- প্রচ্ছদ
- Topic
ইসলাম গ্রহণ
খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া এক ব্রিটিশ আইনজীবী ইসলাম গ্রহণের পর নিজের শহর লিভারপুলে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্রিটেনে মুসলিম সমাজের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর আবদুল্লাহ কুইলিয়াম নাম ধারণ করেন। উনিশ শতকের শেষভাগে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লিভারপুলের মসজিদটিকে ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রকাশনা ও সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি সে সময়ের ব্রিটিশ সমাজে ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ১৮৫৬ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন কুইলিয়াম। তাঁর পরিবার ছিল ওয়েসলিয়ান মেথডিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী। পেশায় আইনজীবী কুইলিয়াম ১৮৮৭ সালে মরক্কো সফরের সময় ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন। ধর্মটি সম্পর্কে পড়াশোনা ও এর শিক্ষা জানার পর একই বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবদুল্লাহ নাম ধারণ করেন। পরে লিভারপুলে ফিরে জনসমক্ষে বক্তৃতা, ধর্মীয় আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরিতে কাজ শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকও ইসলাম গ্রহণ করেন। ১৮৮৯ সালে লিভারপুলের ৮ ব্রুম টেরেসে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে মাউন্ট ভার্নন স্ট্রিটের একটি ভাড়া করা কক্ষে মুসলিমদের ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হতো। তবে স্থানীয় বিরূপ মনোভাব ও বাড়ির মালিকের আপত্তির কারণে সেখানে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে ব্রুম টেরেসের ভবনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুইলিয়ামের নেতৃত্বে ২০ জন ব্রিটিশ ধর্মান্তরিত মুসলিমের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানই ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ। মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না। এর সঙ্গে গড়ে ওঠে লিভারপুল মুসলিম ইনস্টিটিউট, যেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ছিল বিদ্যালয়, এতিমখানা, পাঠাগার, বক্তৃতা আয়োজনের হল, ছাপাখানা এবং বিজ্ঞানাগার। মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। ১৮৯৬ সালে অসহায় ও অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য ‘মদিনা হোম’ নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করা হয়। ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে কুইলিয়াম প্রকাশনা কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ‘দ্য ক্রিসেন্ট’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। এতে ব্রিটেনের মুসলিম সমাজ, ইসলামি চিন্তাধারা ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীর খবর তুলে ধরা হতো। তাঁর লেখা ‘দ্য ফেইথ অব ইসলাম’ বইটিও সে সময় পাঠকদের মধ্যে পরিচিতি পায়। ব্রিটিশ লাইব্রেরির সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশনা ও লেখালেখি ব্রিটেনের বাইরেও পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল। ইসলামের প্রচার ও মুসলিম সমাজের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৯৪ সালে কুইলিয়ামকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধি দেন। তবে ভিক্টোরীয় যুগের ব্রিটিশ সমাজে তাঁর কর্মকাণ্ড সবসময় সমর্থন পায়নি। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের বিবরণে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভিন্ন সময় অপমান ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও কুইলিয়াম ১৯০৮ সাল পর্যন্ত লিভারপুলে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরে তিনি ব্রিটেন ত্যাগ করেন এবং জীবনের শেষ দিকে হ্যারুন মুস্তাফা লিওন নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩২ সালের ২৩ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান আবদুল্লাহ কুইলিয়াম। তাঁর প্রভাব ও প্রচেষ্টায় ব্রিটেনে প্রায় ৬০০ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই সংখ্যার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই সংখ্যাটিকে নিশ্চিত হিসাবের পরিবর্তে বহুল প্রচলিত একটি অনুমান হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে লিভারপুলের সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার করে ‘আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্রিটেনে ইসলামের প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এখনো স্মরণ করা হয়। সূত্র: ব্রিটিশ লাইব্রেরি, হিস্টোরিক ইংল্যান্ড এবং আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা অনেক বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইসলামি শিক্ষাবিষয়ক সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দেশটির সব কারাগারের ধর্মীয় পরিচয়ের হালনাগাদ তথ্য একত্র করা হয় না। ফলে এ পর্যন্ত কতজন বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিংবা প্রতি বছর কতজন এই ধর্ম গ্রহণ করছেন, তার নির্ভরযোগ্য জাতীয় হিসাব পাওয়া কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটির কারাগারগুলোতে প্রতি বছর বহু বন্দি ইসলাম গ্রহণ করছেন। প্রতিবেদনে ইসলাম গ্রহণের কারণ, কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ এবং বন্দিদের জীবনে বিশ্বাসের ভূমিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে টায়বা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রামি নসুরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দিদের ইসলামি শিক্ষা ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। বন্দিদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান প্রচলিত রয়েছে। কিছু পুরোনো হিসাব ও অনলাইন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে কয়েক লাখ মুসলিম বন্দির কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বছরে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার বন্দির ইসলাম গ্রহণের অনুমানও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব সংখ্যার ভিত্তিতে দেশব্যাপী যাচাই করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বন্দি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিংবা প্রতি বছর নির্দিষ্টসংখ্যক বন্দি এ ধর্ম গ্রহণ করেন, এমন তথ্যকে নিশ্চিত জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলিম বন্দির অনুপাত সাধারণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত মুসলিম অ্যাডভোকেটসের এক প্রতিবেদনে ৩৫টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট বিচারব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব স্থানে কারাবন্দিদের প্রায় ৯ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সব অঙ্গরাজ্যের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে এই হারকে যুক্তরাষ্ট্রের সব কারাগারের নির্ভুল জাতীয় গড় হিসেবে ধরা যায় না। কারাগারে ইসলাম গ্রহণের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন গবেষক, ধর্মীয় শিক্ষক ও কারাবন্দিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। কারাগারের জীবন সাধারণত কঠোর নিয়ম, সীমিত স্বাধীনতা এবং পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাটে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে মানসিক স্থিরতা, জীবনের অর্থ এবং নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পান। তবে প্রত্যেক বন্দির অভিজ্ঞতা এক নয়, আর ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। ইসলামের নিয়মিত ইবাদত ও জীবনাচরণ অনেক বন্দির কাছে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গঠনের একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমজানে রোজা রাখা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে কেউ কেউ দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলেন। একই বিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক বন্ধনও গড়ে উঠতে পারে। কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে এমন একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কিছু বন্দির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবর্তনের সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের অতীত, সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে ভাবার সুযোগ পান অনেকে। তাঁদের কেউ কেউ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আত্মসংযম, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা গ্রহণের কথা জানান। তবে শুধু ধর্ম গ্রহণ করলেই কারও আচরণ বদলে যাবে বা পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কমবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান টায়বা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য কারাগারে থাকা এবং মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ইসলামি শিক্ষা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বন্দিদের উপযোগী পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে এবং চিঠিপত্র ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর পাঠ্যক্রমে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় অনুশীলন, নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় রয়েছে। টায়বা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো কারাগারের ভেতর থেকেই শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। কারাগারে বই, শিক্ষক কিংবা ধর্মীয় শিক্ষার উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বন্দি সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েন। এ ধরনের বাধা কমাতে সংস্থাটি দূরশিক্ষণ, পাঠ্যসামগ্রী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে। সংস্থাটির মতে, বন্দিদের শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং মুক্তির পর সমাজে ফিরে আসার প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলাম গ্রহণের পর কিছু বন্দি নিজেদের আচরণ ও জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে মুহাম্মদ আমিন অ্যান্ডারসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ কারাবাসের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরে ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২৫ সালের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ণ সাজা শেষে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি টায়বা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হলেও, সেটিকে সব বন্দির ক্ষেত্রে একই রকম ফলাফলের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। কারাগারে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে বন্দিদের ধর্ম পালনের অধিকার থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন কারাগারে ধর্মীয় খাবার, প্রার্থনার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় অনুশীলন নিয়ে প্রকাশিত গবেষণায়ও বিভিন্ন কারাগারে সুযোগ-সুবিধার অসমতার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি কারাবন্দিদের ধর্মীয় অধিকার এবং শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচয়, সামাজিক বন্ধন ও পুনর্বাসনের মতো কয়েকটি বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু বন্দি ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পান, আবার কেউ কেউ শিক্ষার মাধ্যমে মুক্তিজীবনের প্রস্তুতি নেন। তবে ইসলাম গ্রহণকারী বন্দির মোট সংখ্যা এবং বার্ষিক ধর্মান্তরের হার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের অভাব রয়েছে। তাই প্রচলিত বড় সংখ্যাগুলোকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে না ধরে, যাচাই করা গবেষণা ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই যুক্তিযুক্ত। সূত্র: সিবিএস নিউজ, মুসলিম অ্যাডভোকেটস, টায়বা ফাউন্ডেশন।
