সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধুই নিরামিষ আপ্যায়ন, ‘৮০% আমিষভোজী’ বলে মোদি সরকারকে রাহুলের খোঁচা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১২:১৫
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই মেনু নিয়ে সমালোচনা করে দাবি করেছেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। তাঁর মন্তব্যের পর বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে খাবার নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে আক্রমণ করেছে।

 

শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের অংশ হিসেবে এই জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের জন্য ভারতীয় খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা রাখা হয়েছিল। তবে পুরো মেনুতেই ছিল নিরামিষ পদ, কোনো আমিষ খাবার রাখা হয়নি।

 

নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও ও বিটের রায়তার মতো বিভিন্ন পদ। মিষ্টান্নে ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি। মেনুটিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরামিষ খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।

 

এই খাবারের তালিকা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘রেকর্ডের জন্য’ ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। একই পোস্টে তিনি ভারতীয় আমিষ খাবারকে সুস্বাদু উল্লেখ করেন এবং নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তৈরি ছোলে ভাটুরের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই ব্রিকস নৈশভোজের নিরামিষ মেনু নিয়ে সরকারের প্রতি রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবে দেখেছেন।

 

তবে রাহুল গান্ধীর উল্লেখ করা ৮০ শতাংশের হিসাবকে সরাসরি সরকারি বা প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি তাঁর পোস্টে এই সংখ্যার কোনো সূত্র দেননি। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্যেও পুরো দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ আমিষভোজী, এমন সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় না। বরং এনএফএইচএস-৫ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ অন্তত কখনো মাছ, মুরগি বা মাংস খান। ফলে ৮০ শতাংশের বক্তব্যটি রাহুলের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।

 

রাহুলের মন্তব্যের পর কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি জানান। দলটির নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপির খাদ্যসংক্রান্ত পছন্দ এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের ক্ষেত্রেও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে হলে নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আমিষ খাবারও রাখা উচিত ছিল।

 

কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠানও একই ধরনের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, নিরামিষ খাবার পরিবেশনে আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, মাংস, মুরগি ও মাছও ভারতের খাদ্যবৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অথচ কংগ্রেস এসব বিষয় বাদ দিয়ে নৈশভোজের খাবারের তালিকাকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছে।

 

বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, নিরামিষ মেনু ভারতের নিজস্ব খাদ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশকে তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও কংগ্রেসের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার উপভোগ করেছেন।

 

বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফলাফল ও নয়াদিল্লি ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক করছে। দলটির নেতারা এটিকে ভারতের কূটনৈতিক অর্জনকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবেও তুলে ধরেছেন।

 

ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ খাবার পরিবেশনের ঘটনা অবশ্য ভারতের আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সম্পূর্ণ নতুন নয়। তবে এবার বিষয়টি বিশেষভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে রাহুল গান্ধীর ৮০ শতাংশ আমিষভোজীর দাবি এবং কংগ্রেসের খাদ্যবৈচিত্র্য নিয়ে সমালোচনার কারণে।

 

ফলে ব্রিকসের মূল কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে নৈশভোজের মেনুও ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস বলছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সম্মেলনের অর্জনকে পাশ কাটিয়ে খাবার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট
৫০ বছর ধরে পানি পান করেন না ওয়ারেন বাফেট, তৃষ্ণা মেটান যে পানীয় দিয়ে

প্রখ্যাত মার্কিন ধনকুবের এবং বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট গত ৫০ বছর ধরে এক গ্লাস সাধারণ পানিও পান করেননি! সম্প্রতি ‘ইক্যুইটি মেটস ইনভেস্টিং’ (Equity Mates Investing) পডকাস্টের একটি পর্বে অংশ নিয়ে আরেক বিলিয়নিয়ার হেজ ফান্ড ম্যানেজার বিল অ্যাকম্যান এই বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশ করেছেন।   অ্যাকম্যান জানান, ৯৬ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ব্যবসায়ী একবার তাকে জানিয়েছিলেন যে, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে তিনি আর কখনো পানি পান করেননি। দীর্ঘ এই সময়ে পানি ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পানীয়ের ওপর নির্ভর করে চলছেন তিনি।   অ্যাকম্যান তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে ওয়ারেন বাফেট একবার তার বাড়িতে রাতের খাবার খেতে এসেছিলেন। বাফেটের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় অ্যাকম্যান তার রেফ্রিজারেটর এই কিংবদন্তি বিনিয়োগকারীর প্রিয় পানীয় ‘চেরি কোক’ (Cherry Coke) দিয়ে ভরিয়ে রেখেছিলেন।   কারণ, সাধারণ পানির বদলে এই চেরি কোকই বাফেটের তৃষ্ণা মেটানোর একমাত্র উপায়। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে সাধারণ পানি এড়িয়ে কেবল কোমল পানীয়ের ওপর নির্ভর করে ৯৬ বছর বয়সেও তার এমন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার বিষয়টি অনেকের কাছেই রীতিমতো অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৯:২৪
ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া

ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ
যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, ৩০ নভেম্বর থেকে ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে এখন থেকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ বা জীবনযাপনের খরচ থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটিতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত শিক্ষাঋণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ইমিগ্রেশন রুলসের সংশোধনী অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন এই শর্ত কার্যকর হবে। স্টাডি নাউ-এর তথ্য অনুযায়ী, কোর্স শুরুর তারিখ নয়, বরং ভিসার আবেদনের তারিখের ওপর ভিত্তি করে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ৩০ নভেম্বরের আগে আবেদন করলে পুরোনো নিয়মেই অর্থ দেখানোর সুযোগ থাকছে, তবে এরপর আবেদন করলে নতুন নিয়মে বর্ধিত অর্থ দেখাতে হবে।   নতুন এই নিয়মের ফলে লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের খরচ হিসেবে মাসিক ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ডের পরিবর্তে এখন থেকে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড দেখাতে হবে। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ মাসিক ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে, যা সর্বোচ্চ ৯ মাসের জন্য হিসাব করা হয়। এর ফলে লন্ডনে ৯ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের জন্য এখন সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা আগে ছিল ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। আর লন্ডনের বাইরে একই মেয়াদের কোর্সের জন্য ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ডের বদলে এখন ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড দেখাতে হবে।   জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফিও ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে, যা শিক্ষার্থীর 'কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ' (সিএএস) নথিতে উল্লেখ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দিয়ে থাকলে তা জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে দেখানো অর্থ থেকে বাদ দেওয়া যাবে, যার সর্বোচ্চ ছাড়ের সীমা এখন ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হয়েছে।   ভিসার আবেদন করার আগে টানা অন্তত ২৮ দিন প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার শর্তটি অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে এই ২৮ দিনের শেষ দিনটি অবশ্যই আবেদনের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করার আগে অন্তত ১২ মাস বৈধ অনুমতি নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকলে, সাধারণত তাকে জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের বাড়তি প্রমাণ দেখাতে হবে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৬:১৪
নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

নিলামের প্রতিযোগিতা নয়, বিকল্প পথে বাড়ি কিনে মেলবোর্নের দম্পতির ৮০ হাজার ডলার সাশ্রয়

ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ

ইনস্টাগ্রামের মতো রঙিন নয় প্রবাসী জীবন, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের ৭ পরামর্শ

পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি

পার্কিং নিয়ে বিরোধে ২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি, একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা

রুমমেটকে হ ত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ, সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তার ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি
রুমমেটকে হ ত্যার পর ম রদেহ টুকরো টুকরো করার অভিযোগ, সুইজারল্যান্ডে গ্রেপ্তার ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি

সুইজারল্যান্ডের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে (অ্যাসাইলাম সেন্টার) থাকা এক বাংলাদেশিকে চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের পুলিশ। রাইন নদী থেকে বুরুন্ডির নাগরিক এক ব্যক্তির খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত ওই ব্যক্তি আশ্রয়কেন্দ্রটিতে সন্দেহভাজন ওই বাংলাদেশির রুমমেট ছিলেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।   নিহত ৩৩ বছর বয়সী ওই বুরুন্ডির নাগরিক গত ২৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার পরিচিতরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরদিন বাসেল শহরের কাছে স্টেইন এলাকার নদীতীরে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখতে পান তারা, যার ভেতরে মানুষের একটি কাটা পা ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের ব্যাপক তল্লাশিতে আরও কয়েকটি ব্যাগ উদ্ধার হয়, যেগুলোতে মরদেহের অন্যান্য অংশ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।   সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় আর্গাউ ক্যান্টনের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, হত্যার পর মরদেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে আবর্জনা রাখার ব্যাগে ভরে রাইন নদী এবং এর তীরে ফেলে দেয়া হয়েছিল।   এই ভয়ংকর ঘটনার পর পুলিশ ওই আশ্রয়কেন্দ্রটিতে জোর তল্লাশি চালায়। তদন্তে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করা ৪৩ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশির ওপর সন্দেহ জোরালো হয় এবং গত ২৭ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অপরাধের পেছনের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রাথমিক তদন্তের সময় গ্রেপ্তারকৃত

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৩:১২
পুনে শহরের একটি যৌনপল্লি থেকে ছয় বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার

চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচার, পুনের যৌনপল্লি থেকে ৬ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

১৬ বছর স্কুলে না গিয়েও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

১৬ বছর বেতনসহ অসুস্থতার ছুটিতে শিক্ষিকা, অবশেষে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ধরা

বাইন্যান্সে নজিরবিহীন সাইবার হামলায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি

‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ডাকাতি’! বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারের

0 Comments