আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, কোন অভিবাসীরা এগিয়ে আর কারা পড়ছেন পিছিয়ে?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৯:১১
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইউএস সিনেটর থমাস জোনাথন অসফ। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইউএস সিনেটর থমাস জোনাথন অসফ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নতুন নীতি ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ফলে কিছু শ্রেণির আবেদনকারীর সুযোগ বাড়লেও অন্যদের জন্য প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা এবং আবেদনকারীর অভিবাসন শ্রেণি এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। 

 

নতুন নীতিতে মার্কিন নাগরিকের স্বামী-স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং কিছু নিকট আত্মীয় এখনও তুলনামূলকভাবে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন—এমন আবেদনকারীরাও তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ও আর্থিক যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড বা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীল আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আবারও ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি ফিরিয়ে আনছে, যার ফলে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা মূল্যায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট নীতি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। 

 

এছাড়া প্রশাসন এমন একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে, যেখানে বিদেশে থাকা কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন হবে। 

 

সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পারিবারিক অভিবাসনের আবেদন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। অনেক আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা সময় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। 

 

অভিবাসন অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বা খাদ্য সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারে। তাদের মতে, এতে নিম্ন আয়ের অভিবাসী পরিবারগুলোর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

 

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড নীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতা, কর্মদক্ষতা এবং অভিবাসনের আইনি ভিত্তি। ফলে যাদের স্থিতিশীল আয়, উচ্চ দক্ষতা বা শক্তিশালী পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে তারা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নিম্ন আয়ের ও সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল অনেক আবেদনকারীর জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি
ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি! পরিরারের ক্ষোভ, নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিচারব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে ৬ বছর বয়সী শিশু লোগান টিপটন হত্যাকাণ্ডে জড়িত রোনাল্ড এক্সান্টাস কারামুক্ত হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিশুটির পরিবার বলছে, বিচারব্যবস্থা তাদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। অন্যদিকে কেন্টাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালত নির্ধারিত সাজা সম্পূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে।    ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কেন্টাকির ভার্সেইলস শহরের একটি বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৬ বছর বয়সী লোগান টিপটনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন রোনাল্ড এক্সান্টাস। হামলায় শিশুটির বাবা এবং দুই বোনও গুরুতর আহত হন।    পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আদালতে হত্যার অভিযোগে তাকে 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দায়মুক্ত' ঘোষণা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের সময় আইন অনুযায়ী বিভিন্ন সাজা-ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তার মুক্তির সময় এগিয়ে আসে।    এটি এক্সান্টাসের প্রথম মুক্তি নয়। ২০২৫ সালে তিনি বাধ্যতামূলক তত্ত্বাবধান কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্লোরিডায় গিয়ে নিবন্ধন-সংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করায় তাকে আবার গ্রেপ্তার করে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে বাকি সাজা শেষ করে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান।    লোগানের বাবা ডিন টিপটন ছেলের হত্যাকারীর মুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পরিবার আজীবনের শাস্তি ভোগ করছে, অথচ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানান।    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্টাকিতে 'লোগানস ল' নামে একটি আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে সহিংস অপরাধীদের সাজা, প্যারোল এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। তবে আইনটি পূর্ববর্তী মামলায় প্রযোজ্য না হওয়ায় এক্সান্টাস এর আওতায় পড়েননি।    কেন্টাকি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস জানিয়েছে, এক্সান্টাসকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং প্যারোল বোর্ডও তাকে মুক্ত করেনি। আদালতের দেওয়া সাজা পূর্ণ হওয়ার পর বিদ্যমান আইন অনুসারেই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২:১২
আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?

আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না

ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে কুকুরদের বিশ্ব সার্ফিং প্রতিযোগিতা

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সাদা নিসান সেন্ট্রা গাড়ির চালক ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে ধাওয়া করেন। ছবি: সংগৃহীত
'ভারতে ফিরে যাও': যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ও তার সন্তানকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোরসাইথ কাউন্টির এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী অভিযোগ করেছেন, সড়কে একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি তাকে এবং তার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধাওয়া করেন এবং বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদন দায়ের হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।   এনআরআই পালসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই বিকেলে জনস ক্রিক ও আলফারেটা এলাকার স্টেট ব্রিজ রোডে ঘটনাটি ঘটে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় একটি সাদা রঙের নিসান সেন্ট্রা গাড়িকে ডান দিকে মোড় নেওয়ার লেনে ঢোকার সুযোগ করে দেন।   তার দাবি, এর কিছুক্ষণ পরই ওই গাড়ির চালক জানালার কাচ নামিয়ে এমন একটি হাতের ইশারা করেন, যাতে তার মনে হয় লোকটির কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি লেন পরিবর্তন করলেও অভিযুক্ত চালক বারবার তার গাড়ির সামনে আসার চেষ্টা করেন এবং এক পর্যায়ে রাস্তার চিহ্ন অতিক্রম করে তার পথ রোধ করারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওল্ড মিল্টন পার্কওয়ের কাছে একটি লাল বাতিতে গাড়ি থামলে ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করতে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, "ভারতে ফিরে যাও। এটা তোমার জায়গা নয়।" পাশাপাশি আরও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি বলেন, আশপাশে অনেক মানুষ থাকলেও যানজটের কারণে তিনি সেখান থেকে সরে যেতে পারেননি। পরিস্থিতি আরও খারাপ না করতে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।   তার অভিযোগ, সিগন্যাল ছাড়ার পরও ওই ব্যক্তি তার গাড়িকে অনুসরণ করতে থাকেন। নিজের বাসার অবস্থান প্রকাশ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় তিনি নিজের আবাসিক এলাকায় না গিয়ে উড ব্রিজ অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় যান এবং সেখান থেকে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। তিনি বলেন, "আমার ১২ বছরের মেয়েও গাড়িতে ছিল। আমরা দুজনই খুব ভয় পেয়েছিলাম। আমি চাইনি সে জানতে পারুক আমরা কোথায় থাকি।"   নারীর দাবি, ৯১১-এ কথা বলার সময় তিনি গাড়ির জানালা নামানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে চলে যান। তিনি গাড়িটির কয়েকটি ছবি তুলতে সক্ষম হলেও নম্বরপ্লেট পুরোপুরি দেখতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নম্বরপ্লেটের শুরুতে ইংরেজি 'C' অক্ষর ছিল। তিনি চালককে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, পরিষ্কার মুখের, শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের কাছের ট্রাফিক ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে তার সঙ্গে কথা বললেও ঘটনাস্থলে কেউ আসেননি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি চলে যাওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশ প্রতিবেদনও করা হয়নি।   গত ১২ বছর ধরে আটলান্টা মহানগর এলাকায় বসবাসকারী ওই নারী একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, তিনি সবসময় সতর্কভাবে গাড়ি চালান এবং অন্য নারীদেরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালাতে উৎসাহিত করেন।   বর্তমানে তিনি আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে জনস ক্রিক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২৩:৫৮
লেকে পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন মিলার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী

ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক ফেডারেল বিচারক। ছবি: সংগৃহীত

বিচারকদের কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ, প্রশ্ন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে

কোভিড-১৯, টিকা ও অটিজম ইস্যুতে লাইভ সাক্ষাৎকারে তীব্র বিতর্কে জড়ান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র ও ডানা ব্যাশ। ছবি: সংগৃহীত

সিএনএনের লাইভ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তুমুল ঝগড়া

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা পলা পাঞ্চ বোলসের প্রাকৃতিক জলস্লাইডে দুর্ঘটনার শিকার হন এক নারী।
ভিডিও বানাতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাকৃতিক ওয়াটারস্লাইডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়লেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভেনচুরা কাউন্টির সান্তা পলা পাঞ্চ বোলস এলাকায় প্রাকৃতিক জলস্লাইডে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়েছেন এক নারী। পুরো ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীদের একজনের ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নারীটি পিচ্ছিল গ্রানাইট পাথরের প্রাকৃতিক জলপথ বেয়ে দ্রুত নিচে নামছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্যানিয়নের খাড়া পাথরের দেয়ালে জোরে আঘাত করেন। এরপর আরও কয়েকবার পাথরে আছড়ে পড়ে নিচের পানিতে গিয়ে থামেন। আশপাশে থাকা দর্শনার্থীরা পুরো ঘটনাটি হতবাক হয়ে দেখছিলেন।   সান্তা পলা পাঞ্চ বোলস লস পাদ্রেস ন্যাশনাল ফরেস্টের ভেতরে সান্তা পলা ক্যানিয়নে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল। সবুজাভ পানির প্রাকৃতিক পুল, পাহাড়ি ঝরনা, উঁচু পাথর থেকে পানিতে লাফ দেওয়া এবং প্রাকৃতিক জলস্লাইডের কারণে এটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর হাজারো মানুষ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার আশায় সেখানে ভিড় করেন।   তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এলাকাটি ভেনচুরা কাউন্টির অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, ভেজা গ্রানাইট পাথর অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। এছাড়া পানির নিচে থাকা বড় পাথর, দ্রুত স্রোত, খাড়া পাহাড় এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সেখানে অতীতে বহু গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে।   দুর্গম অবস্থানের কারণে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আহত ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্যানিয়ন থেকে উদ্ধার করতে হয়েছে। গত জুন মাসেই পাঞ্চ বোলস এলাকার কাছে পাহাড়ি পথে পড়ে গিয়ে এক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।   স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, পাথর থেকে পানিতে লাফ দেওয়া কিংবা প্রাকৃতিক জলস্লাইডে নামা অনেকের কাছে রোমাঞ্চকর মনে হলেও সামান্য অসাবধানতায় তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও সেই সতর্কবার্তাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম মনোরম এই প্রাকৃতিক জলাধার একই সঙ্গে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সেটিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঘটনাটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ২১:২০
জুলাই মাসে আইসের হাতে আটক হয়েছেন ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল কভারেজ গাড়ি বিমা মিলছে মাসে ১৫১ ডলারে, প্রকাশিত হলো সাশ্রয়ী কোম্পানির তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল কভারেজ গাড়ি বিমা মিলছে মাসে ১৫১ ডলারে, প্রকাশিত হলো সাশ্রয়ী কোম্পানির তালিকা

(ডান থেকে): এমডি এন. ইসলাম ও মোহাম্মদ জেড. ইসলাম(ছবি: রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বিভাগ)

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেজে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণা, নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি

0 Comments