সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা, লোহিত সাগরে নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই অবরোধ এখন থেকেই কার্যকর হবে। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল এবং সমুদ্রপথে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট নৌ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। এ পথ দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং পণ্য পরিবহন হয়। এই জলপথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হুতিদের এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত কয়েক দিনে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা অভিযানের ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক শান্ত থাকা সৌদি-হুতি সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘোষণার পর সৌদি আরব এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদ বলেছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ব্যাহত করার যেকোনো প্রচেষ্টা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকি। সৌদি সরকার একই সঙ্গে ইয়েমেনের বৈধ সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হুতিরা যদি বাস্তবে এই অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়, তাহলে অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে বিকল্প পথে চলতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়, পণ্য সরবরাহের সময় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও অস্থিরতা বাড়তে পারে।
এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি। এখন পর্যন্ত হুতিদের ঘোষিত অবরোধ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ঘোষণাটিই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreতীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা ইসরাইল। চলমান এই গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গ্যালিলি সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া জর্ডান উপত্যকায় এই তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে ৪৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পার্বত্য ও অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে আবহাওয়া চরম শুষ্ক ও উত্তপ্ত থাকবে। অন্যদিকে, উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলে আর্দ্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হবে। এর ফলে দেশজুড়ে তাপজনিত অস্বস্তি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিকাল থেকে বিশেষ করে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে জোরালো বাতাস বইতে পারে। এর আগে শনিবারও দেশটিতে তাপমাত্রার তীব্র বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এদিন জর্ডান উপত্যকার গিলগাল, ক্যাপারনাউম এবং বেইত শিয়ানে সর্বোচ্চ ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এমনকি জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ৩৬.১ ডিগ্রি এবং এর পাদদেশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছেছিল। তুলনামূলকভাবে উপকূলীয় সমভূমিতে চরম তাপপ্রবাহ সরাসরি আঘাত না হানলেও সেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে এবং বাতাসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা বিরাজ করবে, যা মারাত্মক ভ্যাপসা গরম তৈরি করবে। তবে সোমবার থেকে পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তপ্তই থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে পরিষ্কার থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কিছুটা হ্রাস পাবে। সবশেষে বুধবার সকালের মেঘ কেটে যাওয়ার পর পাহাড় ও অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক বা মৌসুমী অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নি হত ২
মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা
বেনজীরের তথ্য কেন প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী ২৭ বছর বয়সী প্রশিক্ষণরত আইনজীবী আলফ্রেড ড্রামন্ড-হার্ডম্যান পশুর মলে জন্মানো ছত্রাকের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর তোলা ছবি একত্র করে তৈরি করা তার টাইমল্যাপস ভিডিও লাখো মানুষের নজর কেড়েছে। একই সঙ্গে গবেষণার মাধ্যমে তিনি নতুন দুটি ছত্রাকের প্রজাতিও শনাক্ত করেছেন। আলফ্রেডের শোবার ঘরেই গড়ে উঠেছে ছোট একটি গবেষণাগার। সেখানে গরু, খরগোশ ও গ্রাউস পাখির মল সংরক্ষণ করে বিশেষ পাত্রে ছত্রাকের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এসব নমুনা থেকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের বিকাশের পুরো প্রক্রিয়া ক্যামেরাবন্দি করেন। করোনা মহামারির সময় স্কটল্যান্ডের ওচিল হিলসে হাঁটতে গিয়ে গরুর মলে জন্মানো নানা ধরনের ছত্রাক দেখে এ বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর নিজ উদ্যোগে ছত্রাক নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি অন্যান্য গবেষক ও আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করে ব্রিটেনে পাওয়া বিভিন্ন ছত্রাক শনাক্ত ও নথিভুক্ত করছেন। তার ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। পশুর মলে জন্মানো ছত্রাক ছাড়াও স্লাইম মোল্ড ও অন্যান্য বিরল জীবের টাইমল্যাপস ভিডিওও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার ভাষায়, সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়া একটি গরুর গোবরেও অসাধারণ বৈচিত্র্যময় জীবজগত লুকিয়ে থাকে, যা খুব কম মানুষই কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। আলফ্রেড জানান, তৃণভোজী প্রাণীর মল মূলত অপরিপাকিত উদ্ভিদজাত উপাদানে তৈরি হওয়ায় এগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ হয় না। তিনি মনে করেন, তার ভিডিওগুলো মানুষের মধ্যে ছত্রাক ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তার লক্ষ্য শুধু নতুন প্রজাতির নামকরণ নয়, বরং জীববৈচিত্র্য গবেষণায় ট্যাক্সোনমির গুরুত্ব মানুষের সামনে তুলে ধরা। তার মতে, প্রজাতি শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা ছাড়া আবাসস্থল সংরক্ষণ কিংবা জীববৈচিত্র্য নিয়ে কার্যকর গবেষণা সম্ভব নয়।
মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ
ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, হাজারো নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!
গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছে ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। তার মৃত্যু শুধু আরেকটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি এমন এক মায়ের জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো সব আশা ভেঙে পড়ার গল্প, যিনি এর আগে একই যুদ্ধে নিজের তিন ছেলেকেও হারিয়েছিলেন। ৩৮ বছর বয়সী ফাতিমা নোফাল জানান, ২০ জুলাই গভীর রাতে প্রচণ্ড গরমে জানালার পাশে ঘুমিয়ে ছিল তার ছেলে জায়েদ। রাত প্রায় ৩টার দিকে তাদের বাড়িতে বিমান হামলা হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়। হামলায় ফাতিমা নিজেও আহত হন। তার দুই মেয়ের একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং আরেকজনও আহত হয়। ফাতিমার জীবনে এটি প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর আল-জাওয়াইদা এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর আরেকটি বিমান হামলায় তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে আমিন, ১১ বছর বয়সী হামজা এবং মাত্র ২২ দিনের নবজাতক আহমেদ নিহত হয়। সেই হামলায় স্বামীর পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। তিন সন্তান হারানোর প্রায় ১০ মাস পর ফাতিমা জানতে পারেন, তিনি আবার সন্তানসম্ভবা। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেয় জায়েদ। পরিবারটির কাছে সে ছিল নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন, যুদ্ধের অন্ধকারে একটুকরো আলো। পরিবারের সদস্যরা তার নাম নিহত ভাইদের নামে রাখতে চাইলেও ফাতিমা নতুন নামই বেছে নিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, ছেলেটির নিজের মতো একটি জীবন হোক। কিন্তু সেই স্বপ্নও মাত্র ১৫ মাসেই শেষ হয়ে যায়। ফাতিমা বলেন, জায়েদ তার পুরো জীবন ঘরের ভেতরেই কাটিয়েছে। যুদ্ধের কারণে তাকে কখনো পার্কে বা খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তার সমবয়সী অনেক আত্মীয়ও আগের হামলায় নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় শত শত শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র জেমস এল্ডার এ পরিস্থিতিকে “যুদ্ধবিরতির এক নির্মম ও প্রাণঘাতী বিভ্রম” বলে মন্তব্য করেছেন। ইউনিসেফের মতে, গাজায় শিশুদের নিরাপত্তা, খাদ্য, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার সংকট এখনো তীব্র। এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, হামাসের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়। ফাতিমা নোফালের কাছে অবশ্য কোনো তদন্ত, পরিসংখ্যান বা প্রতিবেদন তার চার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। আহত মেয়ের পাশে হাসপাতালে বসে এখন তিনি শুধু ভাবছেন, ছোট মেয়েটিকে কীভাবে জানাবেন—যার জন্য সে অপেক্ষা করছে, সেই ছোট ভাই জায়েদ আর কখনো ফিরে আসবে না।
মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিআইএ ও মোসাদ
'দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণই', ইরানিদের বীর আখ্যা পেজেশকিয়ানের