যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে বড় পতন, ৬৩ বছরে এমন স্বস্তি দেখেননি মার্কিন ভোক্তারা
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়তে থাকার মধ্যেই ওষুধের খরচে বড় স্বস্তির খবর এসেছে। জুলাই পর্যন্ত এক বছরে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। এটি ১৯৬৩ সালের মার্চের পর দেশটিতে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামের সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির তথ্যে এই পরিবর্তন উঠে এসেছে। সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী থাকার সময় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গত ছয় মাসের হিসাবেও ওষুধের দাম দ্রুত কমেছে।
এই পরিসংখ্যানকে নিজেদের ওষুধের দাম কমানোর নীতির বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যনীতি হিসেবে সামনে এনেছেন ট্রাম্প।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের জন্য অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় বেশি মূল্য দিতে হয়—এই ব্যবধান কমাতে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সরাসরি ভোক্তাদের কম দামে নির্দিষ্ট ওষুধ পাওয়ার সুযোগ এবং ব্যয়বহুল ওষুধের দাম কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি মেডিকেয়ার জিএলপি-১ ব্রিজ। গত ১ জুলাই কর্মসূচিটি চালু হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট ডি সুবিধাভোগীরা ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট জিএলপি-১ ওষুধ মাসে ৫০ ডলার কো-পেতে পেতে পারেন। বর্তমানে ওয়েগোভি, জেপবাউন্ডের নির্দিষ্ট সংস্করণ এবং ফাউন্ডায়ো কর্মসূচিটির অন্তর্ভুক্ত।
কর্মসূচির আওতায় ওষুধ প্রস্তুতকারীরা প্রতি মাসের সরবরাহ ২৪৫ ডলারের নেট মূল্যে দিচ্ছে, তবে যোগ্য রোগীর নিজস্ব খরচ ৫০ ডলার। এই সুবিধা সবার জন্য নয়; নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ এবং চিকিৎসকের অনুমোদন প্রয়োজন।
তবে জুলাইয়ে ওষুধের দাম কমার পুরো কৃতিত্ব শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতিকে দেওয়া যাবে না। মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম নিয়ে সরাসরি দর-কষাকষির ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসনের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের মাধ্যমে। প্রথম দফার আলোচনায় নির্ধারিত দাম ২০২৬ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সেই কাঠামো অব্যাহত রেখে পরবর্তী পর্যায়ের দর-কষাকষির কাজও এগিয়ে নিচ্ছে।
ফলে বর্তমান মূল্যপতনের পেছনে একাধিক বিষয় কাজ করছে। নতুন প্রশাসনের মূল্য কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি আগে পাস হওয়া আইন, মেডিকেয়ারের দর-কষাকষি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারীদের সঙ্গে নতুন মূল্যব্যবস্থাও বর্তমান বাজারে প্রভাব ফেলছে।
তারপরও জুলাইয়ের পরিসংখ্যান ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ে মার্কিন পরিবারগুলোর উদ্বেগের মধ্যে এমন একটি খাতে দাম কমেছে, যেখানে বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের নিয়মিত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়।
আর পতনের মাত্রাটিও সাধারণ নয়—ছয় দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে এমন বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি।
তবে এই পরিসংখ্যানের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যেক রোগীর ফার্মেসির বিল ঠিক ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে গেছে—এমন নয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূচক সামগ্রিক বাজারে প্রেসক্রিপশন ওষুধের মূল্য পরিবর্তন পরিমাপ করে। একজন রোগী বাস্তবে কত টাকা দেবেন, তা নির্ভর করবে তার ওষুধ, স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেয়ার সুবিধা, ডিডাক্টিবল ও কো-পেসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় পরীক্ষা হবে এই পতন কতটা স্থায়ী হয়। জুলাইয়ের রেকর্ড পরিসংখ্যান আপাতত হোয়াইট হাউসকে শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম এমন গতিতে কমছে, যা দেশটি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশেষ প্রতিবেদন
View moreযুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে জুলাইয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। দেশটিতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে, যেখানে অর্থনীতিবিদেরা বরং নতুন চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চাকরি কমলেও বেকারত্বের হার বেড়ে যায়নি। কর্মসংস্থানের দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার শিক্ষা, খুচরা ব্যবসা ও অবসর-আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরি বাড়তে থাকায় সামগ্রিক পতন কিছুটা সামাল দেওয়া হয়েছে। এদিকে মে ও জুনের কর্মসংস্থানের হিসাবও আগের তুলনায় নিচের দিকে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই দুর্বল হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমে আসার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আটলান্টায় গুলির ঘটনায় একজন আহত, ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে বড় পতন, ৬৩ বছরে এমন স্বস্তি দেখেননি মার্কিন ভোক্তারা
ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা ও ঝড়, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জন
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন নিয়োগের গতি ধীর হয়ে পড়লেও কর্মরত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা এখনো দেখা দেয়নি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটিতে বেকার ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহে সংশোধিত হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ। অর্থনীতিবিদেরা ২ লাখ ৫ হাজার আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে নতুন আবেদনের সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়েও কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের এই বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বড় ধরনের দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গত চার সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদনের গড় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সময়ে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে প্রায় ১৭ লাখ ৮০ হাজারে নেমেছে। শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেকটা এমন একটি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকলেও বিদ্যমান কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করছে না। এর ফলে যারা ইতিমধ্যে চাকরিতে আছেন, তাদের চাকরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। গত বছর এই গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০। তবে মহামারি পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে দ্রুতগতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি অনেক দুর্বল। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ চাকরির হিসাবেও শ্রমবাজারের ধীরগতির চিত্র ফুটে উঠেছে। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছে। একই সময়ে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের হার কমলেও সেটিকে পুরোপুরি শক্তিশালী চাকরির বাজারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। উচ্চ সুদের হার, বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্ক অবস্থান নতুন নিয়োগের ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মী বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ধরে রাখার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের ঢেউ দেখা যায়নি। গত এক বছরে প্রতি সপ্তাহে বেকার ভাতার নতুন আবেদন সাধারণত ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল, যা ঐতিহাসিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে কম। এ কারণে চাকরিতে থাকা মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের জন্য মূল উদ্বেগ তাই বর্তমানে শুধু কত মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, তা নয়; বরং নতুন চাকরি কতটা তৈরি হচ্ছে, সেটিও। নিয়োগের গতি দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল থাকলে চাকরি পরিবর্তন করতে চাওয়া এবং নতুন করে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানের সামগ্রিক চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনো ভেঙে পড়েনি। তবে দ্রুতগতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সময়ও আর নেই। কম নিয়োগ এবং কম ছাঁটাইয়ের এই ভারসাম্য কতদিন বজায় থাকবে, সেটিই আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠছে।
নতুন প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের জন্য নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সের এ টু জেড
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের মধ্যে গোলাগুলিতে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। তবে ঘটনাটি এখনো মার্কিন নৌবাহিনী বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ফলে নিহতের সংখ্যা বা গোলাগুলির ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা রণতরীটিতে নৌসেনাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং এতে সাতজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের পক্ষে কোনো স্বাধীন মার্কিন সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়নি। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি অবশ্য আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রণতরীটি টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার টানা ২০৬ দিন সমুদ্রে থাকার রেকর্ড করেছিল। দীর্ঘ এই মোতায়েনের কারণে রণতরীটির নৌসেনাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা, সীমিত বিশ্রাম এবং পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রণতরীটিতে প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মূলত একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী এবং এর সঙ্গে থাকে একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে গঠিত ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানে রণতরীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে ইরান একাধিকবার রণতরীটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করলেও এসব দাবির কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অস্বীকার করেছে। মার্চে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত করেনি। চলতি বছরের মার্চে আব্রাহাম লিংকে বিমান পরিচালনার সময় একজন মার্কিন নৌসেনা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। মার্কিন পঞ্চম নৌবহর জানিয়েছিল, ঘটনাটি যুদ্ধজনিত ছিল না এবং আহত নৌসেনার অবস্থা জীবনহানির ঝুঁকিমুক্ত ছিল। পরে তাকে তীরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ দাবিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। এর আগে ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেছিলেন, তাদের বাহিনী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়েছে। ইরানের এসব সামরিক দাবি অবশ্য আলাদাভাবে যাচাই করা যায়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাতজন নৌসেনা নিহত হওয়ার দাবিটি এখনো শুধু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন নৌবাহিনী, প্রতিরক্ষা দপ্তর বা অন্য কোনো স্বাধীন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত মৃত্যু বা গোলাগুলির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮-চাকার ট্রাক থেকে ৪০ লাখ ডলারের ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