গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সম্পত্তি ধ্বংস ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা চলতি বছরে আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর ওসিএইচএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে ১ হাজার ৩৩০টির বেশি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৫০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ে গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি হামলার ঘটনা।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত পশ্চিম তীরের ১২৩টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এই সময়ে ৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শিশু। শুধু ২০২৬ সালেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ।
হামলার প্রভাব শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, কৃষিজমি, জীবিকার অবকাঠামো, স্কুল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১৬০টি পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা দখল হয়েছে। এর মধ্যে পানির ট্যাংকই অর্ধেকের বেশি।
জাতিসংঘ বলছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় হতাহতের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই পর্যন্ত ২০২৬ সালে এ ধরনের হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৭। নিহতদের মধ্যে ১২ জনকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হত্যা করেছে বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে; তিনজন ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত এবং আরও তিনজনের ক্ষেত্রে দায় কার, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৮০ ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারী-সংশ্লিষ্ট হামলায় আহত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭২০ জন সরাসরি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। রামাল্লার পূর্বে দেইর জারির গ্রামে জুলাইয়ের মাঝামাঝি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন। আবার নাবলুসের দক্ষিণে তেল গ্রামে প্রায় ৪০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী একটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে। পরিবারটি আগুনে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পালিয়ে যায় এবং পাঁচজন বাস্তুচ্যুত হন।
পশ্চিম তীরের বেদুইন ও পশুপালননির্ভর সম্প্রদায়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। হামলা, জমিতে প্রবেশের বাধা, বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস এবং পানির উৎসে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে না; বারবার বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার অবকাঠামো হারানোর কারণে এসব সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreইসরায়েলের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিরোধী জোটের নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) আইজেনকটকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আগামীকাল রোববার বিকেল ৫টায় জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি রাজনৈতিক জোট। নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করেন। সেখানে ৬৭ জন সংসদ সদস্য আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেন ৪৬ জন। সাতজন সংসদ সদস্য কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেননি। এই সমর্থনের ভিত্তিতে আইজেনকটকে প্রথম সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তবে সরকার গঠনের পথ আইজেনকটের জন্য সহজ হবে না। কারণ, তাঁর পক্ষে সুপারিশ করা ৬৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। কিন্তু এসব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধী জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটও এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক লড়াই থেকে ছিটকে যায়নি। নতুন সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে অন্তত ৬১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যান্ডেট পাওয়ার পর আইজেনকট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট তাঁকে আরও ১৪ দিন সময় বাড়িয়ে দিতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ফলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হলেও এখনই তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট গঠনের সমীকরণই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবেন।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর হা মলা, বিদ্যুৎ-পানি-হিটিং ব্যবস্থা বিপর্যস্ত
নির্বাচনের আগে ইরানে অভিযানের পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় ভেস্তে যাওয়ার দাবি
কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতে তৃতীয় দফায় হা মলা, চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
বিশ্বখ্যাত মার্কিন স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড নাইকির পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরাকে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফতোয়া দিয়েছে লিবিয়ার শীর্ষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দার আল-ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নাইকির নাম ও বিখ্যাত লোগোর সঙ্গে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের এক দেবীর সম্পর্ক রয়েছে, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ১ নভেম্বর জারি করা এই ফতোয়া অনুমোদন করেছেন লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আল-ঘারিয়ানি। তবে এটি কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা নয় এবং ফতোয়া অমান্যকারীদের জন্য আইনি শাস্তির বিধানও ঘোষণা করা হয়নি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক দার আল-ইফতা ৬৬৯৭ নম্বর ফতোয়ায় জানায়, মার্কিন প্রতিষ্ঠান নাইকির নাম এসেছে প্রাচীন গ্রিক পুরাণের বিজয়ের দেবী নাইকি থেকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচিত বাঁকানো লোগো, যা ‘সুইশ’ নামে পরিচিত, সেটিও ওই দেবীর ডানার নকশা থেকে অনুপ্রাণিত বলে দাবি করেছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এমন প্রতীকযুক্ত পোশাক ব্যবহার ও প্রচার করা বহুঈশ্বরবাদী বিশ্বাসের প্রতীককে উৎসাহিত করার শামিল। এ কারণে মুসলমানদের নাইকির লোগোযুক্ত পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরিধান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। লিবিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত ও লিবিয়া অবজারভার