সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৮:৪২
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

ইতালিতে সম্পর্ক ভাঙার জের ধরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। লোরেনা ইসেরি (৪৬) নামের এক নারীকে অপহরণের পর ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন তার প্রাক্তন প্রেমিক ফেদেরিকো ভেল্লা (৩৬)। এই নির্মম ঘটনার পর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেও ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক।

 

সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "সবাইকে বিদায়" লিখে একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়েছিলেন ভেল্লা।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’র সূত্রে জানা যায়, গাড়ি ভাড়া দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ভেল্লা লোরেনার ফ্লোরেন্সের বাড়ির গ্যারেজে আগে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন। লোরেনা সেখানে পৌঁছালে তাকে মারধর করে পা বেঁধে তার নিজের অডি গাড়ির ট্রাঙ্কে ভরে ফেলেন ভেল্লা। এরপর গাড়িটি নিয়ে উত্তরের শহর বোলোনিয়ার দিকে রওনা হন তিনি।

 

ট্রাঙ্কের ভেতর একটি ব্যাকপ্যাকে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে লোরেনা প্রথমে তার মা ও এক বন্ধুকে কল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশকে কল করতে সক্ষম হন এবং আততায়ীর বর্ণনা দিয়ে বাঁচার জন্য আকুতি জানান।

 

পুলিশ লোরেনার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এগিয়ে আসতে থাকে। এদিকে ভেল্লা গাড়িটি একটি ভায়াডাক্টের পাশের ফাঁকা জায়গায় থামান। তিনি ট্রাঙ্ক খুলে লোরেনার হাতে ফোন দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সেটি ছিনিয়ে নেন। এরপর চরম আক্রোশে তাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দেন।

 

পুলিশ ভেল্লাকে ঘিরে ফেলে এই নৃশংসতার কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, লোরেনা তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং খারাপ আচরণ করেছেন। এই কথা বলার পরপরই পুলিশের সামনে তিনি নিজেও ব্রিজ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, বিচ্ছেদের ঠিক আগের দিন ভেল্লা তাদের সম্পর্কের নানা মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন
সূর্যের এমন স্পষ্ট ছবি আগে কখনো দেখেনি মানুষ, ধরা পড়ল প্লাজমার রহস্যময় ঘূর্ণন

উনিশ শতকের এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব অবশেষে বাস্তবে প্রমাণিত হলো সৌরপৃষ্ঠে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সোলার টেলিস্কোপের অত্যাধুনিক লেন্সে সম্প্রতি ধরা পড়েছে সূর্যের বুকে থাকা ফুটন্ত প্লাজমার এক বিস্ময়কর প্যাঁচানো প্যাটার্ন। ভিন্ন গতির দুটি প্রবাহ পাশাপাশি চললে তাদের ঘর্ষণে যে বিশেষ ধরনের ঘূর্ণন বা প্যাঁচানো তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, তা পদার্থবিজ্ঞানে একটি সুপরিচিত ধারণা।   এতদিন বিজ্ঞানীরা কেবল অনুমান করতেন যে, প্রচণ্ড তাপ ও অস্থিতিশীলতায় পূর্ণ সূর্যের বুকেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এর কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ এতদিন মানুষের হাতে ছিল না। অত্যাধুনিক টেলিস্কোপের মাধ্যমে ধারণ করা নতুন এই ছবি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সেই অনুমানেরই বাস্তব স্বীকৃতি দিল।   আজ থেকে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে উনিশ শতকের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন এবং হারমান ফন হেল্মহোল্টজ প্রথম গাণিতিকভাবে এই তরঙ্গের প্রবাহ প্রমাণ করেছিলেন। তাদের নামানুসারে তরঙ্গের এই প্যাটার্নটি ‘কেলভিন-হেল্মহোল্টজ ইনস্ট্যাবিলিটি’ নামে পরিচিত। এতদিন এই জটিল গাণিতিক তত্ত্বটি মূলত বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।   পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা মেঘের ক্ষেত্রে এর কিছু প্রমাণ মিললেও সৌরপৃষ্ঠে এর উপস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক। প্রবল বেগে ছুটে চলা সৌরঝড় ও গ্যাসীয় প্লাজমার ঘর্ষণে সৃষ্ট এই তরঙ্গের নিখুঁত ছবি মহাকাশবিদদের রীতিমতো মুগ্ধ করেছে।   মহাকাশ গবেষণায় এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ সৌরবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, সূর্যের পৃষ্ঠে প্লাজমার এই প্যাঁচানো প্যাটার্নের বিস্তারিত বিশ্লেষণ সূর্যের বায়ুমণ্ডলের অনেক অজানা রহস্য সমাধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   বিশেষ করে সৌরশিখা, সৌরঝড় এবং মহাকাশের আবহাওয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, সে সম্পর্কে আরও গভীর ও নিখুঁত তথ্য পেতে এই চাক্ষুষ প্রমাণ বিজ্ঞানীদের নতুনভাবে দিকনির্দেশনা দেবে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৯:২
প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

প্রাক্তন প্রেমিকাকে ১৩১ ফুট উঁচু ব্রিজ থেকে ফেলে হ ত্যা, পুলিশের সামনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহ ত্যা

গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

গাজা ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এর প্রকৃত মালিক ফিলিস্তিনিরাই: চীন

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা, অন্ধকার সুড়ঙ্গে ৯ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ শেষে ফিরলেন সঞ্জয়

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছরে গাজায় ৭৩ হাজার ৬৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৬৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৫ জন।   শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গাজ্জার চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।   চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজ্জার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ১৭ জন নিহতের মরদেহ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এছাড়া আগের হামলায় আহত হয়ে পরে মারা গেছেন আরও একজন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনের মরদেহ। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও গাজ্জায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। ওই সময়ের পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ জনে এবং আহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   এদিকে, নিহতের তালিকা যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্ট মাসে আরও ১৬০ জনের নাম সামগ্রিক নিহতের পরিসংখ্যানে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে গাজ্জায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।   চিকিৎসা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গাজ্জার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু নিহত ও আহত ব্যক্তি ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সড়কে পড়ে আছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের কাজও ব্যাহত হচ্ছে।   হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক আহত মানুষের চিকিৎসার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাকর্মীদের।   চিকিৎসা সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান ও মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে গাজ্জায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১২:৩৫
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ভবন থেকে ১০ দিন পর এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বন্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ দিন পর জীবিত উদ্ধার ৬৪ বছরের নারী

কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ভালোবাসার বাসে অশ্রুসিক্ত বিদায়! ১৮ বছর পর প্রিয় বাসকে চুমু খেয়ে অবসরে কেএসআরটিসি চালক

মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯ জন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের জন্য পাত্রী মিলছে না, ভারতের এক জেলায় ৬ মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

নিজ হাতে অজনার নদী পরিষ্কার করে আলোচনায় বিট্টু তাবাহি
নিজ হাতে নদী পরিষ্কার করে ভাইরাল ভারতীয় তরুণ পেলেন ডাচ পরিবেশ সংস্থার চাকরি!

মধ্যপ্রদেশের দূষিত অজনার নদী নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা তরুণ সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত, এবার নেদারল্যান্ডসের পরিবেশবিষয়ক সংগঠন দ্য ওশান ক্লিনআপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বয়ান স্লাটের কাছ থেকে কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন। স্লাট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিট্টুর নদী পরিষ্কারের ছবি দেখে সরাসরি তাকে নিজের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আহ্বান জানান।  মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার বিয়াওরা এলাকার বাসিন্দা বিট্টু একজন বিএসসি শিক্ষার্থী। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তিনি অজনার নদীর দূষণ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। প্রথম দিকে কয়েকজন বন্ধু তার সঙ্গে কাজ করলেও পরে বিট্টুই একাই কাজ চালিয়ে যান।  নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক, বোতল, শ্যাওলা ও অন্যান্য আবর্জনা নিজের হাতে তুলে পরিষ্কার করতে থাকেন তিনি। এ কাজের বিভিন্ন ধাপ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। নদীর আগের ও পরের অবস্থার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার উদ্যোগ ব্যাপক পরিচিতি পায়।  স্থানীয়দের কেউ কেউ শুরুতে তাকে নিয়ে কটাক্ষ করলেও কাজ থামাননি বিট্টু। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নদী পরিষ্কারের সরঞ্জাম কিনতে তিনি নিজের অর্থও ব্যয় করেছেন। তার কাজের জন্য প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় রুপি খরচ হয়েছে বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  বিট্টুর উদ্যোগ এর আগেই ভারতের শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রার নজরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কাজের প্রশংসা করে মাহিন্দ্রা তাকে নিজের ‘মন্ডে মোটিভেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরে অজনার নদী পরিষ্কারের কাজে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষও সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং বড় পরিমাণ আবর্জনা সরাতে যন্ত্র ব্যবহার করে।  এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেল তার উদ্যোগ। বিট্টুর নদী পরিষ্কারের আগে ও পরের ছবি দিয়ে করা একটি পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বয়ান স্লাট লেখেন, “আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আসুন।”  দ্য ওশান ক্লিনআপ সমুদ্র ও নদী থেকে প্লাস্টিক দূষণ কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে কাজ করা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি অলাভজনক সংগঠন। বিট্টুর ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে সংগঠনটির কাজের মিল থাকায় স্লাটের এই প্রস্তাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে স্লাটের প্রকাশ্য বার্তাটি চাকরির আনুষ্ঠানিক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়। এটি বিট্টুকে সংগঠনে কাজ করার জন্য দেওয়া একটি প্রকাশ্য আমন্ত্রণ বা প্রস্তাব হিসেবে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৮:৪০
তুরমুস আয়ায় ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে বসতিস্থাপনকারীর হুমকি

ফিলিস্তিনি পরিবারের ছাদে উঠে হুমকি, ‘আল্লাহ আমাকে ওয়াদা করেছেন, এটা আমার দেশ, আমার জমি’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন

১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার চীনা নাগরিক ও নারী

ট্রাভেল কোম্পানির সব ভ্রমণ স্থগিত—সেপ্টেম্বরের যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানির সব ছুটি স্থগিত, যাত্রীদের ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ

0 Comments