ইসলাম গ্রহণের আগে নারীর অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শারিফা কার্লো। নিজের লেখা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে এমন একটি গোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যারা তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়িয়ে মুসলিম নারীদের মধ্যে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁর নিজের বিশ্বাসই বদলে যায়। ১৯৮৫ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। শারিফা কার্লোর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি যখন কিশোরী ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশরে দূতাবাসে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম নারীদের সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁদের তৎকালীন নারী অধিকার আন্দোলনের দিকে উৎসাহিত করা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়ে শুরুতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মটির দুর্বলতা খুঁজে বের করা। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনা যত এগোয়, ইসলামের বার্তা তাঁকে তত বেশি আকৃষ্ট করতে থাকে। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বক্তব্য তাঁর কাছে যুক্তিসংগত মনে হতে শুরু করে। ইসলাম সম্পর্কে নিজের ধারণা যাচাই করতে তিনি খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব নিয়েও পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রকাশিত বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের কাছ থেকে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস ও বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার উৎস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। প্রায় তিন বছর ধরে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনার পর এক মুসলিম ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর নিজের লেখায় উল্লেখ রয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল কঠিন বলে জানিয়েছেন শারিফা। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা জার্মানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের খবর জানালে বাবা তাঁকে জার্মানিতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন এবং ফিরে না এলে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এই বক্তব্যের অনুরূপ বিবরণ তাঁর ২০০৭ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক লেখাতেও রয়েছে। হিজাব পরার বিষয়টিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের কারণ হয়ে ওঠে বলে শারিফা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাঁকে একটি ফেরারি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত ছিল তাঁকে হিজাব খুলতে হবে। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার বিবরণ পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে প্রকাশিত লেখাতেও এসেছে। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পড়াশোনার পথও সহজ ছিল না বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে শারিফা দাবি করেন, হিজাব পরার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক নথি সহজে পাওয়া যায় না, তাই বিষয়গুলো তাঁর নিজের বর্ণনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে শারিফা কার্লো আল আন্দালুসিয়া নামে তিনি ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ও বক্তৃতার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নামে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় ইসলামি বিশ্বাস, হিজাব, রমজান ও মুসলিম জীবনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৫ সালে কুয়েত টাইমসেও তাঁর নামে রমজানের বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ইসলাম গ্রহণের গল্পের মূল অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে গোষ্ঠীটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সরকারি পরিচয় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে শারিফা কার্লোর নিজের বক্তব্যকেই প্রধান উৎস হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক শায়েভন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়। দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শহরটিতে আসা শায়েভন ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজ ইচ্ছায় মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। পরে শায়েভনের জন্য আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারান উপস্থিত ছিলেন এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। এরপর শায়েভন কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং মুসলিম হন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল্লাহ নামটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুফতি সুলেমান বারান তাঁর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের পর শায়েভন মুফতি বারানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন। মারদিন তুরস্কের এমন একটি শহর, যার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের খবরটি মারদিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির নির্দিষ্ট কারণ বা কতদিন ধরে তিনি এ বিষয়ে জানাশোনা করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী সেনা কর্মকর্তা ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মের শান্তি, সত্য ও সার্বজনীনতার বার্তায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ছড়িয়ে পড়া ওই বর্ণনায় বলা হয়েছে, তার এক মুসলিম সহকর্মী ইসলামের শিক্ষা ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাকে পরিচিত করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওই সেনার আচরণ, জীবনযাপন ও ধর্মীয় বিশ্বাস তাকে ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে উৎসাহিত করে বলে দাবি করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সামরিক পোশাক পরা ওই নারীকে শাহাদাহ পাঠ করতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে ওই নারী সেনা কর্মকর্তার নাম, ইসলাম গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান এবং ভিডিওটির মূল উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত দাবিগুলোকে আপাতত যাচাই-সাপেক্ষ তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর আগে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্যের ইসলাম গ্রহণের খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০০৭ সালে আফগানিস্তানে দুই মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ধর্মীয় স্বাধীনতা মার্কিন সংবিধানে সুরক্ষিত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতেও মুসলিম সদস্যদের উপস্থিতি নতুন নয়। মার্কিন সেনাবাহিনীর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম চ্যাপলিনরা দীর্ঘদিন ধরে সেনাসদস্যদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।
