মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ভিসা নবায়নে সহায়তার নামে ভুয়া পাসপোর্ট সরবরাহ করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় কুয়ালালামপুরের দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালিয়ে ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট তৈরির সরঞ্জাম ও নথি জব্দ করা হয়েছে।
গত ১৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরের তামান ওয়াহ্যু ও কাম্পুং বাতুর দুটি আবাসিক ইউনিটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২৯ ও ৩২ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, গত ৫ আগস্ট পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিকৃতির অভিযোগে তিন ইন্দোনেশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে চক্রটি সক্রিয় ছিল। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির একজনকে চক্রটির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রায় নয় বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নির্মাণ খাতের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ছিল। অপর সন্দেহভাজনের ভিসার মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত সেসব বিদেশি শ্রমিককে লক্ষ্য করত, যারা বিদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচিত হতেন। তাদের জন্য পাসপোর্টের ছবি পরিবর্তন করে পরিচয় একই রেখে ভুয়া নথি তৈরি করা হতো। এরপর সুস্থ ব্যক্তিকে ওই পরিচয় ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়ানো হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া প্রবেশ ও প্রস্থানের সিলও ব্যবহার করা হতো। প্রতিটি লেনদেনে ২০০ থেকে ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো।
অভিযানে দুটি আসল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, নয়টি জাল বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৭০০টি পাসপোর্ট পৃষ্ঠা এবং বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০টি ভুয়া পাসপোর্টের কভার উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সন্দেহজনক জাল অভিবাসন সিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বাতাম ও বাংলাদেশের ঢাকা থেকে প্রস্থানের সিলও পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা মূল পরিকল্পনাকারীর একটি ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ লাখ রিঙ্গিত উদ্ধার করেছেন।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, জব্দ করা উপকরণের পরিমাণ দেখে চক্রটির কাছে প্রায় ২ হাজার জাল পাসপোর্ট তৈরির সক্ষমতা ছিল। চক্রটি প্রকাশ্যে কোনো বিজ্ঞাপন দিত না; ফ্রিল্যান্স এজেন্ট ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করত।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্লাং ভ্যালির বাইরে এর কার্যক্রম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই জাল নথি তৈরিতে জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে ৫৫ডি ও ৫৬(১)(ডি) ধারা এবং অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৫(১)(সি) ধারায় তদন্ত চলছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের চলমান কার্যক্রমকে 'বিশ্ববিবেকের জন্য এক বিরাট কলঙ্ক' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা এড মিলিব্যান্ড। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ইসরায়েল যতই নিরাপত্তাজনিত হুমকির মুখে থাকুক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা এই চরম বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সম্মেলনে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা জানান মিলিব্যান্ড। এ বিষয়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। লেবার পার্টির নতুন নীতিমালার আলোকে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর বিষয়গুলো এখন জোরালোভাবে সামনে আনা হচ্ছে। শুধু মৌখিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ না থেকে, ইসরায়েলের ওইসব অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং সেখানে ব্রিটিশ অর্থায়ন ও নির্মাণ খাতের যেকোনো সহায়তা বন্ধ করার মতো কঠোর ঘোষণাও দিয়েছেন এই নেতা। তবে মিলিব্যান্ড তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই কঠোর অবস্থান বা প্রতিবাদ সাধারণ ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং ইসরায়েল সরকারের আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করার যেকোনো চক্রান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করতে তারা বদ্ধপরিকর। সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্যায়ের প্রতিবাদের পারিবারিক মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করা সবার নাগরিক দায়িত্ব। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবোধ ফিকে হয়ে যায় না—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় আদর্শ রক্ষায় সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি জলবায়ু সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য স্বার্থে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি
