সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন চাইলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৮:১৭
নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান
নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান

নিউইয়র্কে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা, সরকারি সহায়তা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা মোকাবিলায় ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটির সমর্থন চেয়েছেন।
 

গত ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকায় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে একমাত্র বক্তা ছিলেন লেটিশিয়া জেমস। এ সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের মডারেটর নবীর বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা তাঁর প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য। নিউইয়র্ক সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অন্যায় ও অবিচারের ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


লেটিশিয়া জেমসের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের কাছ থেকে স্ন্যাপ ও মেডিকেডের মতো সরকারি সুবিধা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে ভোটারদের সক্রিয় হতে হবে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের পাশাপাশি তাঁদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেরও তাঁকে এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান লেটিশিয়া জেমস। ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, ‘এক একটি ভোট সকলের ভয়েস এবং পাওয়ার।’ অর্থাৎ, প্রতিটি ভোট মানুষের মতামত প্রকাশ ও ক্ষমতা প্রয়োগের একটি মাধ্যম।


বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি একটি ‘গ্রোয়িংআপ কমিউনিটি’। ভোটের মাধ্যমে নগর ও অঙ্গরাজ্যের নীতিনির্ধারণে এই কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।


নাগরিক সেবার প্রসঙ্গ তুলে লেটিশিয়া জেমস জানান, নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটিতে বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিও চালু থাকবে বলে জানান তিনি।


আবাসন সংকট এবং অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)–এর হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়লে তাঁর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইস বা কোনো ন্যাশনাল গার্ড সদস্য সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। প্রয়োজন হলে তাঁর দপ্তরের প্রটেকশন হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সালেহ আহমেদ, সেকিল চৌধুরী, রেজাউল করীম চৌধুরী, খন্দকার তারিকুল ইসলাম, শাহারিয়ার রহমান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, জে মোল্লা সানী, বিলাল চৌধুরী ও ফিরোজ কবীরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নাসার বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে বাংলাদেশি নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদার উদ্ভাবন!

মহাকাশে পানি ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কর্মরত এই বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন কোয়ান্টাম ডট স্পেকট্রোমিটার, যা অতি ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর ন্যানোক্রিস্টালের সাহায্যে আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে দূরবর্তী গ্রহ ও মহাজাগতিক বস্তুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।   নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, প্রচলিত স্পেকট্রোমিটারের তুলনায় এটি অনেক ছোট ও হালকা হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ছোট স্যাটেলাইট কিংবা মহাকাশযানে কম জায়গা ব্যবহার করেই বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।   কোয়ান্টাম ডট হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর ন্যানোক্রিস্টাল। এগুলোর আকার, আকৃতি ও রাসায়নিক গঠনের ওপর নির্ভর করে আলো শোষণ ও নির্গমনের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। মাহমুদা সুলতানা এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অংশে বিশ্লেষণের পদ্ধতি তৈরি করেছেন।   কোনো গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তু থেকে আসা আলো তার রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। বিজ্ঞানীরা আলোর বর্ণালিতে নির্দিষ্ট ধরনের সংকেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মৌল ও রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেন। কোয়ান্টাম ডট স্পেকট্রোমিটার সেই বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে।   নাসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ডটের মধ্য দিয়ে আলো যাওয়ার পর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর কম্পিউটারের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ বর্ণালি পুনর্গঠন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে জটিল বর্ণালির তথ্য থেকেও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার নির্ভুলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।   এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার শুধু দূরবর্তী গ্রহে পানি খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদের মাটিতে পানি ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি অনুসন্ধান, গ্রহের পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের গঠন বিশ্লেষণ এবং পৃথিবীর সমুদ্র, উদ্ভিদ ও বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণেও এটি কাজে লাগতে পারে।   মাহমুদা সুলতানার গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সেন্সরকে মহাকাশযানের বাইরের পৃষ্ঠে সংযুক্ত করার ধারণা। এতে মহাকাশযানের পুরো পৃষ্ঠের বড় একটি অংশকে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে আলাদা ও ভারী যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।   এই ধারণার ভিত্তিতে তিনি সায়েন্সক্রাফট ফর আউটার প্ল্যানেট এক্সপ্লোরেশন বা স্কোপ নামে একটি মহাকাশ অনুসন্ধান পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করেছেন। এতে সৌরপাল ব্যবহার করে মহাকাশযানকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একই কাঠামোয় বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের যন্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নাসার ইনোভেটিভ অ্যাডভান্সড কনসেপ্টস কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সালে এই ধারণার প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণার জন্য অর্থায়ন দেওয়া হয়েছিল।   পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সৌরজগতের দূরবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে নেপচুন ও তার উপগ্রহ ট্রাইটন অনুসন্ধানে তুলনামূলক কম ব্যয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো একটি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা। এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরীক্ষা ও উন্নয়নের ওপর।   মাহমুদা সুলতানার উদ্ভাবন মহাকাশ গবেষণায় ছোট, হালকা ও বহুমুখী বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে কম জায়গা ও ওজনের মধ্যে বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এতে দূরবর্তী গ্রহে পানি ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের অনুসন্ধান আরও কার্যকর করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৯:২৪
ফ্লোরিডায় পাখির প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেলেন ৩১ বছরের বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরবিদায়

ফ্লোরিডায় পাখির প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেলেন ৩১ বছরের বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরবিদায়

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সভায় আজান বাজালেন বোরকা পরিহিত নারী, বের করে দিল পুলিশ

ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সভায় আজান বাজালেন বোরকা পরিহিত নারী, বের করে দিল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের নির্বাচনে এওসিকে হালকাভাবে না নিতে রিপাবলিকানদের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের নির্বাচনে এওসিকে হালকাভাবে না নিতে রিপাবলিকানদের সতর্কবার্তা

নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান
বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের সমর্থন চাইলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস

নিউইয়র্কে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা, সরকারি সহায়তা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা মোকাবিলায় ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটির সমর্থন চেয়েছেন।   গত ২১ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকায় একটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে একমাত্র বক্তা ছিলেন লেটিশিয়া জেমস। এ সময় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের মডারেটর নবীর বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা তাঁর প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য। নিউইয়র্ক সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অন্যায় ও অবিচারের ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লেটিশিয়া জেমসের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের কাছ থেকে স্ন্যাপ ও মেডিকেডের মতো সরকারি সুবিধা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে ভোটারদের সক্রিয় হতে হবে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের পাশাপাশি তাঁদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেরও তাঁকে এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান লেটিশিয়া জেমস। ভোটের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, ‘এক একটি ভোট সকলের ভয়েস এবং পাওয়ার।’ অর্থাৎ, প্রতিটি ভোট মানুষের মতামত প্রকাশ ও ক্ষমতা প্রয়োগের একটি মাধ্যম। বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি একটি ‘গ্রোয়িংআপ কমিউনিটি’। ভোটের মাধ্যমে নগর ও অঙ্গরাজ্যের নীতিনির্ধারণে এই কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন। নাগরিক সেবার প্রসঙ্গ তুলে লেটিশিয়া জেমস জানান, নিউইয়র্ক সিটির স্কুলগুলোতে বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী দিনে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সিটিতে বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ কর্মসূচিও চালু থাকবে বলে জানান তিনি। আবাসন সংকট এবং অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)–এর হয়রানিসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়লে তাঁর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইস বা কোনো ন্যাশনাল গার্ড সদস্য সমস্যা সৃষ্টি করবেন না। প্রয়োজন হলে তাঁর দপ্তরের প্রটেকশন হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সালেহ আহমেদ, সেকিল চৌধুরী, রেজাউল করীম চৌধুরী, খন্দকার তারিকুল ইসলাম, শাহারিয়ার রহমান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, জে মোল্লা সানী, বিলাল চৌধুরী ও ফিরোজ কবীরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৮:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় তামান্নার জোড়া পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় তামান্নার জোড়া পুরস্কার

বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় কাউন্টারে ১৮ শতাংশ বকশিশের অনুরোধ

