- প্রচ্ছদ
- Topic
অবসরজীবন
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে অক্টোবর মাসের নিয়মিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ পেতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার, ২১ অক্টোবর, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মমাসের তারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে ২৮ অক্টোবরও। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী কিছু অবসরপ্রাপ্তের মাসিক সুবিধার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবাই এই পরিমাণ পাবেন না; কর্মজীবনের আয়, অবসর নেওয়ার বয়স এবং কখন থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন, তার ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) সাধারণত সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বুধবারে অর্থ পাঠায়। এই নিয়ম মূলত তাদের জন্য, যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং একই সঙ্গে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান না। চলতি মাসের সময়সূচি অনুযায়ী, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ ১৪ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মদিন ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা ২১ অক্টোবর অর্থ পাবেন। আর যাদের জন্মদিন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ পাঠানোর নির্ধারিত দিন ২৮ অক্টোবর। তবে সব সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউটির অর্থ পাচ্ছেন, তাদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাদের সাধারণত এসএসআইয়ের অর্থ মাসের ১ তারিখে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ তারিখে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে অর্থ না পৌঁছালে এসএসএ যোগাযোগ করার আগে আরও তিনটি ডাক-যোগাযোগের দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার পাওয়া যেতে পারে সোশ্যাল সিকিউটির অবসরভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। একজন কর্মী কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কোন বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং কখন থেকে সুবিধা দাবি করেছেন—এসব বিষয় মাসিক অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে, ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় করা কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পেতে পারেন। একই ধরনের আয় থাকলে পূর্ণ অবসরের বয়সে অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪ হাজার ১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬৯ ডলার। অর্থাৎ, আগে অবসর নিয়ে সুবিধা দাবি করলে সাধারণত মাসিক অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পর ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়তে পারে। তবে ৭০ বছরের পর অপেক্ষা করলেও এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ে না। অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধিকাংশ কর্মীর ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত প্রায় ১০ বছর কাজ করার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার যোগ্য আয়ের বিপরীতে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। তবে কত ক্রেডিট রয়েছে, তা মূলত সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে কাজে লাগে; মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাড়ছে সুবিধার অর্থ অক্টোবরের ২১ তারিখে যেসব অর্থ পাঠানো হবে, সেগুলো ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (COLA) অনুযায়ী নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সমন্বয়ের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিকের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর বর্ধিত অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রায় ৭৩ লাখ এসএসআই গ্রহীতার বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কেউ কেউ দুই ধরনের সুবিধাই পান বলে এই সংখ্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যেতে পারে। এসএসএর হিসাব অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। তবে প্রত্যেকের প্রকৃত বৃদ্ধি এক হবে না; ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে কত অর্থ পাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নতুন পরিমাণ নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা কিছুটা সুরক্ষিত রাখা। এ বৃদ্ধির হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি পেশাজীবীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে। নতুন সুবিধার তথ্য কখন জানা যাবে যারা ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তারা নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের ২০২৭ সালের কোলা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেখতে পারবেন। যাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট নেই বা যারা কাগজে বিজ্ঞপ্তি পেতে চান, তাদের কাছে ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগে নতুন সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২১ অক্টোবরের অর্থপ্রাপ্তির তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখ ও সুবিধা পাওয়ার শ্রেণির ওপর। আর ৫ হাজার ১৮১ ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্কটি কেবল নির্দিষ্ট আয় ও অবসরের শর্ত পূরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব সুবিধার পরিমাণ ও পরবর্তী অর্থপ্রাপ্তির তারিখ জানতে ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসাবের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
অবসরের পর সঞ্চয়ের অর্থ আরও দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম আবাসন খরচ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা রয়েছে—এমন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত আর্থিক চাপ কমাতে পারে। নতুন এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য বিশ্লেষণ করে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অবসরজীবন নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিটায়ারমেন্ট লিভিং তিনটি প্রধান বিষয়—আবাসন খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের সুবিধা—বিবেচনায় নিয়ে এই র্যাংকিং তৈরি করেছে। অবসরপ্রাপ্তদের সঞ্চয় কোথায় তুলনামূলক বেশি কাজে লাগতে পারে, সেটিই ছিল এই বিশ্লেষণের মূল বিষয়। তালিকায় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। আগের বছরের তুলনায় এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজ্যটি। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবাসন খরচ এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রথম হয়েছে। রিটায়ারমেন্ট লিভিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া গড়ে ৬৪৩ ডলার। পাশাপাশি একজনের মাসিক মুদিখানা খরচ প্রায় ২০৫ ডলার, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। সাশ্রয়ী রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিসিসিপি। টানা দ্বিতীয় বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছে রাজ্যটি। ২০২৬ সালের মার্চে সেখানে বাড়ি বিক্রির মধ্যম মূল্য ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩০ ডলার, যা দেশের মধ্যে তৃতীয় সর্বনিম্ন। সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকেও মিসিসিপি চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে রাজ্যটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সাশ্রয়ী তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে। সাশ্রয়ী ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেনটাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে কম খরচের রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ জোডি ডি’আগোস্তিনি বলেন, তিনি নিজেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ দেখতে পাচ্ছেন। নিউ জার্সির বাসিন্দা এই সার্টিফায়েড ফাইন্যান্সিয়াল প্ল্যানারের মতে, অবসরের পর অনেকেই নিউ জার্সির মতো রাজ্য থেকে তুলনামূলক করবান্ধব রাজ্যে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এতে অবসরকালীন আয় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং করের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে সব রাজ্যে অবসরজীবনের খরচ একই নয়। র্যাংকিংয়ের একেবারে বিপরীত প্রান্তে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই ও ওয়াশিংটন। এই তিনটি অঙ্গরাজ্যকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় বিষয় হয়ে উঠেছে। সান দিয়েগোর রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্রিস্টিনা কুয়েসাদা জানান, সেখানে অবসরপ্রাপ্তরা নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ মূল্যায়ন করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ কেউ পুরোপুরি কম খরচের এলাকায় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। আবার যারা নিজেদের বর্তমান এলাকায় থাকতে চান, তাদের মধ্যে অনেকে ছোট বাসায় চলে যাচ্ছেন, একই অঞ্চলের তুলনামূলক সাশ্রয়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন অথবা দীর্ঘদিনের বাড়ির মালিকানা থেকে পাওয়া সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে খরচ সামলানোর চেষ্টা করছেন। গবেষণাটি দেখাচ্ছে, অবসর নেওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়ার দিকে তাকালেই হবে না। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়, করব্যবস্থা এবং আবাসন খরচ—সবকিছু মিলিয়েই অবসরজীবনের সামগ্রিক আর্থিক চাপ নির্ধারিত হয়।
সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর ও সারভাইভার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালে শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তহবিলের রিজার্ভ দ্রুত কমে আসছে। ফলে কংগ্রেস সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটির এই তহবিল মূলত কর্মীদের বেতন থেকে আদায় করা পে-রোল ট্যাক্সের অর্থের ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে সুবিধা দেওয়ার ব্যয় এবং সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ থেকে সেই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তবে এই রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ায় ২০৩২ সালকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে গেলে বর্তমান আইনে সরকার শুধু তখনকার সময়ে সংগৃহীত অর্থের ভিত্তিতে সুবিধা পরিশোধ করতে পারবে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তন না এলে নির্ধারিত হারে পুরো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে ২০৩২ সালে ঠিক কত শতাংশ সুবিধা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করেছেন, তহবিলের ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা না নিলে সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে। তাদের দেওয়া একটি হিসাব অনুযায়ী, গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার মাসিক সুবিধা পাওয়া কেউ ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন। তবে এ ধরনের হিসাবকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কারণ সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে আইন পরিবর্তন হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। নতুন রাজস্ব সংগ্রহ, কর কাঠামো পরিবর্তন, সুবিধার নিয়মে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমাধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। সমস্যা মোকাবিলায় ক্যাসিডি, ডারবিনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রমিজ অ্যাক্ট (PROMISE Act) নামে একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাবও এনেছেন। এর লক্ষ্য সরাসরি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে তহবিলকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল রাখার জন্য সমাধান তৈরির একটি প্রক্রিয়া শুরু করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড জনগণের মতামত নিয়ে এমন একটি আইন প্রস্তাব তৈরি করবে, যাতে অন্তত ৫০ বছর ট্রাস্ট ফান্ডকে আর্থিকভাবে টেকসই রাখা যায়। পরে সেই প্রস্তাব কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠিয়ে পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ থাকবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে আইনপ্রণেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ রাজস্ব বাড়ানোর পক্ষে, কেউ সুবিধার কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলছেন। অবসরের বয়স পরিবর্তন এবং উচ্চ আয়ের মানুষের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায়ের প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। তাই ২০৩২ সাল ঘিরে এখন যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কংগ্রেস আগামী বছরগুলোতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার পরিমাণ কী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক পেমেন্ট ২০২৭ সালে ২০২৬ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি বাড়তে পারে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন সংস্থার নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করা হবে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২.৮ শতাংশ। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কোলা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স বা সিপিআই-ডব্লিউ। আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত সিপিআই-ডব্লিউ বেড়েছে ৩.৫ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থা ২০২৭ সালের কোলার নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। এএআরপি তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। সিনিয়র সিটিজেনস লিগও ৩.৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট প্রায় ৬৭.৯০ ডলার বাড়তে পারে। গড় পেমেন্ট ১ হাজার ৯৪০.০৮ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭.৯৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব গড় সুবিধাভোগীর জন্য এবং প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত পেমেন্ট একই হারে বাড়বে এমন নয়। এএআরপির আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচ জনসন বলেছেন, অনেক বয়স্ক মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশের জন্য সোশ্যাল সিকিউটির ওপর নির্ভর করেন। তাই কোলা কত হতে পারে, তার আগাম ধারণা তাদের আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এখনো বাকি থাকায় বর্তমান পূর্বাভাস চূড়ান্ত নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের কোলা ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে। সেপ্টেম্বরের সিপিআই তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণের কথা রয়েছে। ফলে এখন যে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কোলা বাড়লেই যে বয়স্ক আমেরিকানদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। সিনিয়র সিটিজেনস লিগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন উল্লেখ করেছেন, বয়স্ক মানুষের খরচের ধরন কর্মজীবীদের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যয়ের চাপ সিপিআই-ডব্লিউ সূচকে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর। ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না। হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা। ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবসর জীবন কাটানোর জন্য সেরা ছোট শহরগুলোর নতুন তালিকায় পশ্চিম উপকূলের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোই এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পেনসিলভানিয়ার শহরগুলো তালিকায় বড় জায়গা দখল করেছে। MoneyLion-এর ২০২৬ সালের তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো শহর সেরা ৫০-এ জায়গা পায়নি। তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে ক্যাম্প হিল, পেনসিলভানিয়া। হ্যারিসবার্গের কাছে অবস্থিত ছোট এই শহরের জনসংখ্যা ৮ হাজারের কিছু বেশি। শহরটির গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ ডলার, আর বছরে জীবনযাত্রার গড় খরচ প্রায় ৪৩ হাজার ৭৯৪ ডলার। এর জীবনযাত্রার মানের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯২। পেনসিলভানিয়ার আধিপত্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সেরা ৫০টি ছোট শহরের মধ্যে ১৫টিই পেনসিলভানিয়ার। ক্যাম্প হিলের পর জেনকিনটাউন দ্বিতীয় এবং অ্যাসপিনওয়াল অষ্টম স্থানে রয়েছে। রাজ্যটির আরও কয়েকটি শহরও শীর্ষ ৫০-এ জায়গা পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে পূর্বাঞ্চলের ২২টি ছোট শহর তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ার বাইরে মেইন, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের শহরও রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে কলেজ প্লেস, ওয়াশিংটন, যা তালিকায় নবম। এরপর ওয়াশিংটনের স্টেইলাকুম ২০তম এবং ওরেগনের ফিলোমাথ ২১তম স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূল পুরোপুরি বাদ পড়েনি, তবে তালিকার শীর্ষে পূর্বাঞ্চলের শহরগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। MoneyLion-এর বিশ্লেষণে ছোট শহরগুলোর গড় বাড়ির মূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সম্পত্তি অপরাধের হার, সহিংস অপরাধের হার এবং জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা হয়েছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর স্কোর তৈরি করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে অবসর জীবনের জন্য ভালো জায়গা নির্ধারণে একটি তালিকাই শেষ কথা নয়। অন্য সাম্প্রতিক গবেষণায় পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরকেও অবসর জীবনের জন্য আকর্ষণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়াসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যের শহর রয়েছে। সেখানে বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এদিকে অবসর জীবনের জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরেক ইনভেস্টোপিডিয়া বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ অবসরের জন্য জায়গা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, চিকিৎসা সুবিধা, কর, জীবনযাত্রার খরচ এবং ব্যক্তিগত পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ।
অবসরের পর কম খরচে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলো হতে পারে সবচেয়ে ভালো বিকল্প। ‘রিটায়ারমেন্ট লিভিং’-এর ২০২৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অবসরের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ১০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সাতটিই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, রেডফিন, মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ), এএএ, সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস), সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থান নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর-সুবিধা। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশটির মধ্যে এই অঙ্গরাজ্যেই আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে কম। সেখানে একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় মাসিক ভাড়া ৬৪৩ ডলার এবং একজনের মাসিক গড় মুদি খরচ ২০৫ ডলার। হিসাব অনুযায়ী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর জীবন কাটাতে একজনের প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১৯৯ ডলার সঞ্চয় থাকলেই চলবে। এর বিপরীতে, সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি ওয়াইয়োমিংয়ে অবসর কাটাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার ডলার সঞ্চয়। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মিসিসিপি ও আলাবামা। কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে এই দুই অঙ্গরাজ্য উচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে। মিসিসিপি তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়ের সুবিধা পেয়েছে, আর আলাবামা এগিয়ে রয়েছে কর-সুবিধার কারণে। প্রথম পাঁচে থাকা বাকি দুটি অঙ্গরাজ্য হলো ওকলাহোমা ও আরকানসাস। ওকলাহোমায় আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হলেও কর-সুবিধার ক্ষেত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকায় সামগ্রিক অবস্থান কিছুটা নেমে গেছে। অন্যদিকে আরকানসাস কম আবাসন ব্যয় এবং কর-সুবিধা দুই ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থানে রয়েছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অবসরের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী শীর্ষ ১০টি অঙ্গরাজ্যের কোনোটিই সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার ওপর রাজ্য কর আরোপ করে না, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি বড় আর্থিক সুবিধা। অন্যদিকে, অবসরজীবনের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও কর-সুবিধার ক্ষেত্রেও এর অবস্থান তুলনামূলক নিচের দিকে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হাওয়াই, যেখানে আবাসন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। সবচেয়ে ব্যয়বহুল পাঁচ অঙ্গরাজ্যের তালিকায় আরও রয়েছে ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং কলোরাডো। ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, অবসরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ১০টি অঙ্গরাজ্য হলো ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিসিসিপি, আলাবামা, ওকলাহোমা, আরকানসাস, কেন্টাকি, মিসৌরি, লুইজিয়ানা, ইন্ডিয়ানা এবং কানসাস। অন্যদিকে অবসরের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০টি অঙ্গরাজ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ওয়াশিংটন, ওরেগন, কলোরাডো, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, উটাহ, নিউইয়র্ক এবং মিনেসোটা। বিশ্লেষকদের মতে, অবসরের জন্য অঙ্গরাজ্য নির্বাচন করার সময় শুধু আবাসন ব্যয় নয়, করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।