সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

পাকিস্তান

দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত
‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ

ইমরান খানকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে বসবাসকারী দুই ভাই সাম্প্রতিক একাধিক সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবন্দিত্ব, তাঁর স্বাস্থ্য, পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং পরে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়।   কাসিমের ভাষায়, তাঁদের আশঙ্কা হলো, কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘ভেতরেই মেরে ফেলতে’ চাইতে পারে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও অভিযোগ, যার স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান খান ও তাঁর দল মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেও তিনি ১৪ বছরের সাজা পেয়েছেন।   ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন তিনি। পরে এ নিয়ে চিকিৎসা ও চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর বোন উজমা খান আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর করার কথা রয়েছে।   ইমরানের ছেলেরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাবার পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তাঁদের দাবি, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এবং এর পেছনে আরও গুরুতর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে।   তবে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমরানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কারাবাসের পর প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাৎ-পর্বে ৯০০টির বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। সরকার আরও বলেছে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তাঁর এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল।   সরকারের দাবি, ইমরানকে সাত কক্ষের একটি আলাদা প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, স্যানিটেশন ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে বাড়িতে রান্না করা খাবার, টেলিভিশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।   এদিকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গভীর হতাশায় আছেন কাসিম ও সুলাইমান। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন, মার্চের ঈদের সময় সর্বশেষ বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। সেই ফোনালাপও ছিল সীমিত সময়ের। দুই ভাইয়ের দাবি, তাঁরা এখন বাবার দৈনন্দিন অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছেন না।   ইমরান খান ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিসা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মা জেমিমাও ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ইমরানের পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।   দুই ভাইয়ের বক্তব্যের পর ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ চলাকালে তাঁদের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে স্কাই স্পোর্টসের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও আলোচিত করে তোলে।   আগস্টের ওই টেস্টের প্রথম দিনে স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া কাসিম ও সুলাইমানের প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের কথা ছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রচার ঠেকানোর চেষ্টা করে এবং পাকিস্তান দল মাঠে না ফেরার হুমকি দিয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও মাঠে ফিরে আসে।   পরে কাসিম ও সুলাইমান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকারে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়নি। তাঁরা কেবল তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য ও মানবিক অবস্থার কথা বলেছেন।   ইমরান খানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকেও সমর্থনের আওয়াজ এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ইমরানের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত, যাতে যেকোনো মানুষের প্রাপ্য ন্যূনতম মর্যাদা নিশ্চিত হয়। সাবেক ক্রিকেটারদের একটি দলও তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছে।   ইমরানের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও দুই ভাইয়ের উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই বছরের নভেম্বরে রাজনৈতিক সমাবেশের সময় তাঁর ওপর হামলাও হয়, যাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।   সুলাইমানের মতে, রাজনীতিতে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতিই তাঁদের পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর ভাষায়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বাবার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে শুরু করেন।   তবে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত এক গভীর শূন্যতা। তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, বাবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। নিজেদের জীবন, কাজ, ভবিষ্যৎ কিংবা পড়া বই নিয়ে বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার সেই সুযোগটুকুই তাঁরা ফিরে পেতে চান।   শৈশবের স্মৃতিতে ইমরান খান তাঁদের কাছে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা ক্রিকেট কিংবদন্তি নন, তিনি একজন বাবা। পাকিস্তানের পাহাড়ে বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, টেনিস ও ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা দাদির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।   কাসিম ও সুলাইমানের আশঙ্কা, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাঁরা বাবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কাসিমের ভাষায়, বড় হয়ে তাঁরা কেমন মানুষ হয়েছেন, সেটি তাঁদের বাবার জানা খুব প্রয়োজন ছিল।   এই পরিস্থিতিতে বাবাকে দেখতে প্রয়োজনে পাকিস্তানে যাওয়ার কথাও ভাবছেন দুই ভাই। কিন্তু তাঁরা জানেন, সেখানে গেলে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুলাইমানের ভয়, তাঁদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন কারাগারে থাকা বাবার ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি না করে।   ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা ও কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য, কারাবন্দিত্বের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।   সবকিছুর পরও কাসিম ও সুলাইমানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক নয়। তাঁরা শুধু তাঁদের বাবাকে একবার সামনে থেকে দেখতে চান। তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, সেটিই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস, আল জাজিরা, এবিসি নিউজ, রয়টার্স  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ধসে বিতর্ক, ভাঙার অভিযোগ সংখ্যালঘুদের।
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শত বছরেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে পাশের একটি মাদ্রাসার জমির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। তবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে মন্দিরটির কাঠামো ধসে পড়েছে। প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের ইট, গম্বুজের ধাতব অংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ আগস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ধর্মীয় স্থাপনাটির জমিতে কথিত দখল সরানোরও দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল।  তবে সংখ্যালঘুদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরের কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
অবসর নেওয়ার পর বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলেন অভিনন্দন বর্তমান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

২০১৯ সালে পাকিস্তানে আটক হওয়া ভারতের সেই যুদ্ধবিমান পাইলট অভিনন্দন বর্তমান এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি গোয়াভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই৯১-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত আগস্টে তিনি সংস্থাটিতে যোগ দেন।   অভিনন্দন বর্তমান ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে আকাশযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ওই সময় পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। আকাশযুদ্ধের সময় তার মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   এরপর অভিনন্দনকে যুদ্ধবিমান থেকে বের হয়ে পাকিস্তান-অধিকৃত এলাকায় অবতরণ করতে হয়। পরে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে আটক করে। তিন দিন আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান। ওই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং অভিনন্দন ভারতের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।   ২০১৯ সালের ওই আকাশযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য অভিনন্দনকে পরে বীরচক্র পদকে সম্মানিত করা হয়। তিনি ২০২১ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্ব পদক বীরচক্র লাভ করেন। সে সময় তিনি উইং কমান্ডার পদে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে তার পদমর্যাদা গ্রুপ ক্যাপ্টেন পর্যন্ত উন্নীত হয়।   দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারের পর চলতি বছরের মার্চে ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন অভিনন্দন। অবসরের কয়েক মাস পরই তিনি বেসামরিক বিমান চলাচলে যোগ দিলেন। এখন থেকে তিনি গোয়াভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই৯১-এর পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   ফ্লাই৯১ একটি গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক বিমান সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। অভিনন্দন গত আগস্টে এই সংস্থায় পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি ঠিক কোন ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিনন্দনের নতুন দায়িত্ব নিয়ে ফ্লাই৯১-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে তার নতুন দায়িত্বের নির্দিষ্ট ধরন এবং কোন উড়োজাহাজ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   অভিনন্দনের পেশাগত জীবনের এই পরিবর্তন এসেছে ২০১৯ সালের আলোচিত আকাশযুদ্ধের কয়েক বছর পর। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়ার পর তিনি ভারতের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বীরচক্র পদকও পান। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নিয়ে এবার তিনি বেসামরিক বিমান চলাচলে যুক্ত হলেন।   অভিনন্দনের নতুন কর্মজীবন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তিনি এখন ফ্লাই৯১-এর পাইলট। সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার মাধ্যমে তার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাটিতে তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজ শরিফকে ‘কেন্দ্রে’ বসাল পাকিস্তান I ছবি: সংগৃহীত
ছবি থেকে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজ শরিফকে ‘কেন্দ্রে’ বসাল পাকিস্তান, সম্পাদনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৬তম সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের একটি যৌথ ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সম্মেলন শুরুর আগে তোলা একটি ঐতিহ্যবাহী ছবি সম্পাদনা করে প্রকাশ করেছে।   সম্পাদিত সেই ছবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক বিশ্বনেতাকে সুকৌশলে বাদ দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মূল ছবির কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে আছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিটি প্রকাশের পরপরই তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।   পাকিস্তান পিএমওর প্রকাশিত ওই ছবিতে কেবল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভসহ নির্দিষ্ট কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে সেই যৌথ ছবির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি প্রকাশ করেন।   আসল ছবিটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, শাহবাজ শরিফ মোটেও কেন্দ্রে ছিলেন না, বরং তিনি ডানদিক থেকে চতুর্থ স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন। পূর্ণাঙ্গ ওই ছবিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের পাকিস্তান সরকারের প্রকাশিত ছবিতে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছিল।   আসল ছবিটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘ফটোশপ কূটনীতি’ আখ্যা দিয়ে উপহাস করতে শুরু করেন। আন্তর্জাতিক একটি সরকারি মাধ্যম থেকে এমন আচরণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা।   ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজকে কেন্দ্রে দেখানোর এই অপচেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। পরবর্তীতে প্রবল সমালোচনার মুখে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহবাজ শরিফ তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি শেয়ার করলেও, প্রথম প্রকাশিত সম্পাদিত ছবিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখনো থামেনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
‘আন্তর্জাতিক আদালতে পাত্তাই পেল না ভারত!’ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সুযোগ নেই

পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ একতরফাভাবে স্থগিত করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই জানিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ জারি করেছেন দ্য হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত।   আন্তর্জাতিক আদালতের সর্বসম্মত এই ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। ফলে ভারত কোনো অজুহাত দেখিয়ে এই চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে না।   আদালত বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীর অংশে ভারতের দুটি বিতর্কিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর নকশা ও কার্যক্রম আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা বিশ্বব্যাংক কর্তৃক মনোনীত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করবেন।   উল্লেখ্য যে, গত বছর কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর এক মর্মান্তিক হামলার ঘটনার পর প্রতিবেশীকে দায়ী করে ভারত একতরফাভাবে এই পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।   তবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিল। দ্য হেগের আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে তাদের আইনি ও সুনির্দিষ্ট অবস্থানের নৈতিক জয় হিসেবে ঘোষণা করেছে।   অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং আদালতের এই আদেশ মানতে তারা বাধ্য নয়।   দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার এই যুগে সিন্ধু অববাহিকার পানি বণ্টন নিয়ে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের নতুন এই মুখোমুখি অবস্থান গোটা অঞ্চলের কৃষি ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটেনে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তান প্রথম বাংলাদেশ দ্বিতীয়

যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের অংশ অন্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দেশটির হোম অফিসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ১ হাজার ৩৭৭টি আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৫৭৮টি করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা, যা মোটের ৪২ শতাংশ।    হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছর ধরেই যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনে পাকিস্তানিদের অংশ ৪২ শতাংশ হলেও সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের হিসাবে পাকিস্তান ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ। ওই বছর যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের ৬ শতাংশ এসেছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে।    অর্থাৎ, সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের যে অংশ, যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তি করা মামলায় তাদের অংশ তার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই পরিসংখ্যানকে পাকিস্তানি নাগরিকদের যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। হোম অফিস নিজেই সতর্ক করেছে, এসব তথ্য মূলত আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, তার ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যক্তি নিজের যৌন অভিমুখিতা প্রকাশ না করলে তা এই পরিসংখ্যানে নাও আসতে পারে।    ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা আশ্রয় মামলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৪৩০টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সুরক্ষা বা থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সংখ্যার হিসাবে ২ হাজার ১৩৩টি সিদ্ধান্তে আবেদনকারীরা প্রাথমিক পর্যায়েই সুরক্ষা বা অন্য ধরনের অনুমতি পেয়েছেন।    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৩ সালে করা আবেদন এবং ২০২৩ সালে দেওয়া সিদ্ধান্ত একই বিষয় নয়। হোম অফিস জানিয়েছে, কোনো আবেদনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে ওই বছরের ৬২ শতাংশ অনুমোদনের হারকে শুধু ২০২৩ সালে জমা পড়া আবেদনগুলোর ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।    হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব পরিসংখ্যানে এমন আশ্রয় আবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে লেসবিয়ান, গে বা বাইসেক্সুয়াল পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে কোনো পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি আবেদনকারীকে কেবল যৌন অভিমুখিতার কারণেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, কোনো আবেদনকারী যৌন অভিমুখিতার বিষয় উল্লেখ না করেও অন্য কোনো ভিত্তিতে সুরক্ষা পেতে পারেন।    ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের এই ধরনের আবেদনের উচ্চ হার নিয়ে পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখালেও, কতগুলো আবেদন সত্যিকার অর্থে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কতগুলো ক্ষেত্রে অন্য কারণ কাজ করেছে, তা শুধু এই তথ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। হোম অফিসের পরিসংখ্যানও আবেদনকারীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কোনো ব্যক্তির যৌন পরিচয় বা দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বতন্ত্র যাচাইয়ের ফল নয়।   সূএ: ইউকে বাংলা পোস্ট

তাবাস্সুম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের নার্সারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই নার্সারিতে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে কেবল একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।   উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডের নার্সারির ভেতরে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে শীতলীকরণ বা কুলিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সম্পর্কে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স নরীন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ওয়ার্ডের ভেতরের দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। পৃথিবীতে মাত্র এক বা দুদিন আগে চোখ মেলা ১৪টি শিশু এভাবে মারা গেল।"   এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী একে 'অপূরণীয় ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং নবজাতক ওয়ার্ডগুলোতে কার্যকর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।   ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি বহুমুখী তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন, যাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।   এদিকে, নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। সন্তানহারা মোহাম্মদ সামি নামের এক মা জানান, মাত্র তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া তার শিশুটিকে ওই নার্সারিতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল।   কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি কী বলব বা কাকে দোষ দেব জানি না, আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি।" আমির আব্বাসি নামের আরেক ব্যক্তি তার সদ্যোজাত ভাতিজাকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন, "গতকালই আমি তার নরম মুখ ও হাত ছুঁয়েছিলাম, আর আজ সে শুধুই ছাই।"   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত তদারকি করতে করাচি থেকে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।   হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পিআইএমএস হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানোর বেদনায় কাঁদছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের মাতৃসদনের নবজাতক ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করতে সক্ষম হন।   আগুনটি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালটি ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। ভোরের দিকে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ও আগুন পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে থাকা অনেক নবজাতক ইনকিউবেটরে ছিল অথবা অক্সিজেনের সহায়তায় চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করেন। আগুন থেকে বাঁচতে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও কয়েক তলা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যেতে হয়।   ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ জানান, সকাল ৭টার কিছু আগে জরুরি ফোন পেয়ে উদ্ধারকারী ও পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শিশুদের দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালের আশপাশে নিহত শিশুদের স্বজনেরা জড়ো হন।   পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগুনের সময় অনেক নবজাতক ইনকিউবেটর ও অক্সিজেনের ওপর ছিল। অক্সিজেনের সিলিন্ডার আগুনকে আরও তীব্র করে থাকতে পারে বলে তিনি জানান। আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কথা বলা হলেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন এবং আগুনের চূড়ান্ত কারণ তখনো নিশ্চিত করা হয়নি।   হাসপাতালটিতে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল বলেও জানানো হয়েছে। এ কারণে আগুনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।   ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, শিশুদের জড়িত এমন পরিস্থিতির ক্ষতি অপূরণীয়। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   ইসলামাবাদের এই অগ্নিকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের অন্যতম ভয়াবহ হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। দেশটিতে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ও নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।   এই ঘটনায় নবজাতকদের মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ। ছবি: সংগৃহীত
ইমরান খানের চিকিৎসা ও বন্দিত্ব নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান জেমিমা

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং দীর্ঘদিনের একাকী বন্দিত্বের অবসান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেমিমা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেন আর কতদিন নীরব থাকবে।   জেমিমার দাবি, ইমরান দীর্ঘদিন ধরে একাকী বন্দিত্বে রয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের কাছে যাওয়ার সুযোগসহ বিভিন্ন মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বিষয়টিকে শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে না দেখে মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।   ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। আদালত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকার বিষয়টিও নির্দেশনায় ছিল।   তবে আদালতের নির্দেশের পর ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিবর্তে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণের কথা বলা হয়। এ নিয়ে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আপত্তি জানায় এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়।   পরে ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে বেশিক্ষণ রাখা হয়নি। সরকারি মেডিকেল টিমের মূল্যায়নের পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। ইমরানের পরিবার ও পিটিআই তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার তার প্রতি চিকিৎসা অবহেলা ও একাকী বন্দিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।   ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্বের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দলও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় আবেদন। তারা ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   জেমিমা তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিমের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাদের বাবা ইমরান খানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জেমিমার সঙ্গে ইমরানের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে এবং ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের দুই ছেলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।   ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাবন্দি। তার দল ও সমর্থকেরা এসব মামলার অনেকগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পাকিস্তান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।   মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় স্বাক্ষরিত হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।   চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় আরও দেশকে যুক্ত করার সুযোগ রাখার কথাও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জানিয়েছে।   বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রোববার আরব নিউজকে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে আলোচনা চলছে।”   এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সম্ভাব্য এই জোটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। সোমবার তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সম্ভাব্য কোনো অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক অবস্থান বিবেচনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।   মক্কা চুক্তিতে থাকা তিন দেশই নিজেদের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। পাকিস্তানের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সক্রিয় সামরিক বাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। সৌদি আরবের রয়েছে বড় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রভাব ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো।   অন্যদিকে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও শক্তিশালী নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ফলে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও এ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী অক্টোবরে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।   সফর সামনে রেখে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুলকরিম আল-খুরাইজিও চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা সফর করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, দুই পক্ষ বাংলাদেশ-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।   জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার, যা জনবলের দিক থেকে এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক বাহিনী।   সব মিলিয়ে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সামনে প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সফরকে ঘিরে এ আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিয়ে করতে ভারতে পৌঁছানো এক পাকিস্তানি কনে। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত বন্ধে থমকে ছিল বিয়ে, তৃতীয় দেশ ঘুরে ভারতে পৌঁছালেন ১৫০ পাকিস্তানি কনে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিয়ের আয়োজন অবশেষে এগোতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের অন্তত ১৫০ তরুণী, যাদের ভারতের বিভিন্ন শহরের তরুণদের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা, তৃতীয় দেশ হয়ে ভারতে পৌঁছেছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ চালানোর পর দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এরপর ওয়াঘা-আটারি সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা ব্যবস্থাতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর ফলে ভারতে বিয়ে করার কথা থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর বিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি বদলাতে সিন্ধি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের গোতকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক নেতা সন্ত যুধিষ্ঠিরলালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর উদ্যোগে ভারতে বিয়ে করতে আগ্রহী পাকিস্তানি কনেদের একটি তালিকা তৈরি করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।   পরে ভারত সরকার তাদের ভিসা দেওয়ার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল, পাকিস্তান থেকে সরাসরি স্থলপথে নয়, আকাশপথে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। দুই দেশের সরাসরি বিমান যোগাযোগও সীমিত থাকায় কনেদের অনেকে ওমানের মাসকাট, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, বাংলাদেশ, দুবাই ও কাতার হয়ে ট্রানজিট ফ্লাইটে ভারতে পৌঁছান।   নাগপুর, জোধপুর, আহমেদাবাদ, রায়পুর, পুনে ও ভোপালসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে এসব বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। নাগপুরের সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়ার দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ পাকিস্তানি কনে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে পৌঁছেছেন। শুধু নাগপুরেই ১৫টি বিয়ে হয়েছে বলে তিনি জানান।   তবে অপেক্ষার পালা এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানে আরও প্রায় ৩০০ তরুণী ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন। তাদের জন্যও ভিসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।   দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এসব আন্তদেশীয় বিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার I ছবি: সংগৃহীত
ভিক্ষাবৃত্তি, অপরাধ ও আইন লঙ্ঘনের দায়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার

গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে পেশ করা নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।   তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যারা সর্বাধিক ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করেছে। এর পরপরই ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এছাড়াও ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন থেকে ৫২১ জন, কাতার থেকে ৪২৯ জন এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, প্রধানত ভিক্ষাবৃত্তি, নিরাপত্তা শঙ্কা, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বেআইনি প্রবেশ, ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে অবস্থান, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে।   এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন কারাদণ্ড ভোগের পর দেশে ফিরেছেন। পাশাপাশি, ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের সময় ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর দায়েও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানিকে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে।   তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, সংসদে উপস্থাপিত এই পরিসংখ্যানটি উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা মোট পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়।   তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক হওয়ার পর যাদের দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ নথি বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট জারি করতে বাধ্য হয়েছে, শুধু তাদের তথ্যই এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট ও কাগজপত্র ছিল, তাদের হিসাব এই তালিকার বাইরে রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ধূমপান অবস্থায় নারী ছবি:সংগৃহীত
পাকিস্তানে পুরুষের ধূমপান কমলেও বাড়ছে নারী ধূমপানের হার

