সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৩:৩৪
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা

মালাউইয়ের মাঙ্গোচি জেলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিকওয়ায়া কামুলোনি। প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মালাউইয়ান কোয়াচা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালাউই২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঙ্কি বে এলাকার চিলোম্বো গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন কামুলোনি। স্থানীয় মুসল্লিরা আগে একটি অস্থায়ী স্থাপনায় নামাজ আদায় করতেন। বিষয়টি দেখে তাদের জন্য স্থায়ী একটি উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।

 

কামুলোনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় তিনি নিজের অর্থ থেকেই বহন করেছেন। এ কাজে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি বলেও জানান তিনি।

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সে সুস্থভাবে পৌঁছাতে পারার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবেও তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

মসজিদটি নির্মাণের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের নামাজ আদায়ের জন্য দূরের এলাকায় যেতে না হয়। ফলে এটি স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নিয়মিত ইবাদতের একটি স্থায়ী জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকার মানুষ ছাড়াও কেপ ম্যাকলিয়ার, মসাকা ও মাঙ্কি বে এলাকার মুসলিম ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিজের অর্থ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর এই উদ্যোগ মালাউইয়ে প্রশংসা পেয়েছে। ৮৬ বছর বয়সেও কামুলোনি দেখিয়েছেন, বয়স বেশি হলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজ ও কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা
মুসল্লিদের কষ্ট দেখে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে মসজিদ নির্মাণ, নজির গড়লেন মালাউইয়ের বাসিন্দা

মালাউইয়ের মাঙ্গোচি জেলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ৮৬ বছর বয়সে নিজের অর্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন চিকওয়ায়া কামুলোনি। প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মালাউইয়ান কোয়াচা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মালাউই২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঙ্কি বে এলাকার চিলোম্বো গ্রামে মসজিদটি নির্মাণ করেন কামুলোনি। স্থানীয় মুসল্লিরা আগে একটি অস্থায়ী স্থাপনায় নামাজ আদায় করতেন। বিষয়টি দেখে তাদের জন্য স্থায়ী একটি উপাসনালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেন তিনি।   কামুলোনি জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। পুরো প্রকল্পের ব্যয় তিনি নিজের অর্থ থেকেই বহন করেছেন। এ কাজে কোনো আর্থিক সহায়তা নেননি বলেও জানান তিনি।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সে সুস্থভাবে পৌঁছাতে পারার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায় হিসেবেও তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।   মসজিদটি নির্মাণের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের নামাজ আদায়ের জন্য দূরের এলাকায় যেতে না হয়। ফলে এটি স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নিয়মিত ইবাদতের একটি স্থায়ী জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কমিউনিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকার মানুষ ছাড়াও কেপ ম্যাকলিয়ার, মসাকা ও মাঙ্কি বে এলাকার মুসলিম ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   নিজের অর্থ ও সামর্থ্য ব্যবহার করে কমিউনিটির প্রয়োজন মেটানোর এই উদ্যোগ মালাউইয়ে প্রশংসা পেয়েছে। ৮৬ বছর বয়সেও কামুলোনি দেখিয়েছেন, বয়স বেশি হলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজ ও কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৩:৩৪
বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ  বাব-এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইয়েমেনে শত শত সেনা পাঠাল ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইয়েমেনে শত শত সেনা পাঠাল ইরান

মৃত্যুর পর ফিরে আসার আশায় ক্রায়োনিক্সে সংরক্ষিত হচ্ছে মরদেহ

মৃত্যুর পর ফের জীবিত হওয়ার আশায় ২ লাখ ডলারে অস্ট্রেলিয়ায় হিমায়িত ৭ মরদেহ

কসমেটিক ইনজেকশনের পর মুখে স্থায়ী পরিবর্তনের শিকার মেক্সিকোর অভিনেত্রী লিন মে

কোলাজেনের বদলে মুখে তেল, ভয়াবহ কসমেটিক প্রতারণায় স্থায়ী ক্ষতি মেক্সিকান অভিনেত্রীর

কারাগারে থাকার পর ২৫ পাউন্ডের বেশি ওজন কমেছে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের
কারাগারে গিয়ে আরও অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী হৃদরোগের চিকিৎসায় চাইলেন মুক্তি

ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের কারাগার থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার আইনজীবীরা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, কারাগারে থাকার পর থেকে তার হৃদরোগের সমস্যা আরও বেড়েছে। তাই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস ও তার স্বামী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি। মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার আগামী বছরের জুনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকলেও ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদন ছাড়া তিনি কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তবে ফ্লোরেসের এই আবেদনের বিষয়ে এখনো ফেডারেল প্রসিকিউটররা কোনো জবাব দেননি এবং বিচারকও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফ্লোরেস দীর্ঘদিন ধরে মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপ্স নামের হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনও তিনি পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে অ্যাসপিরিন, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে থাকার সময়ে তার আরও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রাইটিসে ভুগছেন, দুটি দাঁতের মোলার হারিয়েছেন এবং ২৫ পাউন্ডেরও বেশি ওজন কমেছে। চিকিৎসকেরা তাকে হৃদযন্ত্রের ক্যাথেটারাইজেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার পর আরও কিছু হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, হৃদযন্ত্রের কোনো প্রক্রিয়া বা অস্ত্রোপচার হলে সুস্থ হয়ে উঠতে তার পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হলেও সেখানে অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের পরিবেশ পাওয়া কঠিন। তবে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা কারাগারের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তারা আদালতে জানিয়েছেন, কারাগারের কর্মীরা ফ্লোরেস ও তার স্বামীর সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং সেখানে ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভালো চিকিৎসাও পেয়েছেন। কিন্তু তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ নয়। মাদুরো ও ফ্লোরেসকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাড়ি থেকে মার্কিন বাহিনী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। দুজনেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এর আগে মাদুরো ও ফ্লোরেস তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিলের আবেদনও করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে তাদের আইনি দায়মুক্তি রয়েছে। তবে সেই আবেদনেরও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:৫১
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর সংকটে জর্জরিত কিউবায় ফিরে নতুন জীবন শুরুর লড়াই

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হয়ে ধুঁকতে থাকা কিউবায় ফিরেই মুখোমুখি কঠিন বাস্তবতার

হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুরোধ নিয়ে ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প

কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলি। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র শহরে তীর্থযাত্রার সময় ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও চুমু, বিশপ আটক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ১৯৯৩ সালের আলোচিত সম্পর্কের ঘটনার তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ড. রুথ বার। ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকা বার এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং তার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুর সময়ের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন।   ১৯৯৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ইসরায়েলের তৎকালীন একমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ানে সরাসরি সম্প্রচারে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর কথা স্বীকার করেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি লিকুদ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এবং রুথ বার ছিলেন তার কৌশলগত উপদেষ্টা।   ঘটনাটি সামনে আসে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর। নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারাকে ফোন করে জানানো হয়, তার স্বামীর সঙ্গে রুথ বারের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও টেপ রয়েছে এবং নেতানিয়াহু লিকুদ নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরে না দাঁড়ালে সেটি প্রকাশ করা হবে।   নেতানিয়াহু সরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি টেলিভিশনে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তবে সেই কথিত ভিডিও টেপ কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ঘটনার পর রুথ বার কার্যত জনজীবন থেকে আড়ালে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বর্তমান যুগ তখন ছিল না। ফলে কয়েক বছর পর তিনি আবার নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন। মনোবিজ্ঞানী ও কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন।   ৩৩ বছর পর এবারই প্রথম তিনি বিস্তারিতভাবে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্ক, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং লিকুদে নেতানিয়াহুর দ্রুত উত্থান নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।   বারের বক্তব্যের গুরুত্ব শুধু পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নয়। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার কৌশলগত দলটির একজন সদস্য ছিলেন বার। ফলে সে সময় নেতানিয়াহু কীভাবে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি কীভাবে তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।   বার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্থান তখনই শুরু হয়েছিল, যখন লিকুদে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের একটি অংশ তাকে হুমকি হিসেবে দেখছিল। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে নেতানিয়াহু দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।   পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু লিকুদের নেতৃত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই রাজনৈতিক উত্থানের প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল ও ভোটারদের আচরণ নিয়েও রুথ বার দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন।   বর্তমানে তার নতুন বই ‘ব্রেইন আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স’ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটিতে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্র্যান্ডিং এবং রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের প্রভাব নিয়ে তার দীর্ঘ গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই বই প্রকাশের সময়ই তিনি তিন দশকের নীরবতা ভেঙে পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বললেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৪৩
যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্ট বা এমডিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

তিনজনের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিল যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশু!

ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া

ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার বললেন ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া

যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’

যুক্তরাজ্যে একে অপরের সন্তানকে স্তন্যপান করান দুই ননদ-ভাবি, বললেন ‘দুধ তো দুধই’

0 Comments