সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে, এখন এক স্ত্রী নিয়েই থাকতে চান সৌদি নাগরিক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৭:২৬
জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে
জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে

জীবনে সুখ, মানসিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বার বিয়ে করার দাবি করেছেন সৌদি আরবের এক ব্যক্তি। আবু আবদুল্লাহ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি বলেছেন, তাঁর বিয়ের পেছনে ব্যক্তিগত ভোগের আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা ছিল, যার সঙ্গে দীর্ঘদিন শান্তিতে জীবন কাটানো সম্ভব। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৩ বছর এবং তিনি এক স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করছেন। নতুন করে বিয়ে করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল এমবিসির একটি অনুষ্ঠানে নিজের বিয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আবু আবদুল্লাহ। পরে তাঁর বক্তব্য নিয়ে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, এনডিটিভি, জিও নিউজ ও পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

 

আবু আবদুল্লাহ জানান, মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি প্রথম বিয়ে করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী বয়সে তাঁর চেয়ে ছয় বছরের বড় ছিলেন। প্রথম সংসারে তিনি সুখী ছিলেন এবং তাঁদের সন্তানও হয়েছিল। সে সময় একাধিক বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না। কিন্তু কিছুদিন পর দাম্পত্য জীবনে সমস্যা দেখা দিলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

 

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং এ বিষয়ে প্রথম স্ত্রীকে আগেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ের পর দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

 

এরপরও তাঁর বিয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আবু আবদুল্লাহর দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে মোট ৫৩ জন নারীকে বিয়ে করেছেন। তবে এসব বিয়ে একসঙ্গে হয়নি; দীর্ঘ ৪৩ বছরে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিয়েগুলো হয়েছে। তাঁর সবচেয়ে কম সময়ের সংসার টিকেছিল মাত্র এক রাত। অর্থাৎ, কোনো কোনো বিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়।

 

নিজের বিয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন একজন নারীকে খুঁজছিলেন, যিনি তাঁকে সুখী করতে পারবেন এবং সংসারে মানসিক শান্তি এনে দেবেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি স্ত্রীর প্রতি ন্যায়বিচার করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, একজন পুরুষের প্রত্যাশা থাকে এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া, যার সঙ্গে সারা জীবন কাটানো যায়।

 

আবু আবদুল্লাহ আরও জানান, তাঁর অধিকাংশ স্ত্রী ছিলেন সৌদি আরবের নাগরিক। তবে ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে বিদেশে গেলে কখনো কখনো সেখানকার নারীদেরও বিয়ে করেছেন। বিদেশে ব্যবসায়িক সফরে তাঁকে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত অবস্থান করতে হতো। সে সময় নিজের ভাষায়, অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যে তিনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতেন।

 

তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁর বিয়ের সংখ্যা ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ এতগুলো বিয়ে ও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘পলিগ্যামিস্ট অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা ‘শতাব্দীর বহুবিবাহী পুরুষ’ নামে উল্লেখ করা হয়।

 

তবে ৫৩টি বিয়ের সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়। এটি মূলত আবু আবদুল্লাহর নিজের দেওয়া তথ্য, যা এমবিসির সাক্ষাৎকারের পর সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সব বিয়ে, বিচ্ছেদ কিংবা প্রতিটি সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

 

বর্তমানে আবু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি একজন স্ত্রীকে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন এবং আর বিয়ে করার ইচ্ছা নেই। ৪৩ বছর ধরে সুখ ও স্থিতিশীলতা খোঁজার পর অবশেষে এক স্ত্রীকে নিয়ে থিতু হওয়ার এই দাবি তাঁকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় নিয়ে আসে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
কানাডায় দুই লাখ অভিবাসীর পিআরের সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পেতে পারেন সুবিধা
কানাডায় দুই লাখ অভিবাসীর পিআরের সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পেতে পারেন সুবিধা

কানাডায় বসবাসরত সর্বোচ্চ দুই লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা ও নির্দিষ্ট মানবিক ক্যাটাগরির আবেদনকারীকে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা পিআর দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় এক লাখ কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং আরও এক লাখ মানবিক ও পারিবারিক ক্যাটাগরির আবেদনকারীর পিআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে। ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি যোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসীরাও এই উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধা পেতে পারেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত কানাডার ২০২৬ সালের বাজেট এবং ২০২৭-২০২৯ ইমিগ্রেশন লেভেলস প্ল্যানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কানাডার নতুন পরিকল্পনায় মূলত দেশটিতে আগে থেকেই বসবাস ও কাজ করছেন এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় দুই লাখ মানুষের জন্য দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত পিআর প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এটি নিয়মিত বার্ষিক ইমিগ্রেশন লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় অবস্থানকারী যোগ্য আবেদনকারীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া এবং জমে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা। প্রথম ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ এক লাখ কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে পিআরের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ও টেরিটরির শ্রমবাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম বা পিএনপির মাধ্যমে প্রদেশগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মীদের মনোনীত করতে পারবে। পাশাপাশি আটলান্টিক ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম এবং আগে জমা পড়া নির্দিষ্ট ফেডারেল ইমিগ্রেশন প্রোগ্রামের আবেদনও বিবেচনায় আসবে। এর মধ্যে স্টার্টআপ ভিসা, সেলফ-এমপ্লয়েড পারসনস, এগ্রি-ফুড পাইলট এবং হোম কেয়ার ওয়ার্কার প্রোগ্রামের কিছু আবেদন রয়েছে। তবে এসবের কয়েকটি নতুন আবেদন গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে বন্ধ রয়েছে।   দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ এক লাখ মানুষকে মানবিক ও পারিবারিক কারণে পিআরের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় হংকংয়ের নাগরিকদের নির্দিষ্ট পিআর প্রোগ্রাম, ইউক্রেন ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন পাথওয়ে এবং মানবিক কারণে ইতিমধ্যে যোগ্য বিবেচিত আবেদনকারীদের ফাইল নিষ্পত্তি করা হবে। পাশাপাশি কানাডিয়ান নাগরিক ও পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের স্বামী-স্ত্রী, কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে কুইবেকের বাইরে স্পাউসাল পিআর আবেদনের অপেক্ষার সময় প্রায় ১২ মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।   কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা বৈধ ওয়ার্ক পারমিটে কাজ করছেন, এক্সপ্রেস এন্ট্রির যোগ্যতা অর্জন করেছেন কিংবা প্রভিন্সিয়াল নমিনেশনের সুযোগ রয়েছে, তাঁরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে সুবিধা পেতে পারেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পড়াশোনা শেষে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রোগ্রামের যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে শুধু স্টুডেন্ট ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিআর পাওয়া যাবে না। নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত যোগ্যতা, ভাষাগত শর্ত ও আবেদনপ্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে কানাডার ২০২৭-২০২৯ সালের ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় প্রতিবছর তিন লাখ ৮০ হাজার নতুন পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। একই সময়ে বছরে তিন লাখ ৭০ হাজার নতুন টেম্পোরারি রেসিডেন্ট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজার কর্মী এবং দেড় লাখ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির সরকার বলছে, দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী ধরে রাখা এবং আবাসন ও সরকারি সেবার ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পিআরের সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা মূলত কানাডায় আগে থেকেই বসবাস করছেন। ফলে নতুন করে জনসংখ্যার চাপ না বাড়িয়ে তাঁদের স্থায়ী মর্যাদা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সংবাদসূত্র: ইমিগ্রেশন,রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ।        

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৯:৫৩
জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে

জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে, এখন এক স্ত্রী নিয়েই থাকতে চান সৌদি নাগরিক

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি হয়েছেন নাশরা নাইম। ছবি: সংগৃহীত

ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন ভারতের মুসলিম তরুণী

স্কটল্যান্ডে মাসের পর মাস গর্ভবতী থাকার অভিনয় করে ভুয়া নবজাতক প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

গর্ভবতী হওয়ার অভিনয়, জেন্ডার রিভিল পার্টির পর পুতুলকে নবজাতক সাজালেন তরুণী!

মরিশাসে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে কাচভর্তি ভারী কন্টেইনারের নিচে চাপা পড়ে তৎক্ষনাৎ ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মস্থলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি ভারী কাঠের বাক্স সরানোর সময় সেটি তাদের ওপর পড়ে যায়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন দে পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে একটি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।   নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)। তারা তিনজনই স্থানীয় একটি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। মরিশাসের সংবাদমাধ্যম ল্য ডেফি মিডিয়া ও ল্য মরিসিয়েন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকেরা একটি কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে কাচের প্যানেল সরাচ্ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বাক্সে ৪১টি কাচের প্যানেল ছিল। প্রতিটির আকার ছিল ছয় ফুট বাই আট ফুট। ভারী বাক্সটি হঠাৎ উল্টে শ্রমিকদের ওপর পড়ে গেলে তারা নিচে চাপা পড়েন।   দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকর্মীরা কনটেইনারের ভেতরে ভারী বাক্সের নিচ থেকে তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ডক্টর এ জি জিতু হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী রেজা উতিম। স্থানীয় পুলিশ ও প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, শ্রমিকেরা এরই মধ্যে আটটি বাক্স সরিয়েছিলেন। নবম বাক্সটি সরানোর সময় ক্রেন পরিচালনায় ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। প্রায় দুই টন ওজনের ভারী বাক্সটি শ্রমিকদের ওপর পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় সেখানে আরও দুই নেপালি শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।   শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কি না, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল কি না এবং ভারী মালামাল সরানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত তিন বাংলাদেশির বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল এবং তারা চলতি বছরের মে মাস থেকে মরিশাসে অবস্থান করছিলেন।   এদিকে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার। বাংলাদেশের হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধিও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ১:৩১
অবৈধ অভিবাসী শনাক্তে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা হোম অফিসের। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে অভিবাসী শনাক্তে ফেসিয়াল রিকগনিশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের জন্য দুঃসংবাদ

কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে বয়সভিত্তিক যোগ্যতা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পাসপোর্টে বয়সভিত্তিক ফি বেড়েছে, শিশুদের জন্য করা যাবে কেবল পাঁচ বছর মেয়াদি আবেদন

এআই প্রযুক্তি

আমিরাতে এআইয়ের কারণে ঝুঁকিতে একাধিক পেশার চাকরি, প্রবাসীদের প্রতি বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ
নিরাপত্তা হুমকিতে সুইডেনে ছয় মাসের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশি ভ্রমণকারী ও প্রবাসীদের যে নথি সঙ্গে রাখতে হবে

ইউরোপের দেশ সুইডেনে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও ছয় মাসের জন্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১১ মে পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারের দাবি, জনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর গুরুতর হুমকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে শেনজেন অঞ্চলে হাইব্রিড হামলা, বিদেশি রাষ্ট্রসমর্থিত তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচল সুইডেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশ সীমান্ত অতিক্রমকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করার সুযোগ পাবে। কর্তৃপক্ষের মতে, সম্ভাব্য অপরাধ, নাশকতা কিংবা বিদেশি শক্তির ক্ষতিকর তৎপরতা প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   সুইডেন শেনজেন অঞ্চলের সদস্য হওয়ায় সাধারণ পরিস্থিতিতে অন্য শেনজেন দেশ থেকে প্রবেশের সময় নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা করা হয় না। তবে নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সদস্যদেশগুলো সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করতে পারে। সুইডেন ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আগের ছয় মাসের মেয়াদ ১১ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকায় নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। বিশেষ করে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড থেকে সুইডেনে প্রবেশকারী যাত্রীদের যাচাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথায়, কখন এবং কীভাবে পরীক্ষা চালানো হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সুইডিশ পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এর অর্থ সব সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া কিংবা প্রত্যেক যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে দীর্ঘ পরীক্ষার মুখোমুখি করা নয়।   সুইডিশ পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের ভ্রমণের সময় বৈধ পাসপোর্ট, প্রযোজ্য ভিসা এবং বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত নথি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্য দেশের যাঁরা সুইডেনে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা বসবাস করছেন, তাঁদের জন্যও পরিচয় ও বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। শেনজেনভুক্ত অন্য দেশে বৈধভাবে অবস্থান করলেও সুইডেনে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হতে পারে।   এদিকে শুধু সুইডেন নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক ও নরওয়ের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোও বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির কারণে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু রেখেছে। সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, নতুন ছয় মাসের সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচালিত হবে।   সংবাদসূত্র: সুইডেনের বিচার মন্ত্রণালয় , আরব নিউজ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

পেটে ব্যথার কথা ভেবে হাসপাতালে গিয়ে জানলেন কোলন ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

সোমালিয়ায় প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বৃদ্ধি অবৈধ ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু

হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নামার প্রশিক্ষণে দুর্ঘটনা, জাপানে মার্কিন মেরিন সেনার মৃ ত্যু

0 Comments