জানিয়েছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি নাইকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করার অভিযোগও তুলেছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলকে সমর্থন করে বলে দার আল-ইফতা মনে করে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য বর্জন করা মুসলমানদের কর্তব্য। এ ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা পণ্য বয়কটের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া আগের নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাইকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করার অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এদিকে নতুন এই ফতোয়া নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন মুসলিম লেখক ও নিয়মিত জিমে যাওয়া নারী আভা ভিডাল। শনিবার (৭ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি জানিয়েছেন, নাইকি তাঁর পছন্দের স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং লিবিয়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের এই সিদ্ধান্ত তাঁকে নাইকির পোশাক পরা থেকে বিরত করতে পারবে না। ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া এই লেখক জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস মেনে চলার চেষ্টা করলেও নাইকির পোশাক ব্যবহারের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধ থাকার যুক্তি তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। নিজের নিবন্ধে আভা ভিডাল উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে নাইকি মুসলিম নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ সহজ করতে বিশেষ স্পোর্টস হিজাব বাজারে এনেছিল। তাঁর মতে, মুসলিম নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রতিষ্ঠানের পোশাক ব্যবহার নিয়েই এখন ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি জানিয়েছেন, ফতোয়া জারি হলেও জিমে নাইকির পোশাক পরা অব্যাহত রাখবেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিবিয়ার দার আল-ইফতা দেশটির একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হলেও এর ফতোয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রীয় আইনে পরিণত হয় না। নাইকির পণ্য বিক্রি বা ব্যবহারের ওপর দেশটির সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি। লিবিয়ায় নাইকির নিজস্ব কোনো আনুষ্ঠানিক বিক্রয়কেন্দ্র না থাকলেও স্থানীয় দোকানগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির পোশাক ও অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়। নতুন ফতোয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও লিবিয়ার দার আল-ইফতা ফরাসি বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের চার পাতার ক্লোভার নকশাযুক্ত গয়না ও ঘড়ি ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মতামত দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি ছিল, ওই নকশার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাস ও সৌভাগ্যের ধারণার সম্পর্ক রয়েছে। এবার নাইকির লোগো নিয়ে দেওয়া ফতোয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবিসি নাইকির বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও তাদের প্রতিবেদনে কোম্পানিটির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, আল-ওয়াসাত, লিবিয়া অবজারভার ।
দীপাবলির আগেই বিষাক্ত ধোঁয়াশায় দিল্লি, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বড় শহরের তালিকায় শীর্ষে
কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের জেরে চীনা প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, প্রত্যাহারে বেইজিংয়ের আল্টিমেটাম
ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, যুদ্ধের উত্তেজনায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য; আলোচনার চেষ্টা কাতারের
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে আবাসিক বাড়িঘর লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সানা প্রদেশের বানি হুশাইশ জেলার আল-শারিয়া গ্রামে এই হামলা হয়। ইরানসমর্থিত হুথি গোষ্ঠী হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হামলার দায় এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি শনিবার জানিয়েছেন, আল-শারিয়া গ্রামের একাধিক বাড়ি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে গেলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জন এবং আহতের সংখ্যা ৩০ জনে পৌঁছায়। হুথি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ছয়টি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে হুথি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রথম দফার বিমান হামলার পর আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু উদ্ধার অভিযান চলাকালেও সেখানে আরও বিমান হামলা চালানো হয়। এমনকি ঘটনাস্থলে যাওয়ার সড়কগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছানো এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্ধারকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এর এক দিন আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া জেলার একটি বাজারে হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত এবং আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। হুথি কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্যও সৌদি আরবকে দায়ী করে। অন্যদিকে সৌদিসমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পাল্টা হুথিদের দায়ী করেছে। উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে হুথি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থন পেয়ে আসছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর সংঘাতের তীব্রতা কমলেও ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে আবার লড়াই বেড়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর উপকূল, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও সামরিক অবস্থান ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। নতুন করে বিমান হামলা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধে দেশটির বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছেন। সানার কাছে সর্বশেষ হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর সেই মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনি বার্তা সংস্থা সাবা
ম্যান্ডেলার ১৮ বছরের কারাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস
দূষণে বিশ্বের শীর্ষে ভারতের দিল্লি, দীপাবলির আগে বিপজ্জনক পরিস্থিতির আশংকা