যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের জালিয়াতি, ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৯০ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচির নামে ভুয়া বিল, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঘুষভিত্তিক রোগী রেফারেল এবং জাল চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব অর্থের একটি অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি, দামি গয়না, প্রাসাদোপম বাড়ি, শিল্পকর্ম, ব্যক্তিগত নৌযান ও বিদেশি সম্পত্তি কেনায়।
মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যৌথ ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের অভিযান বলে উল্লেখ করেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে তদন্ত চালানো হয়। তদন্তে উঠে আসে, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তার জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থের বড় অংশ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে টেক্সাসের এক নার্সের বিরুদ্ধে প্রায় ৯০৬ মিলিয়ন ডলার বা ৯০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি উত্থাপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টিস্যু গ্রাফট প্রয়োগ করে মেডিকেয়ারের কাছে প্রতি রোগীর জন্য বিপুল অঙ্কের বিল জমা দেন।
অভিযুক্ত মারিজেল ইউকি নামে ওই নার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২৯৭ মিলিয়ন ডলার আদায় করতে সক্ষম হন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি, গয়না ও স্থাবর সম্পত্তি কেনেন। এমনকি ফিলিপাইনে প্রায় ৪৬ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্টও নির্মাণ করেন।
তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় কর্তৃপক্ষ তার ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৩ কোটি ডলার, কয়েক লাখ ডলার নগদ অর্থ, একটি বিলাসবহুল ফেরারি, আরও কয়েকটি দামি গাড়ি এবং উচ্চমূল্যের গয়না জব্দ করেছে।
অন্য এক মামলায় চিকিৎসা পণ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ কমিশন ও ঘুষভিত্তিক বিপণনের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, রোগীদের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও ব্যয়বহুল ক্ষত চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহারে চিকিৎসকদের উৎসাহিত করা হতো। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিল জমা দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ৬১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে আরেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি প্রতিদিন শত শত ঘণ্টার কাউন্সেলিং ও থেরাপি সেবার বিল জমা দিয়েছেন, যা বাস্তবে প্রদান করা সম্ভব ছিল না।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা এত কম ছিল যে তারা ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও ওই পরিমাণ সেবা দেওয়া সম্ভব হতো না। তবুও প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের দাবি উত্থাপন করা হয় এবং এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায় করা হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই অর্থের বড় অংশ বিনিয়োগ, বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা, সম্পত্তি ক্রয় এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে।
টেক্সাসের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ক্রীড়াবিদদের হৃদরোগ পরীক্ষা করে প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিল জমা দেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই স্বাভাবিক বলে অনুমোদন দেন।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার রিপোর্টে সম্ভাব্য হৃদরোগের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও সেটিকে স্বাভাবিক বলে ঘোষণা করা হয়। মাত্র ২৪ দিন পর বাস্কেটবল অনুশীলনের সময় ওই শিক্ষার্থী হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক একই ধরনের অনুমোদন দেওয়া অব্যাহত রাখেন।
ফ্লোরিডার আরেক বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলারের ভুয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠান এমন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ক্ষত পরিচর্যা সামগ্রীর বিল করেছে, যা বাস্তবে কখনো সরবরাহই করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রায় ৫৭ লাখ ডলার পেয়েছিলেন এবং পরে সেই অর্থের একটি অংশ বিদেশে স্থানান্তর করেন। তদন্ত শুরুর পর তিনি দেশ ছাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সাইপ্রাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার অপচয় ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। তবে এবারের অভিযান আকার ও অর্থের পরিমাণের দিক থেকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে সবাই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস বা চিকিৎসা সরঞ্জাম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বয়স্ক নাগরিকদের মেডিকেয়ার নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। পরে চুরি করা নম্বর ব্যবহার করে এমন চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল জমা দেওয়া হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো অর্ডার করেননি। এতে মেডিকেয়ারের সুবিধা ব্যবহারের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার নথিতেও ভুয়া তথ্য যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিটের এক প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রতারণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে ৭২ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। ফোনে এক নারী তাঁকে জানান, মেডিকেয়ারের আওতায় বিনা মূল্যে হাঁটুর ব্রেস পাওয়া যাবে। শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মেডিকেয়ার নম্বর প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ওই নারী বিশ্বাস করে নিজের কার্ডের ১১ অক্ষরের নম্বর জানিয়ে দেন। কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর বাড়ির সামনে এমন একটি হাঁটুর ব্রেস পৌঁছে যায়, যা তিনি কখনো অর্ডার করেননি। পরে মেডিকেয়ারের বিবরণীতে এমন একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়, যেটির সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় নেই। তাঁর নামে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিলও জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবেই ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া বিল তৈরির ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার বড় উদাহরণ হিসেবে ২০১৯ সালের একটি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে বছরের এপ্রিলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা প্রায় ১২০ কোটি ডলারের একটি কথিত প্রতারণা পরিকল্পনার অভিযোগে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তদন্তে বলা হয়, ফিলিপাইন ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন কল সেন্টার থেকে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ফোন করে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হতো। এরপর টেলিমেডিসিন প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসকদের অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করাত এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেডিকেয়ারের কাছে প্রতিটি ব্রেসের জন্য প্রায় ৫০০ থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত বিল জমা দিত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সুবিধাভোগীদের চুরি করা মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করা হতো। মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে হাঁটুর ব্রেস, ওয়াকার ও হুইলচেয়ারের মতো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সরঞ্জামের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতারণার আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য যুক্ত হওয়া। কোনো ব্যক্তির নামে আগে থেকেই একটি ব্রেস সরবরাহের দাবি জমা থাকলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের চিকিৎসার প্রয়োজনে একই ধরনের সরঞ্জাম পেতে সমস্যা হতে পারে। কারণ মেডিকেয়ারের নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাসেবায় ব্যবহারের সীমা রয়েছে। আগে থেকেই সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হলে নতুন চিকিৎসার বিল প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কখনো চিকিৎসা না নিয়েও রোগীর নথিতে ভুয়া রোগনির্ণয় যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ না করা চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীর নামে অতিরিক্ত অর্থ বা কো-পেমেন্টের দাবি আসতে পারে। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এসব আর্থিক চাপ আরও সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক ডিডাক্টিবল ২৮৩ ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর গড় মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের পর ২ হাজার ৭১ ডলার। এমন পরিস্থিতিতে ৫০০ থেকে ৯০০ ডলারের ভুয়া চিকিৎসা বিলও একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। প্রতারণা শনাক্ত করার জন্য মেডিকেয়ার সামারি নোটিশ নিয়মিত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যক্তির মেডিকেয়ার নম্বর ব্যবহার করে জমা দেওয়া সব চিকিৎসা ও সরঞ্জামের বিলের বিবরণ থাকে। নিজের চিকিৎসার তারিখ ও সেবার সঙ্গে বিবরণী মিলিয়ে দেখলে অপরিচিত কোনো দাবি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। মেডিকেয়ার ডট গভ ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলেও মূল মেডিকেয়ারের বিলের তথ্য দেখা যায়। কোনো অপরিচিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, না পাওয়া চিকিৎসা সরঞ্জামের বিল কিংবা নিজের অর্ডার না করা কোনো প্যাকেট বাড়িতে এলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। মেডিকেয়ার সাধারণত হঠাৎ ফোন করে ব্যক্তিগত নম্বর জানতে চায় না। তাই কেউ মেডিকেয়ারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নম্বর চাইলে ফোনে তা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে প্রথমেই ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করে অপরিচিত বিলের বিষয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজনে নতুন মেডিকেয়ার কার্ড ও নম্বর চাওয়ার বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল কার্যালয়ে ১-৮০০-৪৪৭-৮৪৭৭ নম্বরে অভিযোগ জানানো যাবে। এ ছাড়া প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে থাকা সিনিয়র মেডিকেয়ার প্যাট্রোলের সহায়তা নেওয়া যায়। তাদের জাতীয় যোগাযোগ নম্বর ১-৮৭৭-৮০৮-২৪৬৮। সংস্থাটি অভিযোগ গ্রহণ করে প্রতারণা নাকি বিলিংয়ের ভুল, তা যাচাইয়ে সহায়তা করে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পাঠায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফোনে কেউ মেডিকেয়ারের নম্বর চাইলে তা দেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসক ও ফার্মেসির প্রয়োজন হলে নম্বর ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু বিনা মূল্যে ব্রেস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া অপরিচিত ব্যক্তিকে নয়। কেউ মেডিকেয়ারের প্রতিনিধি পরিচয় দিলে ফোন কেটে নিজে ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ২৪/৭ ওয়াল স্ট্রিট
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ
আঘাতে ১০ বছরের পালিত শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ
১৭ বছর বয়সে আড়াই হাজার কানাডিয়ান ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইলন মাস্ক!
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যেও এখন অসন্তোষ বাড়ছে। নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর টেক্সাসে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থকদের মধ্যেও হতাশা দেখা যায়। তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৫৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মাইকেল লিটল রয়টার্সকে বলেন, মানুষ ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। তাঁর ভাষায়, “ট্রাম্প আমাদের মূল্য দিতে বাধ্য করেছেন।” জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশে বিলম্ব এসব বিষয় সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পদে স্টিফেন মিলারকে নিয়ে আসা। শুক্রবার তাঁকে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত মিলারের নিয়োগকে মাগা আন্দোলনের কট্টর সমর্থকদের কেউ কেউ স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসন নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প-সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিকমেট্রিক্স। নির্বাচনের রাত থেকে পরবর্তী দিনের মধ্যে সংগৃহীত ১২ হাজার ৮৫০টি পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একাংশ মাগা সমর্থক আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রাখলেও ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ, জনমত জরিপ নয়। এদিকে নির্বাচনের পর রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলটির ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ফলাফলকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে মাগা আন্দোলনের পরিচিত মুখ স্টিভ ব্যানন বলেছেন, আন্দোলনকে নতুন করে সংগঠিত করতে হবে। তাঁর মতে, স্টিফেন মিলারের নিয়োগ আন্দোলনের মূল আদর্শে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনী ফলাফল মাগা আন্দোলনের অবসান ঘটিয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। তবে ট্রাম্পের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে সমর্থকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলিদের পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে দেশে ফিরছেন গ্যাল গ্যাডট
২০ বছর বয়সে এক ইমেইলে পেলেন সাড়ে ৩ লাখ ডলার, গড়লেন ৪৬০ কোটি ডলারের কোম্পানি
ব্রুকলিনে জগিং করতে গিয়ে নারীকে খুন, হত্যার অভিযোগে স্কুলকর্মী সায়েদ মোহাসিব গ্রেফতার
বিগত কয়েক দশক ধরে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত মজবুত কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। গাজা যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও যখন আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েল চাপের মুখে, তখন ভারত তাদের জোরালো সমর্থন বজায় রেখেছে। কিন্তু দুই দেশের এই গভীর বন্ধুত্বের মাঝেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলি-আমেরিকান ধর্মগুরু রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে ইহুদিদের উচিত ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানকে সমর্থন করা। গত ৩ নভেম্বর ‘নির্বাচন ও বর্তমান ঘটনা’ শীর্ষক এক লেকচারে তোরাহ ও অন্যান্য ইহুদি শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রাব্বি মিজরাহি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার মতে, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই, তাই ইহুদিদের উচিত একশ্বরে বিশ্বাসীদের পক্ষ নেওয়া। তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সাথে ইসরায়েলের চরম বৈরী সম্পর্ক রয়েছে, তবে তার যুক্তি হলো—ধর্মের স্বার্থের কাছে যেকোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত মিত্রতা গৌণ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হলে মূর্তিপূজা বনাম বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদের ধর্মীয় নীতিগত পার্থক্যের কারণেই ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। রাব্বি ইউসেফ মিজরাহির এমন হিন্দুবিদ্বেষী ও চরমপন্থী বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। গত মাসেও তিনি হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও গো-পূজা নিয়ে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। ওই সময় এক ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তির ইহুদি ধর্ম গ্রহণের আগ্রহের প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে তিনি হিন্দুদের গো-সেবা সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেন। কিছু হিন্দু পরিবার শোবার ঘরে গরু ঢুকতে দেয়, গোমূত্র পান করে এবং ফার্মেসিতে তা বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকি তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, "ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।" ইসরায়েলের সাথে ভারতের বিশাল অস্ত্র চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেও ধর্মীয় নীতিকে সব বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রাখার এই মতবাদে ভারতীয় নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলের এই আচরণ কেমন বন্ধুত্বের নিদর্শন? তবে অনেকেই আবার বিষয়টিকে কেবল একজন কট্টরপন্থীর ব্যক্তিগত ও ভিত্তিহীন মতবাদ হিসেবে দেখে একে কোনো ধরনের গুরুত্ব না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলাডেলফিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি আমানুর রহমান মুকুলের মৃত্যু, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ হাজার বেবি বোতল স্টেরিলাইজার প্রত্যাহার, রয়েছে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি