সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন।
নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreবাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এই বিশেষ কোর্সটি মূলত অর্থনীতি, অর্থসংস্থান, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে। এছাড়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সেখানে তারা স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাংবাদিককে সনদপত্র প্রদান করা হবে। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াতের বিমানভাড়া, প্রশিক্ষণ ফি, আবাসন ও দৈনন্দিন ভাতাসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার বহন করবে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার
ব্রিটেনে নার্স সংকটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হাড় ভাঙার মতো ঘটনা, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
৫ বছর সানস্ক্রিন না ব্যবহারে নারীর মুখে দেখা গেল ত্বকের বড় পরিবর্তন
যুক্তরাজ্যের আদালতে বিচারককে আবেগপ্রবণ করে আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এক ভুক্তভোগীর বিবৃতি তৈরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে এক পুলিশ কর্মকর্তার তৈরি করা ওই বিবৃতির বিষয়টি সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী জেরোম গিবসন নামের এক আসামির সাজা কমানোর আপিল শুনানিতে সামনে আসে। ২০২৪ সালের মে মাসে গিবসন তার সঙ্গীর বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ছুরি নিয়ে হুমকি দেওয়া এবং পালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর জখম করার দায় স্বীকার করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নটিংহ্যাম ক্রাউন কোর্ট তাকে ৪৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তিনি লন্ডনের কোর্ট অব আপিলে আবেদন করেন। মঙ্গলবারের আপিল শুনানিতে গিবসনের আইনজীবী লাকি থান্ডি আদালতকে জানান, মামলার নথিতে ভুক্তভোগীর যে ব্যক্তিগত বিবৃতিটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা মূলত মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা মাইক্রোসফট কপাইলট ব্যবহার করে তৈরি করেছেন। থান্ডির দাবি অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা কপাইলটে এমনভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে বিবৃতিটি পড়ে বিচারক বা পাঠক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং অপরাধের সর্বোচ্চ মাত্রার ক্যাটাগরির সঙ্গে যেন সাজাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর জবাবে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের পক্ষে ডেনিস ব্যারি জানান, ফৌজদারি মামলায় অতিরঞ্জিত ভাষার চেয়ে বাস্তব তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং বিচারকের এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ওই কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ইতোমধ্যে তাকে সম্মুখভাগের দায়িত্ব বা ফ্রন্টলাইন ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোর্ট অব আপিলের তিন সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ আইনি প্রক্রিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তার এমন এআই ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করলেও আসামির সাজা কমানোর আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, এআই ব্যবহার করে আইনি বিবৃতি তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; তবে আগের বিচারক সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য আমলে নিয়েছিলেন সেগুলো কোনো কাল্পনিক বিষয় ছিল না, বরং ভুক্তভোগীর বাস্তব সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই সাজানো হয়েছিল। বিচারকদের মতে, এআই ব্যবহারের কারণে আসামির সাজা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ৪৪ মাসের কারাদণ্ডকেই যৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে তা বহাল রাখা হয়েছে। তবে অভিনব এই ঘটনাটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই-এর অপব্যবহার এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আর্জেন্টিনায় ৩০ বছর পর ইহুদি কেন্দ্র হামলার ঘটনায় ৭ ইরানি ও এক হিজবুল্লাহ নেতার বিচার
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নতুন কেনা ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী
পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের, আলোচনার প্রস্তাব
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমার পাশাপাশি অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানতে নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে এবং বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা আগে থেকে পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে অনলাইন অশালীন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই নতুন এই নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কলেজে যাওয়ার আগের শেষ তিন বছরের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। মেক্সিকো ছাড়াও ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও পেরুসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও মনোযোগী করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কসম কেটে তুরস্ক-পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল হুথিরা, সৌদির পক্ষে নামলেই ‘নির্মম জবাব’
জন্মের পর বলা হয়েছিল বেশিদিন বাঁচবেন না, সেই ক্লাউদিওই আজ বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা