ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।
পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।
কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।
কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।
কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ছুটির মৌসুমে হোয়াইট হাউসের চার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক বিবরণীতে এসব উপহারের তথ্য উঠে এসেছে। আর্থিক নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নাটালি হার্প, কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার মার্গো মার্টিন এবং ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর চেম্বারলেন হ্যারিস প্রত্যেকে ৪৫ হাজার ডলার করে পেয়েছেন। নথিতে এসব অর্থকে ছুটির উপলক্ষে নগদ উপহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর ওয়াল্ট নাউটা পেয়েছেন ২০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে চার কর্মকর্তাকে দেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলার। হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসে জমা দেওয়া বেতনসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হার্প, মার্টিন ও হ্যারিসের প্রত্যেকের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। নাউটার বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। অর্থাৎ তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া ৪৫ হাজার ডলারের উপহার তাদের এক বছরের সরকারি বেতনের প্রায় ৩০ শতাংশের সমান। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে কখনো কখনো কর্মী ও সহযোগীদেরও ক্রিসমাস বা ছুটির উপহার দেন। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব অর্থ কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার নিয়ম অনুযায়ী তা অনুমোদিত। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা ও সরকারি কর্মীদের অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মীরা সাধারণভাবে তাদের সরকারি বেতনের বাইরে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধের আওতায় থাকেন। ফলে ব্যক্তিগত উপহার হিসেবে দেওয়া এসব অর্থের আইনগত ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাটালি হার্প ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। মার্গো মার্টিন ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ থেকেই তার সঙ্গে কাজ করছেন এবং বর্তমানে কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চেম্বারলেন হ্যারিস ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর। ওয়াল্ট নাউটা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সহযোগী। তিনি বর্তমানে ওভাল অফিস অপারেশন্সের ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৩ সালে ট্রাম্পের গোপন নথি সংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় নাউটার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগগুলো খারিজ করা হয়। নতুন আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশিত এই উপহারগুলো ২০২৫ সালের ছুটির সময় দেওয়া হলেও তথ্যটি প্রকাশ্যে এসেছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। প্রকাশের পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উপহার, সরকারি বেতন এবং ফেডারেল নৈতিকতা বিধির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
গ্র্যানভিলে জন্মদিনের পার্টিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মা-ছেলের মৃত্যু
বাংলাদেশি গবেষক ইরফানের মৃত্যুতে ধোঁয়াশা, আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ পরিবার
নিউইয়র্ক বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরে বাড়ি কেনা বা রেন্ট নেওয়ার খরচ যেখানে অনেক বেশি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শহরে তুলনামূলক কম খরচে বসবাসের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত AmeriSave-এর তথ্যের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পোস্টের করা তালিকায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী বড় আবাসন বাজার হিসেবে উঠে এসেছে পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ। তালিকার ১০ শহরের মধ্যে নয়টিই রিপাবলিকান-সমর্থিত বা ‘রেড স্টেট’-এ অবস্থিত। পিটসবার্গে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা জাতীয় মাঝারি দামের প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার ডলারের তুলনায় ১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের বেশি কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে পিটসবার্গই একমাত্র শহর যেখানে বাড়ি কেনার খরচ রেন্ট নেওয়ার চেয়ে কম হতে পারে। শহরটির জীবনযাত্রার খরচও জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম। একসময় ইস্পাতশিল্পের জন্য পরিচিত পিটসবার্গ এখন প্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গুগল, ইউপিএমসি এবং কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির মতো বড় প্রতিষ্ঠান সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। পিটসবার্গ মেট্রো এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ডেকাটুর। শহরটিতে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ৮৯ হাজার ৮৫৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। তালিকায় এটিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত ‘ব্লু স্টেট’-এর শহর। কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহন খাত ডেকাটুরের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তৃতীয় স্থানে ওকলাহোমার এনিড। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। কৃষি, জ্বালানি ও এয়ারোস্পেস খাত শহরটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্ডিয়ানার ফোর্ট ওয়েন। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৩ ডলার হলেও জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম, যা তালিকায় সবচেয়ে বড় ব্যবধান। উৎপাদন ও হেলথ কেয়ার খাত এখানে বড় কর্মসংস্থানের উৎস। পঞ্চম স্থানে আইওয়ার ডেস ময়েন। শহরটির বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। ফাইন্যান্স, ইন্স্যুরেন্স ও ডেটা সার্ভিসেস খাতের জন্য শহরটি পরিচিত। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি। এখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৭ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস, হেলথ কেয়ার ও প্রযুক্তি খাত শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সপ্তম স্থানে কানসাসের উইচিটা। ‘এয়ার ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে পরিচিত এই শহরে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও উৎপাদন শিল্প এখানে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। অষ্টম স্থানে উইসকনসিনের গ্রিন বে। বাড়ির দাম প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯৫ ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজশিল্প ও হেলথ কেয়ার শহরটির প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে। নবম স্থানে নেব্রাস্কার ওমাহা। সেখানে বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে, ইউনিয়ন প্যাসিফিকসহ বড় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে শহরটি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দশম স্থানে রয়েছে আইওয়ার সিডার র্যাপিডস। বাড়ির মাঝারি দাম প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং জীবনযাত্রার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এয়ারোস্পেস ও খাদ্যশিল্প শহরটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই তালিকা থেকে দেখা যায়, কম খরচের আবাসন বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও দক্ষিণাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। তবে শুধু বাড়ির দাম দেখেই কোনো শহরকে বসবাসের জন্য সেরা বলা যায় না। চাকরির সুযোগ, আয়, কর, হেলথ কেয়ার, যাতায়াত ও পরিবারের প্রয়োজনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। AmeriSave-এর ২০২৬ সালের বিশ্লেষণেও কম খরচের পাশাপাশি স্থানীয় চাকরির বাজার ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা
ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
গ্রেফতারের হুমকির পরও জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন নেতানিয়াহু!
কানাডার মিসিসাগায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্টের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একের পর এক অস্ত্রোপচার করছেন। বর্তমানে বাবা ও ছেলে দুজনই বাফেলো এলাকায় চিকিৎসাধীন। গত ১১ আগস্ট বিকেলে টরন্টো বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে ফিরছিলেন মাসুদ ও তাঁর ছেলে। হাইওয়ে ৪০৩-এর মিসিসাগা এলাকায় তাঁদের গাড়ির সঙ্গে আরেকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর মাসুদ ও অপর গাড়ির চালক নিজেদের গাড়ি হাইওয়ের ডান পাশের শোল্ডারে থামিয়ে ক্ষয়ক্ষতি দেখছিলেন এবং ইন্স্যুরেন্সের তথ্য বিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই একটি তৃতীয় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শোল্ডারে থাকা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ওই গাড়িটি ছিটকে এসে মাসুদ ও মারিফকে আঘাত করে। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গাড়ির নিচে আটকে গুরুতর আহত হন। পরে উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাসুদের দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাফেলোর ইসিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, অ্যামহার্স্ট মিডল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারিফের দুই পা বাঁচাতে চিকিৎসকেরা একাধিক অস্ত্রোপচার করেছেন। তাকে বাফেলোর গোলিসানো চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর পা রক্ষা করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার পর মাসুদের পরিবার আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে মাসুদ এখন কাজ করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তাঁর নিজের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, ছেলের একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের পাশের বাড়ির প্রতিবেশী ম্যাট হিগিন্স ও তাঁর পরিবার। তাঁরা মাসুদ ও মারিফের চিকিৎসা এবং পরিবারের জীবনযাত্রার খরচে সহায়তার জন্য একটি GoFundMe ক্যাম্পেইন চালু করেছেন। ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা ব্যয়, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। GoFundMe-এর তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ দীর্ঘ হতে পারে এবং মারিফের আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কের অ্যামহার্স্ট কমিউনিটিতেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী ও পরিচিতরা এই কঠিন সময়ে মাসুদ ও তাঁর ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সামলাতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। গো ফান্ড লিংক: https://gofund.me/57fbf9c15
বাংলাদেশি মালিকানাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিতে ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা
নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিং বেড়েছে ২০০%, স্কুলব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে মুখ ফিরাচ্ছে পরিবারগুলো