১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য একাধিক বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা এমন এক জটিল প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের কল্যাণ ও বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব জীবনের মতো অনলাইন জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট নিরাপত্তা সীমা তৈরি করতে চায় ইইউ।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে শিশুদের অনলাইন কার্যক্রম, ব্যবহারের সময় এবং বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের ওপর অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
নতুন নিয়ম শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন গেম, শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। শিশুদের অতিরিক্ত সময় ধরে অনলাইনে রাখে এমন বিভিন্ন সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে সীমাহীনভাবে একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখানোর ব্যবস্থা, ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা পরামর্শমূলক বিষয়বস্তু, পুরস্কারের মাধ্যমে শিশুদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনার কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের জন্য তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গী ও কথোপকথন ব্যবস্থাও শুরু থেকেই বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরির পাশাপাশি সহজে অন্য ব্যবহারকারীকে বন্ধ বা নীরব করার সুবিধা দিতে হবে। অভিভাবকদের জন্যও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা শিশুদের অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে পারেন।
নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, যাতে বয়স যাচাই করা গেলেও অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণের ঝুঁকি কম থাকে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তদারকির খরচ মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আলাদা ফিও নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি। আগামী মাসগুলোতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকার এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রস্তাবের বিভিন্ন ধারা পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এটি কার্যকর হবে।
এদিকে প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গুগল ও মেটার প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ প্রযুক্তি লবিং সংগঠন সিসিআইএ ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বয়স যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সংগঠনটি আরও বলেছে, প্রস্তাবের কিছু বিষয় ইইউর বিদ্যমান আইনগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ ইইউর জন্য নতুন হলেও বিশ্বের কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, চীন, ভারত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদা বিধিনিষেধ চালু বা প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreকিশোর বয়সে স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই জীবিকার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায়, যেখানে তাঁর দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই কঠিন সংগ্রাম পেরিয়ে ৫৬ বছর বয়সী ঝৌ ছুনফেই আজ চীনের শীর্ষ ধনী নারী। হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৫ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি ২০১৫ সালের পর পুনরায় শীর্ষস্থানটি পুনরুদ্ধার করেছেন। বর্তমানে তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন পাউন্ড (দ্বিতীয় স্থানে থাকা হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের ঝং হুইজুয়ানের সম্পদ ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান)। ১৯৭০ সালে হুনান প্রদেশে জন্ম নেওয়া ঝৌ মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে 'লেন্স টেকনোলজি' গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অ্যাপল ও স্যামসাংসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্মার্টফোনে টাচস্ক্রিন গ্লাস সরবরাহ করে থাকে। স্মার্টফোনের গণ্ডি পেরিয়ে লেন্স টেকনোলজি বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিকস খাতেও নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এআই ও রোবোটিকসের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এবং প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি হংকংয়ের শেয়ারবাজারে দ্বিতীয়বারের মতো তালিকাভুক্ত হয়। ব্যবসায়িক এই অভূতপূর্ব সাফল্যের হাত ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ঝৌ ছুনফেইয়ের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৪ মে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আয়োজিত বিশেষ ভোজসভায় তাঁকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এবং টেসলার ইলন মাস্কের ঠিক মাঝখানে বসার সম্মান দেওয়া হয়। হুরুনের পরিসংখ্যান বলছে, চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর ৬৫ শতাংশই ঝৌয়ের মতো সম্পূর্ণ নিজেদের চেষ্টায় সম্পদ গড়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে চীনের ধনীদের তালিকায় ঝৌ ও তাঁর স্বামী বর্তমানে ৩৩তম অবস্থানে রয়েছেন, যে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং।
শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে মন্ত্রী-আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইথিওপিয়া
ইউক্রেন যুদ্ধের ভ য়াবহ প্রভাব কৃষ্ণসাগরে, প্রাণ গেল ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ডলফিনের
হাইজ্যাক হওয়া বিমানে যাত্রীদের রক্ষায় সাহসিকতা, পাইলটদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিল আমিরাত
ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারলেও ব্যবসায় বড় সাফল্য পেয়েছেন সন্দীপ জাঙ্গালা। একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল আইএএস কর্মকর্তা হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও স্ত্রী সোনিয়া লাম্বাকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ামি বি’। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩০ কোটি ভারতীয় রুপি। ছোট পরিসরে শুরু হওয়া ব্যবসাটি এখন ভারতের হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রোববার (১ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে সন্দীপের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট স্টার্টআপ পিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কর্মজীবন, ব্যবসা শুরুর অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতির বিস্তারিত জানিয়েছিলেন তিনি। সন্দীপ জাঙ্গালা একসময় ভারতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে হায়দরাবাদে যান। সেখানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু আইএএস কর্মকর্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় র্যাঙ্ক অর্জন করতে পারেননি। এরপর সরকারি চাকরির স্বপ্ন ছেড়ে নিজের উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞতা থাকা সন্দীপ ২০১৩ সালে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে অধিগ্রহণের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায়। ২০২২ সালে সেই ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসার পর নতুন উদ্যোগের কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। এবার তাঁর ব্যবসার ধারণা আসে নিজের পরিবারের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে। সন্দীপ ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া সন্তানদের খাবারের বিষয়ে বিশেষভাবে সচেতন ছিলেন। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কেক ও মিষ্টিজাতীয় খাবারে ব্যবহৃত উপাদান নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে কৃত্রিম সংরক্ষণকারী উপাদান এড়িয়ে সন্তানদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেওয়ার চেষ্টা করতেন তাঁরা। এমনকি জন্মদিনের কেকের ক্ষেত্রেও ঘরে তৈরি খাবারকে অগ্রাধিকার দিতেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই সন্দীপের মনে নতুন ব্যবসার ধারণা আসে। তিনি এমন খাবার তৈরি করতে চেয়েছিলেন, যা স্বাদে আকর্ষণীয় হবে এবং একই সঙ্গে উপাদান নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করবে। স্ত্রী সোনিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির রান্নাঘরেই শুরু করেন বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরির পরীক্ষা। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাঁরা ‘ইয়ামি বি’ নামে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পরিশোধিত চিনি, ময়দা ও কৃত্রিম সংরক্ষণকারী উপাদান ছাড়া বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়। বিকল্প মিষ্টিকারক উপাদান এবং মিলেট বা ক্ষুদ্র দানাদার শস্য ব্যবহার করে কেক, ডেজার্টসহ বিভিন্ন খাবার তৈরি করতে থাকেন তাঁরা। শুরুতেই বড় রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে খোলার পথে হাঁটেননি এই দম্পতি। বরং ক্লাউড কিচেনের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। অর্থাৎ প্রথমদিকে সরাসরি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার পরিবেশনের পরিবর্তে রান্নাঘরে খাবার তৈরি করে অর্ডারের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হতো। প্রথম পর্যায়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন সন্দীপ ও সোনিয়া। এরপর হায়দরাবাদে প্রথম সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্র চালু করেন তাঁরা। সেখানে স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের পাশাপাশি পরিচিত ব্যক্তিত্বদের আনাগোনাও বাড়তে থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। হায়দরাবাদে ব্যবসার অগ্রগতির পর বেঙ্গালুরুতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির খাবারের তালিকায় কেক ও ডেজার্টের পাশাপাশি পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, সালাদ, সকালের নাশতা এবং বিভিন্ন পানীয় রয়েছে। ব্যবসার মান ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় রান্নাঘরভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে ইয়ামি বি। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে আলাদাভাবে সব খাবার তৈরির পরিবর্তে নির্দিষ্ট রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত করা হয়। এতে খাবারের মান ও রেসিপির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হয় বলে জানিয়েছেন সন্দীপ। প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘরের অবকাঠামো তৈরি এবং নতুন খাবার উদ্ভাবন ও গবেষণায় প্রাথমিকভাবে প্রায় এক কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছিলেন উদ্যোক্তারা। পরবর্তী সময়ে ব্যবসার সম্ভাবনা দেখে বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। স্টার্টআপ পিডিয়াকে সন্দীপ জানান, ইয়ামি বি এখন পর্যন্ত হায়দরাবাদভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ২৩ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে। প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ধাপে প্রায় ছয় কোটি রুপি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১৭ কোটি রুপি পাওয়া যায়। এসব অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণ, পরিচালনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নতুন পণ্য তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক টার্নওভার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি রুপিতে। বর্তমানে ইয়ামি বির আনুমানিক মূল্যায়ন ১৩০ কোটি রুপি। তবে এই মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় বা মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যাও বেড়েছে। স্টার্টআপ পিডিয়ার প্রতিবেদনে ইয়ামি বির রান্নাঘর, বিক্রয়কেন্দ্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মিলিয়ে শতাধিক কর্মীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইন অর্ডারের পাশাপাশি সরাসরি ক্যাফেতে খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সন্দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসা বড় হলেও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মূল ধারণা বদলায়নি। নিজেদের সন্তানদের যে ধরনের খাবার নিশ্চিন্তে খাওয়াতে চান, ক্রেতাদের জন্যও সেই মানের খাবার তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। একসময় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ায় পেশাগত জীবনের গতিপথ বদলাতে হয়েছিল সন্দীপকে। পরে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খাদ্য খাতে নতুন উদ্যোগ নেন তিনি। সেই উদ্যোগই কয়েক বছরের মধ্যে ১৩০ কোটি রুপি মূল্যায়নের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে মোদিবিরোধী জনস্রোত, ভোট চুরির প্রতিবাদে লাখো মানুষের সমাবেশ
ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমেরিকানদের ৫ লাখ ডলারের বেশি ক্রিপ্টো চুরি, অভিযুক্ত ৬
৫৫ হাজার অভিবাসীর সুযোগের ডিভি লটারি স্থগিত, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর যে সকল উদারপন্থি আমেরিকান ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারা এখন নিজেদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম আক্ষেপ করছেন। সম্প্রতি 'ওয়্যার্ড' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপের উন্নত জীবনের যে স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়লেও এখন তারা ইউরোপের অনুন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, নিম্নমানের জীবনযাত্রা, চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সাংস্কৃতিক বৈরিতার কারণে হতাশা প্রকাশ করছেন। অনেকেই এখন আমেরিকান সংস্কৃতির ইতিবাচক দিকগুলোর অভাব গভীরভাবে অনুভব করে পুনরায় নিজ দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত 'অ্যানি' নামের এক নারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ব্রিটিশ জীবনের চাকচিক্য বাস্তবে একেবারেই আলাদা। ডিশওয়াশার বা ড্রায়ারের মতো যেসব জিনিস আমেরিকায় খুব সাধারণ, যুক্তরাজ্যে সেগুলোকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে ধরা হয়। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) অধীনে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ কর এবং ইমিগ্রেশন সারচার্জের কারণে তা আর বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে আমেরিকান উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে তাকে প্রায়ই উপহাসের শিকার হতে হয়। অন্যদিকে, জার্মানিতে পাড়ি জমানো জশ নামের এক ব্যক্তি জানান, দেশটিতে কাজ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চরম আকার ধারণ করেছে। জার্মানদের মতো দেখতে না হলে সেখানে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসেছেন এবং এখন অনেক বেশি স্বস্তিতে আছেন। ইউরোপের এই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে অনলাইনে সরব হলে অনেক প্রবাসী আমেরিকান তাদের অন্যান্য উদারপন্থি বন্ধুদের তোপের মুখে পড়ছেন। অনেকেই তাদের 'পাগল' আখ্যা দিয়ে উপহাস করছেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনো মনে করেন, ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে অনেক আমেরিকানেরই অবাস্তব ধারণা রয়েছে। সেখানে করের হার অনেক বেশি এবং আমেরিকানদের তুলনায় গড় আয় বেশ কম। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা থিও ওল্ডের মতে, উদারপন্থি আমেরিকানরা ইউরোপীয় সমাজতন্ত্রের যে ধারণা লালন করেন, বাস্তবে তা একটি দেশকে আরও দরিদ্র ও কম উৎপাদনশীল করে তোলে। ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি সমাজতন্ত্র ও একক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন এই বিশ্লেষকরা।
১০ বছর আগে আম্বানির অর্ধেক সম্পদ, এখন ১১ গুণ এগিয়ে ইলন মাস্ক!
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে ধর্ম পরিবর্তন ছাড়াই বিয়ে করলেন সাংবাদিক নিধি রাজদান