পাকিস্তানের করাচির কুলসুম বাই ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আরও দুই শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এইচআইভি আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া দুই শিশুর একজন করাচির মেট্রোভিল এলাকার মাত্র তিন বছর বয়সী একটি শিশু। তার বাবা জানান, বুকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য তাকে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) পরিচালিত ভ্যালিকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে। শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হতে থাকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে অতিরিক্ত পরীক্ষা করানোর পর এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর আগে সিন্ধ প্রদেশের শ্রমমন্ত্রী সাঈদ ঘানি জানিয়েছিলেন, ভ্যালিকা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অন্তত ৭৮ শিশুর শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ আরও দুই শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে সাঈদ ঘানি বলেন, কীভাবে এতসংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এদিকে চলতি মাসের শুরুতে সিন্ধ হাইকোর্ট প্রাদেশিক সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আদালত এ নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হাসপাতালের অবহেলার কারণে প্রায় ২০০ শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। আবেদনকারী পক্ষের দাবি, ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে দূষিত সিরিঞ্জ পুনর্ব্যবহারের কারণে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করতে সিন্ধ এমপ্লয়িজ' সোশ্যাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশন (SESSI) ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তহবিল থেকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচআইভি সংক্রমণের উৎস নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধে জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
রাজশাহীতে নীরবে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ১৩৯ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ জন পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্কে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৬ শতাংশ। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা না করা এবং সামাজিক সংকোচ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও নেতিবাচক মনোভাবও অনেককে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৫২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১৫ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১০৫ জন পুরুষ, ৯ জন নারী এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন এবং ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৮০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন বিবাহিত এবং ৬৭ জন অবিবাহিত। এছাড়া কয়েকজন প্রবাসফেরত ব্যক্তিও রয়েছেন। অন্যদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের বাইরে শনাক্ত হওয়া আরও ৩৪ জন আক্রান্তের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের তথ্য একত্র করলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৯ জন। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, বিভাগের আট জেলায় বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৪। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩১০ জন আক্রান্ত রয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলায়। এরপর রয়েছে রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর সমস্যা হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন হবে। কারণ অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক ছাড়াও পরীক্ষাবিহীন রক্ত গ্রহণ, একই সূঁচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তির ব্যবহার এবং গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধের মাধ্যমে মা থেকে শিশুর শরীরেও এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, নির্দিষ্ট কিছু আচরণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা। এইচআইভি আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘আপোষ’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এস. এন. আব্দুল্লাহ আল রেজা বলেন, এখনও অনেক মানুষ মনে করেন এইচআইভি আক্রান্ত মানেই নির্দিষ্ট ধরনের জীবনযাপন। বাস্তবে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মানসিক সহায়তাও প্রয়োজন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. ইব্রাহিম মো. শরফ জানান, বর্তমানে রাজশাহীতে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে এবং আক্রান্তদের জন্য ওষুধ, পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোনো রোগীদের কিছু ফাইল স্থানান্তর প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এইচআইভি প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা, সহজলভ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা, নিয়মিত কাউন্সেলিং এবং আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যমুক্ত আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক লজ্জা বা ভয় কাটিয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।