চলমান আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে চরম জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগত তেলের মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) কমতে কমতে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ইউরেশিয়া ডেইলির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়েই ওয়াশিংটনকে তাদের জরুরি মজুতে হাত দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশটির বর্তমান কৌশলগত তেলের মজুত কমে মাত্র ৩১৯ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৩ সালের পর এটিই আমেরিকার ইতিহাসের সর্বনিম্ন মজুতের রেকর্ড। এমনকি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের সর্বনিম্ন রেকর্ডের চেয়েও বর্তমান মজুত আরও ২৭ মিলিয়ন ব্যারেল কম। বিশ্লেষকদের মতে, এবার মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের অর্থনৈতিক ও জ্বালানিগত প্রভাব মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মজুত ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলোর বৈঠকে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা। রাশিয়ার ন্যাশনাল এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইগর ইউশকভ এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই নীতি অনুসরণ করছে। তবে প্রতিবার যখনই দেশটির তেলের মজুত রেকর্ড মাত্রায় কমে যাওয়ার খবর সামনে আসে, তখনই আন্তর্জাতিক বাজারে এর উল্টো ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পশ্চিম এশিয়ার তেল বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প পথ ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইউশকভ সতর্ক করে আরও বলেন, চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম আবারও ১০০ ডলার বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তবে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের সম্ভাব্য মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের প্রতি শেয়ারে সম্ভাব্য আয় (ইপিএস) এখন ৯ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় এটি বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির আয়ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে রাজস্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। ইউনাইটেডের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন জ্বালানি ব্যয়। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসের শুরু থেকেই জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতি গ্যালন জেট জ্বালানির গড় মূল্য ৩ দশমিক ৬৯ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জেট জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব বড় বিমান সংস্থার ওপর। তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বলছে, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের একটি বড় অংশ তারা উচ্চ ভাড়া, শক্তিশালী যাত্রী চাহিদা, প্রিমিয়াম আসনের বিক্রি এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কোম্পানির আশা, তৃতীয় প্রান্তিকে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রায় পুরোটাই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনে বছরের শেষ দিকে কিছু রুটে ফ্লাইট কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের অন্যতম বড় অংশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি বিমান সংস্থাগুলোর লাভ-লোকসানের ওপর প্রভাব ফেলে। তবুও শক্তিশালী ভ্রমণ চাহিদার কারণে ইউনাইটেডের মতো বড় সংস্থাগুলো এখনো আর্থিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং ইয়েমেনের হুথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর একাধিক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত বা ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি একটি পূর্বাভাস বা দাবি, কোনো নিশ্চিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হুথি-সংশ্লিষ্ট আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করছে। তার দাবি, সংঘাত আরও তীব্র হলে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব, উভয় সামুদ্রিক পথেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব উভয়ই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি পথের যেকোনো একটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বা সেখানে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে, এমন কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এ ধরনের সামরিক দাবি ও পাল্টা দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সূত্র: প্রেস টিভি, সময়ের কণ্ঠস্বর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম ওঠানামার মধ্যে অনেক চালকই জ্বালানি খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করলে প্রতি গ্যালনে উল্লেখযোগ্য ছাড় পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জ্বালানি সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ বড় গ্যাস স্টেশন এখন নিজস্ব রিওয়ার্ডস প্রোগ্রাম চালু করেছে। মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের পর প্রতিবার কেনাকাটায় পয়েন্ট জমা হয়, যা পরে গ্যাস কেনার সময় ছাড় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সুপারমার্কেট চেইনগুলোর সঙ্গে গ্যাস স্টেশনের অংশীদারিত্বও রয়েছে। যেমন, ক্রোগারের ‘ফুয়েল পয়েন্টস’ কর্মসূচিতে শপার কার্ড ব্যবহার করে প্রতি এক ডলার যোগ্য কেনাকাটায় এক পয়েন্ট পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ পয়েন্টে প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত ছাড় মেলে, যা ক্রোগার ফুয়েল সেন্টার এবং অংশগ্রহণকারী শেল স্টেশনগুলোতে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের সুবিধা দিচ্ছে অ্যালবার্টসনস ও সেফওয়ে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পণ্য কিনেও পয়েন্ট জমিয়ে পরে গ্যাসে মূল্যছাড় নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেসব গ্যাস স্টেশন বা ব্র্যান্ডে নিয়মিত জ্বালানি নেন, সেগুলোর রিওয়ার্ডস প্রোগ্রামে নিবন্ধন করা উচিত। পাশাপাশি ভ্রমণের সময় যেসব ব্র্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন, সেগুলোর অফারও নজরে রাখা ভালো। তবে পয়েন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। সদস্যভিত্তিক বিভিন্ন সেবাও গ্যাসে ছাড় দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম সদস্যরা বিপি, অ্যামোকো এবং অংশগ্রহণকারী অ্যাম্পিএম স্টোরে প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। ওয়ালমার্ট প্লাস সদস্যরাও এক্সন, মোবিল, ওয়ালমার্ট ও মারফিসহ ১৩ হাজারের বেশি স্টেশনে সাধারণত প্রতি গ্যালনে ১০ সেন্ট পর্যন্ত ছাড় পান। তবে আলাবামা ও ওকলাহোমায় এই ছাড় বর্তমানে প্রতি গ্যালনে ৫ সেন্ট। অন্যদিকে কস্টকো, স্যামস ক্লাব বা বিজে’স হোলসেল ক্লাবের সদস্যরা সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ফুয়েল স্টেশন থেকে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৫ থেকে ২৫ সেন্ট পর্যন্ত কম দামে জ্বালানি কিনতে পারেন। গ্যাস ভরার আগে আশপাশের স্টেশনগুলোর মূল্য তুলনা করাও সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায়। গ্যাসবাডি ও ওয়েজের মতো অ্যাপ বিভিন্ন এলাকার তাৎক্ষণিক গ্যাসের দাম দেখায়, ফলে কম দামের স্টেশন বেছে নেওয়া সহজ হয়। জ্বালানি সাশ্রয়ে গাড়ির ব্যবহারেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি স্থির অবস্থায় এক ঘণ্টায় প্রায় আধা গ্যালন পর্যন্ত জ্বালানি খরচ করতে পারে। তাই ১০ সেকেন্ডের বেশি অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু রাখার পরিবর্তে বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। এছাড়া টায়ারের বাতাস সঠিক মাত্রায় না থাকলে ইঞ্জিনকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করে প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত মাত্রায় রাখা হলে গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচও কমে।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে প্রস্তাবিত কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এসে নতুন খসড়া বিলে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর সম্ভাব্য চাপ কিছুটা কমতে পারে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত এই বিল অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। তবে আগের মতো ৫০০ শতাংশ শুল্কের বিধান রাখা হয়নি। দ্বিদলীয় এই বিলটি রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে চাপের মুখে ফেলা। একই সঙ্গে ভারত, চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করাও বিলটির অন্যতম উদ্দেশ্য। নতুন খসড়ায় রুশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও আর্থিক খাতেও নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত 'শ্যাডো ট্যাংকার' বহর, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইয়ামাল এলএনজি ও আর্কটিক এলএনজির মতো বড় জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে সংশোধিত বিলে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। এই বিধানের আওতায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিলে প্রেসিডেন্টকে একটি বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করতে পারবেন। বিশ্ববাজারে বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। মার্কিন সিনেটে বিলটির প্রতি সমর্থনও বাড়ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম উত্থাপিত এই বিলের পক্ষে বর্তমানে ২৬ জন সিনেটর সমর্থন দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেন সফরকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞা এই বিলে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিলটির সহ-উদ্যোক্তা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, আপাতত বিলের মূল উদ্দেশ্য পরিবর্তন না করাই ভালো। তার মতে, নতুন বিষয় যুক্ত করলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ৫০০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও সংশোধিত বিলটি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর চাপ ধরে রাখার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে মিত্র দেশগুলোর জন্য কিছুটা নীতিগত নমনীয়তাও রাখা হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার কৃষকেরা তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। উত্তর-পূর্ব লুইজিয়ানার কৃষি বিমানের পাইলট রিড কেহি জানান যে, তার বিমানে ব্যবহৃত কেরোসিনভিত্তিক জ্বালানির দাম যুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে যে জ্বালানির প্রতি গ্যালনের দাম ছিল ২.৪৬ ডলার, মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৪.১১ ডলারে পৌঁছায়। কেহি একবারে ৭,৫০০ গ্যালন জ্বালানি ক্রয় করেন, যার ফলে মে মাসে এক দফায় জ্বালানি কিনতেই তার ৩০,০০০ ডলারের বেশি খরচ হয়েছিল। চলতি সপ্তাহে এই দাম কিছুটা কমে ৩.১৮ ডলারে নামলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লুইজিয়ানার সামগ্রিক কৃষি সম্প্রদায়ের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তাদের আয়ের মার্জিন একদম কমে গেছে। ডেভিড গুয়েরেরো এবং থেরেসা গুয়েরেরো নামের এক কৃষক দম্পতি জানান, তাদের ভুট্টার ফসলের জন্য ইউরিয়া নামের এক ধরনের নাইট্রোজেন সারের প্রয়োজন হয়। বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় অর্ধেক আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে একটি বড় ধরনের নৌ-পরিবহন সংকট তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ। এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গুয়েরেরো দম্পতির সারের জন্য নির্ধারিত পুরো বাজেটকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিয়েছে। এই দম্পতি প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে তারা ইউরিয়া সারের পেছনে নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ১,২০,০০০ থেকে ১,৩০,০০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেছেন। এই খরচ বৃদ্ধির ধাক্কা সামলে তাদের খামারটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডেভিড গুয়েরেরো জানান যে পরিস্থিতি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা টিকে থাকার লড়াইয়ের একদম শেষ প্রান্তে রয়েছেন। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খামার দেউলিয়া হওয়ার হার প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পাইলট রিড কেহি কৃষকদের ওপর থেকে চাপ কমাতে গুয়েরেরোর ফসলে ওষুধ ছিটানোর জন্য অতিরিক্ত কোনো চার্জ ধরছেন না, বরং লোকসানের পুরো ধাক্কা নিজেই সামলাচ্ছেন। কেহি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি 'টিকে থাকার খেলা' হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, যদি কৃষকেরা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে না পারেন, তবে তার নিজের ব্যবসাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।
ইরানে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সংকটের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কৃষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের পরোক্ষ প্রভাবে উৎপাদন খরচ এতটাই বেড়ে গেছে যে, অনেক খামার এখন দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। উত্তর-পূর্ব লুইসিয়ানার কৃষি খাতের বিমান চালক রিড কিহে জানান, তার বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় কেরোসিন-ভিত্তিক 'জেট-এ' জ্বালানির দাম যুদ্ধের পর থেকে আকাশছোঁয়া। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম যেখানে ছিল ২.৪৬ ডলার, মে মাসে তা সর্বোচ্চ ৪.১১ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। প্রতি দফায় ৭,৫০০ গ্যালন জ্বালানি কিনতে গিয়ে এক ধাক্কায় তার খরচ হচ্ছে ৩০ হাজার ডলারের বেশি। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ৩.১৮ ডলারে নামলেও তা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আরেকটি বড় আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে রাসায়নিক সার বা ইউরিয়ার মূল্যবৃদ্ধি। লুইসিয়ানার ডেভিড ও তেরেসা গেরেরো দম্পতির মতো শত শত ভুট্টা চাষির জন্য এটি এখন মরণফাঁদ। বিশ্বব্যাপী ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সারের সংকট ও মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেলও সরবরাহ করা হয়। গেরেরো দম্পতি জানিয়েছেন, সারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তাদের নির্ধারিত বাজেট সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে এবং তারা ইতিমধ্যে সারের পেছনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। খামারটি টিকিয়ে রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে তারা এখন চরম সংশয়ে আছেন। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খামার দেউলিয়া হওয়ার হার ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে বিমান চালক রিড কিহে কৃষকদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা না চাপিয়ে নিজেই লোকসান গুনছেন। তার মতে, এটি এখন স্রেফ টিকে থাকার লড়াই; কারণ কৃষকরা যদি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন, তবে তার নিজের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কীভাবে সাত সমুদ্র পারের সাধারণ কৃষকদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে, লুইসিয়ানার এই সংকট তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হেলিকপ্টারে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত ১৪ জনই সৌদি নাগরিক। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি সৌদি আরামকোর মালিকানাধীন ছিল। সৌদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি। দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরামকো জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্নের কারণে তারা পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলের একটি অংশ বিকল্প পথে রপ্তানি করছে। তবে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সঙ্গে এ পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ থেকে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি বঞ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে অন্তত এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুখবর হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত গত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ট্যাংকার চলাচল পুনরায় সক্রিয় করতে সময় লাগবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত পূর্ববর্তী অতিরিক্ত সরবরাহের ফল, যা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তেল মজুত প্রায় ১৯ কোটি ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তেল হাব ওকলাহোমার কাশিং এলাকাতেও মজুত ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রায় সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার পরও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে বাজারকে বিদ্যমান মজুতের ওপর নির্ভর করতে হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক চাহিদার তুলনায় পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন থাকলেও হারানো বিপুল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে কিছু বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন প্রবণতা এবং ওপেকভুক্ত দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার দ্রুত ভারসাম্যে ফিরতে পারে। তবে অন্যদিকে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে থাকায় ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন সরবরাহ পুনর্গঠন ও মজুত পুনরায় পূরণের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ভারতের অভ্যন্তরে শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য খুচরা পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি পেট্রোল ও ডিজেল কেনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত সরকার। এখন থেকে সমস্ত বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাম্পের পরিবর্তে নির্ধারিত সরকারি পাইকারি বিক্রয়কেন্দ্র বা বাল্ক সাপ্লাইয়ারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপন ও আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের জারি করা এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত পুরো দেশজুড়ে কার্যকর থাকবে। মূলত সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের খুচরা বাজার ও পাম্পগুলোতে ডিজেলের অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় প্রশাসন দ্রুত এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভারতে সাধারণত বাল্ক বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় ব্যবহারকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারদরের সাথে মিল রেখে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হয়। কিন্তু দেশটির সাধারণ ব্যবহারকারী বা সাধারণ যানবাহন চালকেরা সরকারের ভর্তুকির কারণে খুবই অল্প দামে পাম্প থেকে ডিজেল কিনতে পারেন। মূল্যের এই বিশাল ব্যবধানের সুযোগ নিয়ে বড় বড় বাল্ক ব্যবহারকারীরা পাইকারি বাজার বাদ দিয়ে সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে কম দামে দেদারসে জ্বালানি নিতে শুরু করেছিলেন। দেশটিতে বর্তমানে সাধারণ পেট্রোল পাম্পে ডিজেলের খুচরা দাম লিটারপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ রুপি হলেও বাল্ক বা পাইকারি বিক্রয়ে এর প্রকৃত দাম ১৩৪ দশমিক ৫০ রুপি। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো সাধারণ ভোক্তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে খুচরা বাজারে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কিন্তু টেলিকম টাওয়ার, বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কারখানার ব্যবহারকারীদের সবসময় প্রকৃত উৎপাদন বা বাজারদর অনুসারেই জ্বালানি কিনতে হয়। ফলে খুচরা পাম্পের নির্ধারিত দাম বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলোর প্রকৃত উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় বিশেষ 'মোটর স্পিরিট ও হাই-স্পিড ডিজেল আদেশ' জারি করেছে। এতে সমস্ত খুচরা জ্বালানি বিক্রেতা ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোল পাম্পের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বাল্ক ক্রয় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯০ দিন এই রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বলবৎ থাকবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আদেশের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নতুন এই সরকারি আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এখন থেকে কেবল নিয়মিত যানবাহনের ফুয়েল ট্যাংক এবং সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে অনুমোদিত পাত্রেই পাম্প থেকে ডিজেল বিক্রি করা যাবে। পাশাপাশি কোনো একক সাধারণ গ্রাহক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল পাম্প থেকে নিতে পারবেন না। এ ছাড়া মজুতদারি, কালোবাজারি, অবৈধ জ্বালানি সংগ্রহ এবং সরবরাহের যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারগুলোকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে এক অভূতপূর্ব ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকার এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপের কারণেই মূলত বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে নিয়ে আসছি—সত্যিই লাখ লাখ ব্যারেল। প্রতি রাতে আমরা এই তেল সরিয়েছি।" আমেরিকার এই বিশেষ অভিযানের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নাগালের মধ্যে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনা হয়েছে বলেই