ভবিষ্যতের করদাতাদের ঋণী বানিয়ে নিউইয়র্কে রেকর্ড বাজেট পাস করলেন মেয়র মামদানী
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন।
তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।
সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য।
বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই।
তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।
স্মার্টফোন ছেড়ে বাস্তব জীবনে ফিরছেন নিউইয়র্কের তরুণরা, ‘লুডাইট ক্লাব’-এ বাড়ছে সদস্য
গ্রিন কার্ডের আবেদন চলার মধ্যেই স্ত্রী আইসের হাতে বন্দি, তবু ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের প্রতি সমর্থন স্বামীর
নাটালির সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন, মেলানিয়ার নীরবতায় জল্পনা আরও তীব্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিবিদদের বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।এরই আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন চীনে জন্ম নেওয়া তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ইউহুয়াই ‘টনি’ উ। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাড়িটি টনি উ নিজের নামে কিনেছেন—এমন প্রমাণ প্রকাশ্য নথিতে পাওয়া যায়নি। সম্পত্তির মালিক হিসেবে নথিতে রয়েছে ডাইকন নো হানা ক্যাপিটাল এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। বিভিন্ন সম্পত্তি লেনদেনের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম তাঁকেই এই সম্পত্তির সম্ভাব্য প্রকৃত ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার হিলসবোরো শহরের ৩০০০ র্যালস্টন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এই বিশাল সম্পত্তির নাম ‘ভিলা দে ভেরানো’। প্রায় ১২ একর জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি ইতালির লেক কোমোর বিলাসবহুল স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি।বাড়িটির মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গফুট। সেখানে রয়েছে ছয়টি শয়নকক্ষ। এর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বর্গফুটের আলাদা অতিথিশালা। বিলাসবহুল এই সম্পত্তিতে থাকার ব্যবস্থা ছাড়াও বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। রয়েছে ব্যায়ামাগার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনের কক্ষ, স্পা, গোলাপবাগান, প্রতিফলন পুকুর এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ গ্যালন ধারণক্ষমতার লবণাক্ত পানির অ্যাকুরিয়াম। ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য রয়েছে টেনিস কোর্ট, পিকলবল খেলার মাঠ, ভলিবল কোর্ট, বোচে খেলার জায়গা, পাটিং গ্রিন এবং নয়-গর্তের গলফ কোর্স। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫০ আসনের উন্মুক্ত মঞ্চ।বাড়িটি নির্মাণ ও সাজসজ্জার পেছনে কাজ করেছেন স্থপতি অ্যান্ড্রু স্কারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ নকশাবিদ সুজান টাকার। পুরো সম্পত্তিকে অনেকটা ব্যক্তিগত অবকাশকেন্দ্রের আদলে সাজানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাড়িটির দাম চাওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রায় চার মাস বাজারে থাকার পর এর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি ডলারে সম্পত্তিটি হাতবদল হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ ডলার ১২৩ টাকা ধরে ৭ কোটি ডলারের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮৬১ কোটি টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রকৃত মূল্য কিছুটা কমবেশি হতে পারে।৩১ বছর বয়সী ইউহুয়াই ‘টনি’ উ একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তিনি বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। টনি উ ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ওপেনএআই এবং গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।তাঁর গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো যন্ত্রকে মানুষের মতো যুক্তি প্রয়োগ, গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং জটিল বিষয় বিশ্লেষণে আরও দক্ষ করে তোলা। ২০২৩ সালে ইলন মাস্ক এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করার সময় যে ছোট দলটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করেন, টনি উ ছিলেন সেই দলের একজন।২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআই থেকে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে তিনি বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে কাজ করা একটি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মাত্র ছয় বছরের পেশাজীবনে টনি উ ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির মালিক হয়েছেন। তবে এই বক্তব্য পুরোপুরি নির্ভুল নয়।টনি উ-এর গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম ছয় বছরের চেয়েও পুরোনো। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনা, গবেষণা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণামূলক কাজের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর বিপুল সম্পদের প্রকৃত পরিমাণও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। এক্সএআইয়ে তাঁর মালিকানার অংশ কত ছিল, বিভিন্ন চুক্তি থেকে তিনি কত অর্থ পেয়েছেন কিংবা বাড়িটি কেনার অর্থের উৎস কী এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে তাঁকে সরাসরি ৮৬১ কোটি টাকার বাড়ির ব্যক্তিগত মালিক হিসেবে উল্লেখ করার পরিবর্তে বলা বেশি নির্ভুল যে, তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৭ কোটি ডলারের সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই বিপুল মূল্যের বাড়ি কেনার খবর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তবে টনি উ নিজে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত উত্থান যে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের জন্য অভূতপূর্ব আর্থিক সুযোগ তৈরি করেছে, টনি উ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই সম্পত্তি কেনার ঘটনা তারই একটি আলোচিত উদাহরণ। তবে বাড়িটির প্রকৃত ব্যক্তিগত মালিকানা এবং টনি উ-এর মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা থেকে বিরত থাকাই যুক্তিসঙ্গত।
“অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ দিন” হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারির পোস্টে কড়া বার্তা
কিশোরীদের অনলাইনে ফাঁদে ফেলার দায়ে ৭৬৪ নেটওয়ার্ক সদস্যের ৭৭ বছরের কারাদণ্ড
অবৈধ অভিবাসীদের ট্যাক্স ফেরত বন্ধে নতুন বিধির প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কনসার্ট থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই কন্যাসন্তান নিহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, গত রবিবার ভোরে কার্ন কাউন্টির বেকার্সফিল্ডের কাছে মহাসড়কে এই ভয়াবহ হেড-অন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত তিন জন একটি হোন্ডা অ্যাকর্ড কারে করে ভ্রমণ করছিলেন এবং দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে গেলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে খোলা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে নিহতদের নাম ভ্যানেসা এবং তার দুই কন্যা ক্লোই ও কাইলি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ক্লোইয়ের আসন্ন সপ্তদশ জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে ফ্রেসনো শহরে একটি কনসার্টে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তারা এবং অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অন্য একটি গাড়ি ভুল দিক দিয়ে বেপরোয়া গতিতে এসে বিপরীত দিক থেকে চলা গাড়িগুলোকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অন্য একটি গাড়ির দুই আরোহী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলার পর শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তরুণীর প্রশংসা কংগ্রেস সদস্যের, পেলেন বিশেষ স্বীকৃতি
ভার্জিনিয়ায় সহকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা