সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের ১৭ রাকাতে আমরা অন্তত ১৭ বার সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি। মহান আল্লাহর প্রশংসা করি, তাঁর অসীম রহমতের আশা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা জানাই। কিন্তু প্রতিদিনের এই প্রার্থনা ও অঙ্গীকার আমাদের চিন্তা, আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাপনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? সফলতার পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কি কখনো জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি? বাংলাদেশের লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. ফেরদৌস সালেহীন সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতের আলোকে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছেন, যা আমাদের নিজেদের জীবনকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে উৎসাহিত করে।
মানুষ আজ এক অন্তহীন প্রতিযোগিতার মধ্যে বসবাস করছে। ভালো চাকরি, বেশি অর্থ, বড় বাড়ি, সামাজিক মর্যাদা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষায় আমাদের ছুটে চলা যেন থামতেই চায় না। একটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সামনে এসে দাঁড়ায় আরেকটি স্বপ্ন। আমরা অর্জনের পর অর্জন করে চলি, কিন্তু কোথায় গিয়ে থামব, কোন অর্জনে সত্যিকারের তৃপ্তি মিলবে, আর কত দূর এগোলে নিজেদের সফল বলতে পারব, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক সময় অজানাই থেকে যায়।
এই অবিরাম দৌড়ের মাঝেই জীবনে জমতে থাকে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপ। কেউ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে না পেরে কষ্ট পান, আবার কেউ জীবনে অনেক কিছু অর্জন করার পরও মনের শান্তি খুঁজে পান না। কেউ অতীতের অপমান ও ব্যর্থতার স্মৃতি বয়ে বেড়ান, কেউ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। অথচ এসব ব্যস্ততার মধ্যে আমরা খুব কমই থেমে নিজেদের প্রশ্ন করি, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সফলতা বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? পৃথিবীতে আমাদের পথচলা কি কেবল অর্থ, প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য?
এই আত্মজিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে ড. ফেরদৌস সালেহীন ফিরে তাকিয়েছেন মুসলমানদের বহুল পরিচিত একটি সূরার দিকে, যা প্রতিদিনের নামাজে বারবার পাঠ করা হয়। সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতের মধ্যে তিনি খুঁজেছেন মানুষের বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা, দায়িত্ববোধ এবং জীবন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত গভীর তাৎপর্য। তাঁর উপলব্ধি, যে কথাগুলো আমরা প্রতিদিন মহান আল্লাহর সামনে উচ্চারণ করি, সেগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে সচেতনভাবে ভাবা এবং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করাও জরুরি।
এই ভাবনা থেকেই তাঁর বাংলা বই ‘সূরা আল-ফাতিহা: সাতটি আয়াত যা আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন বদলে দিয়েছে’। বইটিতে লেখক কেবল সূরাটির অর্থ তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং এর শিক্ষা কীভাবে ব্যক্তিগত জীবন, মানসিকতা, সিদ্ধান্ত এবং আত্মসমালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, সে বিষয়ে নিজের উপলব্ধি পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রতিদিন যে অঙ্গীকার করি, আমাদের দৈনন্দিন জীবন কি সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
ড. সালেহীনের পেশাগত জীবনও দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের মীনা বাজার, এলজি বাটারফ্লাই, আকিজ ও পারটেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে নিজের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ মেরিটাইম একাডেমিতে হেড অব মেরিটাইম লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি এমএসসি ইন মেরিটাইম অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের একাডেমিক প্রোগ্রাম চেয়ার। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস থেকেও তাঁর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টবিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে।
কর্পোরেট নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, গবেষণা ও শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে যে, মানুষের সফলতাকে শুধু পেশাগত পদ, আর্থিক অর্জন কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। একজন মানুষ কতটা সৎ, দায়িত্বশীল ও কৃতজ্ঞ, কীভাবে অন্যদের সঙ্গে আচরণ করেন এবং নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে জীবনে কতটা ধারণ করেন, সেগুলোও তাঁর জীবনকে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সূরা আল-ফাতিহার শিক্ষা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনা ও জীবনকে নতুনভাবে দেখার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
সূরা আল-ফাতিহায় আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করি, তাঁর দয়া ও রহমতের কথা স্মরণ করি, বিচার দিবসের কথা স্বীকার করি এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনার অঙ্গীকার করি। এরপর আমরা সঠিক পথের দিশা চাই। ড. সালেহীনের আলোচনার তাৎপর্য হলো, এই প্রার্থনাগুলোকে কেবল মুখে উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা। আমরা কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি? সংকটে ধৈর্য ধারণ করি? অন্যের প্রতি ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই? সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করার পাশাপাশি সেই পথে চলার চেষ্টা করি? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়াই তাঁর বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনেও এই আত্মজিজ্ঞাসার বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। উন্নত জীবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পেশাগত প্রতিষ্ঠা এবং সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অনেক পরিবারকে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। জীবিকার দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ, পরিবারের প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে নিজেদের জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই ব্যস্ততার মধ্যে মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মিক উন্নতি এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ কতটা থাকে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
সন্তানদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো, প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের আর্থিকভাবে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের সৎ, বিনয়ী, কৃতজ্ঞ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে সূরা আল-ফাতিহা মুখস্থ করানোর পাশাপাশি এর অর্থ ও তাৎপর্য বোঝার সুযোগ করে দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে এর শিক্ষা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা পরিবারে মূল্যবোধ চর্চার একটি অংশ হতে পারে। ড. সালেহীনের বইয়ের ভাবনা পাঠকদের এমন বিষয় নিয়েও নতুন করে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ একই বছরের আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে বলে লেখকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বইটিতে ড. সালেহীন নিজেকে ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, আত্মসমালোচনা এবং উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অবস্থান বইটির আলোচনাকে ব্যক্তিগত ও চিন্তামূলক পরিসরে রাখে। পাঠকের কাছে তাঁর আহ্বান হলো, নিজের বিশ্বাস ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখা এবং পরিচিত ধর্মীয় অনুশীলনগুলোর তাৎপর্য আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করা।
জীবনে দুশ্চিন্তা, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা থাকবেই। ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রার্থনা ও আত্মসমালোচনা অনেক মানুষের জন্য আশা, ধৈর্য এবং মানসিক শক্তির উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সূরা আল-ফাতিহার শিক্ষা মানুষকে কৃতজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, সঠিক পথের সন্ধান এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। এই শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনযাপনে কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার মধ্যেই বইটির মূল আবেদন নিহিত।
আমরা জীবনে অনেক কিছু হতে চাই—ধনী, প্রতিষ্ঠিত, ক্ষমতাবান ও সফল। কিন্তু এসব আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি নিজেদের কাছে আরেকটি প্রশ্ন রাখা জরুরি: আমরা কেমন মানুষ হয়ে উঠছি? আমাদের অর্জন কি আমাদের আরও কৃতজ্ঞ, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল করছে? আমরা কি নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করছি? আর প্রতিদিন মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা চাওয়ার পর সেই পথে চলার জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছি?
ড. ফেরদৌস সালেহীনের ‘সূরা আল-ফাতিহা: সাতটি আয়াত যা আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন বদলে দিয়েছে’ বইটি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাঠকের হয়ে নির্ধারণ করে দেয় না; বরং নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর একটি সুযোগ তৈরি করে। সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াত প্রতিদিন পাঠ করার পাশাপাশি সেগুলোর অর্থ, তাৎপর্য ও জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা নিয়ে সচেতনভাবে ভাবার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, সেটিই বইটির মূল বক্তব্য।
জীবনের সাফল্য শুধু আমরা কতটুকু অর্জন করেছি, তার হিসাব নয়। আমরা কেন বেঁচে আছি, কোন পথে চলছি, আমাদের অর্জন কীভাবে অন্যদের জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাতে চাই—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূরা আল-ফাতিহাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার মধ্য দিয়ে ড. সালেহীনের বইটি পাঠককে সেই আত্মজিজ্ঞাসার দিকে আহ্বান জানায়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ধর্ম
View moreপ্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের ১৭ রাকাতে আমরা অন্তত ১৭ বার সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করি। মহান আল্লাহর প্রশংসা করি, তাঁর অসীম রহমতের আশা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা জানাই। কিন্তু প্রতিদিনের এই প্রার্থনা ও অঙ্গীকার আমাদের চিন্তা, আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাপনে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? সফলতার পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কি কখনো জীবনের আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি? বাংলাদেশের লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. ফেরদৌস সালেহীন সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতের আলোকে এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছেন, যা আমাদের নিজেদের জীবনকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে উৎসাহিত করে। মানুষ আজ এক অন্তহীন প্রতিযোগিতার মধ্যে বসবাস করছে। ভালো চাকরি, বেশি অর্থ, বড় বাড়ি, সামাজিক মর্যাদা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষায় আমাদের ছুটে চলা যেন থামতেই চায় না। একটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সামনে এসে দাঁড়ায় আরেকটি স্বপ্ন। আমরা অর্জনের পর অর্জন করে চলি, কিন্তু কোথায় গিয়ে থামব, কোন অর্জনে সত্যিকারের তৃপ্তি মিলবে, আর কত দূর এগোলে নিজেদের সফল বলতে