ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধুই নিরামিষ আপ্যায়ন, ‘৮০% আমিষভোজী’ বলে মোদি সরকারকে রাহুলের খোঁচা
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই মেনু নিয়ে সমালোচনা করে দাবি করেছেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। তাঁর মন্তব্যের পর বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে খাবার নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে আক্রমণ করেছে।
শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের অংশ হিসেবে এই জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের জন্য ভারতীয় খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা রাখা হয়েছিল। তবে পুরো মেনুতেই ছিল নিরামিষ পদ, কোনো আমিষ খাবার রাখা হয়নি।
নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও ও বিটের রায়তার মতো বিভিন্ন পদ। মিষ্টান্নে ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি। মেনুটিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরামিষ খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এই খাবারের তালিকা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘রেকর্ডের জন্য’ ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। একই পোস্টে তিনি ভারতীয় আমিষ খাবারকে সুস্বাদু উল্লেখ করেন এবং নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তৈরি ছোলে ভাটুরের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই ব্রিকস নৈশভোজের নিরামিষ মেনু নিয়ে সরকারের প্রতি রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবে দেখেছেন।
তবে রাহুল গান্ধীর উল্লেখ করা ৮০ শতাংশের হিসাবকে সরাসরি সরকারি বা প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি তাঁর পোস্টে এই সংখ্যার কোনো সূত্র দেননি। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্যেও পুরো দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ আমিষভোজী, এমন সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় না। বরং এনএফএইচএস-৫ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ অন্তত কখনো মাছ, মুরগি বা মাংস খান। ফলে ৮০ শতাংশের বক্তব্যটি রাহুলের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রাহুলের মন্তব্যের পর কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি জানান। দলটির নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপির খাদ্যসংক্রান্ত পছন্দ এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের ক্ষেত্রেও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে হলে নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আমিষ খাবারও রাখা উচিত ছিল।
কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠানও একই ধরনের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, নিরামিষ খাবার পরিবেশনে আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, মাংস, মুরগি ও মাছও ভারতের খাদ্যবৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অথচ কংগ্রেস এসব বিষয় বাদ দিয়ে নৈশভোজের খাবারের তালিকাকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছে।
বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, নিরামিষ মেনু ভারতের নিজস্ব খাদ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশকে তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও কংগ্রেসের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার উপভোগ করেছেন।
বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফলাফল ও নয়াদিল্লি ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক করছে। দলটির নেতারা এটিকে ভারতের কূটনৈতিক অর্জনকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ খাবার পরিবেশনের ঘটনা অবশ্য ভারতের আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সম্পূর্ণ নতুন নয়। তবে এবার বিষয়টি বিশেষভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে রাহুল গান্ধীর ৮০ শতাংশ আমিষভোজীর দাবি এবং কংগ্রেসের খাদ্যবৈচিত্র্য নিয়ে সমালোচনার কারণে।
ফলে ব্রিকসের মূল কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে নৈশভোজের মেনুও ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস বলছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সম্মেলনের অর্জনকে পাশ কাটিয়ে খাবার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের বেকি জোন্সের বয়স তখন মাত্র ২১ বছর। তীব্র মাইগ্রেনের চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, তিনি চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত এবং বেঁচে থাকার সময় হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক মাস। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর তাকে কেমোথেরাপির ওষুধ টেমোজোলোমাইড নিতে হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, তার মস্তিষ্কে ক্যানসারই ছিল না। তিনি আসলে এমন এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহে ভুগছিলেন, যার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী বেকি দুই সন্তানের মা। তার দাবি, ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় দীর্ঘ ও কষ্টকর চিকিৎসার মধ্যে কেটে গেছে। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বমি, তীব্র ক্লান্তি ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। সামাজিক জীবন, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়ে। বেকির চিকিৎসা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্টের অধীনে। তিনি এখন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ৪০ জনের বেশি রোগীর একজন। তাদের অভিযোগের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপি ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের বিষয়টি। বেকি জানিয়েছেন, চিকিৎসক প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন তাকে বারবার বলেছিলেন, কেমোথেরাপি বন্ধ করলে তিনি মারা যেতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাউন তাকে দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। অথচ একাধিক স্ক্যানে মস্তিষ্কে স্পষ্ট টিউমারের প্রমাণ না পাওয়ায় বেকি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল, তার ক্যানসার খালি চোখে দেখা যাবে না। ২০১২ সালে তীব্র মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেকির মস্তিষ্কে বায়োপসি করা হয়। তার দাবি, চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগেই তাকে চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তাকে আরও বলা হয়েছিল, তিনি ভবিষ্যতে মা হতে পারবেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি দুই সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসার সময় বেকির জীবন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে তিনি নিয়মিত অসুস্থ থাকতেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে তিনি ব্যায়াম করতেন, বাইরে খেতে যেতেন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবন কাটাতেন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর এসবের অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বেকিকে জানানো হয়, তার কেমোথেরাপি বন্ধ করা হচ্ছে। তাকে বলা হয়, প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন অবসর নিয়েছেন। তবে চিকিৎসা বন্ধের বিষয়ে সে সময় তিনি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা বা সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। ব্রাউন অবসরের পর তার রোগীদের চিকিৎসা নতুন চিকিৎসকদের অধীনে যায় এবং দীর্ঘদিনের টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে নজরে আসে। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে বেকির আইনজীবীদের উদ্যোগে স্বাধীন নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টরা তার পুরোনো চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করেন। সেই পর্যালোচনার পর তাকে জানানো হয়, তার মস্তিষ্কে কখনো ক্যানসার ছিল না। তার প্রকৃত সমস্যা ছিল ‘টিউমেফ্যাকটিভ ডিমাইলিনেশন’, যা এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং সাধারণত স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বেকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি একই চিকিৎসকের অধীনে থাকা আরও রোগীর অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, তাদেরও বছরের পর বছর টেমোজোলোমাইড দেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসা বহু বছর ধরে চলেছে, যদিও সাধারণ নির্দেশনায় এ ধরনের কেমোথেরাপি সাধারণত কয়েকটি সাইকেল বা সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্রাবনার্সের তথ্য অনুযায়ী, কিছু রোগী ১২ সাইকেলেরও বেশি চিকিৎসা পেয়েছেন। এই অভিযোগের পর ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্ট রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসকে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ২০টি রোগীর ঘটনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি ক্ষেত্রে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবাকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ঘটনাকেই ভালো চিকিৎসা চর্চার উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার যৌক্তিকতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথি ছিল না। রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশ্ন তোলা হয়নি বলেও পর্যালোচনায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রাবনার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং রোগীর সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বেকি মনে করেন, ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থারও বড় ব্যর্থতা। তার অভিযোগ, একজন চিকিৎসক কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলেন এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন না, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত। ইউএইচসিডব্লিউ এনএইচএস ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড নেওয়া রোগীদের চিকিৎসা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে, রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের স্বাধীন পর্যালোচনায় তারা সহযোগিতা করছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও রোগীর গোপনীয়তার কারণে নির্দিষ্ট রোগীর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তারা অনিচ্ছুক। অভিযুক্ত প্রফেসর ইয়ান ব্রাউনের সঙ্গেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এদিকে বেকি জোন্সসহ ৪০ জনের বেশি রোগীর আইনি পদক্ষেপ এবং রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের পর্যালোচনা এই চিকিৎসা ব্যবস্থার তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধুই নিরামিষ আপ্যায়ন, ‘৮০% আমিষভোজী’ বলে মোদি সরকারকে রাহুলের খোঁচা
যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের দাবিতে একজোট স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, আসছে নতুন ঘোষণা