২০২০ সালে ধারণ করা একটি ভিডিওতে মৃত্যুশয্যায় থাকা এক বৃদ্ধকে শাহাদা পাঠ করতে এবং তর্জনী উঁচু করে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একজন শিখ এবং তার ২১ বছর বয়সী নাতি কয়েক বছর আগে ইসলাম গ্রহণের পর দাদার সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করতেন। ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে প্রচারিত গল্পে বলা হয়, নাতির ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি শুরুতে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। তবে পারিবারিক দূরত্ব তৈরি হলেও নাতি তার দাদার দেখাশোনা করা এবং তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে নাতির সঙ্গে ইসলাম নিয়ে এসব কথোপকথন বৃদ্ধের ওপর প্রভাব ফেলে বলে দাবি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং শাহাদা পাঠ করেন বলেও ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে বৃদ্ধকে বিছানায় শুয়ে শাহাদা পাঠ করতে দেখা গেলেও, তার পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ইসলাম গ্রহণের পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে ভাইরাল একটি বর্ণনা হিসেবেই দেখা উচিত। এ ঘটনায় একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে ওই ব্যক্তিকে ‘হিন্দু শিখ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শব্দটি সঠিক নয়। হিন্দুধর্ম ও শিখধর্ম দুটি পৃথক ধর্ম। প্রচারিত বর্ণনায় ওই ব্যক্তিকে শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওটি মূলত পরিবার, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি আবেগঘন গল্প হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত দাবিগুলো যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রচার না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।
জার্মানির নাগরিক এলা কোলহাস (Ella Kohlhas) তুরস্কে ছুটি কাটাতে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তুরস্কের আমাসিয়া প্রদেশের তাশোভা জেলা মুফতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে কালিমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে 'এলা' (Ela) রাখেন। তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তরের সংবাদমাধ্যম দিয়ানেত হাবের এবং তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানিতে বসবাসকারী এলা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তুর্কি বংশোদ্ভূত বিলাল চেলানের সঙ্গে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। পরিবারসহ ছুটি কাটাতে তুরস্কে এসে তিনি তাশোভা জেলা মুফতি কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর তাঁর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মান্তর (ইহতিদা) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা মুফতি ফারুক আনা (Faruk Ana) ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস, ইবাদত ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে তাঁকে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করেন। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এলা কালিমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে ইসলাম গ্রহণের সনদ, পবিত্র কোরআনের একটি কপি এবং ইসলামবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনা উপহার দেওয়া হয়। স্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে বিলাল চেলান বলেন, তারা ১২ বছর ধরে একসঙ্গে সংসার করছেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ এলার নিজের। এ বিষয়ে তিনি কখনোই কোনো চাপ বা জোর প্রয়োগ করেননি। তুর্কি সংবাদমাধ্যমকে বিলাল বলেন, "সে নিজেই একদিন আমাকে জানায় যে সে মুসলিম হতে চায়। এটি তার নিজের সিদ্ধান্ত, আর সেই সিদ্ধান্তে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।" তাশোভা জেলা মুফতি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলাম গ্রহণের পর নতুন মুসলিমদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন প্রকাশনা ও ধর্মীয় বই উপহার দেওয়া হয়ে থাকে। এলা-কেও একইভাবে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়। তুরস্কে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের নাগরিক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের আবেদন করেন। এসব ক্ষেত্রে জেলা বা প্রাদেশিক মুফতি কার্যালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পর ধর্মান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জানকার্লো এস্পোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছে সৌদি আরবের একাধিক গণমাধ্যম। ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে গাস ফ্রিং চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া এই মার্কিন অভিনেতা সৌদি আরবে অবস্থানকালে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান Turki Al-Sheikh সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, জানকার্লো এস্পোসিতো আনুষ্ঠানিকভাবে কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার এই ঘোষণার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অভিনেতাকে একটি মসজিদে তার সহকর্মীদের সঙ্গে নামাজে অংশ নিতে দেখা যায় বলেও দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে চলচ্চিত্রের শুটিং করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান এস্পোসিতো। দেশটির সংস্কৃতি, সামাজিক পরিবেশ এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর আতিথেয়তা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে স্থানীয়দের আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ তার দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে নির্মাণাধীন বড় বাজেটের চলচ্চিত্র ‘সেভেন ডগস’-এর শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। এই প্রকল্পকে সৌদি আরবের বিনোদন শিল্পের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। Giancarlo Esposito দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হলিউডে সফল অভিনয়জীবন গড়ে তুলেছেন। তিনি শুধু ‘ব্রেকিং ব্যাড’ নয়, বরং Better Call Saul, The Mandalorian এবং আরও বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনীত গাস ফ্রিং চরিত্রটি আধুনিক টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন এবং একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। অভিনেতার ইসলাম গ্রহণের খবরটি ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এস্পোসিতোর ব্যক্তিগত কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তার ধর্মান্তরের পেছনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অনেকে অপেক্ষা করছেন। সূত্র: সৌদি গ্যাজেট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।