ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে ছেলেদের অভিযোগ, সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধের দাবি
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসা ও জীবনযাপন নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ জানিয়েছেন তার দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেইমান খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইমরান খানের পুরোনো বিরোধের কারণে তাদের বাবার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কারাগারে চিকিৎসা ও যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করে ইমরান খানকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং পাকিস্তান সরকার অভিযোগগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কাসিম ও সুলেইমান জানান, তাদের বাবা ২০২৩ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। দুই ছেলে বলেন, তারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি। যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টাও তারা করছেন, কিন্তু তাদের ভিসা এখনো দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা।
সুলেইমানের অভিযোগ, ইমরান খানকে প্রায় ৬ ফুট বাই ৮ ফুট আয়তনের একটি কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে মানবিক যোগাযোগও সীমিত। কয়েক মাস ধরে তাকে নতুন বই দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। পরিবারের সদস্য কিংবা নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের চোখের সমস্যার দীর্ঘ সময় যথাযথ চিকিৎসা না হওয়ায় ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ নষ্ট হয়েছে।
ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চিকিৎসককে যুক্ত করার কথা জানিয়েছিল। একই আদেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ এবং ছেলেদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও ছিল।
তবে আদালতের ওই নির্দেশের পর ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় বেসরকারি হাসপাতালে রাখা হয়নি। তাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে কারাগারে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এর আগে সুপ্রিম কোর্টের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদনও করেছিল এবং ইমরান খানের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালেই করা যেতে পারে বলে যুক্তি দিয়েছিল।
ইমরান খানের দুই ছেলে তাদের বাবার অবস্থার জন্য বিশেষভাবে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন। সুলেইমানের দাবি, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় মুনিরকে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। মুনির ২০২২ সালে সেনাপ্রধান হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে বলেও তার ছেলেরা দাবি করেন। তবে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার এই অভিযোগ তাদের বক্তব্যের অংশ এবং এর পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ইমরান খানের কারাবাসের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ ইমরান খানের দীর্ঘমেয়াদি আটক নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলেছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকও তার একাকী কারাবাস ও আটক পরিস্থিতি মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এসব মন্তব্যও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মূল্যায়ন; ইমরান খানকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করার অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ হিসেবে এগুলোকে উপস্থাপন করা যায় না।
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরান খানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নিষ্ঠুরতা কিংবা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে তৈরি খাবার, বাদাম, বোতলজাত পানি, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে। সরকার আরও বলেছে, তাকে শাস্তিমূলকভাবে একাকী বন্দি রাখা হয়নি।
ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে এসেছে। আগস্টে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে তার পরিবার ও রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে আসছে, বাস্তবে যোগাযোগের সুযোগ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য ভিন্ন।
ইমরান খানের দুই ছেলে জানিয়েছেন, তারা পাকিস্তানের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হতে চান না এবং বাবার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্ব নেওয়ারও আগ্রহ নেই। তাদের মূল উদ্বেগ বাবার স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন।
ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাই দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। তার ছেলেরা কারাগারের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং এর পেছনে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত বিরোধ কাজ করছে বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে ইমরান খানকে প্রয়োজনীয় খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধের অভিযোগটি বর্তমানে ইমরান খানের ছেলেদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; আদালত বা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreদিল্লিতে দূষণযুক্ত গাড়ি প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে লোকসমাগম নিয়ে প্রাথমিক শঙ্কা থাকলেও তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রোববার দুপুরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মোদিবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ভিড়ে ১২ একরের রামলীলা ময়দানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ময়দানের ভেতরে যত মানুষ অবস্থান নিয়েছিলেন, বাইরে কনট প্লেসসহ আশপাশের এলাকায় তার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামলাতে একপর্যায়ে ময়দানের সব কটি ফটক বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশ। সমাবেশের আগে পদযাত্রার অনুমতি না থাকায় পুলিশি বাধার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এড়াতে বিরোধী নেতারা হুডখোলা গাড়িতে করে সভাস্থলে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন। বেলা ১২টার আগেই মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী শীর্ষ নেতারা কনট প্লেস–মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে যাত্রা শুরু করেন। হাজারো কর্মী-সমর্থক পরিবেষ্টিত হয়ে মাত্র এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রামলীলা ময়দানে পৌঁছাতে তাঁদের দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ময়দানের ভেতরে-বাইরে সব মিলিয়ে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এই সরকারবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে অরাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার রাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ভোট চুরি এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনে নিজেদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। সিজেপির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক এই সমাবেশে যোগ না দিলেও দলটির বহু তরুণ সমর্থককে তেলাপোকার পোস্টার হাতে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্যদিকে, এই সমাবেশ বানচাল করতে নানা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অব ট্রেডার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১০ দিন সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও ইন্ডিয়া জোট তা নাকচ করে দেয়। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সমাবেশে আসা মানুষ যেন কিছু কিনতে না পারেন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দায় যেন বিরোধীদের ওপর পড়ে, সেই উদ্দেশ্যে বিজেপি জোরপূর্বক আশপাশের সব দোকান-বাজার বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, ১ নভেম্বরের এই দিনে ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানাতে রোববার পশ্চিম দিল্লিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর নেতৃত্বে পাল্টা একটি মিছিলও বের করে ক্ষমতাসীন দলটি।
ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমেরিকানদের ৫ লাখ ডলারের বেশি ক্রিপ্টো চুরি, অভিযুক্ত ৬
৫৫ হাজার অভিবাসীর সুযোগের ডিভি লটারি স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়
ট্রাম্পের জয়ের পর ইউরোপে পাড়ি দেওয়া উদারপন্থি আমেরিকানদের অনেকেরই এখন দেশে ফেরার ইচ্ছা
মাত্র এক দশকের ব্যবধানে বিশ্বের দুই শীর্ষ ধনকুবেরের সম্পদের চিত্রে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। ২০১৬ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির সম্পদের প্রায় অর্ধেকের মালিক ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। অথচ ২০২৬ সালে এসে সম্পদের হিসাবে আম্বানির চেয়ে প্রায় ১১ গুণ এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ফোর্বসের ১ নভেম্বর ২০২৬ সালের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই দিনের হিসাবে মুকেশ আম্বানির সম্পদ প্রায় ৮০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। দুই ব্যবসায়ীর সম্পদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এক দশক আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফোর্বসের ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় মুকেশ আম্বানির সম্পদ দেখানো হয়েছিল ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, একই বছরের ফোর্বস ৪০০ তালিকায় ইলন মাস্কের সম্পদ ছিল ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, সে সময় আম্বানির সম্পদ ছিল মাস্কের প্রায় দ্বিগুণ। সম্পদের হিসাবে আম্বানির তুলনায় মাস্ক ছিলেন অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু পরবর্তী ১০ বছরে সেই ব্যবধান শুধু কমেনি, পুরো হিসাবই উল্টে গেছে। ২০১৬ সালের ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে মাস্কের সম্পদ বেড়ে এখন ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এক দশকে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭৫ গুণ। অন্যদিকে, আম্বানির সম্পদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির গতি ছিল অনেক বেশি। মাস্কের এই অভাবনীয় সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎনির্ভর ব্যবসায় তাঁর বিনিয়োগ। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসায় তাঁর মালিকানার অংশীদারত্ব সম্পদের প্রধান উৎস। বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণা, রকেট প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন বৃদ্ধির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদও বেড়েছে। অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির সম্পদের মূল ভিত্তি ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা ও ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। বিশেষ করে রিলায়েন্স জিওর মাধ্যমে ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ব্যবসার পরিধি ও প্রভাবের দিক থেকে আম্বানি এখনো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপতি। দুই ব্যবসায়ীর সম্পদের এই তুলনা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও তুলে ধরছে। একসময় যাঁর সম্পদ ছিল আম্বানির প্রায় অর্ধেক, এক দশক পর তিনিই সম্পদের হিসাবে আম্বানির চেয়ে প্রায় ১১ গুণ এগিয়ে। তবে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের হিসাব মূলত তাঁদের ব্যবসায়িক মালিকানা, শেয়ারের বাজারমূল্য এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। এটি তাঁদের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ নয়। শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এই সম্পদের হিসাব প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই বিয়ে করলেন সাংবাদিক নিধি রাজদান
যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ব্রিটিশ নৌ ও বিমানবাহিনীকে স ন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল ইরান
পর্তুগালে বাড়িভাড়া নিয়ে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ, ১৩ জন গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির বাস্তবতা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। একই সঙ্গে মার্কিন চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নিকজাদ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিকজাদ দাবি করেন, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনকে এখন ইরানের অবস্থান মেনে নিতে হবে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা উপেক্ষা করে আঞ্চলিক সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে নিকজাদ বলেন, ইরানের শক্তি স্বীকার করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানসংক্রান্ত দাবি। যুক্তরাষ্ট্র আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিংবা এমন কোনো আলোচনা চলছে, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা পরিস্থিতির মুখেই তাঁর দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তেহরান আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ দিলেও ওয়াশিংটন বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার সুযোগ বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর যুক্তি, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন করে উপস্থাপন করার মতো কোনো প্রস্তাব নেই। অতীতের আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিকজাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে তিনি নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করেন ইরানের এই আইনপ্রণেতা। তিনি দাবি করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থা মেনে নেওয়া এবং তেহরানের সাত দফা শর্ত পূরণ করাই চলমান সংঘাত নিরসনের পথ। তবে নিকজাদের বক্তব্যে উল্লেখ করা সাত দফা শর্তের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়া নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে এসব শর্তের কথা উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো গ্রহণ করেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের কারণে এই জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান দাবি করে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ইরানের এই দাবি এবং পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পৃথক বিষয়। ফলে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। নিকজাদের সর্বশেষ বক্তব্যের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু পারমাণবিক আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মেনে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন হামলা হলে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। ইরানের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থান ও পরবর্তী কূটনৈতিক কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধে তেহরানের কঠোর অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় না বসার কথা জানানোর পাশাপাশি ইরানের সাত দফা শর্ত ও হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: রয়া নিউজ।
ইসরায়েলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু, পরে ক্ষমতার ভাগ পাবেন আইজেনকোট
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা