নিউইয়র্কের প্রতি ৫টি সাবওয়ে ট্রেনের ১টি লেট, সমাধান পেতে লাগতে পারে আরও ২৫ বছর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়েতে এ বছর ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হলেও মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) কয়েক দশক পরের, অর্থাৎ ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এমটিএ-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে যেখানে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৮৩.৭ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা কমে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রতি পাঁচটি কর্মদিবসের যাত্রার মধ্যে অন্তত একটি ট্রেন ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বি, এন, ২ (Two) এবং এফ লাইনের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, যেখানে সময়মতো ট্রেন আসার হার ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের ঘরে নেমে গেছে।
সাবওয়ের এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ম্যানহাটনের বাসিন্দা আনা জানান, ৬ (Six) ট্রেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এই লাইনটিতে সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫.৩ শতাংশ থেকে ৯ পয়েন্ট কমে ৭৬.৩ শতাংশে নেমেছে, যা পুরো সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ডে দুই মিনিট লেখা থাকলেও ট্রেন আসতে দশ মিনিট লেগে যায়, আর ভিড় ঠেলে ট্রেনে ওঠা রীতিমতো যুদ্ধ করার মতো। হাসপাতালে কর্মরত এই নারী জানান, সাবওয়ের কারণে অফিসে দেরি হলে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। আরেক যাত্রী স্যাল প্যাডেলারো জানান, একবার একটি বিকল এফ ট্রেনে তিনি ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। সাবওয়ের এই নিত্যদিনের দেরির কারণে অফিসের কাজ ও ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দেরির এই ভিড়ে ৭ (Seven), জে এবং এল ট্রেনগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো সেবা দিচ্ছে, যেগুলোর সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে। এমটিএ চেয়ারম্যান জানো লিবার জানিয়েছেন, সিগন্যালিং সমস্যা, পুলিশের হস্তক্ষেপ বা অসুস্থ যাত্রীর মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তারা পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছেন।
এছাড়া, এমটিএ তাদের সাম্প্রতিক বোর্ড মিটিংয়ে "এলিমিনেটিং বটলনেকস" শীর্ষক একটি রিপোর্টের মাধ্যমে ২৫টি সমস্যাজড়িত পয়েন্ট মেরামতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য হতাশার বিষয় হলো, এই সমাধানগুলো পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে যখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হবে, তখনও এই যানজট নিরসনের কাজ শেষ হবে না, যা মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আরও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
লাইফস্টাইল
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়েতে এ বছর ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হলেও মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ) কয়েক দশক পরের, অর্থাৎ ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এমটিএ-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে যেখানে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৮৩.৭ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা কমে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রতি পাঁচটি কর্মদিবসের যাত্রার মধ্যে অন্তত একটি ট্রেন ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বি, এন, ২ (Two) এবং এফ লাইনের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, যেখানে সময়মতো ট্রেন আসার হার ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের ঘরে নেমে গেছে। সাবওয়ের এই চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ম্যানহাটনের বাসিন্দা আনা জানান, ৬ (Six) ট্রেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এই লাইনটিতে সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫.৩ শতাংশ থেকে ৯ পয়েন্ট কমে ৭৬.৩ শতাংশে নেমেছে, যা পুরো সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ডে দুই মিনিট লেখা থাকলেও ট্রেন আসতে দশ মিনিট লেগে যায়, আর ভিড় ঠেলে ট্রেনে ওঠা রীতিমতো যুদ্ধ করার মতো। হাসপাতালে কর্মরত এই নারী জানান, সাবওয়ের কারণে অফিসে দেরি হলে তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। আরেক যাত্রী স্যাল প্যাডেলারো জানান, একবার একটি বিকল এফ ট্রেনে তিনি ধোঁয়ার মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। সাবওয়ের এই নিত্যদিনের দেরির কারণে অফিসের কাজ ও ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে দেরির এই ভিড়ে ৭ (Seven), জে এবং এল ট্রেনগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো সেবা দিচ্ছে, যেগুলোর সময়ানুবর্তিতার হার ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশের মধ্যে। এমটিএ চেয়ারম্যান জানো লিবার জানিয়েছেন, সিগন্যালিং সমস্যা, পুলিশের হস্তক্ষেপ বা অসুস্থ যাত্রীর মতো বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তারা পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া, এমটিএ তাদের সাম্প্রতিক বোর্ড মিটিংয়ে "এলিমিনেটিং বটলনেকস" শীর্ষক একটি রিপোর্টের মাধ্যমে ২৫টি সমস্যাজড়িত পয়েন্ট মেরামতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য হতাশার বিষয় হলো, এই সমাধানগুলো পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে ২০৩০ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চে যখন নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হবে, তখনও এই যানজট নিরসনের কাজ শেষ হবে না, যা মূল্যস্ফীতির এই বাজারে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে আরও হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সফল হয়ে মাকেই প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দিচ্ছেন আইশোস্পিড!
অস্টিনের স্বাদ ও ইতিহাস ধরে রেখেছে তিন কিংবদন্তি টেক্স-মেক্স রেস্তোরাঁ
প্রাকৃতিক উপাদানেই রূপের যত্ন: মরোক্কান নারীদের সৌন্দর্য রহস্য
ব্যায়াম বা শরীরচর্চার আগে ও পরে আসলে কী খাওয়া উচিত—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের একচেটিয়া জয়জয়কার দেখা যায়। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরচর্চার আগের ও পরের খাবারের নিয়মটি বেশ সহজ এবং এর জন্য খুব দামি বা জটিল খাবারের প্রয়োজন নেই। নিয়ম অনুযায়ী, শরীরচর্চার আগে এমন খাবার খাওয়া উচিত যা সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি জোগায়। অর্থাৎ, এ সময়ে ধীর-নিঃসরণকারী কার্বোহাইড্রেট (Slow-release Carbohydrates) যুক্ত খাবার সবচেয়ে উপকারী। অন্যদিকে, শরীরচর্চার পর ব্যায়ামের কারণে পেশির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা পূরণ ও পেশি গঠনে প্রয়োজন প্রোটিন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি যেকোনো খাবার বা স্ন্যাক্সে এই দুই উপাদানের (কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন) একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ থাকে। যারা সাধারণত সকালে শরীরচর্চা বা ওয়ার্কআউট করেন, তাদের জন্য পুষ্টিকর কিছু নাস্তার আইডিয়া নিচে দেওয়া হলো: ১. ওটস ও পরিজ (মিষ্টি নাস্তা): ধীর-নিঃসরণকারী কার্বোহাইড্রেটের জন্য ওটস বা পরিজ চমৎকার বিকল্প। ‘পিনহেড ওটস’ এবং ‘রোল্ড ওটস’ একসঙ্গে মিশিয়ে হালকা আঁচে সময় নিয়ে রান্না করলে এটি দারুণ ক্রিমি ও সুস্বাদু হয়। এর সঙ্গে কিছুটা কলা কুচি মিশিয়ে নিলে তা হয়ে ওঠে পুষ্টির পাওয়ারহাউজ। আর হাতে সময় কম থাকলে চকলেট রাই পরিজের সঙ্গে মধু ও নাশপাতি, কিংবা আপেল ও দারুচিনির সহজ পরিজ তৈরি করা যেতে পারে। ২. মুখরোচক ও নোনতা নাস্তা: যারা সকালে মিষ্টি খাবার পছন্দ করেন না, তারা আগের রাতেই ক্রোস্যান্টের ভেতরে হ্যাম, চিজ এবং সবুজ শাকসবজি দিয়ে মুড়িয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন, যা সকালে শুধু বেক করে নিলেই চলে। ঝটপট তৈরির জন্য ডিমের অমলেট ও রুটির সংমিশ্রণে তৈরি প্যানকেকও বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া লাল আটার পিটা রুটির সাথে সেদ্ধ ডিম বা ফেটা চিজ দিয়ে খেতে পারেন। যারা নিরামিষভোজী, তারা ডিমের বদলে স্ক্র্যাম্বলড টফু খেতে পারেন, যা কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের দারুণ ভারসাম্য তৈরি করে। ৩. ঝটপট স্মুদি: সকালে ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা না করলে স্মুদি হতে পারে সেরা সমাধান। শরীরচর্চার আগে কলা, ওটস, খেঁজুর ও দারুচিনির স্মুদি কিংবা পুষ্টিকর গ্রিন স্মুদি খাওয়া যেতে পারে। এতে করে নিজের প্রয়োজনমতো পুষ্টি উপাদান সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে খাবার দাবারের পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিতে শরীরকে হাইড্রেটেড বা পরিমিত জলীয় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি শরীরচর্চা শেষে খাবারে প্রোটিন নিশ্চিত করা উচিত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’
ভালো ঘুমের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড: কোনটি কাজের আর কোনটি ক্ষতিকর?
অনিয়মিত ঘুমে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা
নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের মধ্যে নিয়মিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি কমার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে পাঁচ বা তার বেশি দিন ডিম খান, তাদের আলঝেইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন ডিম খেলে ঝুঁকি কমে প্রায় ২০ শতাংশ এবং অনিয়মিতভাবে ডিম খেলেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ওপর ১৫ বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৮ জনের শরীরে আলঝেইমার্স শনাক্ত হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমে থাকা কোলিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উপাদান জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই শুধু ডিম খেলেই আলঝেইমার্স পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বরং ডিম খাওয়ার সঙ্গে রোগের ঝুঁকি কমার একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী। তারা বলছেন, ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্য উপকারিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রাচীন কাশ্মীরি সৌন্দর্য চর্চার রূপে নতুন আগ্রহ, জাফরান থেকে আখরোট স্ক্রাবে বাড়ছে চাহিদা
চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে প্রোটিনসমৃদ্ধ ৫টি খাবার