গর্ভবতী স্ত্রীকে বসাতে মেঝেতেই ‘চেয়ার’ হলেন স্বামী, ভাইরাল সেই মানবিক মুহূর্ত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার জামনারে গরুকে লাথি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে অপমান ও গরুর সামনে সিজদা করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই বৃদ্ধকে গরুর সামনে নত হয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নাম জামিলউদ্দিন। তিনি গুনা ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা এবং কাজের জন্য পিকআপে করে জামনারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বাড়িতে মালামাল নামানোর সময় রাস্তার ওপর থাকা একটি গরুকে সরানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি গরুটিকে পা দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কিছু পরিবার ওই বৃদ্ধকে সাময়িকভাবে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পরে তাকে গরুর সামনে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ গরুর সামনে মাটির দিকে ঝুঁকে আছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাকে মাটিতে নাক ঘষতে, গরুর সামনে সিজদা করতে এবং গরুর পা স্পর্শ করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তার সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জামনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ মেহরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গরুটিকে সরানোর উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ পা দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তিনি গরুর সামনে ক্ষমা চান। পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে জামিলউদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তার বক্তব্য নেওয়ার পরিবর্তে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার অভিযোগ, তাকে লিখে দিতে বলা হয়েছিল যে তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা চান না এবং স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, প্রকাশ্যে কাউকে অপমান বা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গরুকে ঘিরে বিরোধ অতীতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ হয়েছে। তবে জামনারের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, ১৯ জনের বিরুদ্ধে নেই কোনো অ ভি যোগ
পোর্টসমাউথে অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভে মুসলিম নারীদের পোশাক বো রকা পরায় ৭৬ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মা মলা
যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা
ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে আসা বহু নারী স্থানীয় ব্রিটিশ পুরুষদের দ্বারা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কিন্তু নিজেদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ার ভয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঠিক এমন এক সময়ে এই খবর প্রকাশ্যে এলো, যখন ব্রিটেনের উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে যে 'যুদ্ধ করার বয়সী' পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীরাই নাকি স্থানীয় নারীদের ধর্ষণের জন্য দায়ী। গত সপ্তাহে ডোভার ও পোর্টসমাউথে হওয়া ডানপন্থীদের বিক্ষোভেও এমন ভিত্তিহীন দাবি তুলে ধরা হয়, যা আদতে নারী আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর হওয়া এই পদ্ধতিগত নিপীড়নকে আড়াল করার চেষ্টা বলেই মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। প্রতিবেদনে তিন জন নারী আশ্রয়প্রার্থীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে আসা এক নারী জানান, দুই বছর একটি অ্যাসাইলাম হোটেলে থাকার সময় সেখানকার এক কর্মী তাকে বারবার শারীরিক ও মৌখিকভাবে হয়রানি করেছে এবং এমনকি ডাটাবেজ থেকে নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত ফোনে অনৈতিক প্রস্তাবও দিয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, ইরান থেকে আসা এক নারী হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে নিরাপত্তারক্ষী দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে গেলে যদি তার আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যায় বা সেখানকার পুলিশ যদি ইরানের মতো হয়, সেই ভয়ে তিনি কোনো অভিযোগই করেননি। তৃতীয় ঘটনাটি উগান্ডা থেকে আসা এক সমকামী নারীর, যিনি আইনজীবী নিয়োগের টাকা দিতে না পারায় সেই আইনজীবীর লালসার শিকার হতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে এই তিন নারীকেই শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে উঠে এসেছে যে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীদের নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসের মতে, একটি হোটেলে এক নারী গোসল করার সময় কর্মীর জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটেছে। 'উইমেন ফর রিফিউজি উইমেন' এবং 'রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস'-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নারীদের ওপর সহিংসতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বর্ণবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা আসল অপরাধীদের আড়াল করছে। হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে।
তুরস্কে স মকামী গোষ্ঠীর ওপর একযোগে সাঁড়াশি অভিযান, তীব্র নিন্দা মানবাধিকার সংগঠনের
৩৭১ দিনে বিশ্বভ্রমণ, ২২০টির বেশি বন্দরে নোঙর করবে বিশ্বের দীর্ঘতম ক্রুজ ‘রেগাট্টা’