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরে না দাঁড়ালে সেটি প্রকাশ করা হবে। নেতানিয়াহু সরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি টেলিভিশনে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তবে সেই কথিত ভিডিও টেপ কখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনার পর রুথ বার কার্যত জনজীবন থেকে আড়ালে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বর্তমান যুগ তখন ছিল না। ফলে কয়েক বছর পর তিনি আবার নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন। মনোবিজ্ঞানী ও কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন। ৩৩ বছর পর এবারই প্রথম তিনি বিস্তারিতভাবে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্ক, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং লিকুদে নেতানিয়াহুর দ্রুত উত্থান নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। বারের বক্তব্যের গুরুত্ব শুধু পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নয়। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার কৌশলগত দলটির একজন সদস্য ছিলেন বার। ফলে সে সময় নেতানিয়াহু কীভাবে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি কীভাবে তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্থান তখনই শুরু হয়েছিল, যখন লিকুদে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের একটি অংশ তাকে হুমকি হিসেবে দেখছিল। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে নেতানিয়াহু দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু লিকুদের নেতৃত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই রাজনৈতিক উত্থানের প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল ও ভোটারদের আচরণ নিয়েও রুথ বার দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন। বর্তমানে তার নতুন বই ‘ব্রেইন আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স’ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটিতে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্র্যান্ডিং এবং রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের প্রভাব নিয়ে তার দীর্ঘ গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই বই প্রকাশের সময়ই তিনি তিন দশকের নীরবতা ভেঙে পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বললেন।
তিনজনের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিল যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশু!
ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া
যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’
ব্রনওয়েন জেমস নামের ৩০ বছর বয়সী ব্রিটেনের এক নারী শরীরচর্চা শিক্ষিকা তার ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সী আরও দুই স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ৯টি অভিযোগও আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটনে শিক্ষকতা করার সময় ওই কিশোরের সঙ্গে স্ন্যাপচ্যাটে আলাপের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলেন জেমস। এমনকি নিজের মোবাইল ফোনে ওই কিশোরকে তিনি ‘নম্বর ৮’ হিসেবে সেভ করে রেখেছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষিকা তার প্রেমিককে নিয়ে যে বাড়িতে থাকতেন, সেখানে ডেকে নিয়ে সবচেয়ে কম বয়সী (১৩) ছাত্রীর সঙ্গে চারবার এবং নিজের গাড়ির পেছনের আসনে ১৪ বছর বয়সী আরেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। এছাড়া শিশুদের অশালীন ছবি তৈরি এবং ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানের আরও দুটি অভিযোগও স্বীকার করেছেন তিনি। চিপেনহ্যাম ও সাউদাম্পটনের একাধিক স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় তার এই ধারাবাহিক বিকৃত আচরণের প্রমাণ মিলেছে। এর আগে একটি নামিদামি বেসরকারি স্কুলে বার্তা আদান-প্রদানের কারণে তাকে লিখিতভাবে সতর্কও করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের কর্মকর্তা বেথনি অ্যাডামস জানান, শিশুদের শিক্ষিত ও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব দেওয়া হলেও জেমস সুপরিকল্পিতভাবে সেই আস্থার অপব্যবহার করেছেন এবং দিনের পর দিন শিশুদের নিজের শিকারে পরিণত করেছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে জেমস দাবি করেছেন, মাত্র ২১ বছর বয়সে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণে তার যথেষ্ট পরিপক্বতা ছিল না এবং তিনি ভুল মানুষের কাছ থেকে বৈধতা খুঁজছিলেন। উইনচেস্টার ক্রাউন কোর্টে পরবর্তীতে এই শিক্ষিকার সাজা ঘোষণা করা হবে।
লোহিত সাগরে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান, গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখলে নিয়ে শক্তির জানান দিল হুথিরা
পাইলটের গাঁজা সেবন ধরা পড়তেই ভারতের সব পাইলটের মাদক পরীক্ষা
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, কিমের বড় ছেলে থাকার খবর যাচাই করা হচ্ছে। তবে ছেলে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং কিমের কিশোরী মেয়ে কিম জু অ্যাইকে এখনও উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। কিমের পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই। এর পরই এনআইএস জানায়, কিমের বড় ছেলে আছে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনও তথ্য যাচাই করছে। এনআইএসের আগের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের মেয়ে জু অ্যাইকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। তবে তার নাম বা বয়স উত্তর কোরিয়ার সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কিমের মেয়ের নাম জু অ্যাই হওয়ার তথ্যের মূল ভিত্তি সাবেক এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যানের বক্তব্য। ২০১৩ সালে পিয়ংইয়ং সফরের সময় কিমের শিশুকন্যাকে কোলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কিম জং উনের সঙ্গে মেয়েটির প্রকাশ্য উপস্থিতি ক্রমেই বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন এবং সামরিক মহড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে বাবার পাশে দেখা গেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাকে কিমের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বা ‘সম্মানিত’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলতি মাসের শুরুতেও কিম জং উনের সঙ্গে একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে দেখা যায়। এর আগে সামরিক মহড়ায় বাবার সঙ্গে অস্ত্র পরিদর্শন ও পিস্তল পরীক্ষাতেও তাকে দেখা গেছে। এসব প্রকাশ্য উপস্থিতি তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কিম পরিবারের তিন প্রজন্মের শাসকই পুরুষ। কিম জং উনের আগে তার বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সুং দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে একজন নারীকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে মেনে নেওয়া নিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এনআইএস জানিয়েছে, কিমের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই সন্তানের লিঙ্গ নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে কিমের বড় ছেলে আদৌ আছেন কি না, সেটিও এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কিম জং উনের বয়স বর্তমানে ৪২ বছর। ফলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এত অল্প বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি নির্ধারণ করা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। উত্তরসূরি ঘোষণা করলে তার নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের মত। তারপরও মেয়ের ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে চলেছে। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন হলো, কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জু অ্যাইয়ের অবস্থানই সবচেয়ে শক্তিশালী।
সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে ৩৫০০ নটিক্যাল মাইলের অবিশ্বাস্য পথ পাড়ি দিল নৌযান
ইন্দোনেশিয়ায় সিজদায় থাকা অবস্থায় ইমামের মৃত্যু, জামাত শেষ করেন মুসল্লিরা