রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি-ভিডিও নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা
রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশনের পর ছবি বা ভিডিও তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এখন অনেকেরই স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে এই প্রবণতা ঘিরে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ, অন্য ক্রেতাদের গোপনীয়তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করা হলে সেখানে নানা ধরনের মন্তব্য আসে। কেউ খাবারের ছবি বা ভিডিওকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ারের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ মনে করছেন, রেস্টুরেন্টে ছবি বা ভিডিও করার সময় আশপাশের ক্রেতা ও কর্মীদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
এ বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির একটি রেস্টুরেন্টের মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি তোলা বা ভিডিও করার বিষয়ে সরকারি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে বাস্তবে কিছু পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে বিড়ম্বনা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অনেক সময় কোনো কাস্টমার ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে আশপাশের অন্য কাস্টমারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। আবার কেউ কেউ ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন, যা রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়াও রেস্টুরেন্টে কর্মরত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করাও মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় কর্মীরা ক্যামেরায় চলে এলে কিংবা তাদের কাজের দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে সেটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে এর বাইরে বড় কোনো সমস্যা সাধারণত হওয়ার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্কে খাবারের ছবি তোলা নিয়ে এমন আলোচনা নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ক্রেতাদের ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ফ্ল্যাশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব নিয়ম চালু করেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিষয়টিকে খাবারের প্রচারের সুযোগ হিসেবে দেখে, আবার কোনো রেস্টুরেন্ট অন্য ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে ছবি বা ভিডিও সীমিত করতে পারে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুড কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি ও ভিডিও করা আরও বেড়েছে। অনেক ক্রেতা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, আবার ফুড ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা রেস্টুরেন্টের খাবার ও পরিবেশ নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। এতে একদিকে রেস্টুরেন্টের প্রচার বাড়ছে, অন্যদিকে ছবি বা ভিডিও ধারণের ধরন নিয়ে নতুন করে কিছু প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে নিজের খাবারের ছবি তোলার সময় আশপাশের অন্য ক্রেতা বা কর্মীরা যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওতে না চলে আসেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে কোনো রেস্টুরেন্টের নিজস্ব ছবি বা ভিডিও নীতিমালা থাকলে সেটিও মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায়ও বিষয়টির দুই দিক উঠে এসেছে। কেউ মনে করছেন, খাবারের মান ও পরিবেশ সম্পর্কে অন্যদের জানাতে ছবি বা ভিডিও করা স্বাভাবিক। আবার কেউ মনে করছেন, ছবি বা ভিডিও করার সময় রেস্টুরেন্টে উপস্থিত অন্য মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি বা ভিডিও করা নিয়ে নিউইয়র্কে কোনো সাধারণ সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয় সামনে না এলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং রেস্টুরেন্টের নিজস্ব নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে আলোচনা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্ল্যানো শহরে অবস্থিত ইস্ট প্ল্যানো ইসলামিক সেন্টারে (এপিক মসজিদ) নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন অফিসার গ্রিফিন। প্রতিদিন মসজিদে আগত মুসল্লিদের সঙ্গে তাঁর দেখা হতো। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে মুসলমানদের জীবনাচরণ, নিয়মশৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ দেখার সুযোগ পান। দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এবং তাঁদের আচার-আচরণে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা একটি ভিডিও এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের পেছনে মূল অনুঘটক ছিল সাধারণ মুসল্লিদের অমায়িক আচরণ। গ্রিফিন নিজে জানিয়েছেন, প্রতিদিন নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের নিয়মানুবর্তিতা, দয়া, আতিথেয়তা এবং তাঁর প্রতি দেখানো ভ্রাতৃত্ববোধ ও অগাধ সম্মান তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একজন নিরাপত্তারক্ষী হওয়া সত্ত্বেও মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি যে সম্মান, ভালোবাসা ও সমতা পেয়েছেন, তা তাঁর হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। অফিসার গ্রিফিনের ইসলাম গ্রহণের মুহূর্তের ভিডিওটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রশংসা কুড়ায়। কালেমা শাহাদাত পাঠ করার পরপরই মসজিদের মুসল্লিরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁর এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মানুষের সুন্দর আচরণ, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
মুদিবাজার থেকে বাড়িভাড়া, সবকিছুতেই ‘বাই নাউ পে লেটার’ ঋণে ঝুঁকছেন মার্কিনিরা
রেস্টুরেন্টে খাবারের ছবি-ভিডিও নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা
নিউইয়র্কে স্কুল বাসের জন্য আর রাস্তায় অপেক্ষা নয়, ঘরে বসেই জানা যাবে বাসের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে চলে আসা একটি কুমিরের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিহতের নাম ক্যাসি টেইলর এবং তিনি ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটি স্কট বার্কের মেয়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শেরিফ অফিসে বেসামরিক সংশোধন সহকারী (সিভিলিয়ান কারেকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট) হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত রোববার মধ্যরাতের ঠিক আগে ফ্লোরিডার টাইটাসভিলের আই-৯৫ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল (এফএইচপি) জানিয়েছে, ৫৮ বছর বয়সী কানাডার এক নাগরিক মার্সিডিজ গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মহাসড়কে থাকা একটি কুমিরকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঠিক তাঁর পেছনেই টয়োটা টাকোমা পিকআপ চালিয়ে আসছিলেন ক্যাসি টেইলর। সামনে দুর্ঘটনায় পড়া মার্সিডিজ গাড়িটিকে এড়িয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাসি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং তাঁর পিকআপটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাসি সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন না। ফলে গাড়িটি উল্টে যাওয়ার সময় তিনি ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে যান। রাস্তায় আহত অবস্থায় পড়ে থাকার সময় পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি অজ্ঞাত গাড়ি তাঁকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ক্যাসির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গাড়ির ধাক্কায় কুমিরটিও মারা গেছে। মার্সিডিজ গাড়ির চালক অক্ষত ছিলেন এবং তিনি দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই অবস্থান করছিলেন। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই গাড়িচালকের সন্ধানে জোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইন্ডিয়ান রিভার কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ক্যাসি মাত্র এক মাসের কিছু সময় আগে তাদের দলে যোগ দিয়েছিলেন। সহকর্মী ও বন্ধুরা তাঁকে ‘বিশুদ্ধ হৃদয়ের অধিকারী’ এক চমৎকার তরুণী হিসেবে স্মরণ করে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন।
মিনেসোটায় দুই ছেলেসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার, বড় ছেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও আত্মহত্যার সন্দেহ
জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে কিশা ল্যান্স বটমসের পাশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলা পার্কস
শিকড়ের টানে ভার্জিনিয়ায় এক হচ্ছেন ফেনীবাসীরা, আয়োজিত হচ্ছে প্রথম পুনর্মিলনী
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় ৫ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অথচ গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহত মেয়েকে ‘মামিস লিটল অ্যাঞ্জেল’ বা ‘মায়ের ছোট্ট পরি’ বলে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন তার মা। গত মঙ্গলবার টেনেসি অঙ্গরাজ্য থেকে শিশুটির বাবা ৭০ বছর বয়সী জন হার্ব হেইস থ্রি এবং ৩১ বছর বয়সী মা জিওর্ডিন নিকোল হেইসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্তানকে বেআইনিভাবে ঝুঁকিতে ফেলা ও ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত শিশু সেইলর হেইস কথা বলতে পারত না এবং তার একা একা বাড়ির বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল। গত সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সাউথ ক্যারোলাইনার পাওলেস আইল্যান্ডে পরিবারের ভাড়া করা বাড়ির কাছের একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পানিতে খেলতে ভীষণ ভালোবাসতো সেইলর। নিরাপত্তার জন্য তাকে সবসময় 'প্রজেক্ট লাইফসেভার' নামের একটি ট্র্যাকিং ডিভাইস পরিয়ে রাখা হতো। কিন্তু ভার্জিনিয়া থেকে ছুটিতে সাউথ ক্যারোলাইনায় যাওয়ার আগেই কেউ একজন সেই ডিভাইসটি কেটে খুলে ফেলেছিল। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, শিশুটির বাবা-মা শুরু থেকেই তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। মেয়েটি ট্র্যাকার পরা নেই জেনেও তারা পুলিশকে ট্র্যাকারের সংকেত খোঁজার দিকে মনোযোগ দিতে বলেন এবং জলাশয়ের দিক থেকে তল্লাশি সরিয়ে নিতে প্ররোচিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ট্র্যাকিং সংকেত অনুসরণ করে ভার্জিনিয়ায় থাকা তাদের একটি গাড়ির ভেতরে ডিভাইসটি খুঁজে পায়। ওয়াশিংটন কাউন্টির শেরিফ জানান, এই বিশেষ ডিভাইসটি চাইলেই খোলা যায় না, এটি খোলার জন্য ফিতাটি কেটে ফেলতে হয়। জর্জটাউন কাউন্টির শেরিফ কার্টার উইভার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, যে শিশুরা নিজেদের রক্ষা করতে পারে না, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাবা-মায়ের প্রধান দায়িত্ব। তিনি আরও জানান, সেইলরের সুরক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারাই তাকে চরম বিপদে ফেলেছিল। শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নিশ্চিত হতে শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হবে।
ভার্জিনিয়ার এলিমেন্টারি স্কুলে গোলাগুলি, আহত ১; নিরাপদ শিক্ষার্থীরা, ঘটনাস্থলে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি
নিউইয়র্কে মামদানির ‘২০০ ইনফ্লুয়েন্সার বাহিনী’ নিয়ে বিতর্ক, ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থে নিজস্ব প্রচারণার অভিযোগ