- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউইয়র্ক সিটি
নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ চলছে। ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging, Administration for Children’s Services এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হসপিটালিটি খাতেও নতুন চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি চাকরির অনেক পদে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য। নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging বা NYC Aging-এ Community Coordinator পদে Job Developer নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। পদটির বেতন ৬২ হাজার ৮৬৮ ডলার থেকে ৭২ হাজার ২৯৮ ডলার পর্যন্ত। কর্মস্থল ২ লাফায়েট স্ট্রিট, ম্যানহাটন। সরকারি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। NYC Aging-এর বর্তমান ক্যারিয়ার পেজেও একাধিক পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে Community Coordinator, City Research Scientist II, Principal Administrative Associate III, Administrative Staff Analyst এবং Aging Specialist ধরনের পদ রয়েছে। ফলে যারা সিটি সরকারের চাকরিতে আগ্রহী, তাদের জন্য একাধিক বিভাগে সুযোগ খোলা রয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক সিটির Administration for Children’s Services বা ACS আজ ১৪ সেপ্টেম্বর একটি সরাসরি Hiring Event আয়োজন করছে। ২ লাফায়েট স্ট্রিটে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এই ইভেন্টে Case Manager পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পদগুলো Division of Youth and Family Justice-এর অধীনে Crossroads বা Horizon Juvenile Detention Facility-তে কাজের জন্য। যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ এবং শর্তসাপেক্ষে চাকরির অফার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। Case Manager পদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার যোগ্যতা রয়েছে। চার বছরের কলেজ ডিগ্রির সঙ্গে কমিউনিটি ওয়ার্ক, কাউন্সেলিং, সোশ্যাল ওয়ার্ক, যুব উন্নয়ন বা রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পূর্ণকালীন অভিজ্ঞতা থাকলে একটি পথে আবেদন করা যায়। হাইস্কুল ডিপ্লোমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ছয় বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও যোগ্যতার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সমন্বিত যোগ্যতার পথও রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে Residency Requirement-ও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে নিয়োগের পর ৯০ দিনের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিছু নির্দিষ্ট পদ ও কর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে residency requirement কীভাবে প্রযোজ্য, তা দেখে নেওয়া জরুরি। বেসরকারি খাতেও নিউইয়র্কে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। হসপিটালিটি খাতে OysterLink-এর বর্তমান তালিকায় নিউইয়র্ক সিটিতে Private Chef-এর ৬২টি চাকরির সুযোগ দেখা যাচ্ছে। এসব পদের মধ্যে কিছু চাকরিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বার্ষিক বেতনের সুযোগ রয়েছে। তবে পদ, নিয়োগকর্তা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরন অনুযায়ী বেতন ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু সরকারি চাকরিই নয়, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, প্রাইভেট হাউসহোল্ড এবং অন্যান্য হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে OysterLink-এর তালিকায় নিউইয়র্কে Private Chef ছাড়াও Sous Chef, Executive Chef এবং অন্যান্য কুলিনারি পদের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদে হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেইড টাইম অফ, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানসহ বিভিন্ন সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে City of New York-এর Jobs পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট সিটি এজেন্সির ক্যারিয়ার পেজে যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ ও residency requirement দেখে আবেদন করা উচিত। কারণ চাকরির সংখ্যা, বেতন এবং আবেদন শেষ হওয়ার সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটিতে আবাসিক ভবনের ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম আজ, মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনে সাধারণ ট্র্যাশ বাইরে রাখার ক্ষেত্রে এখন থেকে অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়ম না মানলে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশন বা ডিএসএনই সামন্স জারি করে জরিমানা করতে পারবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য। যেসব বাংলাদেশি পরিবার এক বা দুই পরিবারের বাড়ির মালিক কিংবা ৯টি পর্যন্ত আবাসিক ইউনিট রয়েছে এমন ভবনের মালিক বা ম্যানেজার, তাদের ট্র্যাশ নির্ধারিত বিনে রাখতে হবে। ভবনের বাসিন্দাদের উৎপাদিত সব ট্র্যাশ রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্বও মালিক বা বিল্ডিং ম্যানেজারের। ডিএসএনই জানিয়েছে, ১ জুন ২০২৬ থেকেই ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন ব্যবহারের নিয়ম কার্যকর ছিল। তবে নিয়মটি বাস্তবায়নের আগে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির সুযোগ দিতে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়। সেই সময় শেষ হওয়ার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয় ও পরবর্তী অপরাধে ২০০ ডলার জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০০ ডলারের জরিমানা প্রযোজ্য হবে তৃতীয় ও পরবর্তী লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে। শুধু নির্দিষ্ট বিন ব্যবহার করলেই হবে না, ট্র্যাশের বিনেরও কিছু শর্ত রয়েছে। ট্র্যাশ রাখার জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ গ্যালনের বিন ব্যবহার করতে হবে এবং বিনের ঢাকনা নিরাপদভাবে বন্ধ থাকতে হবে। বিন উপচে ট্র্যাশ বাইরে পড়ে থাকলেও জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে অফিসিয়াল NYC বিন বিভিন্ন আকারে পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫ গ্যালনের বিন একাধিক আবাসিক ইউনিটের ভবনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ছোট একক পরিবারের বাড়ির জন্য ৩৫ গ্যালনের বিন এবং জায়গা কম থাকা বা কম ট্র্যাশ উৎপাদনকারী বাড়ির জন্য ২৫ গ্যালনের বিনও রয়েছে। তবে রিসাইক্লিং ও কম্পোস্টের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রিসাইক্লিংয়ের জন্য অফিসিয়াল NYC বিন কেনা বাধ্যতামূলক নয়। রিসাইক্লিং উপযুক্ত যেকোনো কনটেইনারে অথবা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা যায়। কম্পোস্টও ঢাকনাযুক্ত ও সঠিকভাবে চিহ্নিত উপযুক্ত বিনে রাখা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি বলছে, এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় পড়ে থাকা কালো ট্র্যাশ ব্যাগ কমানো, জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা কমানো। নতুন NYC বিন গুলো ইঁদুর প্রতিরোধী এবং স্যানিটেশন বিভাগের নতুন যান্ত্রিক ট্র্যাশ সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুধু ১ থেকে ৯টি আবাসিক ইউনিটের ভবন নয়, বড় ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থা চালু করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩১ বা তার বেশি আবাসিক ইউনিটের ভবনগুলোতে নির্দিষ্ট এলাকায় এম্পায়ার বিন ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ১০ থেকে ৩০ ইউনিটের ভবনগুলোর ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক সিটির সব আবাসিক ট্র্যাশকে ধীরে ধীরে কন্টেইনারাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আবাসিক ভবনের মালিক, ম্যানেজার ও ভাড়াটিয়াদের জন্য নতুন ট্র্যাশ ব্যবস্থাপনা নিয়ম সম্পর্কে এখন থেকেই সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিতে একই সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলসের ঘোষিত নীতিটি নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নীতির আওতায় ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে পড়াশোনা, চিন্তাশক্তি ও শ্রেণিকক্ষের সরাসরি শেখার পরিবেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বা এআই লিটারেসি শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। নতুন নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এআই নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়েও স্কুলগুলোতে নতুন করে নীতিমালা কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শেখার মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ছোট শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের জন্য এআই শেখার সুযোগ - দুই ধরনের নীতিই একসঙ্গে চালু হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসের ছয়টি মসজিদে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী নাবিল কারতাহকে খুঁজছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)। পুলিশের দাবি, এসব ঘটনায় নগদ অর্থ, মানিব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র মিলিয়ে ১০ হাজার ডলারের বেশি চুরি হয়েছে। একই কৌশলে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের অরক্ষিত জ্যাকেট ও ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, চুরির ঘটনাগুলো ঘটে ব্রুকলিনের দুটি, কুইন্সের তিনটি এবং ব্রঙ্কসের একটি মসজিদে। তদন্তকারীদের মতে, প্রতিটি ঘটনায় প্রায় একই ধরনের প্যাটার্ন দেখা গেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের অরক্ষিত অবস্থায় রাখা জ্যাকেট বা ব্যাকপ্যাক থেকে মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে চলে যান। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুমোদনহীন লেনদেনও দেখতে পান। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক চুরির প্রথম ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর। ওই দিন ব্রুকলিনের মিডউড এলাকার মাক্কি মসজিদ মুসলিম কমিউনিটি সেন্টারে একটি অরক্ষিত জ্যাকেট থেকে মানিব্যাগ চুরি করা হয়। ওই ঘটনায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ প্রায় ২ হাজার ২৮০ ডলারের ক্ষতি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবারও ব্রুকলিনে চুরির ঘটনা ঘটে। সাইপ্রেস হিলস এলাকার আল আমান মসজিদের ভেতরে রাখা একটি অরক্ষিত ব্যাকপ্যাক থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কারতাহর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় প্রায় ৯৩০ ডলারের সম্পদ চুরি হয়। সর্বশেষ মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রঙ্কসের গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার ওমর মসজিদে। তদন্তকারীদের দাবি, সেখানে একটি জ্যাকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ওই ঘটনায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্রসহ প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ ডলারের ক্ষতি হয়। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, বাকি তিনটি চুরির ঘটনা কুইন্সের বিভিন্ন মসজিদে ঘটেছে। তবে সেসব ঘটনার নির্দিষ্ট স্থান ও বিস্তারিত তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি। মসজিদে চুরির ছয়টি ঘটনার বাইরে আরও একটি চুরির ঘটনায় কারতাহ জড়িত বলে দাবি করছে পুলিশ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের লোয়ার ইস্ট সাইডে একটি পার্ক করা তালাবিহীন গাড়ি থেকে প্রায় ৫ হাজার ডলার চুরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একাধিক বরোতে সংঘটিত এসব ঘটনার তদন্ত করছে এনওয়াইপিডির হেট ক্রাইম টাস্কফোর্স। তবে কারতাহকে এসব ঘটনার জন্য অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য পুলিশ প্রকাশ করেনি। নাবিল কারতাহ সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে এনওয়াইপিডির ক্রাইম স্টপারস হটলাইনে ১-৮০০-৫৭৭-টিপস (৮৪৭৭) নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে পুলিশ।
নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নতুন বাবা ও মা হতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য প্রসূতি সহায়তা বা ডুলা সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে খোদ নগর প্রশাসনের কর্মীদের জন্যই এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ডুলা মূলত এমন এক ধরনের পেশাদার সেবা, যেখানে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় এবং প্রসবের পর একজন প্রসূতি মাকে শারীরিক ও মানসিক সমর্থন দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটির কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেট্রোপ্লাসহেলথ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে তাদের বিমা পরিকল্পনায় ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিমা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধার আওতায় সন্তান জন্মদানের আগে বা পরে মোট আটবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সন্তান প্রসবের সময় সরাসরি একজন প্রসূতি সহায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শহরের পরিচালিত ছয়টি হাসপাতাল সন্তান প্রসবের সময় ডুলা সেবা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোতে এই সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয় বছরে হাসপাতালগুলো থেকে ডুলা বা প্রসূতি সহায়কের কাছে রেফার করার হার আগের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ডা. হেলেন আর্তেয়াগা এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে পরিচালিত ডুলা বা প্রসূতি সহায়তা কর্মসূচিগুলো সন্তান প্রত্যাশী পরিবারগুলোর মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে গভীর বৈষম্য এবং উদ্বেগজনক হারে মাতৃমৃত্যুর শিকার, তাদের জন্য এই সেবাটি অত্যন্ত জরুরি। ন্যাশনাল হেলথ ল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মাতৃমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের যুক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয় এবং মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুটি অঙ্গরাজ্যে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ডুলা সেবা অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি এবং বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মোবারকবাদ জানান। নিজের আবেগঘন বার্তায় মেয়র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো করুণা, বদান্যতা এবং ন্যায়বিচারের মহান আদর্শের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নীতিগুলো গোটা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শহরের নেতা হিসেবে বিভিন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এমন শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া তাঁর দায়িত্বের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, মেয়র মামদানি এই উৎসবটিকে নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজের নানা বৈচিত্র্যকে আপন করে নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা করার মধ্য দিয়েই একটি শহর সাংস্কৃতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নিউইয়র্ক সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক জায়গা থেকে নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এমন প্রকাশ্য সম্মান ও স্বীকৃতি সেখানকার মুসলিম বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের এই আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা শহরটিতে বসবাসরত মুসলিমদের মাঝে এক গভীর আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তিদায়ক আপনত্বের অনুভূতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি ও বিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘মাওলিদ আল-নবী মোবারক’। বার্তায় মামদানি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও দীর্ঘস্থায়ী আদর্শের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মহানবীর দয়া, উদারতা, ন্যায়বিচার, বিশ্বাস ও মানুষের সেবার শিক্ষা ১ হাজার ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করে আসছে। নিউইয়র্কের প্রসঙ্গ তুলে মামদানি বলেন, মহানবীর আদর্শ একে অপরের যত্ন নেওয়া, বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করা এবং নিজেদের কমিউনিটির সেবায় কাজ করার কথা মনে করিয়ে দেয়। এসব মূল্যবোধ সবার জন্য আরও ভালো নিউইয়র্ক সিটি গড়ে তুলতে মানুষকে শক্তি জোগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মামদানি তার বার্তার শেষাংশে মিলাদুন্নবী পালনকারী সবার জন্য আনন্দ, শান্তি ও বরকাময় জীবনের শুভকামনা জানান। মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করে থাকেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আগামী শনিবার ম্যানহাটানে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হওয়ায় এটি বাতিল করার ক্ষেত্রে সিটি প্রশাসনের আইনগত ক্ষমতা আছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ২৫ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মামদানি বলেন, তিনি এই অনুষ্ঠান সমর্থন করেন না। তবে কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার এখতিয়ার নিউইয়র্ক সিটির আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২০০টির বেশি হিন্দু আমেরিকান সংগঠন অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি, নাগরিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সংলাপ জোরদার করা। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্রে তার এ সফরকে সংগঠনটির শতবর্ষ উদযাপন এবং বৈশ্বিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মামদানি বলেন, ভারতে বেড়ে ওঠার সময় তিনি যে দেশের ধারণার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, সেটি ছিল বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি সমাজ, যেখানে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা রয়েছে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে কোনো দেশকে বাদ দেওয়ার বা বিভাজনের ভিত্তিতে পরিচালিত করার ধারণার উত্থান তাকে উদ্বিগ্ন করে বলেও জানান তিনি। আরএসএসকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রেও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন সংগঠনটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে মোহন ভাগবতের সফর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে। মামদানির অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ও অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আয়োজক হিন্দু আমেরিকান সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটিকে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করছে। এদিকে অনুষ্ঠানটি বাতিল করার দাবি উঠলেও এখন পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন এটি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মামদানির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার আইনগত এখতিয়ার সিটির রয়েছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। জুলাই ২০২৬-এ দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ম্যানহাটনে সামগ্রিক গড় ভাড়াও সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৬৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। তথ্যগুলো এসেছে দ্য করকোরান গ্রুপের জুলাইয়ের রেন্টাল মার্কেট রিপোর্ট থেকে। করকোরানের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের গড় ভাড়া ছিল ৪ হাজার ৮৮ ডলার এবং এক বেডরুমের গড় ভাড়া ৫ হাজার ৪৮৬ ডলার। দুই বেডরুমের ভাড়া বছরে ১৩ শতাংশ এবং তিন বেডরুমের ভাড়া ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে দুই ও তিন বেডরুমের গড় ভাড়া এখনো নিজ নিজ সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় কিছুটা নিচে রয়েছে। শুধু ভাড়া বাড়াই নয়, অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাইয়ে ম্যানহাটনে ভাড়ার জন্য সক্রিয় তালিকাভুক্ত অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ১৯৮টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। করকোরানের হিসাবে, ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর কোনো জুলাইয়ে এত কম অ্যাপার্টমেন্টের তালিকা দেখা যায়নি। তবে ম্যানহাটনের ভাড়া নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ হলো মধ্যম ভাড়া। জুলাইয়ে এই ভাড়া ছিল মাসে ৫ হাজার ২৯৫ ডলার, যা জুনের সমান এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ অতিরিক্ত দামের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলোর প্রভাব বাদ দিলেও সাধারণ ভাড়ার বাজারে চাপ রয়ে গেছে। ভাড়ার এই চাপের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো চাহিদার তুলনায় সীমিত সরবরাহ। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়াটিয়া পেতে গড়ে মাত্র ৩৩ দিন সময় নিয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এই সময়ও কমেছে, যা বাজারে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র তার একটি ইঙ্গিত। জুনে ম্যানহাটনের ভাড়ার খালি থাকার হার বা ভ্যাকেন্সি রেট ছিল ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। জুলাইয়ে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ হলেও সরবরাহ এখনো অত্যন্ত সীমিত। একই সময়ে সক্রিয় তালিকার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ভাড়াটিয়াদের পছন্দের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ভাড়াটিয়া তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। কেউ কেউ নিউইয়র্কের অন্য বরোতে, আবার কেউ পাশের নিউ জার্সির শহরগুলোতে বাসা খুঁজছেন। তবে ম্যানহাটনের উচ্চ ভাড়ার প্রভাব আশপাশের বাজারেও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। করকোরান বলছে, ম্যানহাটনে চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও নতুন আবাসন সরবরাহ সেই গতিতে বাড়ছে না। জুলাইয়ে নতুন লিজ স্বাক্ষরের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু একই সময়ে সক্রিয় তালিকা ২২ শতাংশ কমেছে। ফলে কম সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বেশি ভাড়াটিয়াকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতি ভাড়াটিয়াদের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় বাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহের ঘাটতি কমানো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চাপও বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির অর্থ বিভাগ জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ১৭ হাজার ঠিকানায় চিঠি পাঠায়, যেগুলো সম্পত্তির মূল্য ও সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী সম্ভাব্য দ্বিতীয় বাড়ি হতে পারে। একই সময়ে শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির মূল্যসহ একটি তালিকা প্রকাশ করে। এরপর কিছু নিউইয়র্কবাসী অভিযোগ করেন, যে বাড়িতে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, সেটিও সম্ভাব্য করের আওতায় দেখানো হয়েছে। মামদানি প্রশাসন অবশ্য বলছে, ১৭ হাজার চিঠি পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককে কর দিতে হবে - বিষয়টি এমন নয়। অর্থ বিভাগের কমিশনার রিচার্ড লি সিটি কাউন্সিলে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, প্রকাশিত সম্পূরক তালিকাটিও কারা শেষ পর্যন্ত কর দেবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা নয়। বরং বাড়ির মালিকদের সম্পত্তির মূল্য বা করযোগ্যতার বিষয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ দিতেই প্রক্রিয়াটি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই কর মূলত উচ্চমূল্যের এমন আবাসিক সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মালিকের প্রধান বাসস্থান নয়। এক থেকে তিন পরিবারের বাড়ির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যসীমা কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে মূল্যসীমা ১০ লাখ ডলার থেকে শুরু। করটি ধাপে ধাপে বাড়বে এবং উচ্চমূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে হারও বেশি হবে। আইনটি চলতি বছরের মে মাসে অনুমোদিত হয়। মামদানি প্রশাসনের হিসাবে, নতুন কর থেকে নিউইয়র্ক সিটি বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার রাজস্ব পেতে পারে। এই অর্থ স্কুল, পার্ক, পরিচ্ছন্নতা, জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় ব্যবহারের কথা বলছে সিটি হল। কিন্তু বাস্তবায়ন শুরু হতেই ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ম্যানহাটনের আপার ওয়েস্ট সাইডের কাউন্সিল সদস্য গেল ব্রিউয়ার জানিয়েছেন, উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের কাছ থেকে তার কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ এসেছে। কারা কর দেবেন, কীভাবে প্রধান বাসস্থান প্রমাণ করতে হবে এবং ভুলভাবে তালিকাভুক্ত হলে কীভাবে আপত্তি জানাতে হবে - এসব নিয়ে সিটি কাউন্সিল সদস্যরা প্রশাসনের কাছে বহু প্রশ্ন তুলেছেন। ১৮ আগস্ট সিটি কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে জনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে মামদানি প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রশ্নের উত্তর দেননি। অর্থ কমিশনার রিচার্ড লি লিখিত বক্তব্য জমা দিয়ে জানান, চলমান মামলার কারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন না। মামলা নিষ্পত্তি হলে সিটি কাউন্সিলের সামনে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিতর্কের আরেকটি বড় জায়গা হলো ৯ লাখের বেশি সম্পত্তির তথ্য প্রকাশ। প্রশাসনের বক্তব্য, এসব সম্পত্তির মূল্য ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য নতুন বা গোপন কিছু নয় - বহু বছর ধরেই করসংক্রান্ত রেকর্ড হিসেবে সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন করের প্রেক্ষাপটে এত বড় তালিকা প্রকাশ করায় অনেক বাড়ির মালিক অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভ্রান্তি ও নজরদারির মুখে পড়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতেও গড়িয়েছে। ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কয়েকজন বাসিন্দা মামদানি প্রশাসনের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন। প্রথমে একজন বিচারক করটির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। পরে আপিল আদালত সেই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে সিটি আবার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। তবে মূল আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যেই মামলায় আরও চারজন বাদী যুক্ত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, তারা নিউইয়র্কে নিয়মিত বসবাস করলেও ভুলভাবে সম্ভাব্য করদাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন অথবা নোটিশ পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় গুরুতর সমস্যা হয়েছে। ফলে নতুন করটির উদ্দেশ্যের পাশাপাশি সেটি বাস্তবায়নের পদ্ধতিই এখন বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। যেসব বাড়ির মালিক মনে করেন তাদের সম্পত্তি এই করের আওতায় পড়ার কথা নয়, তাদের আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কর ২০২৭ সালের বিলগুলোতে দেখা যেতে শুরু করবে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন ও আপিল সামলাতে অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োগ করেছে শহরের অর্থ বিভাগ। ফলে নিউইয়র্কের বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ১৭ হাজার নোটিশ পাওয়া মানেই ১৭ হাজার মালিকের ওপর চূড়ান্তভাবে নতুন কর বসে গেছে, এমন নয়। করটি মূলত উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বা প্রধান বাসস্থান নয় এমন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে। কিন্তু কার সম্পত্তি সত্যিই সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে, সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক চলছে। মামদানি প্রশাসনের জন্যও বিষয়টি এখন শুধু নতুন একটি কর কার্যকর করার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। ধনীদের উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করতে গিয়ে প্রশাসনকে এখন একই সঙ্গে বাড়ির মালিকদের ক্ষোভ, সিটি কাউন্সিলের প্রশ্ন এবং আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট মামলার পরবর্তী আদালত কার্যক্রম এবং ১৮ সেপ্টেম্বর আপত্তি জানানোর সময়সীমা - এই দুই তারিখের পর নতুন করটির ভবিষ্যৎ আরও পরিষ্কার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে রোমান্টিক শহরের তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে নিউইয়র্ক সিটি। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ন্যাশভিল এবং অস্টিনের মতো জনপ্রিয় শহরগুলোকে পেছনে ফেলে এই মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছে ব্যস্ততম এই মহানগরী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই শহরের প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে ২১২ জনেরও বেশি মানুষ রোমান্স বা প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে গুগলে সার্চ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের তুলনায় সর্বোচ্চ। সাধারণত নিউইয়র্ককে কংক্রিটের জঙ্গল বলা হলেও, প্রেমিক যুগলদের জন্য এই শহর যেন এক স্বপ্নের ঠিকানা। সেন্ট্রাল পার্কের সবুজে ঘেরা পথে হাত ধরাধরি করে হাঁটা থেকে শুরু করে গগনচুম্বী ভবনের ছাদে জমকালো রোমান্টিক ডিনার—সবকিছুতেই রয়েছে ভালোবাসার ছোঁয়া। এর পাশাপাশি বিখ্যাত ব্রডওয়ে শো উপভোগ করা কিংবা ভালোবাসার মানুষকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মতো অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থান এই শহরের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। যুগলদের জন্য অবিস্মরণীয় সব রোমান্টিক মুহূর্ত তৈরির অগণিত সুযোগ ও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা দিতে সদা প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর রোমান্টিক শহর নিউইয়র্ক সিটি।
যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ ঠেকাতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ একটি অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। তবে এ বিরোধিতার মধ্যেও মামদানি জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনটির উদ্যোগ নেন জিওভান্নি গ্যালান্তে, যার স্ত্রী গ্রেস ক্যাথরিন গ্যালান্তে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলায় নিহত হন। আবেদনকারীদের দাবি, স্মরণানুষ্ঠানটি নিহতদের স্মরণ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হওয়া উচিত এবং মামদানির কিছু অতীত অবস্থান ও সংশ্লিষ্টতা তাদের কাছে উদ্বেগের কারণ। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তিনি গর্বের সঙ্গে এবারের ৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তার ভাষায়, ওই দিনের ভয়াবহ হামলায় নিহতদের পরিবার, বেঁচে ফেরা মানুষ এবং উদ্ধারকর্মীদের সম্মান জানানোই তার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “আমরা কখনও সেই দিনকে ভুলব না।” আবেদনে বলা হয়েছে, মামদানি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা’ স্লোগানকে স্পষ্টভাবে নিন্দা না করা এবং তার কিছু রাজনৈতিক ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতার কারণে স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য উপযুক্ত নন বলে আবেদনকারীরা মনে করেন। এসব অভিযোগ আবেদনকারীদের বক্তব্যের অংশ; এ বিষয়ে মামদানি তার অবস্থান অস্বীকার করেননি, তবে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। ৯/১১ হামলায় আহত প্রথম সাড়া-দাতাদের একজন জন ফিলও আবেদনকারীদের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, ২৫তম বার্ষিকীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে নিহতদের স্বজনদের যেন শান্তিপূর্ণভাবে শোক প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সমন্বিত হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং একটি যাত্রীবাহী বিমানসহ চারটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। এ বছর সেই হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে গ্রাউন্ড জিরোতে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি বছরের মতোই নিহতদের পরিবারের সদস্য, উদ্ধারকর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তির মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস উইথ মারিয়া বার্তিরোমো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে অবস্থানের কারণে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পরে মামদানি স্পষ্ট করেন, তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনগত ক্ষমতা তার নেই। ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি বিভাজনের রাজনীতি করছেন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় মামদানি ও তার পরিবার সেটি উদযাপন করেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু ও মামদানিকে ঘিরে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসির যৌথ জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ মামদানিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা। একই জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ইহুদি নাগরিক নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মতামত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এ মতের সঙ্গে একমত নন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা। গাজা যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পর আদালতের সদস্য দেশগুলোতে নেতানিয়াহুর ভ্রমণ নিয়েও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ইসরায়েল আইসিসির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য উপস্থিতি তাই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল তার অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ ও আইসিসির পরোয়ানা ঘিরে তাকে ঘিরে রয়েছে ব্যাপক আন্তর্জাতিক বিতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় গেমিং ও ক্যাসিনো রিসোর্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের এক বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কুইন্সের অ্যাকুয়াডাক্ট রেস ট্র্যাকিং গ্রাউন্ডের পাশে অবস্থিত শহরের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক সিটি'কে এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাস ভেগাস স্টাইলের আন্তর্জাতিক মানের এক আধুনিক সমন্বিত রিসোর্টে রূপান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রসারণের নতুন ধাপ শুরু হওয়ার পর ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাদের এই বিশ্বমানের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নকশা প্রকাশ করেছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ক্যাসিনো কমপ্লেক্সে ৪০০ রুমের একটি নতুন হায়াত হোটেল টাওয়ার এবং আরেকটি নতুন বিলাসবহুল 'ক্রকফোর্ডস' হোটেল নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরবর্তীতে মোট ২ হাজার রুমের বিশাল হোটেল সুবিধায় রূপ নেবে ক্যাসিনোটি। এ ছাড়া ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি সর্বাধুনিক মাল্টিপারপাস কনসার্ট অ্যারেনা, সৌর প্যানেল সংবলিত বহুতল পার্কিং গ্যারেজ এবং এনবিএ (NBA) কিংবদন্তি কেনি "দ্য জেট" স্মিথের নামে একটি স্পোর্টস ও মিডিয়া কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে যা নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রথম তলার কাজের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ১,৪০০টি স্লট মেশিন চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক গেন্টিং গ্রুপের মালিকানাধীন 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড' ২০১১ সাল থেকে চালুর পর চলতি বছরেই নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো পরিচালনার লাইসেন্স লাভ করে। বর্তমানে ক্যাসিনোটিতে প্রায় ৪ হাজার স্লট মেশিনের পাশাপাশি ২৪০টি টেবিলে ব্ল্যাকজ্যাক, ক্র্যাপস, ব্যাকারেট ও রুলেটের মতো লাইভ গেমিং খেলার সুযোগ রয়েছে। এই বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফলে কুইন্সে নতুন কাজের সুযোগ ব্যাপক বাড়বে। ক্যাসিনোটিতে বর্তমানে ২,২০০ কর্মী কর্মরত থাকলেও চলতি গ্রীষ্মের শেষের মধ্যেই আরও ৫০০ থেকে ২,৭০০ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশন মোট তিনটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক মেটস দলের মালিক স্টিভ কোহেন ও হার্ড রক মিলে ফ্লাশিংয়ে 'মেট্রোপলিটন পার্ক' এবং ব্যালিস ডটকম ব্রঙ্কসের একটি সাবেক গলফ কোর্সে নতুন ক্যাসিনো নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে আগের থেকে অবকাঠামো চালু থাকায় দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড। কেবল ক্যাসিনো সম্প্রসারণই নয়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি সামাজিক ফান্ড এবং ৫০ হাজার আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১০ বছরে এই ক্যাসিনো থেকে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য। বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই। তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স (সিআইডিআই)-এর নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ভারতী শর্মার নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩০ জুন দেওয়া এক ঘোষণায় মেয়র জানান, তথ্যনির্ভর জনসেবা ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে শর্মাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, ভারতী শর্মা তার পুরো কর্মজীবনে তথ্য-উপাত্তকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিউইয়র্ক সিটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তার নেতৃত্ব এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করতে আধুনিক ডাটাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা সিটি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ভারতী শর্মার নেতৃত্বে নিউইয়র্ক সিটি আরও উন্নত ও ফলপ্রসূ সেবা দিতে সক্ষম হবে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ড. হেলেন আর্টিয়াগা বলেন, ভারতী শর্মার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শহরজুড়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সমন্বিত সমাধান বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, শর্মা নিউইয়র্কবাসীর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরিতে অসাধারণ নেতৃত্ব দেবেন। নবনিযুক্ত নির্বাহী পরিচালক ভারতী শর্মা বলেন, এই দায়িত্বে নিউইয়র্ক সিটির মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। তিনি বলেন, সিআইডিআই এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে সরকার, তথ্য এবং মানুষের জীবনের বাস্তব প্রভাব একসঙ্গে কাজ করে। শর্মা বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, সঠিক তথ্য কিংবা তথ্যের অভাব মানুষের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তিনি শুনতে, নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে এবং তথ্যনির্ভর জনসেবা আরও কার্যকর করতে কাজ করবেন বলে জানান। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর ইনোভেশন থ্রু ডাটা ইন্টেলিজেন্স বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা পরিচালনার মাধ্যমে জনসেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য, গবেষণা ও সহযোগিতার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণ এবং সেবা প্রদানের কার্যকারিতা বাড়িয়ে থাকে। ভারতী শর্মা সর্বশেষ এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসে সিনিয়র ডিরেক্টর অব ডাটা অ্যান্ড এআই স্ট্র্যাটেজিক এনাবলমেন্ট অ্যান্ড অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পৌর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৭০টিরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং ১১টি তীব্র চিকিৎসাসেবা হাসপাতাল রয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য কোভিড-১৯ ইন্টেলিজেন্স হাব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটের সক্ষমতা, জরুরি বিভাগের সেবা, হাসপাতালের শয্যা প্রাপ্যতা, রোগীর চাপ মোকাবিলার পরিকল্পনা, ভেন্টিলেটর সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির কোভিড পরীক্ষা ও টিকাদান কেন্দ্রগুলোর অপেক্ষার সময়-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড তৈরিতেও তিনি নেতৃত্ব দেন। মহামারির পর তিনি ডাটা চ্যাম্পিয়ন প্রোগ্রাম চালু করেন, যা পরে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে। পাশাপাশি তিনি ডাটা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ৫০০-এর বেশি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বছরে আনুমানিক ৪ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারে এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালসের ডাটা গভর্ন্যান্স কাঠামো জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। ভারতী শর্মা ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রির পাশাপাশি হফস্ট্রা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার অব হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং হ্যারিসবার্গ ইউনিভার্সিটি থেকে ইনফরমেশন সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এনওয়াইসি