ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ি চাপা দিয়ে এক বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগে অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তাদের আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোক ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী অনিলা বেবির বিরুদ্ধে ৩৫ বছর বয়সী অঞ্জনা হরিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত শুক্রবার দুপুরে মিলপিটাসের মিল ক্রিক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কাছে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি অনুযায়ী, অঞ্জনা হরি হাসিমুখে একটি ব্যাগ হাতে অনিলার ব্লু টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের লক্ষণ ছিল না।
কিন্তু হঠাৎ করেই অনিলা তীব্র বেগে গাড়ি চালিয়ে অঞ্জনাকে চাপা দেন এবং তিনটি পার্ক করা গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া অঞ্জনাকে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বা ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ হিসেবে ধারণা করা হলেও, পরে তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে মিলপিটাস পুলিশ।
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি ওয়ালগ্রিনস পার্কিং লট থেকে অনিলা বেবিকে অসংলগ্ন অবস্থায় আটক করে পুলিশ। এ সময় তার হাত ও পায়ে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে সান জোসে পুলিশের কাছে আরও একটি জরুরি কল আসে।
লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে ৪০ বছর বয়সী অ্যান মেরি ম্যাথিউ নামের আরেক নারীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে তারা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
নিহত দুই নারীই অভিযুক্ত অনিলার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিন নারী একই কমপ্লেক্সে থাকতেন বলে শুরুতে গুজব ছড়ালেও, পুলিশ জানিয়েছে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা স্থানে ঘটেছে।
কিছু সংবাদমাধ্যমে দুই হত্যাকাণ্ডের জন্যই অনিলাকে দায়ী করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত জনসম্মুক্ষে এই দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি।
চাকরি হারানো বা বিষণ্ণতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন তাদের পরিচিতরা। সান্তা ক্লারা কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটক অনিলা বেবিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা শাখায় ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। এনওয়াইপিডির দীর্ঘ ইতিহাসে এই শীর্ষ পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি তিনি। সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ইকবালের হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস। তার এই সাফল্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উৎসবের আমেজ ও গভীর গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের সন্তান ইকবাল হোসেন ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা ইকবাল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের কর্মজীবনে তিনি ৩২ ও ২৬ প্রিসিনক্ট, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ড এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিভাগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে তিনি ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে উন্নীত হন। বিশেষ করে এনওয়াইপিডির অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ‘ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপ’-এর ৫৪ নম্বর দলে কাজ করার সময় তার তীক্ষ্ণ মেধা ও পেশাদারিত্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়ায়, যার চূড়ান্ত স্বীকৃতি এই ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি। ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল। পুলিশের কঠোর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। তার এই অনন্য অর্জন প্রবাসীদের জন্য শুধু গর্বের বিষয়ই নয়, বরং প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের কাছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও একাগ্রতার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শিক্ষকতার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে ১৪ বছরের ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক, আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষিকা
ক্যালিফোর্নিয়ায় তিন ভারতীয় বান্ধবীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃতীয়জন
খালাকে মা সাজিয়ে গ্রিন কার্ড নেওয়ার অভিযোগ, আসল মাকে স্পনসর করতে গিয়ে ধরা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডানবারি শহরের রাস্তায় হঠাৎ করেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)। গত ৩ সেপ্টেম্বর চালানো এই আকস্মিক অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছেন ফেডারেল এজেন্টরা। রাজ্যজুড়ে অভিবাসন সংক্রান্ত ধরপাকড় ও নজরদারি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কানেকটিকাটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে সম্প্রতি আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ডানবারি শহরে চালানো সাম্প্রতিক এই অভিযানটি ছিল বেশ সুপরিকল্পিত। আটককৃতদের বর্তমান অবস্থা বা তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত নথিপত্রবিহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করেই এই ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে আইসিই-এর এমন আকস্মিক ও কঠোর তৎপরতায় স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় ফেডারেল এজেন্টদের টহল বৃদ্ধির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করলেও, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি তাদের নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমেরই একটি অংশ। আগামী দিনগুলোতে কানেকটিকাটের অন্যান্য শহরেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৬ লাখ ডলারের জালিয়াতি, মনজিৎ সিং বেদিকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা এফবিআইয়ের
ট্রাম্পকে হ ত্যার হু মকি দিয়ে ভিডিও, লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী
এপস্টিন তদন্তে হাজির না হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন ধনকুবের লিওন ব্ল্যাক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে এক উন্মাদের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াসেন্টির (৩২) শিশুকন্যার জন্য খোলা তহবিলে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফেরার প্রথম দিনেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান এই নারী। তার পাঁচ মাস বয়সী মেয়ে ম্যাডিসন ও স্বামী ফ্র্যাঙ্ককে সহায়তার উদ্দেশ্যে চালু করা ‘গোফান্ডমি’ পেজে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের অনুদানে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ। গত সোমবার টাইম স্কয়ারে সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় এরিনের ওপর হামলা চালায় পামেলা সিসনেরোস নামের এক নারী। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই পুলিশের দিকে দুটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে তেড়ে গেলে এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাদের গুলিতে প্রাণ হারায় ওই ঘাতক। তহবিল সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন, মা হওয়া ছিল এরিনের আজীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং মেয়ে ম্যাডিসন তার জীবনে এনেছিল সবচেয়ে বড় আনন্দ। নিউজার্সির চেস্টারে স্বামী ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে সম্প্রতি দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই সপরিবারে একটি আনন্দঘন রোড ট্রিপ থেকে ফিরেছিলেন তারা। সহকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, এরিনের জীবন তার মৃত্যুর মর্মান্তিক পরিস্থিতি দিয়ে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং তিনি যেভাবে জীবনযাপন করতেন সেটাই তার আসল পরিচয়। তিনি পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত ছিলেন এবং চারপাশের মানুষের মাঝে উষ্ণতা ও শক্তি ছড়িয়ে দিতেন। ব্যাংক অব আমেরিকায় অত্যন্ত সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত এই মেধাবী ও সফল নারীর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মেয়ে ম্যাডিসনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং এরিনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ হিসেবেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই তহবিলে অনুদান দিচ্ছেন।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-২ গ্রিন কার্ডের সুযোগ, কারা আবেদন করতে পারবেন
নিউইয়র্কে ইউসুফ রাজু হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তারে দুই বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা