- প্রচ্ছদ
- Topic
ডেঙ্গু
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১৭ অক্টোবর সকালে তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন। পরে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল পরিদর্শনের পর তারেক রহমান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউটসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশপাশের এলাকা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, বিদ্যালয়, পাড়া-মহল্লা ও আশপাশের এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। নির্বিচারে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ছিল চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস। ওই মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু এবং ৪৩ হাজার ৭৭৪ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জনে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী গত ১২ সেপ্টেম্বর তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এবার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শনের পরিকল্পনার কথাও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত জনস্বাস্থ্য পরামর্শ হলো—বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার, মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে নিয়মিত বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮২ হাজার ৭০০। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৩ জন। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে সেপ্টেম্বরের পরিস্থিতি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন। বছরের অন্য মাসগুলোর তুলনায় সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে এক লাফে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৮২ হাজার ৭৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৬ হাজার ৮৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ডেঙ্গুর চাপ রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা ওই দিনের বিভাগভিত্তিক হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো আবহাওয়া। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ দীর্ঘায়িত হতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী অক্টোবরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। বৃষ্টির পর মশার প্রজনন এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির প্রভাব অক্টোবরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণে দেখা যেতে পারে। এডিস মশা শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক সমস্যা নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার ঘটেছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাই শুধু রাস্তা বা এলাকায় কীটনাশক ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, ফুলের টব, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের ২৫০ মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি ২ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাবে পাওয়া সংখ্যা। তাই পরবর্তী স্বাস্থ্য বুলেটিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। এদিকে একই সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে হাম পরিস্থিতিও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরে হামের নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি এবং সন্দেহভাজন বা হামসদৃশ অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ফলে একই সময়ে একাধিক রোগের চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর বাংলাদেশের জন্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সময় হয়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বরসহ ডেঙ্গুর সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এবার মশার বিরুদ্ধেই যেন ‘যু দ্ধ’ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী ও আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমাতে বড় ধরনের অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। লক্ষ্য—নির্দিষ্ট কিছু মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা। মঙ্গলবার সই করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই উদ্যোগের আওতায় দুই বছরের মধ্যে এলাকায় টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ফেডারেল নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন এলাকায় মশা ও টিকের প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। এ কাজে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি কাঠামো তৈরির কথাও বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আদেশে মশার পাশাপাশি টিকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। টিকের মাধ্যমে লাইম ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোম নিয়েও গবেষণা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এদিকে ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডে ঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো। ২০২৬ সালে রাজ্যটির ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডে ঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে বলে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতেই ১৭০টি ঘটনা রয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ফ্লোরিডায় এ ধরনের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক। ভারী বৃষ্টিপাতসহ আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিস্থিতি মশার সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডে ঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে রোগটি বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মশা ও টিকবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারি গবেষণা কর্মসূচি, নতুন প্রযুক্তি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষকদের উৎসাহিত করতে পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি চালুর কথাও রয়েছে। এ ছাড়া আলফা-গ্যালাকটোজ নামের উপাদান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকা পণ্যের লেবেলিংয়ের বিষয়টিও পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত আলফা-গাল সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লাল মাংস খাওয়ার পর গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে রোগবাহী মশা ও টিকের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও কার্যকর পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ওয়াশিংটন ডিসিতে আক্রমণাত্মক মশা ও টিকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা এক নির্বাহী আদেশে ২০২৮ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট প্রজাতির আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা ৯০ শতাংশ এবং টিকের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগবাহী এসব কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিকের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর ও অন্যান্য নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সাধারণ সেবা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসির জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কর্মসূচির আওতায় এশিয়ান টাইগার মশা, মিশরীয় মশাসহ অন্যান্য আক্রমণাত্মক মশার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি টিকের প্রজনন ও বিস্তারের জায়গাগুলোও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আদেশে মশা ও টিকের প্রজননস্থল কমাতে ঘাস ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশনের উন্নতি, বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও লক্ষ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইঁদুর ও হরিণের মতো কিছু প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে, কারণ এগুলো টিকের বিস্তার এবং টিকবাহিত রোগের সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী আদেশে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক বা বন্ধ্যা পোকা প্রযুক্তির মতো পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট কীটপতঙ্গের প্রজননক্ষমতা কমিয়ে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হয়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক চুক্তির মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি কাজে লাগানোর কথাও বলা হয়েছে। টিক ও মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এসব কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন গবেষণা কর্মসূচি, পুরস্কারভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি দ্রুত কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে। আলফা-গ্যাল সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যগুলোর লেবেলিং নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিনড্রোম সাধারণত টিকের কামড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর লাল মাংসে অ্যালার্জির সমস্যা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ঘটনা বেড়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ছয়টি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ১৯০টি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে হিলসবোরো কাউন্টিতেই ১৭০টি। তিনটি কাউন্টি এ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিলসবোরো কাউন্টিতে পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, কাউন্টিটিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর ৫৯টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল। আগস্টেও স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গুর নতুন ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর কাউন্টিতে মশাবাহিত রোগের সতর্কতা জারি ছিল। ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি জানিয়েছে, দেশটির ৪৯টি মহাদেশীয় অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের সময় সংক্রমিত হন। তবে ফ্লোরিডাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের একটি অংশ গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন এবং এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডেঙ্গুর স্থানীয় সংক্রমণের ঝুঁকি সামগ্রিকভাবে সীমিত হলেও এডিস মশা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাওয়া যায়। সিডিসি জানিয়েছে, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে অতীতে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঘটনা পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশটি শুধু ওয়াশিংটন ডিসিতে মশা ও টিক কমানোর কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আদেশে ডিসিতে পরীক্ষিত নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলো ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় আক্রমণাত্মক মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে মডেল হিসেবে ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। ফলে আগামী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে রোগবাহী কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ও পরিবেশভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ও নিউজউইক।
ফ্লোরিডার মিয়ামি-ডেড এবং পাম বিচ কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগ (এফডিওএইচ) সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট মশাবাহিত রোগের বিষয়ে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাপ্তাহিক নজরদারি প্রতিবেদন অনুসারে, ২৬ জুলাই থেকে ১ আগস্টের মধ্যে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত তিনটি কাউন্টিতে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত চারজন ডেঙ্গু রোগীর কথা জানা গেছে। এর মধ্যে হিলসবরো কাউন্টিতে দুজন এবং মিয়ামি-ডেড ও পাম বিচ কাউন্টিতে একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেড স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ডেঙ্গুর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে তীব্র পেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথাসহ ফ্লুর মতো অসুস্থতা, জ্বর এবং কখনো কখনো শরীরে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেওয়া। সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টি মশার কামড় খাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত এসব উপসর্গ প্রকাশ পায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে ডেঙ্গু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, এটি কেবল সংক্রমিত মশার কামড়েই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হিসেবে মিয়ামি-ডেড কাউন্টি কর্তৃপক্ষ গত জুন মাসেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বিশেষ করে বাড়ির চারপাশে যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পর বা বাগানে পানি দেওয়ার ফলে ফুলের টব, পিরিচ, আঙিনায় পড়ে থাকা খেলনা, কুলার এবং গাড়ি বা নৌকার প্লাস্টিকের কভারে সাধারণত পানি জমে থাকে, যা মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। এই প্রজাতির মশাগুলোই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা এবং ইয়েলো ফিভারের মতো মারাত্মক ভাইরাস ছড়ানোর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রচারপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "মাত্র এক চা-চামচ বা বোতলের ছিপির সমপরিমাণ জমে থাকা পানি যদি এক সপ্তাহের বেশি থাকে, তবে তা মশার বংশবৃদ্ধি ও বিস্তারের জন্য যথেষ্ট। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বাইরে বের হলে মশা নিবারক বা রিপেলেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে গোধূলি থেকে ভোর পর্যন্ত এই সতর্কতা মেনে চলা জরুরি, কারণ এই সময়ে মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।