মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে ভুয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত সেসব বিদেশি শ্রমিককে লক্ষ্য করত, যারা বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় একই রেখে ভুয়া নথি তৈরি করা হতো। এরপর সুস্থ ব্যক্তিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো।
অভিযানে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত উদ্ধার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, জব্দ করা উপকরণের পরিমাণ দেখে চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না; ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এর কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাল নথি তৈরিতে জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গুরুতর ও বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির তালিকায় আরও ১৪টি স্বাস্থ্যগত অবস্থা যুক্ত করেছে। এর ফলে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস বা সিএএল তালিকায় মোট রোগ ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪টিতে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ১১ আগস্ট নতুন তালিকা ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় এমন গুরুতর রোগ ও মেডিক্যাল কন্ডিশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যেগুলো সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটির ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করে। ফলে আবেদনকারীর কেস সাধারণ প্রক্রিয়ার তুলনায় দ্রুত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়। নতুন যোগ হওয়া ১৪টি কন্ডিশনের মধ্যে রয়েছে অ্যাডেনাইলোসাক্সিনেট লাইয়েজ ডেফিসিয়েন্সির নিওনেটাল ফর্ম ও টাইপ ১, আইকার্ডি সিনড্রোম, বারাইতসার উইন্টার সিনড্রোম, বেয়ার স্টিভেনসন কিউটিস জাইরাটা সিনড্রোম, বোরিং ওপিটজ সিনড্রোম, সিএএসকে সম্পর্কিত জিন ডিসঅর্ডার, হেপাটোস্প্লেনিক টি সেল লিম্ফোমা, লাফোরা ডিজিজ, ম্যালিগন্যান্ট মাইগ্রেটিং পারশিয়াল সিজারস অব ইনফ্যান্সি, ওপিএইচএন১ সিনড্রোম, প্রাইমারি কার্ডিয়াক সারকোমা, প্রাইমারি ইন্ট্রাক্রানিয়াল ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা, মেটাস্টেসিসসহ ইউভিয়াল মেলানোমা এবং ওয়ারবার্গ মাইক্রো সিনড্রোম। এসবের মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক ও নিউরোলজিক্যাল রোগ, আবার কয়েকটি গুরুতর ক্যানসার। অনেক ক্ষেত্রে রোগগুলো শিশু বয়সেই দেখা দেয় এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবন, শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। সোশ্যাল সিকিউরিটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো জানিয়েছেন, ডিসঅ্যাবিলিটি প্রোগ্রামের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও মানসম্মত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি গুরুতর রোগে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমিয়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে তৈরি করা হয়েছে। সিএএল তালিকায় কোনো রোগের নাম থাকার অর্থ এই নয় যে আবেদন না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক ডিসঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট শুরু হয়ে যাবে। আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের জন্য আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রেকর্ড জমা দিতে হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আবেদনকারীর রোগ নির্ণয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি কেসের তুলনায় সিএএল কেসগুলো দ্রুত শনাক্ত ও প্রসেস করার ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, কেস দ্রুত প্রসেস হলেও আবেদনকারীকে সোশ্যাল সিকিউরিটি আইনের ডিসঅ্যাবিলিটি সংজ্ঞা পূরণ করতে হয় এবং আবেদন মূল্যায়নের মূল আইনি মানদণ্ড অপরিবর্তিত থাকে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সোশ্যাল সিকিউরিটি। আবেদন জমা পড়ার পর সিস্টেম সম্ভাব্য কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কেস শনাক্ত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হেলথ আইটি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সরাসরি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে। ২০০৮ সালে কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস কর্মসূচি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি গুরুতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ ডিসঅ্যাবিলিটি আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মেডিক্যাল রেকর্ড সংগ্রহ, রোগের প্রভাব মূল্যায়ন এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে সময় লাগে। কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর ও সুস্পষ্ট কিছু রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা রোগী ও পরিবারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সিএএল সেই অপেক্ষা কমানোর একটি বিশেষ ব্যবস্থা। নতুন তালিকা প্রকাশের ফলে যাদের এসব ১৪টি রোগের কোনো একটি রয়েছে, তাদের জন্য আবেদন দ্রুত প্রসেস হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র রোগের নাম মিললেই বেনিফিট নিশ্চিত, এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। আবেদনকারীর মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির যোগ্যতার অন্যান্য শর্তও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটির সম্পূর্ণ কমপ্যাশনেট অ্যালাউয়েন্সেস তালিকায় এখন ৩১৪টি কন্ডিশন রয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, বিরল জেনেটিক রোগ, শিশুদের গুরুতর রোগ এবং স্নায়ুবিক সমস্যাসহ এমন বহু কন্ডিশন রয়েছে, যেগুলো গুরুতর ডিসঅ্যাবিলিটির সঙ্গে সম্পর্কিত। যারা ইতিমধ্যে ডিসঅ্যাবিলিটি বেনিফিটের আবেদন করার কথা ভাবছেন এবং নতুন যোগ হওয়া কোনো কন্ডিশনে আক্রান্ত, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মেডিক্যাল ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসার রেকর্ড প্রস্তুত রাখা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অফিসিয়াল আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেস জমা দেওয়া। নতুন পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো, যোগ্য আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না হওয়ার সম্ভাবনা।
