সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

উত্তেজনা

সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ
সৌদি আরবে হামলার পর মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

সৌদি আরবে একের পর এক হামলার পর দেশটিতে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে কর্মরত অজরুরি সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা এবং বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাতের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আটজন আহত হন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।   এ ছাড়া সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের কাছে ড্রোন হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুইজন নিহত ও আরও দুইজন আহত হন। এসব ঘটনার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় অজরুরি মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসও সম্ভাব্য হামলা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তবে এই নির্দেশের অর্থ সৌদি আরবে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে—এমন নয়।   এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সংঘাত। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে হামলার ঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।    বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির তেলক্ষেত্র, রপ্তানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি খরচের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি দামে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর।   বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী কাজ করেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে তাঁদের কর্মস্থলে যাতায়াত, বিমান চলাচল ও দেশে ফেরার পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, বিমান সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।   এখন পর্যন্ত মার্কিন নির্দেশটি সৌদি আরবে নিযুক্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য। এটি সৌদি আরব থেকে সব বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ নয়। পরিস্থিতির পরবর্তী পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও বাড়ানো হবে কি না।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত
ইয়েমেনে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। হামলায় আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার, ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি আগের দিন শুক্রবার ধামার প্রদেশের ধুরান আনিস জেলার আল-আর গ্রামে আঘাত হানে। নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স আট বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ১০ বছর। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট বাড়িয়েছে। নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের জীবন ও জরুরি পরিষেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।    হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সংঘাতের ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এটি ইয়েমেনের পুরো দেশের মোট হতাহতের হিসাব নয়। সংঘাতের দুই পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।    ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত না হলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   আবাসিক এলাকায় শিশুদের প্রাণহানি আবারও যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতের সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই নির্দিষ্ট হামলায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
অভিজিতের পর নেহা বোরাকেও আটক করল দিল্লি পুলিশ, তিরঙ্গা মিছিল ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ নামে ঘোষিত মিছিলকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া গেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজিৎ দীপকেকে ঝান্ডেওয়ালান এলাকার একটি বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় আটক করা হয়। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাকে মান্ডি হাউস এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি বামপন্থী ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কনট প্লেসের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া।   এই কর্মসূচির অন্যতম দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে সংখ্যালঘু ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমর্থকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়া জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকায় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।   কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পুলিশ ওই কর্মসূচির অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে আয়োজকদের নোটিশ দিয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এলাকাটিতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।   নেহা বোরাকে আটক করার পর তাঁর সহযোগীরা অভিযোগ করেন, তাঁকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছিলেন না। তাঁর সহযোগীদের প্রকাশিত বক্তব্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর অবস্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কির খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন দিল্লিতে অন্তত ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল। এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য; পুলিশের পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব হিসেবে একে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বেকার তরুণদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ থেকে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন পরে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিতে সক্রিয় হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাদের প্রতিবাদ আরও আলোচনায় এসেছে।   দিল্লির এই ঘটনা ভারতের নাগরিক অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশের আটক করার পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি, আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জন্য প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   এ ঘটনার পর সৌদি আরব তার মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তার জন্য আরও জোরালো আহ্বান জানাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ,
আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান নৌযানের সংঘর্ষ, দুই দেশই কূটনীতিক তলব

আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌযানের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর আরব সাগরে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌযান উচ্চগতিতে একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি চলে আসে এবং অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশলে চলার কারণে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।    ঘটনার পর নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি নৌযানের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে দুই দেশের সামরিক চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানায়।    তবে পাকিস্তানের বক্তব্য ভিন্ন। ইসলামাবাদ বলেছে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নৌবাহিনীর নিয়মিত মহড়ার সময় ঘটনাটি পাকিস্তানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ঘটে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় নৌযান বিপজ্জনকভাবে খুব কাছে এসে ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল চালানোর ফলে দুই নৌযানের সংঘর্ষ হয়।    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ ঘটনায় ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে। ইসলামাবাদ ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দুই দেশের সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।    সংঘর্ষের স্থান নিয়েও দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ভারত বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বলছে, ঘটনাটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে হয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার দায় কার - এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারি বর্ণনা পরস্পরবিরোধী।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। দুই দেশই পারমাণবিক শক্তিধর এবং কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তবে এবারের নৌ সংঘর্ষে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    গুরুত্বপূর্ণ: সংঘর্ষের কারণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য আলাদা। তাই কোনো পক্ষের অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না।   সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি:সংগৃহীত
লন্ডনে সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘিরে উত্তেজনা, সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা

যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিমকে ঘিরে বিক্ষোভ ও তীব্র প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৯ জুলাই) পশ্চিম লন্ডনের এলপোট লেন এলাকার আনান সেন্টারের একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন, যাদের মধ্যে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম রিবলুও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, শ. ম. রেজাউল করিমের কাছে তার মন্ত্রিত্বকাল, গুম, হত্যা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ভিডিওতে তাকে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে দেখা যায়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।   ঘটনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দাবি, একপর্যায়ে শ. ম. রেজাউল করিম স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সেখান থেকে চলে যান। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল।   একই সঙ্গে শফিকুল ইসলাম রিবলু দাবি করেন, এর আগে পশ্চিম লন্ডনের একই এলাকায় বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গেও তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেবারও হাছান মাহমুদ দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে এ দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। তবে শ. ম. রেজাউল করিম বা ড. হাছান মাহমুদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। 

Unknown জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ডোম অব দ্য রক (কুব্বাত আস-সাখরা)-এর সামনে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি পুলিশ সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
আল-আকসা মসজিদ চত্বরে শত শত ইহুদির প্রবেশ, প্রার্থনা ঘিরে নতুন উত্তেজনা

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ চত্বরে বৃহস্পতিবার শত শত ইহুদি প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন। ইহুদিদের উপবাস দিবস তিশা বা’ভ উপলক্ষে এই প্রবেশ ও প্রার্থনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কয়েকশ ইহুদি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং এমন কিছু স্থানেও প্রার্থনা করেন, যেখানে ইহুদি প্রার্থনার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিধিনিষেধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিশা বা’ভ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শোক দিবস। ইহুদি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে প্রাচীন ইহুদি ধর্মের প্রথম ও দ্বিতীয় টেম্পল ধ্বংস হয়েছিল। ইহুদিদের একটি অংশের দাবি, বর্তমানে আল-আকসা মসজিদ যে স্থানে অবস্থিত, সেটিই ঐতিহাসিক টেম্পল মাউন্টের স্থান। এ কারণে স্থানটি ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে আছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইহুদি উপাসকরা দলবদ্ধভাবে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করছেন। তাদের কেউ কেউ ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করছেন। কয়েকজনকে ইসরায়েলের পতাকা বহন করতেও দেখা গেছে।   ঘটনাস্থলে ইসরায়েলের উগ্রডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির উপস্থিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।   বেন-গভির সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আজ এখানে যা হচ্ছে তা দেখুন। ইহুদিরা এখানে প্রার্থনা করছে। তারা অনুভব করছে এটি তাদেরও জায়গা। এর আগে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।”   আল-আকসা মসজিদ চত্বর পরিচালনা ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, মুসলিমদের জন্য স্থানটি উপাসনার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর অমুসলিমদের সাধারণত সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও প্রার্থনা করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদি দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন পক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে উত্তেজনা বাড়ানোর কারণ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের কিছু রাজনৈতিক নেতা সেখানে ইহুদিদের অধিকারের দাবি করে আসছেন।   আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইহুদি, মুসলিম ও খ্রিস্টান—তিন ধর্মের অনুসারীদের কাছেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Unknown জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যরা। ১৩ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
এক দিনে রেকর্ড ৫৫ হামলা: হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল

লেবানন সীমান্ত ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রেকর্ড ৫৫টি হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এটি হিজবুল্লাহর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   লেবাননের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে হিজবুল্লাহর হামলার মুখোমুখি হন। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় খিয়াম ও তাইবেহ এলাকায় হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলমান রয়েছে।   রাজধানী বৈরুৎ-এও আজ দুটি শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।   লেবাননে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির মুখে রয়েছে, এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা

Unknown মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০