আজ প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলারে না ঠেকে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর পুরো কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের এই কথিত গোপন বা বিশেষ পদক্ষেপের ওপর দিতে চাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, যার ফলে তীব্র রাজনৈতিক কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে নিজের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই ট্রাম্প তেলের বাজারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন। একই সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশ্বাস দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হওয়া মাত্রই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। তবে মার্কিন নৌ-অবরোধের মুখে থাকা ইরান থেকে ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই তেল সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সম্প্রতি গ্যালন প্রতি গড় দাম ৪.০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তেলের দাম হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে ২০২৭ সালের আগে তা ৩ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের পকেটের বোঝা কমাতে বিশেষ কিছু টিপস প্রকাশ করেছে সিএনএন (CNN)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কৌশল অবলম্বন করলে প্রতি গ্যালনে বেশ কয়েক সেন্ট সাশ্রয় করা সম্ভব। ১. গ্যাস অ্যাপ ব্যবহার করুন: ‘GasBuddy’, ‘Google Maps’ বা ‘Waze’ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার এলাকার সবচেয়ে সস্তা গ্যাস স্টেশনটি খুঁজে বের করুন। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করে কয়েক ডলার বাঁচানো সম্ভব। ২. লয়্যালটি প্রোগ্রামে যুক্ত হন: বড় বড় চেইন শপ যেমন ‘Kroger’ বা ‘Walmart’ তাদের মেম্বারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেয়। এছাড়া ‘BP’ বা ‘Exxon Mobil’ এর মতো কোম্পানির নিজস্ব লয়্যালটি প্রোগ্রামে যুক্ত থাকলে প্রতি গ্যালনে ৫ থেকে ২০ সেন্ট পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে। ৩. ওয়ারহাউস ক্লাব মেম্বারশিপ: ‘Costco’ বা ‘Sam’s Club’ এর মতো পাইকারি বিক্রেতারা সাধারণ বাজারের তুলনায় অনেক কম দামে তেল বিক্রি করে। দীর্ঘ লাইন থাকলেও সময়ের বিনিময়ে এখানে বড় সাশ্রয় সম্ভব। ৪. ক্রেডিট কার্ড ও ক্যাশব্যাক: নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক কার্ডে তেল কেনার ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার থাকে। এছাড়া চেকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিক ডি হান বলেন, "কারও উচিত নয় সরাসরি রিটেইল মূল্যে তেল কেনা। বাজারে সাশ্রয় করার প্রচুর পথ খোলা আছে, শুধু একটু খোঁজ রাখা প্রয়োজন।" আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে ভ্রমণের চাপ বাড়লে তেলের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল এখন ইতিহাসের সবচাইতে কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব ও আকাশছোঁয়া দাম বিমান সংস্থাগুলোকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানি বা কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণ বেড়েছে যা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে। জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে তাদের বেশ কিছু বিমান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা ভাবছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেক সংস্থা লোকসানি রুটগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টি-অ্যাওয়ে এয়ার ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট সহসা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাসেলসের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। তারা বিমানের জ্বালানি কেনায় বিশেষ সরকারি ছাড় এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন কর সাময়িকভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। যুদ্ধের কারণে এই খরচ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক দুর্বল সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের ফলে অনেক ছোট বিমান সংস্থা টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সাথে একীভূত হতে পারে। আমেরিকার বড় দুটি এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা এখন যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয় দুটিই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিটি স্তরে। বিমান চলাচল সংকট, জ্বালানি তেলের দাম, ইরান যুদ্ধ ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আকাশপথের বিপর্যয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে ১ এপ্রিল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে তেহরান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়ে ইরান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, সেখানে এখন তা কমে দিনে মাত্র ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে চালু হয়েছে অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল সিস্টেম ‘ফুয়েল পাস’। আপাতত এই সুবিধা শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও, শীঘ্রই এটি সারাদেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে যেখানে মিলবে এই সুবিধা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই পাইলট প্রকল্পটি বর্তমানে ঢাকার দুটি স্টেশনে কার্যকর করা হয়েছে: তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ও আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশন। এই দুই স্টেশনে সফলতার পর পুরো দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে এই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। এই সিস্টেমটি সরাসরি বিআরটিএ (BRTA)-এর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকবে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত চালকের জন্য একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার সময় এই কোড স্ক্যান করলেই বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন তেল চুরির ভয় থাকবে না, অন্যদিকে সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে পুরো দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। নিবন্ধন করার সহজ ধাপসমূহ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘Fuel Pass’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা সরাসরি fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে নিবন্ধন করে কিউআর কোডটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া: ১. ওয়েবসাইটে বা অ্যাপে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। ২. মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করুন। ৩. একটি পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), গাড়ির ব্লু-বুক বা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সচল ফোন নম্বর ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
বিশ্ব অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন সচল রাখে যে সমুদ্রপথগুলো, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় টালমাটাল বিশ্ববাজার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে কেবল হরমুজ নয়, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র পাঁচটি সরু জলপথ বা 'বটলনেক', যার একটি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট। ১. হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি নাভি পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্তকারী এই পথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৩৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৯ শতাংশ এখান দিয়েই যায়। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় বর্তমানে এই পথটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আইইএ-র মতে, এটি তেলের বাজারে ইতিহাসের বড় সরবরাহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ২. সুয়েজ খাল ও বাবে আল মানদাব: ইউরোপ-এশিয়ার সেতুবন্ধন বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ শতাংশ এবং কন্টেইনার পরিবহনের ২২ শতাংশ হয় সুয়েজ খাল দিয়ে। কিন্তু লোহিত সাগরের প্রবেশপথে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা এই রুটকে অনিরাপদ করে তুলেছে। ফলে ২০২৪ সালে এই পথে জাহাজ চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ৩. মালাক্কা প্রণালি: চীনের 'মালাক্কা ডিলেমা' সিঙ্গাপুরের পাশ দিয়ে যাওয়া এই রুটটি বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। পাইরেসি বা জলদস্যুতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এই সরু জলপথটি। ৪. পানামা খাল: খরা ও আধিপত্যের লড়াই প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা এই খালটি জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। তীব্র খরার কারণে পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল সীমিত করতে হয়েছে। পাশাপাশি এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনপন্থী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ৫. তার্কিশ প্রণালি: বিশ্বের শস্য ভাণ্ডার বসফোরাস ও দার্দেনেলিস প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ গম রপ্তানি হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এই পথটি এখন সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে আটা ও ময়দার দামে আগুন লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য এই অল্প কয়েকটি বিন্দুর ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, যেকোনো একটি পথে দুর্ঘটনা বা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার থমথমে পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ছে না। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা’ অনুসরণ করে নতুন মাসের এই দর ঠিক করা হয়েছে। ফলে এপ্রিলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা, পেট্রোল ১২২ টাকা এবং কেরোসিন ১০৮ টাকা দরেই বিক্রি হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে না। রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হবে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্ধারিত নিয়মে কাজ করবেন। পাম্পের প্রতিদিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে তারা নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। বিপিসি সরাসরি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) প্রতিটি পাম্পের জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেবেন। এদিকে পৃথক এক বার্তায় মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুদ করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল ক্রয় প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।