- প্রচ্ছদ
- Topic
কোম্পানি
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের যোগ্য পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন ১ ডলার বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ছাড় চালু করছে কোম্পানিটি। অ্যামাজন জানিয়েছে, বেতন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো মূলত অ্যামাজনের পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এসব পদের অনেকগুলোর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলারে পৌঁছাবে। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মী সুবিধার আর্থিক মূল্য হিসাব করলে গড় মোট পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩২ ডলারের বেশি হবে। বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ‘ডে ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করছে অ্যামাজন। এর মাধ্যমে যোগ্য কর্মী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরা ফার্স্ট টেক ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, যোগ্য কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যামাজনে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই ব্যাংকিং সুবিধা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন সুবিধার আওতায় সাধারণ হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে কোনো মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনজনিত ফি থাকবে না। হিসাব খোলার জন্য আগের ঋণ বা ক্রেডিট ব্যবহারের ইতিহাসও প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো অতিরিক্ত ফি ছাড়া এটিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের ফিও ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং, সরাসরি বেতন জমা এবং ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি ও উন্নত করার বিভিন্ন সুবিধাও থাকবে। অ্যামাজন কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ও চালু করছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অ্যামাজন কর্মী অ্যামাজন ডটকম ও হোল ফুডস মার্কেটের অনলাইন কেনাকাটায় যোগ্য খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াই ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। হোল ফুডসের দোকানে সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে ২০ শতাংশ। গরম খাবারের কাউন্টার ও সালাদ কাউন্টারও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। কোম্পানির নিজস্ব অ্যামাজন হিসাবে কেনাকাটা করলেই কর্মীরা এই ছাড় ব্যবহার করতে পারবেন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যামাজনের প্রাইম সদস্য, তাঁরা নির্দিষ্ট বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে নতুন কর্মী ছাড়ও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নতুন সুবিধাগুলো অ্যামাজনের বিদ্যমান কর্মী সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানির নিয়মিত পূর্ণকালীন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় কর্মীদের নিজস্ব খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। কিছু পরিকল্পনায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৫ ডলারের সহভাগী অর্থও রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে প্রাইম সদস্যপদ এবং ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আগাম শিক্ষাব্যয়ের সুবিধা পেতে পারেন। ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ অর্জনের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচিতে কোম্পানির অবদান, বেতনসহ সন্তানের জন্ম বা দেখাশোনার ছুটি, নমনীয় ছুটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মী সুবিধাও রয়েছে। অ্যামাজনের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট উডিট মাদান জানিয়েছেন, কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন নয়, পুরো সুবিধা প্যাকেজকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কোম্পানির ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবারের নতুন বেতন বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১৪ ডলার এবং টার্গেটে ১৫ ডলার। অন্যদিকে কস্টকো গত বছর প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২০ ডলারে উন্নীত করেছিল। অ্যামাজনের নতুন সিদ্ধান্তে পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২০ ডলারে পৌঁছাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় যুক্ত হওয়ায় কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে। তবে কোন পদে কত বেতন এবং কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা কর্মীর পদ, যোগ্যতা ও কোম্পানির নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার কমানো বা বিভিন্ন ফি মওকুফের জন্য কার্ড কোম্পানির কাছে অনুরোধ করে বড় ধরনের সাড়া পাচ্ছেন গ্রাহকরা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা ৮৪ শতাংশ গ্রাহকই সফল হয়েছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, সুদের হার কমানোর পর গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের জন্য এটি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্যের হার। শুধু সুদের হার নয়, বিভিন্ন ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রেও সাফল্যের হার বেশ বেশি। বিলম্ব ফি মওকুফের অনুরোধ করা ৯২ শতাংশ গ্রাহক সফল হয়েছেন। বার্ষিক ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে সফলতার হার ৯৪ শতাংশ। বিদেশি লেনদেনের ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ব্যালান্স ট্রান্সফার ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ অনুরোধ অনুমোদন পেয়েছে। তবে এমন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক এসব ছাড়ের জন্য আবেদন করছেন না। জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ কার্ডধারী বলেছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ছাড় চাইতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। আবার প্রায় ১০ জনে ৪ জন জানিয়েছেন, কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা না বলেই তারা সুদের হার কমানো বা কোনো ফি মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন। লেন্ডিংট্রির উদাহরণ অনুযায়ী, কারও ক্রেডিট কার্ডে ৭ হাজার ডলার ঋণ থাকলে এবং সুদের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামানো গেলে, প্রতি মাসে ২৫০ ডলার করে পরিশোধ চালিয়ে গেলে প্রায় ১ হাজার ৩৪৬ ডলার সুদ সাশ্রয় হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সময়মতো বিল পরিশোধের রেকর্ড বা উন্নত ক্রেডিট স্কোর থাকলে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠানের কম সুদের অফার থাকলেও সেটি দর-কষাকষিতে কাজে লাগতে পারে। অনুরোধ নাকচ হলে পরে আবার চেষ্টা করা বা অন্য প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসার কাঠামো ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশকে এই ছাঁটাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোভিড-১৯ মহামারির পর কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচন। উবারের প্রধান নির্বাহী দারা খোসরোশাহি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, কোম্পানির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত স্তর, কাজের সমন্বয়ে জটিলতা এবং দায়িত্ব বণ্টনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য এসব জটিলতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা। পুনর্গঠনের ফলে উবারে ব্যবস্থাপনা স্তরও কমানো হচ্ছে। সাত বা তার বেশি স্তর নিচে থাকা কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে এক বা দুইজন কর্মী নিয়ে গঠিত ছোট ‘মাইক্রো-টিম’-এর সংখ্যাও প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে। কোম্পানির বিভিন্ন দলও একীভূত করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, খুচরা ব্যবসা ও অন্যান্য ডেলিভারি কার্যক্রমের পৃথক দলগুলোকে আরও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। উবার বলছে, এতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বাড়বে। কর্মীদের অফিসে ফেরানোর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনছে উবার। এখন থেকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ কর্মী দূর থেকে কাজ করতে পারবেন। অধিকাংশ কর্মীকে অফিসে ফিরতে হবে এবং আগের মতো সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিসে কাজের নীতি বহাল থাকবে। উবারের দাবি, কর্মী কমিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে। বিশেষ করে চালক, ডেলিভারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সেবার উন্নয়ন এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বা রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বয়ংক্রিয় পরিবহন খাতে উবারের বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরগুলোতে রোবোট্যাক্সি অংশীদারিত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। একই সময়ে ওয়েমো ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। নতুন ছাঁটাইয়ের ফলে উবারের মোট কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ২০২১ সালের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার সমান। তবে এই ছাঁটাই উবারের চালক ও ডেলিভারি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তারা সাধারণত স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। উবার জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু খরচ কমানো নয় - বরং প্রতিষ্ঠানের কাঠামো সরল করে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও স্বয়ংক্রিয় পরিবহন প্রযুক্তিতে আরও বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত করা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে। স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে। হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে। হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক। হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে নজিরবিহীন একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এর একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সুরক্ষিত পরিবেশ (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের উন্নত এআই এজেন্টগুলোর সাইবার সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, এআই বাস্তব পরিবেশে জটিল সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম, তা যাচাই করা। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার এক পর্যায়ে এআই এজেন্টটি সুরক্ষিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর এটি এআই কোম্পানি হাগিং ফেস-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাদের প্রোডাকশন অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ওপেনএআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটি ধারণা করেছিল যে পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই এটি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। হাগিং ফেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, গুগল, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ডেভেলপার তাদের এআই মডেল, ডেটাসেট এবং গবেষণা প্রকল্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও ব্যবহার করেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পর হাগিং ফেস দ্রুত অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপত্তা দুর্বলতা বন্ধ করে এবং ঝুঁকিতে থাকা সার্ভিস ক্রেডেনশিয়াল পরিবর্তন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল, ডেটাসেট বা সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত কিছু অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও সার্ভিস ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কোন তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হ্যাকিং নয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়নি। ঘটনাটি ছিল শুধুমাত্র গবেষণা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে। ঘটনার পর ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাগিং ফেস তাদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। আইটি স্পেশালিস্টদের মতে, ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরি ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু এআই এর সক্ষমতা নয়, পরীক্ষার অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই এটিকে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।