পারব, সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। এই অবিরাম দৌড়ের মাঝেই জীবনে জমতে থাকে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপ। কেউ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে না পেরে কষ্ট পান, আবার কেউ জীবনে অনেক কিছু অর্জন করার পরও মনের শান্তি খুঁজে পান না। কেউ অতীতের অপমান ও ব্যর্থতার স্মৃতি বয়ে বেড়ান, কেউ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। অথচ এসব ব্যস্ততার মধ্যে আমরা খুব কমই থেমে নিজেদের প্রশ্ন করি, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সফলতা বলতে আমরা আসলে কী বুঝি? পৃথিবীতে আমাদের পথচলা কি কেবল অর্থ, প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য? এই আত্মজিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজতে ড. ফেরদৌস সালেহীন ফিরে তাকিয়েছেন মুসলমানদের বহুল পরিচিত একটি সূরার দিকে, যা প্রতিদিনের নামাজে বারবার পাঠ করা হয়। সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াতের মধ্যে তিনি খুঁজেছেন মানুষের বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা, প্রার্থনা, দায়িত্ববোধ এবং জীবন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত গভীর তাৎপর্য। তাঁর উপলব্ধি, যে কথাগুলো আমরা প্রতিদিন মহান আল্লাহর সামনে উচ্চারণ করি, সেগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে সচেতনভাবে ভাবা এবং বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করাও জরুরি। এই ভাবনা থেকেই তাঁর বাংলা বই ‘সূরা আল-ফাতিহা: সাতটি আয়াত যা আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন বদলে দিয়েছে’। বইটিতে লেখক কেবল সূরাটির অর্থ তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং এর শিক্ষা কীভাবে ব্যক্তিগত জীবন, মানসিকতা, সিদ্ধান্ত এবং আত্মসমালোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, সে বিষয়ে নিজের উপলব্ধি পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। তাঁর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন: আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রতিদিন যে অঙ্গীকার করি, আমাদের দৈনন্দিন জীবন কি সেই অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ড. সালেহীনের পেশাগত জীবনও দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের মীনা বাজার, এলজি বাটারফ্লাই, আকিজ ও পারটেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে নিজের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ মেরিটাইম একাডেমিতে হেড অব মেরিটাইম লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি এমএসসি ইন মেরিটাইম অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের একাডেমিক প্রোগ্রাম চেয়ার। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা টেলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস থেকেও তাঁর সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টবিষয়ক বই প্রকাশিত হয়েছে। কর্পোরেট নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, গবেষণা ও শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে যে, মানুষের সফলতাকে শুধু পেশাগত পদ, আর্থিক অর্জন কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে পুরোপুরি বিচার করা যায় না। একজন মানুষ কতটা সৎ, দায়িত্বশীল ও কৃতজ্ঞ, কীভাবে অন্যদের সঙ্গে আচরণ করেন এবং নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে জীবনে কতটা ধারণ করেন, সেগুলোও তাঁর জীবনকে মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সূরা আল-ফাতিহার শিক্ষা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত আত্মসমালোচনা ও জীবনকে নতুনভাবে দেখার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। সূরা আল-ফাতিহায় আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করি, তাঁর দয়া ও রহমতের কথা স্মরণ করি, বিচার দিবসের কথা স্বীকার করি এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনার অঙ্গীকার করি। এরপর আমরা সঠিক পথের দিশা চাই। ড. সালেহীনের আলোচনার তাৎপর্য হলো, এই প্রার্থনাগুলোকে কেবল মুখে উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেদের চিন্তা, আচরণ ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা। আমরা কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি? সংকটে ধৈর্য ধারণ করি? অন্যের প্রতি ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই? সঠিক পথের জন্য প্রার্থনা করার পাশাপাশি সেই পথে চলার চেষ্টা করি? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়াই তাঁর বইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনেও এই আত্মজিজ্ঞাসার বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। উন্নত জীবন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, পেশাগত প্রতিষ্ঠা এবং সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অনেক পরিবারকে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। জীবিকার দায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রের চাপ, পরিবারের প্রয়োজন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে নিজেদের জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই ব্যস্ততার মধ্যে মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মিক উন্নতি এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ কতটা থাকে, সেটিও বিবেচনার বিষয়। সন্তানদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো, প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের আর্থিকভাবে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা অভিভাবকদের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই সঙ্গে তাদের সৎ, বিনয়ী, কৃতজ্ঞ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানকে সূরা আল-ফাতিহা মুখস্থ করানোর পাশাপাশি এর অর্থ ও তাৎপর্য বোঝার সুযোগ করে দেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনে এর শিক্ষা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা পরিবারে মূল্যবোধ চর্চার একটি অংশ হতে পারে। ড. সালেহীনের বইয়ের ভাবনা পাঠকদের এমন বিষয় নিয়েও নতুন করে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ একই বছরের আগস্টে প্রকাশিত হয়েছে বলে লেখকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। বইটিতে ড. সালেহীন নিজেকে ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, আত্মসমালোচনা এবং উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অবস্থান বইটির আলোচনাকে ব্যক্তিগত ও চিন্তামূলক পরিসরে রাখে। পাঠকের কাছে তাঁর আহ্বান হলো, নিজের বিশ্বাস ও দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখা এবং পরিচিত ধর্মীয় অনুশীলনগুলোর তাৎপর্য আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করা। জীবনে দুশ্চিন্তা, ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা থাকবেই। ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রার্থনা ও আত্মসমালোচনা অনেক মানুষের জন্য আশা, ধৈর্য এবং মানসিক শক্তির উৎস হতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সূরা আল-ফাতিহার শিক্ষা মানুষকে কৃতজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, সঠিক পথের সন্ধান এবং মহান আল্লাহর ওপর আস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে পারে। এই শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনযাপনে কীভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবার মধ্যেই বইটির মূল আবেদন নিহিত। আমরা জীবনে অনেক কিছু হতে চাই—ধনী, প্রতিষ্ঠিত, ক্ষমতাবান ও সফল। কিন্তু এসব আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি নিজেদের কাছে আরেকটি প্রশ্ন রাখা জরুরি: আমরা কেমন মানুষ হয়ে উঠছি? আমাদের অর্জন কি আমাদের আরও কৃতজ্ঞ, বিনয়ী ও দায়িত্বশীল করছে? আমরা কি নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করছি? আর প্রতিদিন মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা চাওয়ার পর সেই পথে চলার জন্য কী পদক্ষেপ নিচ্ছি? ড. ফেরদৌস সালেহীনের ‘সূরা আল-ফাতিহা: সাতটি আয়াত যা আমার দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবন বদলে দিয়েছে’ বইটি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাঠকের হয়ে নির্ধারণ করে দেয় না; বরং নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর একটি সুযোগ তৈরি করে। সূরা আল-ফাতিহার সাতটি আয়াত প্রতিদিন পাঠ করার পাশাপাশি সেগুলোর অর্থ, তাৎপর্য ও জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা নিয়ে সচেতনভাবে ভাবার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, সেটিই বইটির মূল বক্তব্য। জীবনের সাফল্য শুধু আমরা কতটুকু অর্জন করেছি, তার হিসাব নয়। আমরা কেন বেঁচে আছি, কোন পথে চলছি, আমাদের অর্জন কীভাবে অন্যদের জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাতে চাই—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূরা আল-ফাতিহাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার মধ্য দিয়ে ড. সালেহীনের বইটি পাঠককে সেই আত্মজিজ্ঞাসার দিকে আহ্বান জানায়।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে গির্জায় সরাসরি সম্প্রচারিত প্রার্থনাসভা পরিচালনার সময় দেয়ালে লাগানো বিশাল কাঠের ক্রুশের আঘাতে এক ক্যাথলিক পুরোহিতের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর রাতে দেশটির গুয়ায়াকিল শহরের আওয়ার লেডি অব পারপেচুয়াল হেল্প গির্জায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পুরোহিতের নাম ফাদার পাত্রিসিও আলফ্রেদো সানচেজ মোলিনারি। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস নিশ্চিত করেছে। ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোহিত বেদির সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা পরিচালনা করছিলেন। এ সময় তাঁর পেছনের দেয়ালে স্থাপন করা ভারী কাঠের ক্রুশটি হঠাৎ খুলে তাঁর মাথার ওপর পড়ে। ক্রুশের আঘাতে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাটি গির্জার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল। ফলে দুর্ঘটনার দৃশ্যটি সম্প্রচারের মধ্যেই ধরা পড়ে। ক্রুশটি পড়ে যাওয়ার পর গির্জায় উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে দ্রুত পুরোহিতের কাছে ছুটে যেতে এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকার জন্য বলতে শোনা যায়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান, নাকি চিকিৎসার পর তাঁর মৃত্যু হয়—প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফাদার সানচেজ মোলিনারি কংগ্রিগেশন অব দ্য মোস্ট হোলি রিডিমার নামের একটি ক্যাথলিক ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য ছিলেন। সংগঠনটি ধর্মীয় প্রচার ও মানবসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মৃত্যুতে গুয়ায়াকিলের আর্চডায়োসিস শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর পরিবার, ধর্মীয় সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্রুশটি কেন দেয়াল থেকে খুলে পড়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থাপনার দুর্বলতা, সংযোগব্যবস্থার ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি।
দুর্গাপূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশ, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল, উৎসবের রঙে রঙিন দেশ
৬ বছর আগে মহামারির সময়ে একাই কাবা তাওয়াফ করেছিলেন এক পরম সৌভাগ্যবান নারী
জাতীয় কোরআন তিলাওয়াতের প্রতিযোগিতায় যোগ দিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ও রানি
ভারতে একের পর এক মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙা বা উচ্ছেদের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, এসব পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন নির্মাণ কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরের একটি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলে প্রশাসন। মসজিদটির বয়স নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। এর ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এটিকে শত বছরেরও বেশি পুরোনো, এমনকি প্রায় ১১৫ থেকে ১৫০ বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, মসজিদটি সরকারি জমিতে অনুমোদনহীনভাবে নির্মিত এবং আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদের আদেশ বহাল থাকার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির আইনি দিক নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাহারানপুরের সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত জুলাই মাসে জায়গাটি থেকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল।মসজিদ পরিচালনা কমিটি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ জেলা আদালত আপিল খারিজ করে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ভোরে মসজিদটি ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসন বলেছে, আদালতের সিদ্ধান্তের পর আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছেদের নির্দেশকে সরাসরি ভবন ভাঙার অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর আগেই স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থাপনাটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন রেকর্ডে এর অস্তিত্ব ছিল। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ আদালতে জমিটিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উপস্থাপন করে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ বৈধ মালিকানা বা দখলের যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটির সঙ্গে ধর্মীয় অধিকারের পাশাপাশি জমির মালিকানা ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের আইনি প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। সাহারানপুরের ঘটনার পর দিল্লির শালিমার বাগেও মসজিদ ভাঙার ঘটনা সামনে আসে। ২৩ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মদিনা মসজিদসহ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠে এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মসজিদের ভেতরের কোরআনসহ কিছু সামগ্রী সরানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এই অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এরপর মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনে শাহী মসজিদের একটি অংশ ভাঙার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২৮ সেপ্টেম্বর সেখানে সড়ক সম্প্রসারণের কাজের অংশ হিসেবে মসজিদের একটি অংশ সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয়দের একাংশ প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উজ্জয়িনের ঘটনাটি সাহারানপুরের ঘটনার চেয়ে আলাদা। এখানে প্রশাসনের মূল যুক্তি হলো সড়ক সম্প্রসারণ। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ মেলার আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২৭০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহী মসজিদের একটি অংশ প্রস্তাবিত সড়কের জায়গায় পড়ায় সেটিও প্রকল্পের আওতায় এসেছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ অবশ্য মসজিদটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে বিকল্প জায়গা দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশকে সামনে রেখে শহরের যান চলাচল ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনেই সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আদালতেও আইনি লড়াই হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত আগে সড়ক সম্প্রসারণের পথে থাকা কিছু স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ করেছিল। এদিকে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে পরিস্থিতি আরও একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। পাকবারা এলাকার মুস্তাফা মসজিদকে নিয়ে মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ ও ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এলাহাবাদ হাইকোর্টে শুনানির সময় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাঙার আদেশ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভাঙা হবে না। মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে একসঙ্গে দেখলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে জমি, ওয়াকফ সম্পত্তি, অনুমোদন, অবৈধ নির্মাণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক বিরোধ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় স্থাপনা ইতোমধ্যে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এসব ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপে বৈষম্য বা পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি পক্ষ সাধারণত বলছে, আইন সবার জন্য সমান এবং অবৈধ দখল বা অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সমালোচনা করেছে এবং এটিকে ঐতিহাসিক ইসলামি স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে পাকিস্তানের এই বক্তব্য একটি রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক অবস্থান; ঘটনাটির স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভারতের আদালতের নথি ও প্রশাসনের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ভারতে সাম্প্রতিক মসজিদ উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাগুলো নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ, ওয়াকফ সম্পত্তি, সরকারি জমি এবং নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার আগে যথাযথ নোটিশ, আদালতের নির্দেশ, আপিলের সুযোগ এবং সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের প্রক্রিয়া কতটা অনুসরণ করা হয়েছে, সেটিই এখন এসব বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ভারতে মসজিদ ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘর্ষ
ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে