সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জালিয়াত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতির তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করাতে সহায়তা করলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।   তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরস্কারটি শুধু আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, অতীতের নির্বাচনসংক্রান্ত জালিয়াতির তথ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কীভাবে তথ্য জমা দিতে হবে, কোন সংস্থা তা যাচাই করবে এবং পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনেও পুরস্কারের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ, ভোটের নিয়ম কঠোর করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তা সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সমালোচকদের একাংশ এসব পদক্ষেপকে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্বের ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।   ট্রাম্প অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর তিনি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন। তবে তাঁর সেই দাবির পক্ষে ব্যাপক জালিয়াতির এমন প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর অতীতের নির্বাচনী দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বর্তমান ঘোষণার ক্ষেত্রেও অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।   একই দিনে ট্রাম্প ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হওয়ার পর সোমবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনটি তাঁর কাছে কারচুপিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তিনি নির্বাচনের ভোট গণনা ও প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।   ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তাঁর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এই রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সম্পর্ক বা কোনো নেতার বক্তব্য নিজে থেকে নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় না।  যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন এখন শুধু পুরস্কারের ঘোষণা নয়; বরং অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছ হবে এবং তথ্যদাতাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে। কোনো অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত ভোট জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা যায় না। নির্ভরযোগ্য তদন্ত, প্রাসঙ্গিক নথি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হয়।   এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ লাখ ডলারের পুরস্কারের অর্থায়ন, তথ্য জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং পুরস্কার বাছাইয়ের দায়িত্বে কোন কর্তৃপক্ষ থাকবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা নেই। ফলে ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগ ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্তে নতুন পুরস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার, নতুন উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের নতুন পুরস্কার কর্মসূচি চালু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট ধরনের জালিয়াতি বা অপরাধের তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তাকারীরা ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার পেতে পারেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ উদ্যোগের ঘোষণা দেন। ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’ বা ‘হুইপ’ নামের কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থের অপব্যবহার শনাক্ত করা এবং তথ্যদাতাদের পুরস্কার দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।   মার্কিন বিচার বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো পুরস্কার প্রদানের সময়সীমা কমিয়ে আনা। প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তথ্যদাতাদের পুরস্কার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন কর্মসূচিতে তুলনামূলকভাবে দ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, পুরস্কারের পরিমাণ ও তা পাওয়ার সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আরও বেশি মানুষ জালিয়াতির তথ্য জানাতে উৎসাহিত হবেন।   ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধ করা প্রেসিডেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জালিয়াতি বন্ধে সহায়তাকারী ব্যক্তিরাও পুরস্কারের অংশীদার হতে পারবেন বলে জানান তিনি। হোয়াইট হাউসে জালিয়াতিবিরোধী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভ্যান্স। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ডের মতে, সাধারণ মানুষকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং দ্রুত পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা জালিয়াতি শনাক্তে সহায়ক হতে পারে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের পাশাপাশি কৃষি, শ্রম, শিক্ষা, আবাসন, প্রবীণ সেনাসদস্যদের কল্যাণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রশাসনের কিছু সরকারি সুবিধা ও কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দেওয়া যাবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রবীণদের আবাসিক সেবা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা, শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র এবং বিশেষায়িত সেবায় জালিয়াতির তথ্যের ওপর। বিচার বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, তথ্য হতে হবে নির্ভরযোগ্য, সুনির্দিষ্ট ও নতুন। তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠিত হলে তথ্যদাতা ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। তবে পুরস্কার দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষমতা বিচার বিভাগের হাতে থাকবে।       এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ১০ হাজার ডলারের পুরস্কার পাওয়ার কথা রয়েছে নিক শার্লি নামের এক অনলাইন ভিডিও নির্মাতার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনেসোটায় শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রগুলোতে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে গত বছর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন ওই ভিডিওকে জালিয়াতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ভিডিওতে যেসব কেন্দ্রের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলোর কয়েকটি পরিদর্শন করে পরিদর্শকেরা স্বাভাবিক কার্যক্রম চলার তথ্য পেয়েছিলেন বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।       এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় ফাহিমা মাহামুদ নামের এক নারী গত জুলাইয়ে তার শিশু দিবাযত্নকেন্দ্রে শিশুদের খাবারের জন্য সরকারি অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবিতে অতিরঞ্জিত হিসাব দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে তারবার্তার মাধ্যমে জালিয়াতি এবং সরকারকে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ছিল। তবে একটি মামলায় দোষ স্বীকারের তথ্য দিয়ে ভিডিওতে উত্থাপিত সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নতুন কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট ধরনের জালিয়াতির তথ্য দিতে উৎসাহিত করছে মার্কিন বিচার বিভাগ।       সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিউইয়র্কের একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এফবিআইয়ের তল্লাশি, তদন্তের কেন্দ্রে মেডিকেইড জালিয়াতি

নিউইয়র্কে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডকে ঘিরে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো অভিযানকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত বলে উল্লেখ করেছে।   নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম এবিসি সেভেন ও সিবিএস নিউইয়র্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রুকলিনের বরো পার্ক এলাকায় একটি প্রাপ্তবয়স্কদের দিবাযত্নকেন্দ্রেও তদন্তকারীদের দেখা যায়। এফবিআই জানিয়েছে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সংস্থাটি প্রাথমিক বিবৃতিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা এমন কিছু সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছেন, যাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক সুবিধা দেওয়া, অনিয়মিত বিল জমা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তাধীন সব প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বরোপার্ক টোয়েন্টি ফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তটি একাধিক মাস ধরে চলেছে এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে ১০০টিরও বেশি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। অভিযানে এফবিআইয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিকেইড জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষসহ যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহনে সহায়তাকারী সরকারি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অর্থ থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান সেবা না দিয়েও বিল জমা দিলে, ভুয়া তথ্য ব্যবহার করলে কিংবা রোগী বা গ্রাহকদের অবৈধ অর্থ দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করলে তা সম্ভাব্য জালিয়াতি হিসেবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে।   নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের নজরদারি অবশ্য নতুন নয়। গত ২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ব্রুকলিনের একটি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্র ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার মালিক আহসান ইজাজ প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোতে প্রায় সাত বছর ধরে সেবা দেওয়া হয়নি—এমন দাবিতেও বিল জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। এটি বর্তমান অভিযানের সঙ্গে একই মামলা—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   চলমান অভিযানে কতজনকে আটক করা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কিংবা তল্লাশিতে কী কী নথি ও আলামত জব্দ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রকাশ্য প্রতিবেদনে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ হতে পারে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
সরকারি জালিয়াতির তথ্য দিলেই মিলবে ৩০ হাজার ডলার! নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরকারি অর্থের জালিয়াতি শনাক্ত করতে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি কর্মসূচিতে সন্দেহজনক জালিয়াতির তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার পেতে পারেন।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচিটির নাম ‘ফ্রড হুইসেলব্লোয়ার ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম’। বিচার বিভাগ এটি পরিচালনা করবে। fraud.gov ওয়েবসাইটে জমা দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া বা বড় ধরনের আইন প্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তথ্যদাতা পুরস্কারের যোগ্য হতে পারেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে শুধু অভিযোগ জমা দিলেই পুরস্কার পাওয়া যাবে না; তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।    এই কর্মসূচি সরকারি অনুদান, সুবিধা ও অর্থায়ন ব্যবস্থায় জালিয়াতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসেছে। তবে বাস্তবে কতটি মামলা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে এবং কতজন পুরস্কার পাবেন, তা এখনো জানা যায়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫
যুক্তরাষ্ট্রে হামাসে অর্থায়ন ও মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের গ্রেফতার ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডে দুই লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে হামাসের অর্থায়নে জড়িত একটি নেটওয়ার্কে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ এলাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিলের কার্যালয়।   লুইজিয়ানা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ৩৫ বছর বয়সী আবদেল আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৯ বছর বয়সী ইমান এইচ ডি স্রুর, ৩৩ বছর বয়সী ওমর আদহামি, তাঁর স্ত্রী ২৮ বছর বয়সী আমানি আবু জেনাহ এবং দুই ভাইয়ের ছোট ভাই ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ আই আদহামি। তাঁরা লুইজিয়ানার কভিংটন এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর পাঁচজনকেই সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ জেলে নেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফবিআইয়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ের যৌথ তদন্তে দুই ভাই আবদেল ও ওমরের বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের দাবি, নেটওয়ার্কটি হামাসের সহায়তায় ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করেছে। এর মধ্যে ওই দুই ভাই এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে সংগঠনটির জন্য জেনেশুনে অর্থ বা অন্যান্য বস্তুগত সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে গুরুতর অপরাধ। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অর্থায়নসংক্রান্ত অভিযোগ ফেডারেল পর্যায়ে আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   অর্থায়নের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের মেডিকেইড সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং লুইজিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ যৌথভাবে তাঁদের আয় ও সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা গ্রহণের তথ্য পর্যালোচনা করে।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে মেডিকেইডের সুবিধা নিয়েছেন। এভাবে সরকারি কর্মসূচি থেকে মোট দুই লাখ ২৪ হাজার ৬৪০ ডলারের সুবিধা অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত আয় সঠিকভাবে জানানো হলে তাঁরা এসব সুবিধার সবটুকু পাওয়ার যোগ্য হতেন না।   মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারসহ যোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। এই কর্মসূচিতে আবেদন ও যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া হলে তা সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির আওতায় পড়তে পারে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত আবদেল আদহামি ও তাঁর স্ত্রী ইমান স্রুরের বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির পাঁচটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মেডিকেইড কর্মসূচির আনুমানিক এক লাখ ১৩ হাজার ৩৪৪ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে।   অন্যদিকে ওমর আদহামি ও তাঁর স্ত্রী আমানি আবু জেনাহর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের হিসাবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৮১ হাজার ৯৯ ডলার।   পরিবারের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আই আদহামির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির তিনটি এবং ২৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ চুরির একটি অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের হিসাবে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ফলে মেডিকেইড কর্মসূচির ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৭ ডলার।   অন্যদিকে ফেডারেল বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাসে অর্থায়নের অভিযোগে আবদেল আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ৯৪ হাজার ডলার এবং ওমর আদহামির বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ডলার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব অর্থ পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ সংগ্রহের নেটওয়ার্কটির কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে সালিম আলজাক নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সংগ্রহের নামে অর্থ তুলতেন। তবে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ হামাসের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ফ্রান্সেও তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে লুইজিয়ানার অ্যাটর্নি জেনারেল লিজ মুরিল সরকারি বেনিফিট জালিয়াতির অভিযোগকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লুইজিয়ানার করদাতাদের অর্থ থেকে পরিচালিত কর্মসূচিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, তাঁর কার্যালয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে স্টেটের করদাতাদের জন্য আট কোটি ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।   তবে এ মামলায় দুটি পৃথক অভিযোগের বিষয় স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। হামাসের জন্য অর্থায়নের অভিযোগ মূলত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে তদন্ত ও বিচারের বিষয়। অন্যদিকে মেডিকেইডে আয়সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ের মামলা। মেডিকেইডের অর্থ সরাসরি হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক যোগসূত্র কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।   পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় লুইজিয়ানা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই, সেন্ট ট্যামানি প্যারিশ শেরিফ অফিস, হ্যামন্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, ম্যান্ডেভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। মেডিকেইড জালিয়াতির অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় স্টেটের পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন সেন্ট ট্যামানি প্যারিশের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলিন সিমস।   ফেডারেল পর্যায়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া, এ ধরনের সহায়তার ষড়যন্ত্র, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকলেই অভিযুক্তদের সেই সাজা হবে, এমন নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর শাস্তি নির্ভর করবে।   লুইজিয়ানার এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থায়ন নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে অভিযুক্ত পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   সূত্র: বাফলো প্রতিদিন

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধার অর্থ নিয়ে জা লি য়া তির বিরুদ্ধে কঠোর শা স্তির প্রস্তাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
আমেরিকানদের সঙ্গে জা লি য়া তি ঠেকাতে কঠোর ট্রাম্প, ফাঁ কি দিলেই দীর্ঘ জে ল

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না।   ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।   শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।   মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।   ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল।   মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা।   তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে।   ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মিশিগানে গ্রেপ্তার

মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ভারতীয় নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ভারতীয় নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয় (এইচএইচএস-ওআইজি) ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জেনেটিক টেস্ট জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদের খান মোহাম্মদকে খুঁজছে। ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদের সম্ভাব্য অবস্থান ভারতের হায়দরাবাদ বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।    কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোহাম্মদ মেডিকেয়ারের কাছে জেনেটিক পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক ক্লেইম জমা দেওয়ার একটি পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। এসব পরীক্ষার অনেকগুলো অনুমোদিত চিকিৎসক অর্ডার করেননি এবং রোগীদের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।    অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মোহাম্মদ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তাদের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে জেনেটিক টেস্টের ক্লেইম জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এইচএইচএস-ওআইজি। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেডিকেয়ার রোগীদের কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্পর্কও ছিল না।    মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবসের মালিক ছিলেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার ক্লেইম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেডিকেয়ার অন্তত ৬৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    শুধু ২০২৩ সালের একটি ১০ দিনের সময়েই সন্দেহজনক এসব ক্লেইমের বিপরীতে মেডিকেয়ার প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার জব্দ করা হয়েছিল।    ২০২৫ সালে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে হেলথ কেয়ার ফ্রডের অভিযোগে ফেডারেল ইনডাইটমেন্ট দাখিল করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ তখন জানিয়েছিল, জেনেটিক টেস্টের নামে এমন বিল জমা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল না, যথাযথভাবে অর্ডার করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাগুলো আদৌ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।    বর্তমানে এইচএইচএস-ওআইজির মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মোহাম্মদের নাম রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে ভারতের হায়দরাবাদের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাকে শনাক্ত বা তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।    তবে মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মার্কিন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, অভিযোগ কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।   পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।   তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।   কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।   কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।   কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি তদন্তে বড় অভিযান, ক্যালিফোর্নিয়াসহ টার্গেটে ৯ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বড় ধরনের ফেডারেল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস - এইচএসআই। ক্যালিফোর্নিয়াসহ মোট ৯টি অঙ্গরাজ্যকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।   তদন্তের আওতায় থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো হলো - ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, ওয়াশিংটন, নেভাদা, উইসকনসিন ও মিসৌরি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে এসব অঙ্গরাজ্যে ভোটসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তদন্তমূলক কার্যক্রম জোরদার করবে এইচএসআই। ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছেন। তার প্রশাসনের অধীনে নির্বাচনী নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এরই মধ্যে ভোটসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ফেডারেল তদন্ত জোরদার হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের তদন্তে তৎপরতা বাড়িয়েছেন।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হন্ডুরাসের নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন - এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।   নতুন এই বহুরাজ্যভিত্তিক উদ্যোগে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলা করার জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হয়েছে - এমন দাবির পক্ষে বড় ধরনের প্রমাণ নেই বলে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিস্তৃত তদন্ত উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে।   সূত্র - WTTW, ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও মার্কিন বিচার বিভাগ

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮.১ মিলিয়ন বা ৮১ লাখ ডলারের এক বিশাল চেক জালিয়াতির অভিযোগে অ্যাডা উইলিয়াম ওবায়ুয়ানা নামের এক উদীয়মান র‍্যাপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "কোল্ডহার্টেডএসি" (ColdheartedAC) এবং "এসি" (AC) নামে পরিচিত এই র‍্যাপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই চক্রটি আট মিলিয়নেরও বেশি মূল্যের অন্তত ৫০টি চুরি যাওয়া ইউএস ট্রেজারি চেক নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করেছিল।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওবায়ুয়ানা এবং তার দুই সহযোগী—ওয়েস্টমিনস্টারের অ্যালবার্ট টাই ভু (২৮) এবং সান দিয়েগোর ক্যাসান্দ্রা মারি মুরিলো (৩১)—চুরি করা চেকগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোতে নকল স্বাক্ষর, নাম এবং ঠিকানা বসিয়ে জালিয়াতি করত।   এই চক্রটি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্যের আদলে নকল ব্যবসায়িক নথিপত্র তৈরি করত। পরবর্তীতে চুরি করা সেই অর্থ লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ এবং সান দিয়েগো কাউন্টির বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে জমা করা হতো।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওবায়ুয়ানা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১০৯ ডলার মূল্যের অন্তত তিনটি ট্রেজারি ট্যাক্স রিফান্ডের চেক ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে তিনি একটি চেক সফলভাবে ভাঙিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ১০৯ ডলার তুলেও নেন।   বিচার বিভাগ আরও জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওশানসাইডে ওবায়ুয়ানার গাড়ি থেকে ৬.১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০টিরও বেশি চুরি করা ও জাল চেক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ট্যাক্স রিফান্ড, প্রবীণ ভাতা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা সংক্রান্ত ২.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুরি করা ইউএস ট্রেজারি চেক ছিল। তার দখলে থাকা এই চেকগুলোর মধ্যে ৮টি সফলভাবে ভাঙিয়ে মোট ১.৭ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল।   গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ওবায়ুয়ানাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ফেডারেল কাস্টডিতে রয়েছেন এবং শুক্রবার তার রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই র‍্যাপারের বিরুদ্ধে নয়টি ব্যাংক জালিয়াতি, তিনটি চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ এবং একটি গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।   এছাড়া তার সহযোগী ভু-এর বিরুদ্ধে চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ, অর্থ পাচার এবং পরিচয় চুরির মোট ১১টি এবং মুরিলোর বিরুদ্ধে একটি চেক চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ওসমান সাইদ ছবি:সংগৃহীত
৭৯ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেল জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ওসমান সাইদকে খুঁজছে এফবিআই

টেক্সাসের একটি মেডিকেল ল্যাবের মালিক ও অপারেটর ওসমান সাইদের বিরুদ্ধে ৭৯ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তার অজান্তে ব্যবহার করে মেডিকেয়ার ও টেক্সাস মেডিকেইডে বিপুল পরিমাণ ভুয়া মেডিকেল টেস্টের ক্লেইম জমা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইদের প্রতিষ্ঠান বায়োডিএক্স ল্যাবস এলএলসি শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত রেসপিরেটরি প্যাথোজেন প্যানেল বা আরপিপি টেস্টের নামে ৭৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্লেইম জমা দেয়। এসব পরীক্ষার কিছু করা হয়নি এবং অনেক পরীক্ষাই চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না বলে অভিযোগ করেছে সরকার।   অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইদ এমন এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেন, যিনি সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসা করেননি এবং তাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার জন্য কোনো চিকিৎসা দেননি। চিকিৎসকের অনুমতি বা জ্ঞান ছাড়াই তার তথ্য ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলারের ক্লেইম জমা দেওয়া হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   জালিয়াতি আড়াল করতে বায়োডিএক্স ল্যাবস পরীক্ষাগুলো অন্য রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন করিয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সাইদ ও তার সহযোগীরা জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া অর্থের বড় অংশ বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে অর্থ পাচার করেন বলে জানিয়েছে সরকার। এসব অর্থ চীন, হংকং, তুরস্ক, গ্রিস ও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের কথা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই মামলার তদন্তে সরকার ১৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি নগদ অর্থ জব্দ করেছে। সাইদের বিরুদ্ধে তিনটি হেলথ কেয়ার ফ্রড, অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের একটি এবং মানি লন্ডারিংয়ের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইদ ২০২৪ সালে পালিয়ে যান এবং তাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনের চোখে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় কথিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক জালিয়াতির মামলায় অভিযুক্ত একই পরিবারের সদস্য। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ দেখিয়ে ধরা পড়ল ৯৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, অভিযুক্ত একই পরিবারের ৬ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে একটি ছোট প্যারালিগ্যাল অফিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের কথিত নির্মাণ-খাতের জালিয়াতি ও অর্থপাচার চক্রের অভিযোগে একই পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজন এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ করার তথ্য দেখিয়েছিলেন, যদিও একটি সপ্তাহে মোট সময়ই ১৬৮ ঘণ্টা। এই অসঙ্গতিসহ একাধিক প্রমাণ থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ মিলিটারি ট্রেইলে অবস্থিত ‘এমএলএস প্যারালিগ্যাল সার্ভিসেস’ নামের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে ১০টি ভুয়া নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ (Workers’ Compensation) বীমার জাল সনদ ব্যবহার এবং লাইসেন্স ছাড়া চেক নগদায়নের মাধ্যমে বড় পরিসরে আর্থিক জালিয়াতি চালানো হতো।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই চক্রের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫১ ডলারেরও বেশি মূল্যের পে-রোল চেক প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বীমা আবেদন করে সংগৃহীত সনদপত্র বীমাবিহীন ঠিকাদারদের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো, যাতে তারা শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বীমার নিয়ম এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।     তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে নিজেদের নজরদারিতে রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। তারা একটি অচিহ্নিত গাড়িকে ঘিরে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে থাকা ব্যক্তিরাই ছিলেন গোপন অভিযানে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ঘটনাই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।     মামলাটি যৌথভাবে তদন্ত করেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের অফিস এবং ব্রাওয়ার্ড শেরিফের অফিসের মানি লন্ডারিং টাস্কফোর্স। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থপাচার, বীমা জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ, জাল টিকিট কাণ্ডে আটক ৮ দর্শক

মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিস এবং মিয়ামি পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুইটওয়াটারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ডেলফিনা দেগুই স্টেডিয়ামের গেট খোলার আগেই অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন।   অন্যদিকে, জেফারসন হনোরিও দা সিলভা (৪১) নামের এক ব্যক্তি জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং একটি গেট জোরপূর্বক খুলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।   বিনা টিকিটে নিরাপত্তাবেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন মিয়ামি বিচ এলাকার ২১ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়ান ক্যাপোটে গার্সিয়া। একটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে আসা নিকোলাস পিনো এবং হুলিয়ান দাউদ নামের আরও দুই সমর্থককে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হওয়ার পর আটকে দেয় পুলিশ।   এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ব্যক্তি, ৩৫ বছর বয়সী নিকোলাস রিকের বিরুদ্ধে দুটি লঘু অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে প্রথমে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দিলে এবং বিরূপ আচরণ করলে শেষ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেয়ার জালিয়াতি। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেয়ার জালিয়াতি, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মেডিকেয়ার ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড, ফেডারেল কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুবিধা কর্মসূচি (এফইএইচবিপি) এবং বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেসন এ. রেডিং কিনিওনেস এক বিবৃতিতে জানান, মামলাগুলো বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন অভিযানের অংশ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না—এমন চিকিৎসাসামগ্রী, ক্ষত চিকিৎসার বিশেষ পণ্য, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার নামে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে জমা দেওয়া হয়েছে।   অভিযোগে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নামে এমন চিকিৎসা ও পরীক্ষার বিল করা হয়েছে, যা বাস্তবে তারা গ্রহণ করেননি। আবার কোথাও রোগী ও বিপণনকারীদের অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা কমিশন দিয়ে এসব ভুয়া দাবি দাখিল করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিপুল অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি প্রকৃত রোগীদের জন্য বরাদ্দ সম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে এই প্রতারণার কিছু অংশে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, প্রতারণার নেটওয়ার্কের কিছু কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের ব্যক্তি বা সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত অথবা সমন্বিত হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন দেশ বা কোন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এতে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, বরং রোগীদের নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় পণ্য বা সেবা রোগীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, ভুয়া পরীক্ষার বিল করা এবং স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির অর্থ অপব্যবহার—এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ।   ডিওজে জানিয়েছে, ফ্লোরিডার এই মামলাগুলো দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন অভিযানের অংশ। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   এদিকে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিল, দাবি এবং নোটিশ নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনো চিকিৎসা বা সেবার বিল নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মেডিকেয়ারে জালিয়াতির টাকায় সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট, ফেরারি ও হীরার গহনা; অভিযুক্ত নার্স প্র্যাকটিশনার

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না।   তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন।   তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে।   একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়।   এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত।   বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ l ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা অনুদানে জালিয়াতি ঠেকিয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ (ইডি) জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে কঠোর পরিচয়-যাচাইকরণ বা আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশনের নতুন নিয়ম চালু করার পর থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার প্রতারকদের হাতে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে। দেশব্যাপী জালিয়াতি প্রতিরোধের এই উদ্যোগে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আবেদনকারীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড বা সরকারি শিক্ষার্থী সহায়তার জন্য আবেদনের সময় সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   শিক্ষা বিভাগের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি এবং ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড চিফ অপারেটিং অফিসার জেমস বার্জারন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, নিয়মটি চালু করার পর থেকে তারা প্রতারকদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ যাওয়া ঠেকাতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের নতুন জালিয়াতি শনাক্তকরণ টুলটি 'ফাফসা' (FAFSA - ফ্রি অ্যাপ্লিকেশন ফর ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড) ফর্মের শুরুতেই কাজ করে। এটি অর্থ ছাড় হওয়ার আগেই প্রক্রিয়ার শুরুতেই জালিয়াতি আটকে দেয়, যা টাস্কফোর্সের একটি বড় অগ্রাধিকার।   চলতি বসন্তে শিক্ষা বিভাগ সরাসরি অনলাইন ফাফসা অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমে রিয়েল-টাইম এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এর আগে বিভাগের এক ঘোষণায় বলা হয়, জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এখন সরাসরি ফাফসার ভেতরেই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি আবেদনকারীকে রিয়েল-টাইমে ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।   যেসব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জালিয়াতির ঝুঁকি দেখা যাবে, তাদের পেল গ্রান্ট এবং ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের মতো সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার-প্রদত্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, এই টুলটি বর্তমান ফাফসা চক্রের সময় করদাতাদের ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় করবে। বিভাগের মতে, এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন সময়ের একটি প্রয়োজনীয় সংশোধন।   সেসময় পূর্ববর্তী বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন যাচাইকরণের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো শিথিল করেছিল। বিভাগের দাবি, পূর্ববর্তী ওই নীতিমালার কারণে জালিয়াতি প্রতিরোধের বদলে অন্যান্য দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে ফাফসা জমা দেওয়ার পরে মাত্র ১ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই করা হতো।   নতুন এই উন্নত জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিক ও জটিল সব প্রতারণা রুখতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত বট এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত ঋণ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অসাধু চক্রের তৈরি করা ভুয়া পরিচয় বা 'ঘোস্ট স্টুডেন্টদের' অবরুদ্ধ করে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকম্যাহন সমস্ত শিক্ষার্থী সহায়তা কর্মসূচির একটি ব্যাপক পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন বা সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাথে রিয়েল-টাইম ডেটা-শেয়ারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করেন। শুধুমাত্র এই ডেটা-শেয়ারিং উদ্যোগটির মাধ্যমেই মৃত ব্যক্তিদের নামে অর্থ ছাড় রোধ করে এবং পরিচয় চুরি ধরে করদাতাদের প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।   বার্জারন বিষয়টি সম্পর্কে আরও বলেন, আমেরিকান নাগরিকদের গাড়ি চালানো বা বিমানে ওঠার জন্য আইডি দেখাতে হয়। তাই উচ্চশিক্ষার জন্য করদাতাদের দেওয়া হাজার হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার আগে মানুষের পরিচয় যাচাই করাটাই যৌক্তিক।   নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে শিক্ষা বিভাগ মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথেও অংশীদারিত্ব করেছে, যাতে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তহবিল কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীদের হাতে না পৌঁছায়। সংস্থার তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে এবং শুধু সেখান থেকেই আটকে দেওয়া তহবিলের পরিমাণ ছিল ১৭১ মিলিয়ন ডলার।   ঐতিহাসিকভাবে ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজ সিস্টেমের অভ্যন্তরে ঘোস্ট স্টুডেন্টদের কারণে ফেডারেল এবং স্টেট এইডের লাখ লাখ ডলার বেহাত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সেখানে আশঙ্কাজনক হারে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা দেখা গেছে। প্রাথমিক আবেদন যাচাইকরণের পাশাপাশি, শিক্ষা বিভাগ বিভিন্ন বাহ্যিক ডিজিটাল প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটগুলোর দিকেও কড়া নজর রাখছে। বিভাগটি সম্প্রতি আপডেট করা অনলাইন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে 'ভুয়া কলেজ ওয়েবসাইটগুলো' সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এই সাইটগুলো মূলত এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ব্যবহার করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতি l ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ৪০ লাখ ডলারের মেডিক্যাইড জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত আটলান্টার চিকিৎসক

যুক্তরাষ্ট্রের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী এক বিশাল অভিযানের অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নতুন করে মেডিক্যাইড প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আটলান্টার এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন এবং একটি সাইকিয়াট্রিক ক্লিনিকের সঙ্গে আলাদা দেওয়ানি নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করেন।   এই পদক্ষেপটি মার্কিন বিচার বিভাগের 'ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন'-এর অংশ। দেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন (৬৫০ কোটি) ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে বহু চিকিৎসক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চিকিৎসা পেশাদার রয়েছেন।   এই জালিয়াতির অন্যতম বড় ঘটনায় আটলান্টার ৫২ বছর বয়সী চিকিৎসক মুরেল রুটলেজ জুনিয়রের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ইস্ট পয়েন্ট এলাকায় 'রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোগীদের এমন সব চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে জর্জিয়া মেডিক্যাইডের কাছে হাজার হাজার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে কখনোই দেওয়া হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, ক্ষতস্থান পরিচর্যা, অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং সাইকোথেরাপির মতো সেবার কথা বলে ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি ভুয়া বিল করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে তিনি অবৈধভাবে মেডিক্যাইড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিক্যাইড ফ্রড অ্যান্ড পেশেন্ট প্রোটেকশন ডিভিশনসহ একাধিক ফেডারেল ও স্টেট সংস্থা যৌথভাবে এই তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত রুটলেজকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় 'অ্যাভ্যান্ট ইন্টারভেনশনাল সাইকিয়াট্রি' এবং ড. ওকাহ অ্যানিওকউ-এর সঙ্গে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তি বা সেটেলমেন্টের ঘোষণাও দিয়েছে। রাজ্য তদন্তকারীদের অভিযোগ, ড. অ্যানিওকউ নিজে সেবা দিয়েছেন দেখিয়ে মেডিক্যাইডের কাছে বিল জমা দেওয়া হলেও, বাস্তবে কিছু সেবা অন্যান্য কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা হয়েছিল।   এসব কর্মীদের অনেকেরই মেডিক্যাইড প্রোভাইডার হিসেবে লাইসেন্স বা অন্তর্ভুক্তি ছিল না। যদিও এই নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি, তবে একজন সাধারণ নাগরিক এবং জর্জিয়ার একটি কেয়ার ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়।   জর্জিয়ার এই ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চলা এ বছরের সর্ববৃহৎ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, এই প্রতারণা চক্রগুলো অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, বেআইনি কমিশন এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত মেডিকেয়ার ও মেডিক্যাইড কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। টেক্সাসে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি এবং মানব টিস্যু গ্রাফট সংক্রান্ত আরেকটি মাল্টিবিলিয়ন ডলারের প্রতারণার ঘটনাও এই অভিযানের মাধ্যমে সামনে এসেছে।   ২০০৭ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের 'হেলথ কেয়ার ফ্রড স্ট্রাইক ফোর্স' গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০০ জনেরও বেশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল জমার মামলা হয়েছে। জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাইডের অর্থ সুরক্ষিত রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এই খাতে দুর্নীতি রোধে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।   হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।   মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের জালিয়াতি, ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচির নামে ভুয়া বিল, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঘুষভিত্তিক রোগী রেফারেল এবং জাল চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, দামি গয়না, প্রাসাদোপম বাড়ি, শিল্পকর্ম, ব্যক্তিগত নৌযান ও বিদেশি সম্পত্তি কেনায়।   মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যৌথ ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের অভিযান বলে উল্লেখ করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের বড় অংশ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।   সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে টেক্সাসের এক নার্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলার বা ৯০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি উত্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টিস্যু গ্রাফট প্রয়োগ করে মেডিকেয়ারের কাছে প্রতি রোগীর জন্য বিপুল অঙ্কের বিল জমা দেন।   অভিযুক্ত মারিজেল ইউকি নামে ওই নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৯৭ মিলিয়ন ডলার আদায় করতে সক্ষম হন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি, গয়না ও স্থাবর সম্পত্তি কেনেন। এমনকি ফিলিপাইনে প্রায় ৪৬ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্টও নির্মাণ করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় কর্তৃপক্ষ তার ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৩ কোটি ডলার, কয়েক লাখ ডলার নগদ অর্থ, একটি বিলাসবহুল ফেরারি, আরও কয়েকটি দামি গাড়ি এবং উচ্চমূল্যের গয়না জব্দ করেছে।   অন্য এক মামলায় চিকিৎসা পণ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ কমিশন ও ঘুষভিত্তিক বিপণনের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, রোগীদের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বহুল ক্ষত চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহারে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করা হতো। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিল জমা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ৬১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে আরেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি প্রতিদিন শত শত ঘণ্টার কাউন্সেলিং ও থেরাপি সেবার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে প্রদান করা সম্ভব ছিল না।   অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা এত কম ছিল যে তারা ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও ওই পরিমাণ সেবা দেওয়া সম্ভব হতো না। তবুও প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের দাবি উত্থাপন করা হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায় করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই অর্থের বড় অংশ বিনিয়োগ, বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা, সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে।   টেক্সাসের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের হৃদরোগ পরীক্ষা করে প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিল জমা দেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই স্বাভাবিক বলে অনুমোদন দেন। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার রিপোর্টে সম্ভাব্য হৃদরোগের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে স্বাভাবিক বলে ঘোষণা করা হয়। মাত্র ২৪ দিন পর বাস্কেটবল অনুশীলনের সময় ওই শিক্ষার্থী হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।   তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক একই ধরনের অনুমোদন দেওয়া অব্যাহত রাখেন। ফ্লোরিডার আরেক বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলারের ভুয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠান এমন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ক্ষত পরিচর্যা সামগ্রীর বিল করেছে, যা বাস্তবে কখনো সরবরাহই করা হয়নি।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রায় ৫৭ লাখ ডলার পেয়েছিলেন এবং পরে সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে স্থানান্তর করেন। তদন্ত শুরুর পর তিনি দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সাইপ্রাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার অপচয় ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। তবে এবারের অভিযান আকার ও অর্থের পরিমাণের দিক থেকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
মেডিকেড জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ৩৩০ হাজার ডলার জরিমানা ও কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের এক ব্যক্তি মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং কারাদণ্ড ভোগ করতে আদেশ পেয়েছেন।   অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অ্যাভেরিল জনসন। তিনি টাকার এলাকায় তার একটি ল্যাবের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে সরকারি মেডিকেড কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।   প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, জনসন তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সেন্টার এলএলসি ব্যবহার করে মিথ্যা রোগীর নথি তৈরি করেন এবং দুই চিকিৎসকের পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে ভুয়া পরীক্ষার আদেশ দেখান। এসব পরীক্ষার জন্য মেডিকেড প্রতি দাবি হিসেবে প্রায় ১,৯৮৮ ডলার ৬৯ সেন্ট করে পরিশোধ করত।   তদন্তে জানা যায়, কোনো রোগীই এই পরীক্ষার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নার্স একটি হটলাইনে অভিযোগ জানান। এরপর জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জালিয়াতির প্রমাণ পায়।   ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক গ্রেগরি অ্যাডামস মঙ্গলবার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। রায়ে জনসনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষে। পাশাপাশি তাকে ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।   জর্জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানিয়েছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দমনে চলমান অভিযানের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের আরেকটি জালিয়াতি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার বলেন, জিনগত পরীক্ষার নামে এ ধরনের প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বাড়ছে এবং করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা করদাতাদের টাকা চুরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০