যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) জুলাই মাসে প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই সংখ্যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে এক মাসে আটকের নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার ১৩৮ জনকে আটক করা হয়েছিল, যা তখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ ছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে আটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অভিবাসীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আইসিই দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বড় শহরকেন্দ্রিক অভিযানের পাশাপাশি বিমানবন্দর, কর্মস্থল, ইমিগ্রেশন কোর্ট ও অন্যান্য স্থানেও অভিযান বাড়ানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তবে জুলাইয়ের আটকের সংখ্যা নিয়ে সরকারি তথ্যের বিভিন্ন হিসাবের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইসিইর আটক ও ডিটেনশন ডেটা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আলাদা হিসাব একই প্রক্রিয়ার ভিন্ন পর্যায়কে নির্দেশ করতে পারে। তাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে সংখ্যার কিছু তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
জুনে আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ বুক করা হয়েছিল বলে সংস্থার প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আইসিই আটক করছিল।
অভিবাসনবিষয়ক এই অভিযান নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।
তবে অভিযান নিয়ে সমালোচনাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আইসিইর হেফাজতে থাকা অনেকের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড ছিল না।
এ কারণে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমান অভিযান শুধু গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকেরা বলছেন, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আইসিইর অভিযান জোরদারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের ইমিগ্রেশন আবেদন চলমান, বৈধ স্ট্যাটাস পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বা আদালতে মামলা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও আটকের ঘটনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ফলে সামনে আরও বড় পরিসরে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হবে কি না, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কমিউনিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। জুলাইয়ের রেকর্ড আটকের পর আইসিইর কার্যক্রমের পরবর্তী গতি এবং আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের সংখ্যা বিশেষভাবে নজরে থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সাইকেল চালানোর সময় গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম। বাংলা আওয়ারের ৭ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল থেকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শামীম সাইকেলে করে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। চালক আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে ঘটনাস্থল ছেড়ে যান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনাটি ব্রুকলিনের ঠিক কোথায় ও কখন ঘটেছে, গাড়ি বা চালককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে বাংলা আওয়ার। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে রয়েছে। দূরে থাকায় আহত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি তাঁর পাশে থাকতে পারেননি; তাঁরা শামীমের চিকিৎসার খবর জানার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর শামীম তাঁর অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানকে ফোন করেন। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। ফারহান আরিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরিস্থিতি এবং চালকের ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর পেছনে বর্ণবিদ্বেষের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। তবে এমন উদ্দেশ্যের পক্ষে পুলিশের তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে—এমন নিশ্চিত বিবরণ প্রকাশিত হয়নি। চালকের পরিচয়, ঘটনার কারণ কিংবা সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। শামীমের চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার তদন্তের অগ্রগতিই এখন তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রধান উদ্বেগ। এই প্রতিবেদনের মূল ঘটনার বিবরণ বাংলা আওয়ারের নামে দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে; মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংবাদসূত্র - বাংলা আওয়ার
ফস্টার কেয়ারের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ঘোষণা করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প, তহবিলে ৭২ লাখ ডলার
মেডিকেয়ার রোগীদের চিকিৎসা পাওয়া কি আরও কঠিন হচ্ছে? ২০২৭ সালে কমছে চিকিৎসকদের পেমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা কমাতে আসছে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে জমির প্রকৃত মালিক সেজে ১৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের সম্পত্তি বিক্রির ঘটনায় নিজের ভূমিকার দায় স্বীকার করেছেন টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা মোশে লেভি। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ৬১ বছর বয়সী লেভি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই মামলায় জুলাইয়ে অভিযুক্ত ম্যাসাচুসেটসের কিয়ন জেমস ও নিউ জার্সির ব্র্যাডলি বোঝের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। আদালতের নথি অনুযায়ী, লেভি ও তাঁর কথিত সহযোগীরা ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা ও টেনেসিতে এমন খালি জমি বেছে নিতেন, যেগুলোর ওপর কোনো মর্টগেজ বা অন্য কোনো আইনি দায় ছিল না। জমির মালিকেরা থাকতেন অন্য অঙ্গরাজ্যে। তাঁদের নামে ইমেইল ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফোন অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। সংগ্রহ করা হতো ভুয়া ড্রাইভার লাইসেন্স ও পাসপোর্ট। কৌঁসুলিদের ভাষ্য, এসব পরিচয়পত্র ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অভিযুক্তরা জমির মালিক সেজে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দিয়ে জমি বিক্রির তালিকায় তুলতেন। পরে দরদাম ঠিক করে এমন ক্রেতাদের কাছে দলিল হস্তান্তর করা হতো, যাঁরা জালিয়াতির কথা জানতেন না। ফেডারেল কৌঁসুলিদের মতে, বিক্রির টাকা কোথা থেকে এসেছে এবং কার নিয়ন্ত্রণে ছিল, তা আড়াল করতে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। চেক ও ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরানো হতো। আদালতের নথির বরাতে কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুনের দিক থেকে লেভি ও অন্যরা এই জালিয়াতি থেকে পাওয়া প্রায় ১০ লাখ ডলার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন বা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কৌঁসুলিরা নাইজেরিয়ায় থাকা আরও একজন কথিত সহযোগীর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ম্যাসাচুসেটসের কনকর্ডে ম্যাটিসন ড্রাইভের একটি জমি এ মামলার সঙ্গে যুক্ত। জমির মালিক হালা শামি জারাকি তাঁর স্বামী ওমরের সঙ্গে সাউথ ক্যারোলাইনায় থাকেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, একসময় ম্যাসাচুসেটসে ফিরবেন অথবা জমিটি এক ছেলেকে দেবেন। দেওয়ানি মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হালার পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কেউ জমিটি প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতারা সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে জারাকি দম্পতি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়। এফবিআইয়ের বোস্টন কার্যালয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে জানিয়েছিল, জমির দলিল জালিয়াতির অভিযোগ বাড়ছে। জমির কর বা পানির বিল হঠাৎ আসা বন্ধ হলে কিংবা খালি সম্পত্তির ইউটিলিটি বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মালিকদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে আমেরিকান ল্যান্ড টাইটেল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের ৫৯ শতাংশ জানিয়েছে, আগের বছরে তারা অন্তত একবার ভুয়া বিক্রেতা সেজে প্রতারণার চেষ্টার মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালের জরিপে এই হার ছিল ২৮ শতাংশ। ফেডারেল বিচারক মিয়ং জে. জুন ২০২৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি লেভির সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। দুই অভিযোগের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কৌঁসুলিরা সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকায় থাকা সীমার নিচের দিকের কারাদণ্ড ও জরিমানার সুপারিশ করবেন। পাশাপাশি তাঁরা তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তি, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তত ১৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার আদেশ চাইবেন। লেভির আইনজীবী ইয়ান গোল্ড জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। সংবাদসূত্র — যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, রিয়েলটর ডটকম
নিউইয়র্ক জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে দ্রুত নামাজ চালুর আশাবাদ কর্তৃপক্ষের, ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক
যুক্তরাষ্ট্রে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, তাই ডাক্তার দেখাচ্ছেন না? হাতের কাছেই রয়েছে অনেক ফ্রি ক্লিনিক!
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিরল ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ানা, ফ্লোরিডা এবং আলাবামা অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে এই তিন আসামির দণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে গত ১৩ আগস্ট আলাবামা, টেনিসি ও ওকলাহোমায় একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে টেনিসিতে ক্রিস্টা পাইক নামের এক বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর দেশটিতে যখন এই শাস্তির পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেসময়েই নতুন করে এই দণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার প্রথম প্রহরে ইন্ডিয়ানার মিশিগান সিটির স্টেট প্রিজনে জেফরি ওয়েসহেইট (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালে ইভান্সভিল এলাকায় নিজের প্রেমিকার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে তার আট ও পাঁচ বছর বয়সী দুই সন্তানকে হত্যার দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার আইনজীবীরা মানসিক সমস্যা ও মাথায় আঘাতের ইতিহাস তুলে ধরে রাজ্যটির রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউনের কাছে সাজা কমানোর আবেদন করলেও তা নাকচ হয়ে যায়। ইন্ডিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল টড রোকিতা এই মৃত্যুদণ্ডকে নিরীহ দুই শিশুর জন্য 'দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটি ছিল ইন্ডিয়ানায় এ বছরের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার স্টার্কে একটি কারাগারে জেসি গারদাদো (৬৪) নামের আরেক আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৪ সালে ওয়ালটন কাউন্টিতে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মাদক কেনার জন্য গহনা ও টাকা চুরির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। নির্মম এই হত্যার শিকার ওই বৃদ্ধাই তাকে চাকরি ও থাকার জায়গা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এই নিয়ে ফ্লোরিডায় চলতি বছর রেকর্ড ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। রাজ্যটির বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস অন্যান্য যেকোনো গভর্নরের চেয়ে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর হওয়া মোট ৩৪টি মৃত্যুদণ্ডের অর্ধেকের বেশি কেবল ফ্লোরিডাতেই কার্যকর হয়েছে। দিনের সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ডটি কার্যকর হয় আলাবামায়। ১৯৯১ সালে ডাকাতির সময় বয়স্ক এক দম্পতিকে ধাতব রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে ৫৪ বছর বয়সী মাইকেল টেইলরকে এই সাজা দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ড বিরোধীরা ঘটনার সময় তার ১৯ বছর বয়স ও অপরিণত মানসিকতার কথা বিবেচনা করে সাজা কমানোর জন্য রিপাবলিকান গভর্নর কে আইভের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু আইভে তা প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সব মৃত্যুদণ্ড মওকুফের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ক্যালিফোর্নিয়া অপরাধীদের বাঁচতে দিলেও আলাবামায় আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এর আগে নাইট্রোজেন গ্যাস পদ্ধতিকে এক বিচারক অসাংবিধানিক ঘোষণা করায় শেষ মুহূর্তে টেইলরকে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফ্লোরিডায় জেট দুর্ঘটনায় নিহত তরুণ কো-পাইলট নাথালিয়া, শেষ বেতারবার্তা বারবার শুনছেন বাবা
নিউজার্সিতে মা খু নের ৫ মাস পর সেই বাড়িতে আবারও পুলিশের তল্লাশি, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা