টনসিলাইটিস ভেবে চিকিৎসা, ১১ বছরের শিশুর ধরা পড়ল স্টেজ-৪ ক্যানসার
যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী শিশু আরমাই বোরোজ-পিটের শরীরে চিকিৎসকেরা প্রথমে টনসিলাইটিসের লক্ষণ হিসেবে দেখলেও পরে তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার পর পরিবারের জোর দাবিতে রক্ত পরীক্ষা করা হলে তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে শিশুটি ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে।
ঘটনার শুরু মে মাসের শেষ দিকে। ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে থাকা অবস্থায় আরমাইয়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সক্রিয় ও প্রাণবন্ত এই শিশু তখন খেলতে চাইত না এবং একা একা বসে থাকত। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবার চিকিৎসকের কাছে যায়।
মে মাসের ৩১ তারিখে তাকে ওয়ারউইক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কথা জানান। এরপর ২ জুন তাকে সাধারণ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা টনসিলাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও আরমাইয়ের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং সে হাঁটা, কথা বলা ও খাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ থেকেও অনেকটাই দূরে চলে যায়।
এরপর ১০ জুন আরমাইকে আবার ওয়ারউইক হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা নিকি। এবার তিনি রক্ত পরীক্ষা না করা পর্যন্ত হাসপাতাল ছাড়বেন না বলে জানান। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সে সময় চিকিৎসকেরা তার অসুস্থতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ, যক্ষ্মা কিংবা মিসরে পরিবারের ছুটির সময় পাওয়া কোনো সংক্রমণের বিষয় বিবেচনা করছিলেন।
ওয়ারউইক হাসপাতালে আরমাই ১৫ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। পরে তাকে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩ জুলাই তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়। এটি বিরল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের শৈশবকালীন ক্যানসার। রোগটি শনাক্ত হওয়ার সময় তার প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরমাইয়ের মা নিকি জানান, মেয়েকে বারবার সুস্থ বলা হলেও তিনি বুঝতে পারছিলেন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। শিশুটির ঘাড়ে ব্যথা, পায়ের নিচের অংশ ও কুঁচকিতে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। প্রথমদিকে এসব লক্ষণের সঙ্গে তার জিমন্যাস্টিকসের কোনো আঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও পরিবার মনে করেছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আরমাইয়ের অসুস্থতার বিষয়টি বুঝতে তাদের জন্য সময়টি অত্যন্ত কঠিন ছিল। হাসপাতালে থাকার সময়ও তার সঠিক অসুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তার মা বলেন, সাধারণভাবে সুস্থ ও সক্রিয় একটি শিশুর হঠাৎ করে হাঁটতে, খেতে বা পান করতে না চাওয়াকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি।
বার্কিট লিম্ফোমা সাদা রক্তকণিকার বি-কোষ থেকে শুরু হওয়া দ্রুতগতির এক ধরনের ক্যানসার। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে এবং এটি শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আরমাইয়ের ক্ষেত্রে রোগটি স্টেজ-৪ পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এখন তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
বর্তমানে আরমাই ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিবার অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে পরিবারের। তার ইচ্ছার মধ্যে ফ্লোরিডার ডিজনি ওয়ার্ল্ড এবং ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণের বিষয় রয়েছে।
পরিবার একই সঙ্গে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতাল ও রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসকে সহায়তা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। চিকিৎসার সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তারা। পরিবার অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ৬৭৫ ডলার, তবে পরে সংগৃহীত অর্থ প্রায় ১২ হাজার ১৫০ ডলারে পৌঁছায়।
আরমাইয়ের অসুস্থতার ঘটনা পরিবারের জন্য কঠিন সময় তৈরি করলেও তার স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং কেমোথেরাপির এই কঠিন সময় পার করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী শিশু আরমাই বোরোজ-পিটের শরীরে চিকিৎসকেরা প্রথমে টনসিলাইটিসের লক্ষণ হিসেবে দেখলেও পরে তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার পর পরিবারের জোর দাবিতে রক্ত পরীক্ষা করা হলে তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে শিশুটি ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে। ঘটনার শুরু মে মাসের শেষ দিকে। ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে থাকা অবস্থায় আরমাইয়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সক্রিয় ও প্রাণবন্ত এই শিশু তখন খেলতে চাইত না এবং একা একা বসে থাকত। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবার চিকিৎসকের কাছে যায়। মে মাসের ৩১ তারিখে তাকে ওয়ারউইক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কথা জানান। এরপর ২ জুন তাকে সাধারণ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা টনসিলাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও আরমাইয়ের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং সে হাঁটা, কথা বলা ও খাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ থেকেও অনেকটাই দূরে চলে যায়। এরপর ১০ জুন আরমাইকে আবার ওয়ারউইক হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা নিকি। এবার তিনি রক্ত পরীক্ষা না করা পর্যন্ত হাসপাতাল ছাড়বেন না বলে জানান। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সে সময় চিকিৎসকেরা তার অসুস্থতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ, যক্ষ্মা কিংবা মিসরে পরিবারের ছুটির সময় পাওয়া কোনো সংক্রমণের বিষয় বিবেচনা করছিলেন। ওয়ারউইক হাসপাতালে আরমাই ১৫ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। পরে তাকে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩ জুলাই তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়। এটি বিরল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের শৈশবকালীন ক্যানসার। রোগটি শনাক্ত হওয়ার সময় তার প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল। আরমাইয়ের মা নিকি জানান, মেয়েকে বারবার সুস্থ বলা হলেও তিনি বুঝতে পারছিলেন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। শিশুটির ঘাড়ে ব্যথা, পায়ের নিচের অংশ ও কুঁচকিতে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। প্রথমদিকে এসব লক্ষণের সঙ্গে তার জিমন্যাস্টিকসের কোনো আঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও পরিবার মনে করেছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আরমাইয়ের অসুস্থতার বিষয়টি বুঝতে তাদের জন্য সময়টি অত্যন্ত কঠিন ছিল। হাসপাতালে থাকার সময়ও তার সঠিক অসুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তার মা বলেন, সাধারণভাবে সুস্থ ও সক্রিয় একটি শিশুর হঠাৎ করে হাঁটতে, খেতে বা পান করতে না চাওয়াকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। বার্কিট লিম্ফোমা সাদা রক্তকণিকার বি-কোষ থেকে শুরু হওয়া দ্রুতগতির এক ধরনের ক্যানসার। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে এবং এটি শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আরমাইয়ের ক্ষেত্রে রোগটি স্টেজ-৪ পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এখন তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমানে আরমাই ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিবার অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে পরিবারের। তার ইচ্ছার মধ্যে ফ্লোরিডার ডিজনি ওয়ার্ল্ড এবং ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণের বিষয় রয়েছে। পরিবার একই সঙ্গে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতাল ও রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসকে সহায়তা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। চিকিৎসার সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তারা। পরিবার অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ৬৭৫ ডলার, তবে পরে সংগৃহীত অর্থ প্রায় ১২ হাজার ১৫০ ডলারে পৌঁছায়। আরমাইয়ের অসুস্থতার ঘটনা পরিবারের জন্য কঠিন সময় তৈরি করলেও তার স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং কেমোথেরাপির এই কঠিন সময় পার করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
বারবার মাথা তুলে মাকে খুঁজা সেই চার মাসের ভাইরাল শিশুর ঠাঁই হলো নানাবাড়িতে
ইসরায়েলিদের ফেরার পথ করতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন
ইতালির রাজধানী রোমে কিপ্পা পরা ২২ বছর বয়সী এক ফরাসি ইহুদি পর্যটককে পরপর দুই দিনে দুবার হামলা করা হয়েছে বলে দাবি সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনায় তাকে পেপার স্প্রে করা এবং পরদিন চারজন ঘিরে ধরে লাথি মারার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই ঘটনার সময়ই হামলাকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে চিৎকার করেছে বলেও ওই পর্যটকের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, গত শুক্রবার রোমের কেন্দ্রস্থলে কিপ্পা পরে চলাচলের সময় প্রথম হামলার শিকার হন ওই পর্যটক। একজন ব্যক্তি তার দিকে পেপার স্প্রে করেন বলে অভিযোগ। হামলার সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। পরদিন সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আবারও তার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এবার চারজন তাকে ঘিরে ধরে লাথি মারেন এবং এ সময়ও একই স্লোগান দেওয়া হয় বলে তার দাবি। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঘটনার পর ৩১ বছর বয়সী এক আলজেরীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ এবং আরও তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতালির প্রধান সংবাদ সংস্থা আনসা কিংবা রোম পুলিশের সহজলভ্য প্রকাশিত তথ্যে এই নির্দিষ্ট দুই দিনের ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে পর্যটকের বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং দুই হামলার মধ্যে একই ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন কি না, এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। রোমে কিপ্পা পরা ব্যক্তিকে হামলার ঘটনা অবশ্য এর আগেও ঘটেছে। গত এপ্রিলে রোমের মারকোনি এলাকার ভিয়া জেরোলামো কারদানোতে কিপ্পা পরা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে হামলা করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল ইতালীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছিল। ইতালির অন্য শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে কিপ্পা পরা ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে মিলানে কিপ্পা পরা দুই আর্জেন্টাইন ইহুদি পর্যটককে প্রায় ১০ জন ঘিরে ধরে মারধর করার ঘটনায় একজনের নাক ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। রোমের সর্বশেষ অভিযোগটি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়ে থাকলে তা সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রশ্ন তুলবে। তবে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান বা স্লোগান নিজে থেকে ইহুদিবিদ্বেষের প্রমাণ নয়, তবে কোনো ব্যক্তিকে তার ইহুদি পরিচয় বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইতালীয় আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে তদন্ত হতে পারে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা রাখার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অচলাবস্থা, হরমুজ নিয়ে আরও কঠোর ট্রাম্প, ছাড় দিচ্ছে না ইরানও
৬ সন্তানকেই মেরে ফেলেছে ইসরায়েল, কারাগার থেকে বের হয়ে বাবা পেলেন মৃত্যুসনদ
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ‘মিস্টার বাদল’ এবার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দুটি সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সুইডেনে অনুষ্ঠিত ‘সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্টকহোম ২০২৬’-এ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা আশরাফুজ্জামান সেরা পরিচালকের (বেস্ট ডিরেক্টর) পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে কানাডার ‘১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ কনটেন্টটি ‘অফিসিয়াল সিলেকশন’ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। আশরাফুজ্জামানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত এই কনটেন্টটি সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায়। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ, পারসা ইভানা, সৈয়দ জামান শাওন, নিকিতা সাহা, আবু হেনা রনি ও খায়রুল আলম টিপুসহ আরও অনেকে। চলচ্চিত্রটির গল্প এগিয়েছে জিয়াউল হক পলাশের একটি স্টেজ পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের চরিত্রে সৈয়দ জামান শাওনের উপস্থিতিতে গল্পে যুক্ত হয় অতীতের স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও নস্টালজিয়া। প্রথম ক্লাইম্যাক্সের পর ‘রিতা’ চরিত্রে পর্দায় হাজির হন পারসা ইভানা। তাঁর অভিনীত চরিত্রটির একটি সংলাপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গল্পের পরতে পরতে থাকা একাধিক ক্লাইম্যাক্স ও চরিত্রের বাঁকবদল কাহিনিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে কমেডি, রোম্যান্স ও আবেগঘন দৃশ্যে ‘বাদল’ চরিত্রে পলাশের অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি কারিগরি নির্মাণেও ‘মিস্টার বাদল’ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং ও কালার গ্রেডিংয়ের দারুণ সমন্বয়ে গল্পের আবহ সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সজিব দাশের করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক (বিজিএম) গল্পের বিভিন্ন মুহূর্তকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক উৎসবের এই জোড়া স্বীকৃতি নির্মাতা আশরাফুজ্জামান ও পুরো টিমের জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিষিদ্ধ বইয়ে প্রেমের শুরু, বহু বাধা পেরিয়ে বিয়ে চীনা মুসলিম দম্পতির
মালয়েশিয়ায় বড় অভিযানে ৩৭০ বাংলাদেশিসহ আটক ১ হাজার ৪৩