সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
লাইফস্টাইল

মা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সফল হয়ে মাকেই প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দিচ্ছেন আইশোস্পিড!

Unknown প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১:৯
আইশোস্পিড ও তাঁর মা
আইশোস্পিড ও তাঁর মা

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অনুসারী, স্টেডিয়ামভর্তি ভক্ত আর জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠার বহু আগে আইশোস্পিডের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর মা। ছোট্ট একটি ঘর থেকে অল্প কয়েকজন দর্শক নিয়ে ভিডিও বানানোর সময়ও ছেলের স্বপ্নকে ছাড়তে দেননি তিনি। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্ট্রিমার।

 

ড্যারেন জেসন ওয়াটকিনস জুনিয়র, যিনি ‘আইশোস্পিড’ নামে পরিচিত, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও লাইভস্ট্রিমে জানিয়েছেন, শৈশবে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। মা একাই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে সন্তানদের বড় করেছেন। সে সময় ইউটিউবে ভিডিও বানিয়েও তেমন কোনো আয় হতো না, তবু ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি তিনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই আইশোস্পিড বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন। ইউটিউব লাইভস্ট্রিম, বিনোদনমূলক ভিডিও এবং বিভিন্ন ভাইরাল মুহূর্তের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। 

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, আইশোস্পিড তাঁর আয় থেকে মাকে প্রতি মাসে ১ লাখ মার্কিন ডলার করে দেন। তবে এ তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও প্রতিবেদনেই এ দাবি উঠে এসেছে, কিন্তু অর্থের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও প্রচারিত হয়েছে। তবে একটি বিষয় নিয়ে তেমন দ্বিমত নেই, আইশোস্পিড একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকা মায়ের অবদান তিনি কখনো ভুলবেন না।

 

তাঁর সাফল্যের পেছনে মায়ের উৎসাহ ও সমর্থনের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে তুলে ধরেছেন। অনেকের কাছে এই গল্প শুধু একজন জনপ্রিয় ইউটিউবারের সাফল্যের নয়, বরং কঠিন সময়ে সন্তানের পাশে থাকা একজন মায়ের বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের প্রতিদানের গল্প।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুওর নকশা
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক

অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন ডুও বাজারে আসার আগেই বামহাতি ব্যবহারকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের এই ফোনে এক পাশে গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রোল, সাইড বাটন ও টাচ আইডি রাখায় বাম হাতে এক হাতে ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অস্বস্তিকর হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। অ্যাপল গত বুধবার প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন ডুও উন্মোচন করে। ফোনটিতে রয়েছে ৭.৬ ইঞ্চির ভেতরের ডিসপ্লে এবং ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। ভাঁজ করা অবস্থায় এটি তুলনামূলকভাবে ছোট ও পকেটে বহনযোগ্য। অ্যাপল জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় কন্ট্রোলগুলো ফোনের পাশে রাখা হয়েছে, যাতে সহজে পৌঁছানো যায়। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, সহজে পৌঁছানোটা আসলে কার জন্য? প্রচলিত আইফোনে স্ক্রিনের বিভিন্ন নেভিগেশন কন্ট্রোল তুলনামূলকভাবে দুই হাতেই ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ডুওতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কন্ট্রোল এক পাশে স্থিরভাবে রাখা হয়েছে। এমনকি ফেস আইডির পরিবর্তে ব্যবহৃত টাচ আইডিও সাইড বাটনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যারা বাঁ হাতেই এক হাতে ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ডিভাইসটি ব্যবহারে বাড়তি সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে কয়েকজন ব্যবহারকারী বলেছেন, শুধু সফটওয়্যারে একটি ‘লেফট হ্যান্ডেড মোড’ যোগ করলেই সমস্যার পুরো সমাধান নাও হতে পারে। কারণ টাচ আইডি, বাইরের ডিসপ্লে ও ক্যামেরাসহ ফোনের কিছু হার্ডওয়্যার বিন্যাসও এর সঙ্গে যুক্ত। কিছু ব্যবহারকারী এমনকি বামহাতিদের জন্য আলাদা করে আয়না-নকশার একটি সংস্করণ তৈরির কথাও বলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপল বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো মোড বা বিশেষ হার্ডওয়্যার সংস্করণের ঘোষণা দেয়নি। অ্যাপল অবশ্য ডুওতে বিভিন্ন Accessibility সুবিধার কথা তুলে ধরেছে। দৃষ্টিশক্তি, চলাফেরা, শ্রবণ, কথা বলা এবং কগনিটিভ চাহিদার ব্যবহারকারীদের জন্য AssistiveTouch, Switch Control, Voice Control ও Eye Tracking-এর মতো ফিচার রয়েছে। তবে বামহাতি ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে ডুওর ডিজাইন ও পাতলা গঠন প্রশংসা পেয়েছে। ভাঁজ খুললে ফোনটি খুব পাতলা এবং বন্ধ অবস্থায় আকারে অনেকটা পাসপোর্টের মতো বলে বর্ণনা করেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি লেখক ব্রায়ান এক্স. চেন। তবে সাধারণ ক্রেতারা এখনো হাতে নিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ পাননি। ফোল্ডেবল ফোনের বাজার এখনো তুলনামূলক ছোট। IDC-এর তথ্য উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মোট মোবাইল বিক্রির ২ শতাংশেরও কম ফোল্ডেবল ফোন। তবে এই বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বামহাতি। অবশ্য কোন হাতে কেউ স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন, তা সবসময় তার স্বাভাবিক হাত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। তাই ডুওর নকশা নিয়ে আপত্তি থাকলেও কেউ কেউ বলছেন, ব্যবহারকারীরা সময়ের সঙ্গে এতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারেন। আইফোন ডুও আগামী ২৩ অক্টোবর বাজারে আসার কথা রয়েছে। প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। ফোনটি হাতে পাওয়ার পরই বামহাতি ব্যবহারকারীদের জন্য এর নকশা কতটা বাস্তব সমস্যা তৈরি করে, সেটি আরও পরিষ্কার হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ৯:২১
ঘুমের ট্র্যাকার সবসময় ঘুমের আসল মান সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না

‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা

সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তরের প্রতীকী গাউনে উগান্ডার প্রতিনিধি ট্রিভিয়া এল মুহোজা

সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম

গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত চুলের ক্লিপ মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে

গাড়িতে ওঠার সময় চুল বাঁধার জনপ্রিয় ক্লিপ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা পেছনের দিকে জোরে ধাক্কা খেলে শক্ত ধরনের দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্লিপটি মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে একটি আলোচনায় দৈনন্দিন জীবনের কোন কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তারা নিজেরা এড়িয়ে চলেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মোটরসাইকেল চালানো, নিরাপত্তা জাল ছাড়া ট্রাম্পোলিন ব্যবহার এবং দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিক স্কুটার চালানোর মতো বিষয় উঠে আসে। এর পাশাপাশি গাড়িতে চুলের ক্লিপ পরে থাকার বিষয়টিও চিকিৎসকদের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পেছনের দিকে বড় দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ পরে গাড়িতে বসার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তারা। এসব ক্লিপ সাধারণত মাথার পেছনে এমন জায়গায় থাকে, যেখানে গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা সিট বা হেডরেস্টের দিকে জোরে ধাক্কা খেতে পারে।   চিকিৎসক ডোরিয়ান ও'লিয়ারি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর বর্ণনায় বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে পেছনের দিকে চলে গেলে ধাতব চুলের ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে আঘাত করতে পারে। তার মতে, ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে, কেটে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করতে হতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্সও একই ধরনের সতর্কতা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত ক্লিপ মাথার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একজন মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানকারীও জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় কখনো এ ধরনের ক্লিপ পরবেন না।   চুলের এই ক্লিপের জনপ্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকেই চুল দ্রুত গুছিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো ফ্যাশনের পুনরুত্থান এবং ওয়াই-টু-কে ধাঁচের পোশাক ও সাজসজ্জার জনপ্রিয়তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অভিনেত্রী ও মডেল হেইলি বিবার এবং কেন্ডাল জেনারকেও এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে গাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ দুর্ঘটনার সময় শরীরের সঙ্গে গাড়ির ভেতরের শক্ত কোনো বস্তু আটকে গেলে সেটি অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে।   এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী জিনা পানেসার গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ডার্বিশায়ারে গাড়ি চালানোর সময় তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। তখন তার চুলে একটি দাঁতযুক্ত ক্লিপ লাগানো ছিল। সংঘর্ষের সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে ঢুকে যায়। পরে হাসপাতালে সেটি অপসারণ করা হয়। দুর্ঘটনায় তার মাথা থেকে ভ্রু পর্যন্ত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ক্ষত তৈরি হয়েছিল। পানেসার পরে অন্য গাড়িচালকদেরও গাড়িতে ওঠার আগে এ ধরনের ক্লিপ খুলে ফেলার পরামর্শ দেন। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তিনি রাবারের ব্যান্ড ব্যবহারের কথা বলেন। তার নিজের অভিজ্ঞতা ছিল, দুর্ঘটনার সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে আটকে যাওয়ার পর তিনি গুরুতর বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন।   চীনের সিচুয়ান প্রদেশেও এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারী গাড়ি দুর্ঘটনার পর মাথার ত্বকে দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় সেটি বের করেন। চিকিৎসক তিয়ান ফেংমিং জানিয়েছিলেন, ক্লিপটি মাথার খুলিতে পৌঁছে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা অন্য জটিলতা ঠেকাতে নিউরোসার্জারির প্রয়োজন হতে পারত। তবে এ বিষয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুলের ক্লিপ ব্যবহার করলেই গুরুতর আঘাত হবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের সতর্কতার মূল বিষয় হলো গাড়ি দুর্ঘটনার মতো উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু থাকা। জরুরি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের আঘাত সম্ভব হলেও তা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং গাড়ির দুর্ঘটনায় আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে অন্য কারণগুলো, যেমন নিরাপত্তাহীন বস্তু বা মনোযোগের ঘাটতি।   তাই গাড়ি চালানোর সময় বা যাত্রার ক্ষেত্রে চুলের পেছনে শক্ত ও বড় ক্লিপ ব্যবহার না করাই নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক নরম রাবার ব্যান্ড বা এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মাথার পেছনে শক্তভাবে বেরিয়ে থাকে না। দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি সাধারণ ফ্যাশন সামগ্রী কীভাবে দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে, সাম্প্রতিক এই আলোচনা সেটিই সামনে এনেছে। বিশেষ করে গাড়িতে দীর্ঘ সময় যাতায়াত করা ব্যক্তিদের জন্য চুলের সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, চ্যানেল নিউজএশিয়া, ৭নিউজ ও দ্য স্ট্যান্ডার্ড।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২২:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার আগে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথাবার্তায় সতর্ক থাকা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা

কঠোর সঞ্চয় ও নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ডলারের সম্পদ গড়া লন্ডনের তরুণী মিয়া ম্যাকগ্রাথ। ছবি: সংগৃহীত

সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন

জেমস ম্যাকগ্রর করানো কেলি ম্যাকগ্রর ঘুমন্ত অবস্থার ট্যাটু। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীর চুল কাটার বদলা নিতে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি ট্যাটু করালেন স্বামী

সন্তানদের প্রযুক্তি আসক্তি ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা আইপ্যাড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন কলম্বিয়ান সংগীতশিল্পী শাকিরা। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের ফোন-ইউটিউব থেকে দূরে রেখেছেন শাকিরা, সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা আইপ্যাড

সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে কঠোর নিয়ম মেনে চলছেন কলম্বিয়ান সংগীতশিল্পী শাকিরা। এপ্রিল ২০২৬-এ স্পেনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আল সিয়েলো কন এয়া’-তে সাংবাদিক হেনার আলভারেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর দুই ছেলে মিলান ও সাশার নিজস্ব কোনো মোবাইল ফোন নেই। এমনকি আইপ্যাড ব্যবহারের সুযোগও সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ।   সাক্ষাৎকারে শাকিরা জানান, সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তিনি খুব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের কাছে একটি আইপ্যাড রয়েছে, তবে সেটিও নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। সাধারণত শনিবার সকালে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য তারা আইপ্যাড ব্যবহার করতে পারে। ইন্টারনেটে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকারও নেই।   শুধু তাই নয়, সন্তানদের জন্য ইউটিউব পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছেন শাকিরা। তাঁর মতে, অনলাইনের নানা তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং অন্যের মতামত শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের ভার্চুয়াল জগতের অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে চান তিনি।   মিলান ও সাশাকে নিজেদের নাম, মায়ের নাম কিংবা তাদের বাবার নাম ইন্টারনেটে খুঁজে দেখতেও উৎসাহিত করেন না শাকিরা। এর পেছনে তাঁর যুক্তি হলো, সন্তানরা যেন অনলাইনে অন্য মানুষের মন্তব্য, সমালোচনা বা অতিরিক্ত মনোযোগের ওপর নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও সুখ নির্ভর করতে না শেখে।   শাকিরার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সন্তানরা এখন যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও পরিণত হয়েছে এবং কোথায় তথ্য খোঁজা উচিত আর কোথায় না, সে বিষয়টি তারা বুঝতে শেখেছে। তিনি চান, তারা অনলাইনের স্বীকৃতির বদলে বাস্তব জীবনের সাধারণ আনন্দ ও অভিজ্ঞতার মধ্যে সুখ খুঁজে নিক।   প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শাকিরার এই অবস্থান শুধু নিজের পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাক্ষাৎকারে তিনি শিশুদের ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও মত দেন। শিশুদের অনলাইন জগত থেকে সুরক্ষিত রাখতে অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।   বর্তমানে মিলান ও সাশা কৈশোরে পা দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত একজন শিল্পীর সন্তান হিসেবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ছোটবেলা থেকেই মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে। সেই কারণে প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অতিরিক্ত জনসম্পৃক্ততা থেকে তাদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন শাকিরা।   এপ্রিলের ওই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যটি এখন আবার আলোচনায় এসেছে মূলত সন্তান পালনে শাকিরার এই ব্যতিক্রমী পদ্ধতির কারণে। প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে যেখানে শিশুদের হাতে খুব অল্প বয়সেই স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে শাকিরার পরিবারে নিয়মটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর কাছে সন্তানদের শৈশবকে যতটা সম্ভব বাস্তব জীবন, পরিবার ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:৪০
চুলের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’। ছবি: সংগৃহীত

চুলের তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’

নিউইয়র্কের প্রতি ৫টি সাবওয়ে ট্রেনের ১টি লেট, সমাধান পেতে লাগতে পারে আরও ২৫ বছর

নিউইয়র্কের প্রতি ৫টি সাবওয়ে ট্রেনের ১টি লেট, সমাধান পেতে লাগতে পারে আরও ২৫ বছর

আইশোস্পিড ও তাঁর মা

মা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সফল হয়ে মাকেই প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দিচ্ছেন আইশোস্পিড!

0 Comments