মাত্র ১১ বছরেই দাবায় বিশ্বরেকর্ড, সর্বকনিষ্ঠ নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ব্রিটিশ-ভারতীয় বোধনা
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই পাঁচ তরুণ ব্রিটেনের নাগরিক এবং তারা লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। এর আগে রবিবার ভোরে বিস্ফোরকভর্তি তিনটি ভ্যানসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত গ্লুচেস্টারের হোয়েলফোর্ড গ্রামের এক স্থানীয় কৃষকের বুদ্ধিমত্তায় এই সম্ভাব্য হামলার ছক ভেস্তে যায়। রবিবার ভোরে একটি পার্টি থেকে ফেরার পথে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী কৃষক দেখতে পান, মাস্ক ও বালাক্লাভা পরা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি তিনটি সাদা ভ্যান ফেলে মাঠের ভেতর দিয়ে ঘাঁটির দিকে ছুটে যাচ্ছে। ভ্যানের গায়ে লেখা ‘ফুয়েল টু ইউ’ কোম্পানির নাম এবং একটি অসম্পূর্ণ ফোন নম্বর দেখে তার সন্দেহ আরও তীব্র হয়। তিনি দ্রুত গ্রামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সতর্কবার্তা পাঠান এবং পুলিশকে খবর দেন। দশ মিনিটের মধ্যেই সশস্ত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনাকে ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম পুলিশ। তবে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পর যুক্তরাজ্যে নতুন করে 'ইরানভীতি' ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমন বানোয়াট খবর প্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেরোরিজম বিভাগের প্রধান লরেন্স টেলর এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিকি ইভান্স জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত জটিল ও বড় পরিসরের একটি তদন্ত। ঘটনার নেপথ্যের উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থা একযোগে কাজ করছে। তবে সন্দেহভাজনরা আগে থেকেই নজরদারিতে ছিল বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার যে মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং কৃষকের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, ঘাঁটিতে ফোন করে সাড়া না পাওয়ার বিষয়ে কৃষকের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে ওই কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বড় একটি ঘটনার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর উচিত ছিল আরও সতর্ক থাকা। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে। গত জুলাই মাসে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘাঁটিকে তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করেছিল, যার জেরে সম্প্রতি সেখানে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যানসারে মা ও মেয়ের মৃত্যু, একসঙ্গে হলো শেষ বিদায়
তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্মালেই নবজাতক পাবে সোনার আংটি
জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখের বেশি চাকরি, বিদেশি কর্মীদের জন্যও বাড়ছে সুযোগ
কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৭৮ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর ছেলে রাঘবেন্দ্র কুমারের অভিযোগ, এক অচেনা নারী পায়ে হাত দিয়ে ও আলিঙ্গন করে আস্থা অর্জনের পর তাঁর মায়ের গলার আসল হার খুলে নকল হার পরিয়ে দেন। হাতের স্বর্ণের বালাও নিয়ে যাওয়া হয়। পিল আঞ্চলিক পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে, ব্র্যাম্পটনের চিঙ্গুয়াকুসি রোড ও বোভেয়ার্ড ড্রাইভ ওয়েস্টের কাছের একটি আবাসিক এলাকায়। কুমার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪কে বলেন, তাঁর মা ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কাছে আসা নারীকে তিনি প্রথমে প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ ভেবেছিলেন। কুমারের হিসাবে, চুরি হওয়া অলংকারের ওজন প্রায় ১১০ গ্রাম। তাঁর প্রয়াত বাবা পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। ১৯৭১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য তিনি নিজ হাতে অলংকারগুলো তৈরি করেছিলেন। তাই অর্থমূল্যের বাইরেও পরিবারের কাছে সেগুলোর বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে তাঁর মা কাঁপছিলেন এবং বাড়ি ফেরার পর প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলতে পারেননি বলে জানান কুমার। হৃদ্রোগের সমস্যা থাকায় সে সময় মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর মা নিয়মিত সন্ধ্যার হাঁটাও বন্ধ করে দিয়েছেন। পিল পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স গাড়িকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুমারের দেওয়া ভিডিওতে দেখা নারীও তদন্তে আগ্রহের ব্যক্তি। টরন্টোর আরেকটি অলংকার চুরির ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলেও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বার্লিনে সমকামী হামলার সূত্রে সিরিয়ায় আইএস এ যোগ দেওয়া শারমিনা বেগম আটক
ফোন স্ক্রল করার সময় হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় তরুণীর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন ২১ বছরের তরুণী