সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
রাজনীতি

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:১৫
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি চলার মধ্যেই দলটির ৩৪ সংসদ সদস্যসহ মোট ৭১ জনের বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৭ দিনের এই সফরে এমপিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, দলের কয়েকজন নেতা ও একজন লেখকও রয়েছেন।

 

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। দলটির নেতারা এটিকে মূলত শিক্ষামূলক ও অভিজ্ঞতা অর্জনের কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সফরের পরিকল্পনা সংসদের অধিবেশনের কারণে আগে পিছিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন সফরে থাকা নেতারা।

 

সফরকারী দলটি ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যায় এবং পরে ফিলিপাইনে পৌঁছেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

মালয়েশিয়ায় সফরকারীদের কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানা গেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

সিঙ্গাপুরে জামায়াতের এমপিরা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন এবং একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন। এরপর ফিলিপাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

তবে এই সফরের সময় নিয়েই মূলত আলোচনা বেশি তৈরি হয়েছে। কারণ ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ই ৩৪ এমপির বড় একটি দল দেশের বাইরে অবস্থান করছে।

 

জামায়াতের সফরকারী এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, দলের আমিরের অনুমতি নিয়েই এমপিরা সফরে গেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক এমপি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকে আগে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি, প্রশাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি দলের আগে নেওয়া পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ আরও বিভিন্ন দেশে দলের সদস্যদের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

 

ফলে একদিকে দেশের ভেতরে জোটের ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক এমপির দীর্ঘ বিদেশ সফর - দুই ঘটনাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সফরটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই - জামায়াতের বক্তব্য এটাই।

 

Source: প্রথম আলো, ডেইলি সান
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাজনীতি

View more
প্রধানমন্ত্রী'র তথ্য উপদেষ্টা।
ককটেল বিস্ফোরণে টলবে না সরকার, অস্থিরতা ছড়িয়ে লাভ হবে না: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না।’   বক্তব্যটির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যটি কোথায় ও কখন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত সূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন জাহেদ উর রহমান। গত ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।   এর আগে ২৫ আগস্ট সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। সে সময় জাহেদ উর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ ধরনের ঘটনা যত ঘটেছিল, তার তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে দু–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেননি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি বলেন, দেশে মিথ্যা মামলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যায্য পদক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—সরকার এমন দাবি করছে না।   এই প্রেক্ষাপটে ককটেল বিস্ফোরণসহ যেকোনো ধরনের সহিংস ঘটনাকে ঘিরে সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে ঘটছে, সেটিও স্বীকার করা হচ্ছে।   তবে ‘দু–একটা ককটেল ফুটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না’—এই বক্তব্যটির পূর্ণ ভিডিও, সরকারি ব্রিফিংয়ের নথি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বক্তব্যটির সঠিক স্থান, তারিখ এবং কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি বলা হয়েছে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৭
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তেলের দাম বাড়লেও অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কম, দাবি রিজভীর

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি

দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান।

জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, চার দশক পর জিয়া পরিবারের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের যে ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের মরদেহ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। রোববার ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।    কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি জানান, তখনও মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম যাওয়ার কথা ছিল এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।    মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সামনে আসে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন এবং তাদের বিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মরিয়মও পৃথক বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলামকে তার স্বামী বলে দাবি করেছিলেন।    তবে সেই বিয়ের দাবি ও বিভিন্ন নথি নিয়ে তখন প্রশ্নও উঠেছিল। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মরিয়মের একটি বায়োডাটার কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে ২২ জুনের তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর ছিল এবং বৈবাহিক অবস্থায় ‘অবিবাহিত’ লেখা থাকার দাবি করা হয়েছিল। একই সময়ে প্রকাশ্যে আসা কাবিননামা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের অসঙ্গতির কথা উঠে আসে। এসব নথির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    মরিয়মের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিমের পরীক্ষা এবং পুলিশের আইনানুগ প্রক্রিয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে আত্মহত্যা বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   এদিকে ঘটনাটির পর গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কালবেলার প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ ও ফরেনসিক তদন্তের পর মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।   সূত্র: কালবেলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১০:১
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

চাকরির বদলে এক কোটি মানুষের হাতে ‘চাঁদাবাজির চাবি’ তুলে দিয়েছে সরকার: ডা. শফিকুর রহমান

কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন

প্রশাসনের একাংশ তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে: নয়ন

যুবদল নেতা নয়ন

বিএনপির প্রশ্নে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন: যুবদল নেতা নয়ন

পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি।
বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ‘ডিসেম্বরে ফেরার’ সুযোগ খুঁজছে কেউ কেউ: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

বিরোধী দলের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষ্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়’। বক্তব্যে ‘কেউ কেউ’ বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বোঝান বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে।   এ্যানি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বিরোধী দল সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতার পথে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শপথ নেওয়ার দিনও বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।   তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দল এমন সুযোগ তৈরি না করলে এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে এটি এ্যানির রাজনৈতিক মূল্যায়ন; প্রতিবেদনে তাঁর দাবির পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি।   পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদের ভেতরের ও বাইরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও সংসদের বাইরে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গও টানেন। এসব বক্তব্যও মন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও মূল্যায়ন।   গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঢাকা থেকে রংপুর ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে এবং গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।   লংমার্চ ও রোডমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে আনেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ, সড়কে যানজট এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতার কথা বললেও মাঠের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এ্যানি।   বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অর্থ ব্যবহার করে কিছু ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এ্যানি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশ বা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না। তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।   ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ওই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক ও তরুণদের অংশগ্রহণ এর পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।   এ্যানির বক্তব্যে ‘ডিসেম্বরে আসতে চায়’ কথাটির মাধ্যমে ঠিক কোন পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বোঝানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ৮:১৮
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

১৭ বছরে শিক্ষার ভিত দুর্বল হয়েছে, জাতিকে এর মূল্য দিতে হচ্ছে: রিজভী

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না

‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে না, দেশের বিরুদ্ধেও না’: কর্নেল অলি

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছবি:সংগৃহীত

‘নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে সংসদ থেকে বিদায় করব’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

0 Comments