সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

কানাডায় মে মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ, দাম কিছুটা কম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১২:২৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের মে মাসে কানাডায় বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বসন্তকালে দেশটির আবাসন খাতে যে চাঙ্গা ভাব দেখা যায়, এবার শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও মে মাসে তা অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বাড়ির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

 

সিআরইএ-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত মে মাসে বাড়ি বিক্রির হার এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে মৌসুমী সমন্বয় ছাড়া বার্ষিকভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার বাড়ি বিক্রি ৫.১ শতাংশ কম হয়েছে।

 

এদিকে মূল্যসূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েশনের 'হোম প্রাইস ইনডেক্স' বা বাড়ির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় মাত্র ০.১ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিকভিত্তিতে এই দাম কমার হার বেশ দৃশ্যমান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম।

 

সিআরইএ-এর চেয়ারম্যান গ্যারি ভাওরা এক বিবৃতিতে জানান, "চলতি বছর কানাডার বহু অঞ্চলের আবহাওয়ার মতোই দেশটির আবাসন খাতের বসন্তকালীন বাজারও যেন প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে মে মাসের এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানান দিচ্ছে যে, বাজারে এখন পুরোদমে গতি ফিরছে।"

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির (নিউ লিস্টিং) পরিমাণ এপ্রিলের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির বিপরীতে বিক্রির অনুপাত (সেলস-টু-নিউ লিস্টিং রেশিও) এপ্রিলের ৪৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৪৯.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য এই হার দেশটির দীর্ঘমেয়াদী গড় অনুপাত ৫৪.৮ শতাংশের চেয়ে এখনো কিছুটা নিচেই রয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী খু ন, ধাওয়া করে মাথায় গু লি স্টকারের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে শালিনী ঠাকুর (৩৮) নামের এক নারীকে ধাওয়া করে গুলি করে হত্যার লোমহর্ষক ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ। গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর হাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের একটি শপিং মলের বাইরে পানেরা ব্রেড রেস্তোরাঁর সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, শালিনী যখন কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, তখন ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত নামের এক যুবক তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে শালিনী মাটিতে পড়ে গেলে রোহিত খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতকের গাড়ি ধাওয়া করলে সে নিজেই গাড়ির ভেতর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।   গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক রোহিত ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশে কাজ করত এবং শালিনীর কর্মস্থল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়েই তাদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকেই সে শালিনীকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত জানুয়ারিতে শালিনী তার গাড়ির বনেট থেকে রোহিতের লুকিয়ে রাখা একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস (অ্যাপল এয়ারট্যাগ) উদ্ধার করেন। শুধু তাই নয়, রোহিত একবার শালিনীর গাড়ির চাকার বাতাস বের করে দিয়ে তাকে সাহায্য করার ছলে পিছু নিয়েছিল।   এমনকি সে গোপনে শালিনীর অ্যাপার্টমেন্টের চাবি বানিয়ে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরেও প্রবেশ করেছিল। অতিষ্ঠ হয়ে শালিনী একাধিকবার রেস্ট্রেইনিং অর্ডার বা আইনি নিষেধাজ্ঞা নিলেও রোহিত তা তোয়াক্কা করেনি।   শালিনীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল তার মা কুমারী ঠাকুর। দুই বছর আগে স্বামী হারানোর পর শালিনীই ছিলেন তার বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল। ক্ষুব্ধ কুমারী অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন পুলিশের কাছে ছুটে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার পরও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তার মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার মাত্র এক ঘণ্টা আগেও মেয়ের সাথে তার কথা হয়েছিল বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তিনি।   এই হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যমতে, ভারতীয় নাগরিক রোহিত ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল।   সে সময় তাকে বর্ডার প্যাট্রোল আটক করলেও পরে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে তাকে দেশে মুক্তভাবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ডিএইচএসের দাবি, ওই খুনিকে এভাবে ছেড়ে না দিলে এই ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত। এদিকে, একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর ব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক পার হয়ে ডোরড্যাশে কাজ নিয়েছিল রোহিত। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৫:২৩
তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

তুরস্কে সস্তায় দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতি, ৫ বার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার

সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০  খু নের স্বীকারোক্তি

মহিলার ছদ্মবেশে পালানোর সময় গ্রেপ্তার সিরিয়াল কি লার, ৮০ খু নের স্বীকারোক্তি

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানি এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করল লাওস

