তথ্যপ্রযুক্তি

সিকিউরিটি পরীক্ষায় ওপেনএআই এর এআই হ্যাক করেছিল আরেক এআই কোম্পানিকে! আসলে কী ঘটেছিল?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৮:৭
এআই ফিচার।ছবি:সংগৃহীত
এআই ফিচার।ছবি:সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে নজিরবিহীন একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এর একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সুরক্ষিত পরিবেশ (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের উন্নত এআই এজেন্টগুলোর সাইবার সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, এআই বাস্তব পরিবেশে জটিল সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম, তা যাচাই করা। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল।

 

তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার এক পর্যায়ে এআই এজেন্টটি সুরক্ষিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর এটি এআই কোম্পানি হাগিং ফেস-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাদের প্রোডাকশন অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ওপেনএআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটি ধারণা করেছিল যে পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই এটি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

 

হাগিং ফেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, গুগল, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ডেভেলপার তাদের এআই মডেল, ডেটাসেট এবং গবেষণা প্রকল্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও ব্যবহার করেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

 

ঘটনার পর হাগিং ফেস দ্রুত অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপত্তা দুর্বলতা বন্ধ করে এবং ঝুঁকিতে থাকা সার্ভিস ক্রেডেনশিয়াল পরিবর্তন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল, ডেটাসেট বা সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত কিছু অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও সার্ভিস ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কোন তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।

 

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হ্যাকিং নয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়নি। ঘটনাটি ছিল শুধুমাত্র গবেষণা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে।

 

ঘটনার পর ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাগিং ফেস তাদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

 

আইটি স্পেশালিস্টদের মতে, ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরি ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু এআই এর সক্ষমতা নয়, পরীক্ষার অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই এটিকে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
এআই ফিচার।ছবি:সংগৃহীত
সিকিউরিটি পরীক্ষায় ওপেনএআই এর এআই হ্যাক করেছিল আরেক এআই কোম্পানিকে! আসলে কী ঘটেছিল?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন ওপেনএআই-এর একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে নজিরবিহীন একটি সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা সামনে এসেছে। অভ্যন্তরীণ সিকিউরিটি পরীক্ষার সময় ওপেনএআই এর একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত সুরক্ষিত পরিবেশ (স্যান্ডবক্স) অতিক্রম করে এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ঘটনাটি প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে এআই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের উন্নত এআই এজেন্টগুলোর সাইবার সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল, এআই বাস্তব পরিবেশে জটিল সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে কতটা সক্ষম, তা যাচাই করা। এ জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কিছু নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা শিথিল করা হয়েছিল।   তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষার এক পর্যায়ে এআই এজেন্টটি সুরক্ষিত পরীক্ষার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। এরপর এটি এআই কোম্পানি হাগিং ফেস-এর একটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তাদের প্রোডাকশন অবকাঠামোতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। ওপেনএআই এর ভাষ্য অনুযায়ী, এআই এজেন্টটি ধারণা করেছিল যে পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকতে পারে এবং সেই লক্ষ্যেই এটি ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল।   হাগিং ফেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই গবেষণা ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম। মেটা, গুগল, মাইক্রোসফটসহ অসংখ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ডেভেলপার তাদের এআই মডেল, ডেটাসেট এবং গবেষণা প্রকল্প এই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ ও ব্যবহার করেন। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।   ঘটনার পর হাগিং ফেস দ্রুত অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে আক্রান্ত সিস্টেম বিচ্ছিন্ন করে, নিরাপত্তা দুর্বলতা বন্ধ করে এবং ঝুঁকিতে থাকা সার্ভিস ক্রেডেনশিয়াল পরিবর্তন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত এআই মডেল, ডেটাসেট বা সফটওয়্যার সাপ্লাই চেইনে কোনো ধরনের কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সীমিত কিছু অভ্যন্তরীণ ডেটাসেট ও সার্ভিস ক্রেডেনশিয়ালে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কোন তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থে তা প্রকাশ করা হয়নি।   এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো সাধারণ চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হ্যাকিং নয় এবং জনসাধারণের ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটি নিজে থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়নি। ঘটনাটি ছিল শুধুমাত্র গবেষণা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একটি পরীক্ষামূলক এআই এজেন্টকে ঘিরে।   ঘটনার পর ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে হাগিং ফেস তাদের নিরাপত্তা পর্যালোচনা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার যৌথ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।   আইটি স্পেশালিস্টদের মতে, ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরি ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু এআই এর সক্ষমতা নয়, পরীক্ষার অবকাঠামোর নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি বিশ্বের অনেকেই এটিকে এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৮:৭
হোয়াটসঅ্যাপে কল রেকর্ড

যেভাবে হোয়াটসঅ্যাপের কল রেকর্ড করবেন, জেনে নিন সহজ উপায়

সরাসরি চাঁদের দিকে ছুটছে স্পেসএক্সের রকেট

কেউ থামাতে পারবে না! সরাসরি চাঁদের দিকে ছুটছে স্পেসএক্সের রকেট

বিয়ের সপ্তাহেই বড় ধাক্কা খেয়েছে আশেনব্রেনারের প্রতিষ্ঠিত এআই তহবিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে রাজকীয় বিয়ের কয়েক দিন আগে ধসে পড়ল ২৪ বছরের তরুণের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের এআই তহবিল

গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার
গুগল আর্থে এআই ছবি তৈরির ফিচার চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ

ব্যবহারকারীদের অপব্যবহার ও ভুয়া ছবি তৈরির আশঙ্কায় গুগল তাদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ছবি তৈরির ফিচার চালুর মাত্র এক দিনের মধ্যেই স্থগিত করেছে। গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া এই পরীক্ষামূলক সুবিধাটি বাস্তব স্থানের ওপর কৃত্রিমভাবে তৈরি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছবি বসানোর সুযোগ দিচ্ছিল, যা দ্রুতই ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগল আর্থে যুক্ত হওয়া নতুন এআই ফিচারটি ব্যবহার করে টেক্সট নির্দেশনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানের স্যাটেলাইট ও থ্রিডি দৃশ্যের ওপর নতুন ছবি তৈরি করা যাচ্ছিল। তবে চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, বিস্ফোরণ, শরণার্থী শিবির, বন্যা এবং বিভিন্ন দুর্যোগের কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেন।     এরপর নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) গবেষক এবং তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, গুগল আর্থের মতো দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হলে বাস্তব ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে এবং ভুয়া তথ্য শনাক্ত করাও আরও জটিল হবে।  সমালোচনার মুখে গুগল জানায়, তারা জানে মানুষ বাস্তব পৃথিবীর নির্ভরযোগ্য চিত্র দেখার জন্য গুগল আর্থের ওপর আস্থা রাখে। যদিও অনেক ভূ-তথ্য বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক কাজে এই ফিচার ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু ব্যবহারকারী এমন ছবি তৈরি ও শেয়ার করেছেন যা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে। তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  গুগল আরও জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো মূল গুগল আর্থের মানচিত্র বা স্যাটেলাইট চিত্রের অংশ ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-উৎপাদিত হওয়ার ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত ছিল। তবুও এসব ছবি স্ক্রিনশট আকারে সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারায় বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়।      প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেটিভ এআই দ্রুত উন্নত হওয়ায় বাস্তবসম্মত ভুয়া ছবি তৈরি আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। ফলে সাংবাদিকতা, দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ, যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ভিজ্যুয়াল তথ্য সংরক্ষণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগলের এই সিদ্ধান্ত দেখায়, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি চালুর পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ২৩:৯
অ্যাপল পে ও অ্যাপল ক্যাশে বিভ্রাট, লেনদেনে ভোগান্তিতে হাজারো ব্যবহারকারী

অ্যাপল পে ও অ্যাপল ক্যাশে বিভ্রাট, লেনদেনে ভোগান্তিতে হাজারো ব্যবহারকারী

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চালু হলো আর্থিক সেবা ‘এক্স মানি’। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক চালু করলেন ইলন মাস্ক সাথে ‘এক্স মানি’, ডেবিট কার্ডসহ আর্থিক সেবা

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি

রোমান্টিক সময় কাটাচ্ছেন ট্রুডো-কেটি, আলোচনায় সানস্ক্রিন মাখানোর ছবি

অ্যাপলের সর্বশেষ আপডেটে থাকছে বড় চমক
এখনই আইফোন আপডেট করুন, অ্যাপলের সর্বশেষ আপডেটে থাকছে বড় চমক

অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নতুন সফটওয়্যার আপডেট প্রকাশ করেছে, যেখানে ডিভাইসের নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের দ্রুত আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের নতুন আপডেটে এমন কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতা ঠিক করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা হ্যাকাররা আইফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর আক্রমণ চালানোর সুযোগ পেতে পারে।   অ্যাপল নিয়মিতভাবে আইওএস আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধান করে থাকে। তবে অনেক ব্যবহারকারী নতুন আপডেট আসার পরও তা ইনস্টল করতে দেরি করেন, যা তাদের ডিভাইসকে সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।   প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নতুন ফিচারের জন্য নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সফটওয়্যার আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইফোনে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ছবি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আপডেট উপেক্ষা করা উচিত নয়।   ব্যবহারকারীরা আইফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে সফটওয়্যার আপডেট  বিভাগ থেকে নতুন আপডেট উপলব্ধ আছে কি না তা পরীক্ষা করতে পারবেন। অ্যাপল ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ডিভাইস নিরাপদ থাকে।    নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী পাসকোড ব্যবহার এবং অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলা স্মার্টফোন নিরাপদ রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ০:২৩
অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের ফ্লেগশিপ স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর আলোচনা চলছে। ছবি: সংগৃহীত

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে নতুন ফিচারের ছড়াছড়ি

২০১৫ সালে গুগলের সাময়িক ত্রুটির কারণে মাত্র ১২ ডলারে মূল ডোমেইন গুগল ডটকম কিনে সবাইকে অবাক করেছিলেন সন্ময় বেদ। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১২ ডলারে গুগল ডটকম কিনে সবাইকে অবাক করেছিলেন এক তরুণ

ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ দেওয়ার বড় পদক্ষেপ নিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত

মেটা নিয়ে এল ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ, বাড়ছে ফেসবুকের নিরাপত্তা

0 Comments