সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের
সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়।
হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক। ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিলেও ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হতে পারে মোদি-শির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ছয় বছর পর নাথু লা পাস দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশগুলো থেকে ভারতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়ার দুই বড় অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে চীনের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে কম শুল্ক সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও ভারতের আগ্রহ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত শুল্ক আরোপ করে, যা চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের ওপর আরোপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠকে চীনে ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও আলোচনায় আসতে পারে। ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো চীন থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারতের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। পোশাক, চামড়া, ইলেকট্রনিকস, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পণ্যে চীন ভারতের অন্যতম প্রধান আমদানি উৎস। ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ দশমিক ২ শতাংশ আসে চীন থেকে। ফলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোও ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ব্রিকসের মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নতুন উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন, সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে। তবে চীনের বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ভারতের জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ভারতীয় ব্যবসার জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পে চীনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখনো বড় বাধা। তবুও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই মোদি-শি বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নয়, পুরো ব্রিকস জোটের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসে বড় সমঝোতা, দিল্লি থেকে আসছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের
স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে টাকার বিনিময়ে অন্য পুরুষদের হাতে তুলে দিতেন স্বামী, শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল নারীর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো যেকোনো উপায়ে—এমনকি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে হলেও নিজেদের হারানো বৈশ্বিক নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন। পুতিনের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলছে এবং পুরনো নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিচ্ছে নতুন নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলো। আর এই পরিবর্তনের মাঝেই পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা মরিয়া হয়ে নিজেদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তারা এখন শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় সরাসরি আঘাত, পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর আটকে দেওয়া, সমুদ্রগামী জাহাজ জব্দ এবং অন্য দেশগুলোর ওপর ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকির মতো ধ্বংসাত্মক পন্থা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ব্রিকসের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশের বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলো থেকে, যেখানে একই সময়ে জি৭-এর অবদান ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা অধ্যুষিত ব্রিকস দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত ৩০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত মোট নিষেধাজ্ঞার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও মস্কো নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত করেছে এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়িয়েছে। গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রুশ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও গতিশীল করেছে। ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যকার এই নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক আগামী দিনে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল ও যেকোনো সংকট মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
লন্ডনে ৪৫ লাখ পাউন্ডের মদের বার কিনে মসজিদ বানালেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জিয়া বিন রাসেল
মার্কিন নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ৬০ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ, ৬ নাইজেরীয়কে যুক্তরাষ্ট্রে নিচ্ছে এফবিআই
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-এর (IRGC) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে এই ইরানি বাহিনী। টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি বাবেল-মানদেব প্রণালির খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর বাবেল-মানদেব প্রণালিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
মৃত্যুর পর ফের জীবিত হওয়ার আশায় ২ লাখ ডলারে অস্ট্রেলিয়ায় হিমায়িত ৭ মরদেহ
কোলাজেনের বদলে মুখে তেল, ভয়াবহ কসমেটিক প্রতারণায় স্থায়ী ক্ষতি মেক্সিকান অভিনেত্রীর