- প্রচ্ছদ
- Topic
ডেমোক্র্যাট দল
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে তৃতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার এক দিন পরই গ্রেপ্তার হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি। ৩২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার হামলা এবং শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ৩৬তম নির্বাচনী এলাকা থেকে জয়ী হন ইলি। রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভ থমাসকে পরাজিত করে তিনি ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পান। পরদিন বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জেফারসন সিটির ইস্ট ক্যাপিটল অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জেফারসন সিটি পুলিশ বিভাগের প্রতিবেদন এবং আদালতে জমা দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ইলিকে চিৎকার করতে এবং এক ব্যক্তিকে হুমকি দিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই সময় সেখানে একটি পরিবারের সদস্যরা তাদের মৃত স্বজনের শেষকৃত্যের আয়োজন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে ইলি ওই ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা বলেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে গিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে থাকা আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ওই ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেন এবং তাঁর কাছে অস্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এতে ভুক্তভোগী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ইলির বাসভবনে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশকে ইলি জানিয়েছেন, তিনি কাউকে হত্যার হুমকি দেননি এবং আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথাও বলেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কোল কাউন্টির প্রসিকিউটর কার্যালয় বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার হামলা এবং শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করে। দুটি অভিযোগই অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী লঘু অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। শুক্রবার প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিটিভি ৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত ইলি কোল কাউন্টি কারাগারে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। এদিকে মিসৌরি প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতাদের পক্ষ থেকেও ইলিকে নিয়ে বক্তব্য এসেছে। সংখ্যালঘু দলের নেতার কার্যালয়ের চিফ অব স্টাফ মার্ক পাওয়ার্স এবিসি ১৭ নিউজকে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সমস্যায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে বসন্তকালেই ইলিকে সব কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী অধিবেশনেও তাঁকে কোনো কমিটির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অ্যান্থনি ইলি ২০২২ সালে প্রথমবার মিসৌরি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি গ্র্যান্ডভিউ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা মিসৌরির গ্র্যান্ডভিউ এলাকায়। তিনি একজন আইনজীবী এবং ইলি ল, নোটারি অ্যান্ড কনসাল্টিং নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা অংশীদার। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে নির্বাচনী প্রচারের টি-শার্ট পরা একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন ইলি। তবে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর ওই পোস্টে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গ্রেপ্তার নিয়েও নানা মন্তব্য দেখা যায়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করলেও এখন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তির দিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: এবিসি ১৭ নিউজ, কেসিটিভি ৫ ও নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান ফেডারেল তদন্তের সমালোচনা করে দেওয়া এক চিঠিতে সই করেননি ডেমোক্রেটিক পার্টির ৪০ জন প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টেনি হোয়ার, জশ গটহাইমার, হেনরি কুয়েলার ও জ্যারেড গোল্ডেন। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ তাঁরা তদন্তকে সমর্থন করছেন বা চিঠির বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ২৬ অক্টোবর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ১৭৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ১২ অক্টোবর ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েইন মুলিনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগে একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের বাসায় তল্লাশি এবং তদন্তসংক্রান্ত খবর ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাক্ষরকারী আইনপ্রণেতারা। তাঁরা ওমরের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তদন্তের কারণে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত না করার আহ্বান জানান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্বাক্ষরকারীদের তালিকার সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে ৪০ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। পেলোসি ও হোয়ার ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন জশ হার্ডার, কেটি ক্যাস্টর, জ্যারেড মোসকোভিটজ, এড কেইস, জেক অচিনক্লস, ক্রিস পাপাস, টম সুওজি, ডন ডেভিস, মার্সি ক্যাপ্টর, হেনরি কুয়েলার ও মারি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ। নিউজউইক জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওমর, পেলোসি, হোয়ারসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত তাঁর পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে। ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসায় আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে তল্লাশি চালান। তদন্তকারীরা ওমর বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ঘোষণা আসেনি। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা তল্লাশির বৈধতা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বিচার বিভাগের আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, তল্লাশির পরোয়ানা কার্যকরের কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় পরোয়ানার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি এখনই প্রকাশ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪০ জনের মধ্যে আটজন এমন আসনে নির্বাচন করছেন, যেগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থা কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত চিঠি।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ঘিরে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের কেউ কেউ সরাসরি এই চুক্তিকে ইরানের কাছে ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শেষের পথে। তবে অতীতে এমন প্রতিশ্রুতি বহুবার দেওয়া হলেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। তিনি লেখেন, “আমি আশা করি তিনি এবার ঠিক বলছেন, কিন্তু আমরা এর আগেও এমন কথা অনেকবার শুনেছি।” শিফ আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক সংঘাতে জড়িয়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ব্যয় কমাতে পারেনি। তার ভাষায়, “এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকান জনগণই।” অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য চুক্তিকে তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমএসএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলের মতো।” মোল্টনের দাবি, এই সংঘাতে ইতোমধ্যেই মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং ১৪ জন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর বিনিময়ে যে চুক্তি সামনে আসছে, তা কার্যত সেই অবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগেই বিদ্যমান ছিল। তার প্রশ্ন, “এটিকে কীভাবে বিজয় বলা যায়?” তবে সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প উল্টো সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দিকে আঙুল তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ওবামা প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত জেসিপিওএ (ইরান পারমাণবিক চুক্তি) ছিল ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সহজ পথ। ট্রাম্প বলেন, “সেই চুক্তি বাতিল না করলে ইরান বহু আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।” তার দাবি, বর্তমান প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে ‘দুর্ভেদ্য বাধা’ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, “ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তারা কোনোভাবেই তা অর্জন করতে পারবে না।” আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে প্রশাসন এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এর কার্যকারিতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিমত রয়েছে। নতুন এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।