কর্মী নেই, সেবা দিচ্ছে মেশিন, তবু ১৮ শতাংশ টিপস চাওয়ায় সমালোচনার মুখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সেরা ও পিছিয়ে থাকা অঙ্গরাজ্য

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাঁচ অঙ্গরাজ্য

নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার সময়সূচি
জন্মতারিখ অনুযায়ী নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট, কোন দিন অ্যাকাউন্টে আসবে আপনার টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ ও ভাতার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে অর্থ পাঠানো হবে। তবে মাসের শুরুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) বা সম্পূরক নিরাপত্তা ভাতার নভেম্বরের অর্থ পাওয়া যাবে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার। অন্যদিকে, মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে জন্ম নেওয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীরা অর্থ পাবেন ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার।   সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, অবসরভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া সুবিধার অর্থ সাধারণত মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবার পাঠানো হয়। এই সময়সূচি মূলত ১৯৯৭ সালের ১ মে বা তার পরে যাঁরা সুবিধা পেতে শুরু করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থ পাওয়ার নির্দিষ্ট দিন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর জন্মতারিখের ওপর।   নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় বুধবার ১১ নভেম্বর। দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ছুটি ভেটেরান্স ডে হওয়ায় ওই দিনের নির্ধারিত অর্থ এক দিন আগে, অর্থাৎ ১০ নভেম্বর পাঠানো হবে। বাকি দুটি অর্থ প্রদানের তারিখে পরিবর্তন নেই।   নভেম্বরের সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাওয়ার সময়সূচি হলো—   - ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার: যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা পাচ্ছেন। - ১০ নভেম্বর, মঙ্গলবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। - ১৮ নভেম্বর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে। - ২৫ নভেম্বর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। এসএসআই ভাতার অর্থ আসবে ৩০ অক্টোবর নভেম্বরের এসএসআই ভাতার ক্ষেত্রে সময়সূচিতে আলাদা পরিবর্তন রয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিনে এ অর্থ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর রোববার হওয়ায় নভেম্বরের ভাতা আগের কর্মদিবস, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর শুক্রবার পাঠানো হবে।   এসএসআই মূলত সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারী বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি। যাঁরা এ সুবিধা পান, তাঁদের মনে রাখা দরকার, অক্টোবরের শেষ দিনে অর্থ জমা হলেও সেটি নভেম্বর মাসের ভাতা। এটি অতিরিক্ত কোনো মাসের অর্থ নয়; ক্যালেন্ডারের কারণে অর্থ দেওয়ার তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে।   একই ব্যক্তি যদি এসএসআই ও সোশ্যাল সিকিউরিটি—দুই ধরনের সুবিধা পান, তাহলে দুই অর্থের সময়সূচি আলাদা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসএসআইয়ের নভেম্বরের অর্থ ৩০ অক্টোবর এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ নভেম্বর পাওয়ার কথা। নির্ধারিত দিনে অর্থ না এলে কী করবেন নির্ধারিত দিনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ জমা না হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কখনো কখনো ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের তথ্য হালনাগাদ হতে দেরি হতে পারে। তাই অর্থ জমা না হওয়ার কারণ নিশ্চিত করতে ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।   ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের পরও অর্থ না পাওয়া গেলে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। এ জন্য ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ফোন করা যেতে পারে। শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৩২৫-০৭৭৮। প্রয়োজনে স্থানীয় সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসেও যোগাযোগ করা যাবে।   সুবিধাভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থ পাওয়ার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্মতারিখের পাশাপাশি তাঁরা কোন ধরনের সুবিধা পান এবং কখন থেকে সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই নিজের অর্থ পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সূচি দেখে নেওয়া উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৬:৪৫
রেকর্ড বাড়িভাড়ার চাপে নিউইয়র্কের আবাসনবাজার

রেকর্ড ভাড়ার মধ্যেও নিউইয়র্কবাসীর কাছে জনপ্রিয় হচ্ছেন মেয়র জোহরান মামদানি, জরিপে মিলল নতুন চিত্র

বাংলাদেশের খুলনায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শেখ আল আমিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়েছেন

খুলনার সন্তান শেখ আল আমিনের মার্কিন সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

0 Comments