হেলথ প্লাস হসপিটালস/এলমহার্স্টের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. লরা ইয়াভিকোলি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন সময়ে ভারতী শর্মার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তার। তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে শর্মা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছেন। রিজেনেরনের প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মকর্তা দিব্যা পাঠক বলেন, ভারতী শর্মা নতুন প্রজন্মের ডাটা ও এআই নেতৃত্বের অন্যতম উদাহরণ। বৃহৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে তথ্য ব্যবহারের যে মডেল তিনি তৈরি করেছেন, তা সরকারি খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা মুদি দোকান স্থায়ীভাবে চালু রাখার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন স্থানীয় আইনপ্রণেতারা। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেনিফার গুতেরেজ ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে সিটি কাউন্সিলে এই সংক্রান্ত একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো, সিটির পাঁচটি বরোর প্রতিটিতে যেন অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান বাধ্যতামূলকভাবে গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন তাঁর প্রথম মেয়াদের মধ্যেই সিটির পাঁচটি প্রধান বরোতে অন্তত একটি করে সরকারি মুদি দোকান চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আইনপ্রণেতা জেনিফার গুতেরেজ মনে করেন, এই উদ্যোগটি যেন কেবল বর্তমান মেয়রের একক বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আইন পাসের মাধ্যমে এটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রশাসন এলেও এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি চিরতরে বজায় থাকে। উত্থাপিত এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, স্মল বিজনেস সার্ভিসেসের কমিশনার অথবা মেয়রের মনোনীত অন্য কোনো সংস্থার প্রধানকে প্রতিটি বরোতে অন্তত পাঁচটি করে সরকারি মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কোনো বেসরকারি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব বা পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মেয়রের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি মালিকানা ব্যবহারের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী খরচ কমিয়ে আনা। সরকারি এই গ্রোসারি উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চ-মানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে পুরো সিটিজুড়ে সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের দৈনন্দিন খরচও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পাঁচটি বরোতে প্রথম পাঁচটি দোকান তৈরির জন্য মেয়র মামদানি ইতিমধ্যে ৭ কোটি ডলারের বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছেন। এই নতুন মডেলের আওতায়, গ্রোসারি শপের জমি এবং দোকান নির্মাণের সমস্ত খরচ ও ভাড়ার ব্যয়ভার বহন করবে সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, একটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো বেসরকারি অপারেটর বা প্রতিষ্ঠান এই দোকানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে শর্ত থাকবে যে, সরকারি সুবিধার কারণে বেঁচে যাওয়া অর্থ সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে পণ্যের দাম কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে। উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত এবং নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া জোহরান মামদানি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি সিটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য এই ব্যতিক্রমী সরকারি গ্রোসারি শপের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা এখন স্থায়ী আইনের দিকে রূপ নিতে যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্ক সিটি—এ কথা নতুন নয়। উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই শহরে টিকে থাকা বেশ কঠিন। প্রতি বছর অনেক বাসিন্দা কম ব্যয়ের শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, অধিকাংশ মানুষ এই শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। এর প্রধান কারণ, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই শহরটি এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে এক বৈচিত্র্যময় সমাজ, যেখানে যে কেউ নিজের সংস্কৃতি, খাবার ও ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ খুঁজে পায়। নিউইয়র্ক সিটিকে ইমিগ্রান্টবান্ধব শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই অভিবাসী, যারা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অদক্ষ থেকে দক্ষ- সব ধরনের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ থাকায় এটি কর্মসংস্থানের এক বড় কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থাও শহরের অন্যতম শক্তি। Metropolitan Transportation Authority (এমটিএ)-এর বিস্তৃত সাবওয়ে ও বাস নেটওয়ার্ক শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করে। ফলে কম আয়ের মানুষও শহরতলীতে বসবাস করে সহজেই কর্মস্থলে যেতে পারেন। ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিউইয়র্ক অনন্য। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবসাও এখানে জনপ্রিয়, যা অভিবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে। শিক্ষাব্যবস্থাও এই শহরের আরেকটি বড় আকর্ষণ। পাবলিক স্কুলগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশেষায়িত কিছু স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়। ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ, বৈচিত্র্য এবং জীবনমানের কারণে নিউইয়র্ক সিটি এখনো অনেকের কাছে ‘স্বপ্নের শহর’ হিসেবেই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।