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণের কথা ভাবলে তার জন্য কী ভয়াবহ 'মূল্য' চোকাতে হবে—বিশ্বকে সেই বার্তা দেওয়াও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য। সাক্ষাৎকারে নাকদি জানান, গত পাঁচ মাসের এই সংঘাতে ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তাদের মতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল। যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কারণ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান এমন একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরাশক্তি তাদের আক্রমণ করার সাহস না পায়। সংঘাত দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেওয়ার এই কৌশলের মাধ্যমে তেহরান মূলত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে চাইছে। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করে নাকদি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরাসরি চরম বিপদের মুখে পড়বে। তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই; কারণ ইরানের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন ও তাদের অটুট প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বিষয়েও প্রবল আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইআরজিসি কমান্ডার। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরান রকেট ছুড়তে সক্ষম বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক স্তরে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। উল্টো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী দাবি অব্যাহত রয়েছে। এই সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অনিশ্চয়তা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আল্লাহর ঘর দেখেই শেষ হলো জীবনের সফর, মক্কায় কাবার সামনে মৃ ত্যু পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রীর
টনসিলাইটিস ভেবে চিকিৎসা, ১১ বছরের শিশুর ধরা পড়ল স্টেজ-৪ ক্যানসার
নিজে বেঁচে ফিরেছিলেন, কিন্তু মেয়ের টানে আবার ধ্বংসস্তূপে ফিরে গিয়ে প্রাণ হারালেন নিউজার্সির এক মা
ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের একটি শিশু হাসপাতালে জন্মের পর থেকেই পরিবারহীন অবস্থায় থাকা শিশু লুসিয়ানা অবশেষে তার মাতৃকুলের দাদা-দাদির জিম্মায় যাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের যত্নে থাকা শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর স্থানীয় শিশু অধিকার কর্তৃপক্ষ তাকে দাদা-দাদির কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। লুসিয়ানাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের অনেকটিতেই বলা হচ্ছিল, চার মাস বয়সে তাকে হাসপাতালে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রিমিসিয়াসের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শিশুটি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ জন্মের একদিন পর থেকেই গুয়ায়াকিলের ড. ফ্রান্সিসকো দে ইকাসা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে ছিল। অর্থাৎ সে চার মাস বয়সে পরিত্যক্ত হয়নি, বরং জীবনের প্রথম কয়েক মাসই হাসপাতালকে ঘর হিসেবে কাটিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুসিয়ানার পরিবারকে খুঁজে বের করতে ক্যান্টোনাল বোর্ড ফর দ্য প্রোটেকশন অব রাইটস অনুসন্ধান চালায়। পরে তার মাতৃকুলের দাদা-দাদির সন্ধান পাওয়া যায়। তারা শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার পর লুসিয়ানাকে হাসপাতালের বাইরে পারিবারিক পরিবেশে নেওয়ার পথ তৈরি হয়। লুসিয়ানার ঘটনা ইকুয়েডরে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। শিশুটির জন্য সাধারণ মানুষ পোশাক, খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠান। হাসপাতালের কর্মীরাও মাসের পর মাস তাকে দেখাশোনা করেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলেও আইনি ও পারিবারিক জটিলতা মেটার আগ পর্যন্ত হাসপাতালই তার থাকার জায়গা হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শিশু পরিত্যাগের অভিযোগে লুসিয়ানার মায়ের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া হতে পারে। ইকুয়েডরের ফৌজদারি আইনে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে পরিত্যাগ করা অপরাধ। এমন ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে শিশুটির বাবা-মা এবং বিস্তৃত পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হয়। পরিবারে নিরাপদভাবে হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলে তবেই বিকল্প আশ্রয় বা দত্তক প্রক্রিয়ার দিকে যাওয়া হয়। এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণেই হাসপাতাল থেকে কোনো শিশুকে সরাসরি দত্তক দেওয়া যায় না। লুসিয়ানার ক্ষেত্রেও প্রথম লক্ষ্য ছিল তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া। দাদা-দাদির সন্ধান পাওয়ায় এখন তার জন্য আলাদা দত্তক পরিবারের প্রয়োজন হচ্ছে না, বরং পরিবারের সদস্যদের তত্ত্বাবধানেই সে বড় হবে। প্রিমিসিয়াসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গুয়ায়াকিলের ড. ফ্রান্সিসকো দে ইকাসা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ শিশুকে দীর্ঘ সময় পরিবার ছাড়া থাকতে হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও আইনি জটিলতা বা অভিভাবক না পাওয়ায় হাসপাতালেই মাসের পর মাস থাকতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, একটি সুস্থ শিশুর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকা আদর্শ নয়। এতে হাসপাতালজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি পরিবারভিত্তিক স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এই কারণেই লুসিয়ানার জন্য পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া তার ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার মাসের বেশি সময় হাসপাতালের কক্ষ, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেই বেড়ে ওঠা লুসিয়ানার জীবনে এখন নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তাকে ঘিরে দেশজুড়ে যে সহানুভূতি ও সহায়তার ঢল নেমেছিল, তার পর এবার নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে শিশুটি।
ইসরায়েলিদের ফেরার পথ করতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন
রোমে ইহুদি পর্যটককে ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে, দুই দিনে দুবার লাথি হামলার দাবি