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্থগিতাদেশ ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রম ভিসা বা এলএ-বি২ ভিসার অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।   লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। দেশটির সংবাদমাধ্যম লাওতিয়ান টাইমস ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নির্দেশনার খবর প্রকাশ করে। নির্দেশনায় অবৈধভাবে প্রবেশ, মানব পাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং বিদেশি কর্মী আনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।   নতুন নিয়মের আওতায় কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে এনে কাজে নিয়োগের অনুমোদন নিতে পারবে না। বাংলাদেশিদের জন্য নতুন শ্রমিক আমদানি পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদনও স্থগিত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট চুক্তির মেয়াদ থাকা সরকারের অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।   নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি কর্মী আমদানি বা নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাকে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২৫ লাখ লাও কিপ জরিমানা দিতে হবে। এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার। অন্য কোনো শ্রম ইউনিটে পাঠানোর উদ্দেশ্যে অনুমোদন ছাড়া কর্মী আমদানি করলেও একই হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।   অন্য কোনো শ্রম ইউনিটের জন্য বরাদ্দ করা কর্মী অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার বা গ্রহণ করলেও জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য ২০ লাখ লাও কিপ, অর্থাৎ প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে।   এদিকে, অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থল থেকে অন্য কোনো কর্মস্থলে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি তাকে ৩০ দিনের মধ্যে লাওস ছাড়তে হতে পারে। দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাতায়াত ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী পক্ষকে বহন করতে হবে।   একই ধরনের লঙ্ঘন পুনরায় ঘটলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল এবং কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।   বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, সে বিষয়ে দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। কোন কোন খাত এই স্থগিতাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, সেটিও নির্দেশনায় আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে লাওতিয়ান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, লাওসে কর্মরত বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করা কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।   বাংলাদেশ থেকে চলতি বছর লাওসে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া কর্মীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি লাওসে চাকরির জন্য যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই সংখ্যা চলতি বছরে লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া কর্মীদের হিসাব; এটি দেশটিতে বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশির মোট সংখ্যা নয়।   নতুন নির্দেশনার ফলে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা সময়ে নতুন করে লাওসে চাকরিতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসার অনুমোদন পাওয়া যাবে না। তবে সরকারের অনুমোদিত নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো স্থগিতাদেশের বাইরে থাকায় সেগুলোর ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   সূত্র: লাওতিয়ান টাইমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৩:২
ব্রাজিলের ৫৩ বছর বয়সী সুয়েলি প্রায় নয় বছর ধরে নিজের সঞ্চয়ের টাকা একটি বইয়ের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

বইয়ের ভেতর ৯ বছর ধরে সঞ্চয়, পোকায় খেয়ে ফেলল ১ হাজার ৭৬০ ডলার

সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তার পর তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী সৌরভ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে মিসাইল আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে প্রাণ গেল বাংলাদেশির

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে ছেলেদের অভিযোগ, সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধের দাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির রেসিডেন্স ও কাজের ভিসা বাতিল হওয়ায় দেশে ফিরে আসা অনেক প্রবাসী আর ইউএইতে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের সঙ্গে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্রে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৪ হাজার ৮০০ জনে পৌঁছানোর কথা জানা গেলেও, ইউএই কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে এই সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।    ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছুটিতে বা পারিবারিক কারণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা ইমেইল, মোবাইল মেসেজ অথবা ইউএইতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাদের ভিসা বাতিল হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, বাতিলের নোটিশে এর নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।    এমনই একজন আবুল কালাম আজাদ। প্রায় ২৭ বছর ইউএইতে থাকার পর তিনি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। ২৪ জুলাই ইমেইলের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তার দাবি, ওই বার্তায় ভিসা বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না। তিনি ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ভুক্তভোগী প্রবাসীদের একটি কর্মসূচিতেও অংশ নেন।    ভুক্তভোগীদের মধ্যে শুধু শ্রমিক নন, ইউএইতে ব্যবসা ও দোকান পরিচালনাকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের পরিবার ও ব্যবসা ইউএইতেই রয়েছে। ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা দেশে আটকে পড়েছেন এবং নিজেদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।    বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে ইউএইর কাছে তুলেছে এবং বাতিল হওয়া ভিসাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ সরকারকে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও দিয়েছে।    এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের সংখ্যা ৬২৬ জন বলা হয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তখন জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুধু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ঘটছে না এবং পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপালসহ অন্য দেশের নাগরিকরাও এ ধরনের ভিসা বাতিলের মুখে পড়েছেন। তখন ৪১৭ জনের তথ্য ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা নবায়নের জন্য পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছিল।    পরবর্তীতে আগস্টের শুরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি ৯৮৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাই করে ইউএই সরকারের কাছে পাঠায়। তাদের ভিসা বাতিলের কারণ, পুনর্বহালের প্রক্রিয়া এবং ইউএইতে থাকা ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।    ভিসা বাতিলের কারণ নিয়ে এখনো সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি ইউএইতে ভিসা ও কাগজপত্রের যাচাই আরও কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসা নবায়নে দেরি, কাগজপত্রের সমস্যা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব কারণই যে ভিসা বাতিলের সরাসরি কারণ, তা তিনি দাবি করেননি।    ভুক্তভোগী প্রবাসীরা সরকারকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা এবং ইউএইতে ফেরা সম্ভব না হলে বিকল্প দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।    বাংলাদেশের জন্য ইউএই দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। ১৯৭৬ সালে দেশটিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান শুরু হওয়ার পর গত কয়েক দশকে সেখানে বড় একটি বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। ফলে ভিসা বাতিলের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চাকরি ও ব্যবসার ওপর নয়, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রবাসী অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১০:৯
১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে

জাপানে প্রথমবার লাখ ছাড়াল ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা, ৮৮ শতাংশ নারী

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ চলাকালে এক নারীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

এ ল জি বি টি কিউ+ কর্মীদের ধরপাকড়, তুরস্কে কয়েক ডজন গ্রে প্তার

লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করল ন্যাটো, ডেনিশ হেলিকপ্টারে রুশ হা মলা

0 Comments