সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও অজেয় চীনের ‘জ্বালানি দুর্গ’?

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ২০, ২০২৬ ২০:৫৬
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে।


গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল:


১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল।


২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম।


৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।


কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।"


যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।
 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার শর্তে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন। রয়টার্স তাঁর পদত্যাগপত্র দেখে নিশ্চিত করেছে।    সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। তিনি ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডব্লিউএইচওর নিজস্ব নথিতেও তাঁর পাঁচ বছরের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।    তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও নথি জাল করার অভিযোগে মামলা করে। এর পর জুলাই ২০২৫ সালে ডব্লিউএইচও তাঁকে ছুটিতে পাঠায়। পরে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়।   রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, ডব্লিউএইচওর তদন্তে চীনে তাঁর একটি সফরসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তোলা হয়। তবে সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   সায়মার আইনজীবীরা জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে জানান, চীন সফরের অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি ছিল তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুল এবং অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার। শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের ক্ষেত্রেও সায়মার দাবি, তাঁর একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ছিল এবং বিষয়টি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন।   পদত্যাগপত্রে সায়মা লিখেছেন, দায়িত্ব পালনে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের বাধার কারণে তিনি সংস্থাটির নেতৃত্বের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছেন। প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে ডব্লিউএইচও এখন তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, ডিসেম্বরে প্রার্থীদের যাচাই এবং আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংস্থাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সময়সূচি ঘোষণা করেনি।   সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপরও রাজনৈতিক ও আইনি চাপের প্রভাব পড়ার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে এবং তিনি সেগুলো অস্বীকার করেছেন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৭:৫৮
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি, কিনতে পারবেন বিদেশি মুসলিমরাও

নিহত তরুণীর  সোফিয়া ফারুক ছবি: সংগৃহীত

তরুণীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বাবা-ভাইয়ের ক্ষোভ, হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক ব্যর্থ

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন, একজনের মৃত্যুদণ্ড

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে।   ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা।   ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।   চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।   চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে।   বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে।   চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।   ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।   চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর।   সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ০:২
মৃত্যুর সময় লুসিয়া সিসিচের বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ

দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান জব্দের দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাব, বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু

বিশ্বজুড়ে পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহ প্রভাবে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বের ২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লাখ। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে ধূমপানজনিত রোগে মারা যাওয়া আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে এমন অনেক অধূমপায়ীও ছিলেন, যারা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।   ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও ভূখণ্ডে পরোক্ষ ধূমপানের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করতে গবেষণাটি করা হয়েছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের পাবমেড ডাটাবেস এবং জনসংখ্যা জরিপের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হয়।   গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ১৬ লাখ ৬০ হাজার অকালমৃত্যু ঘটেছে। একই সঙ্গে এটি অকাল পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন রোগের কারণ হয়েছে। এসব রোগের মধ্যে হৃদপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে সৃষ্ট ইসকেমিক হার্ট ডিজিজও রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আনুমানিক ৫২ লাখ শিশুর শ্বাসনালির সংক্রমণ হয়েছে।   গবেষণায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধূমপায়ীর কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিরা একই সময়ে দুটি উৎস থেকে ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। এর একটি হলো তামাকজাত পণ্য পোড়ার ফলে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া, যাকে সাইডস্ট্রিম স্মোক বলা হয়। অন্যটি হলো ধূমপায়ীর বুক থেকে বের হওয়া ধোঁয়া। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাইডস্ট্রিম স্মোক বা তামাকজাত পণ্য পোড়ার সরাসরি ধোঁয়াই সাধারণত অধূমপায়ীদের নেওয়া বাতাসের অধিকাংশ অংশজুড়ে থাকে।   এই ধোঁয়া ফিল্টার করা থাকে না। ফলে এতে ধূমপায়ী নিজে যে ধোঁয়া গ্রহণ করেন, তার চেয়েও বেশি ঘনত্বের বিষাক্ত ও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ধূমপান না করেও আশপাশে থাকা মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ ধূমপানের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এর সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা অপরিবর্তিতই রয়েছে। অর্থাৎ ধূমপানের হার কমলেও পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের মোট সংখ্যা একইভাবে কমেনি।   নারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানে পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব বেশি দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরোক্ষ ধূমপানের এই বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে খুব কমই স্বীকার বা আলোকপাত করা হয়।   নারী ও শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের হাত থেকে আরও কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য জনপরিসর এবং বাসাবাড়িতে আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে গবেষণাটি। গবেষণায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসা মানুষের সংখ্যা, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অকালমৃত্যু, শিশুদের শ্বাসনালির সংক্রমণ এবং নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১০:৩৪
ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী

ছাদে কয়েক দিন ধরে শব্দ, ভিডিও চালু করতেই ছাদ ভেঙে ঘরে ঢুকলো নিশাচর প্রাণী

সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

সৌদিতে হুথি হামলায় ৭৩ আহত, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৭

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ৩ হাজার ফ্লাইটে বিঘ্ন, ফের খুলল জাকার্তার বিমানবন্দর

0 Comments