পাকিস্তানে গত এক দশকে পুরুষদের ধূমপানের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেলেও নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন তথ্য বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির পুরুষদের ধূমপানের হার কমেছে, কিন্তু নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে।   ২০১৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, পাকিস্তানে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ২২ দশমিক ২ শতাংশ এবং নারীদের ২ দশমিক ১ শতাংশ ধূমপান করতেন। সে সময় সামগ্রিক ধূমপানের হার ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।   দশ বছর পরের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে পুরুষদের ধূমপানের হার কমে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালের তুলনায় পুরুষদের ধূমপানের হার প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।   অন্যদিকে নারীদের ধূমপানের হার বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালের ২ দশমিক ১ শতাংশের তুলনায় এটি প্রায় ৫৭ শতাংশের আপেক্ষিক বৃদ্ধি।অবশ্যই এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—নারীদের ধূমপানের হার বেড়েছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে মোট নারী ধূমপায়ীর সংখ্যা ঠিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। জনসংখ্যার পরিবর্তন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা না করে শুধু এই শতাংশের ভিত্তিতে মোট মানুষের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।   পুরুষদের ধূমপান কমার প্রবণতার সঙ্গে পাকিস্তানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে নিয়ে পাকিস্তান সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির সামগ্রিক তামাক ব্যবহারের হারও কমেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শেও বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। যেমন, বাড়িতে অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার হার ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। কর্মস্থলে এই হার ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে।   তবে জাতীয় গড়ের এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধূমপান কমলেও নারীদের মধ্যে হার বাড়ার অর্থ হলো তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতাও আলাদাভাবে নজরে রাখা প্রয়োজন।   এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য গ্যালাপ পাকিস্তান ডিজিটাল অ্যানালিটিক্স চালু করেছে পাকিস্তান টোব্যাকো ইনসাইটস—পাকিস্তানের তামাক ব্যবহারের তথ্যভিত্তিক ড্যাশবোর্ড। এতে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভের তথ্য একত্র করে বয়স, লিঙ্গ, বসবাসের এলাকা এবং অন্যান্য সূচক অনুযায়ী তামাক ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্লেষণের সুযোগ রাখা হয়েছে।   গ্যালাপের ড্যাশবোর্ডে প্রাপ্ত তথ্য মূলত সরকারি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গ্লোবাল টোব্যাকো সার্ভে—বিশ্বব্যাপী তামাক ব্যবহার পর্যবেক্ষণের জরিপ-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।   বুখারির এই বক্তব্যকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইমরান নিজে এমন কোনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব সীমিত।   বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষায়, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।   তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির চাইলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে।   তবে বুখারি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।   ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের পর থেকেই তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, দুর্নীতি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার দল মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বেশির ভাগ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যদিও একটি মামলার সাজা বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আপিল চলছে।   এর মধ্যেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশও দেয়।    তবে পরে সরকার ওই আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কারাগারের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন রয়েছে।    শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইমরানের দল আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ইমরানের দল সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনায় না গেলেও সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুখারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি হবে।   বুখারির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে এখনই সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইমরান নিজে এমন কোনো সমঝোতার বার্তা দেননি এবং তার দলের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ঘোষণা বহাল রয়েছে।  

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের খবর

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।   মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরটি প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, কারণ ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনের আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ছিলেন শক্তিশালী অবস্থানে।   পাকিস্তানের জিও নিউজ মির্জা ফখরুলকে বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, তাঁর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির ক্ষমতায় ফেরার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো। পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও একই দিনে তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সংসদে ৩৪৯ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন এবং ভোটগ্রহণ উন্মুক্ত ব্যালট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।অন্যদিকে পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলো মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্পর্কও তুলে ধরেছে।   জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় ফিরে আসে। এর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের পেছনে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁকে দলীয় পদ ছাড়তে হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বিরোধী রাজনীতিতে এবং শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ও নেতা হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। ফলে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার চেয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও মির্জা ফখরুলের নির্বাচনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর দীর্ঘদিনের এই বিরোধী নেতা এখন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মির্জা ফখরুলের বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।   এদিকে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।   মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের শীর্ষ নেতার রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া দুটি বিষয়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সংবাদমাধ্যমে খবরটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান

কানেকটিকাটের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী মেরিয়াম খান। ১১ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে কানেকটিকাটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হওয়ার মাইলফলক অর্জন করবেন তিনি।    প্রাইমারিতে মেরিয়াম খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরি পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এই ফলের মধ্য দিয়ে ম্যাকক্রোরিকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করেছেন খান।    দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের কিছু অংশ রয়েছে। ১১ আগস্টের প্রাইমারির আগে মেরিয়াম খানই ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মে মাসের দলীয় কনভেনশনে তিন দফা ভোটের পর তিনি সেই সমর্থন নিশ্চিত করেন।    মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও জয় পান।    স্টেট হাউসে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর আগে মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন সৌদ আনোয়ার। ফলে খান এবার সিনেটে জয়ী হলে মুসলিম নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।    রাজনীতিতে আসার আগে মেরিয়াম খান শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্টেট হাউসের তিনটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশেষ শিক্ষা বিষয়ক নির্বাচিত কমিটির কো-চেয়ার। শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   প্রাইমারির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রগতি নয়, কানেকটিকাটের মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে রাজ্যের আইনসভায় তাঁর সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে আনছে।   তবে ইতিহাস গড়ার আগে মেরিয়াম খানের সামনে আরও একটি নির্বাচনী লড়াই বাকি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলেই দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রার্থিতা সক্রিয় রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানএবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। ছবি:সংগৃহীত
সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি আর পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি, নতুন সমীকরণে উদ্বেগ ভারতের

সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা, তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা—এই তিন শক্তিকে একই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নিয়ে এসেছে নতুন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব এখন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করছে ভারত।   গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য স্পষ্ট করেছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি।   চুক্তিটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রথমে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এরপর তুরস্ককে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তৈরির আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর তিন দেশের একটি খসড়া প্রতিরক্ষা চুক্তি তৈরি হয়েছে। আগস্টে সেটিই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়।   এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই তিন দেশ একে অপরকে আসলে কী দিতে পারে?   সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি অর্থনীতি। তেলসমৃদ্ধ দেশটির বিপুল আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, সামরিক অবকাঠামো কিংবা নতুন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সৌদি অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   তুরস্ক নিয়ে আসছে অন্য ধরনের শক্তি—প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্প। ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি এবং নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে গত কয়েক বছরে দ্রুত এগিয়েছে আঙ্কারা। নতুন চুক্তিতেও স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ মহড়া এবং ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   আর পাকিস্তানের হাতে রয়েছে এমন একটি সক্ষমতা, যা সৌদি আরব ও তুরস্ক—কোনো দেশেরই নেই: পারমাণবিক অস্ত্র।   এখানেই ভারতের জন্য বিষয়টি সবচেয়ে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—নতুন চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র সৌদি আরব বা তুরস্কের জন্য ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিয়েছে, এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায়—কিন্তু এটিকে তিন দেশের যৌথ ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে এখনই বর্ণনা করা যাবে না। পাকিস্তান-সৌদি আগের চুক্তির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতার কথা বলেছেন।   তবু দিল্লি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সরকার তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দিল্লি।   ভারতের উদ্বেগের বড় জায়গা পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্কের সঙ্গে সৌদি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব যুক্ত হলে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়নের গতি বাড়তে পারে—বিশেষ করে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে। চুক্তিতে এসব ক্ষেত্রের সহযোগিতা স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে।   তবে সৌদি আরবের অবস্থান ভারতের জন্য তুলনামূলক জটিল। রিয়াদ পাকিস্তানের পুরোনো মিত্র হলেও ভারতের সঙ্গেও তার গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারত-পাকিস্তান কোনো ভবিষ্যৎ সংকটে সৌদি আরব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামাবাদের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই।   এই কারণেই নতুন চুক্তিকে সরাসরি ‘ভারতবিরোধী জোট’ বলা ঠিক হবে না। চুক্তির তিন দেশই বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। বরং দ্রুত বদলে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই কাঠামো তিন দেশেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে এবং মিশরের নাম সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে জোটটির ভৌগোলিক ও সামরিক পরিধি আরও বড় হতে পারে।   তবে এখনই একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা অতিরঞ্জিত হবে। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়। তাদের অস্ত্রব্যবস্থাও ভিন্ন উৎসনির্ভর। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার, আর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় চীনের বড় প্রভাব রয়েছে। ফলে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত সামরিক জোটে রূপ নিতে বাস্তব অনেক বাধা রয়েছে।   তারপরও চুক্তিটিকে শুধু প্রতীকী ঘোষণা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ কমছে। বৃহস্পতিবার তুরস্ক যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তাতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ অস্ত্র উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বাস্তব পদক্ষেপ রয়েছে।   ফলে ভারতের জন্য আসল প্রশ্নটি হয়তো এই জোট কাকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে—সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আগামী কয়েক বছরে সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার এই সমন্বয় কতটা কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ নেয়।   কারণ পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা যদি তুরস্কের উন্নত প্রযুক্তি ও সৌদি আরবের আর্থিক শক্তির মাধ্যমে দ্রুত আধুনিক হয়, তার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে। আর ঠিক সেই কারণেই মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির গতিপথ এখন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।

Unknown আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান সর্বদা শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী হলেও এই আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তার চরম ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের আঘাত এলে ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও ভয়ংকর সামরিক জবাব দেবে ইসলামাবাদ।   বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধের বিজয় ও শহীদ বীরদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠাই পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ভারতের সঙ্গে চলমান পানিবিরোধ ইস্যুতেও এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মারকা-ই-হক’ যুদ্ধে পরাজয়ের পর ভারত সম্পূর্ণ একতরফাভাবে ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়াদিল্লি মূলত নিজেদেরকেই এ অঞ্চলে শান্তির পথের প্রধান বাধা হিসেবে প্রমাণ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   শাহবাজ শরিফ অত্যন্ত দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’। ভারত যদি নিজেদের এই অনড় ও বৈরী অবস্থান থেকে অবিলম্বে সরে না আসে, তবে পাকিস্তান এর সমুচিত ও যুগান্তকারী জবাব দিতে বাধ্য হবে বলে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন তিনি।   রাজধানীতে আয়োজিত এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, সিনেট চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন উদ্বোধন করা স্মৃতিস্তম্ভটিকে পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্প এবং সশস্ত্র বাহিনীর অসামান্য পেশাদারিত্ব ও যুদ্ধ সক্ষমতার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেন শাহবাজ শরিফ।   জাতীয় এই ভাষণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কাশ্মীরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও নৈতিক সমর্থন অবিচল থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে জানান।   পাশাপাশি ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানের পক্ষেও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের নেতৃত্বের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে শাহবাজ শরিফ জোরালো আহ্বান জানান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য আফগান মাটির ব্যবহার যেন অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কারাবন্দি অবস্থায় দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ মানুষ নিয়ে রাজপথে নামার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অবিলম্বে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া না হলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে বিশাল পদযাত্রা করা হবে।   আফ্রিদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আদিয়ালায় এটিই তার শেষ আগমন এবং সরকার নিজে থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল তিনি আবার ফিরে আসবেন। বুধবার ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় আফ্রিদির নাম থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষের সার্বিক আচরণে তার মনে হয়েছে, এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই।   সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আফ্রিদি পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকেই দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন। তিনি দলীয় কর্মীদের হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে আসার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। আফ্রিদির মতে, ২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈরী আচরণ করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।   পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, দলটির এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। আগামী রোববার বান্নুতেও বড় ধরনের কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। আফ্রিদি দাবি করেন, ২৭ সেপ্টেম্বরের পদযাত্রা কর্তৃপক্ষের জন্য রীতিমতো একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে।   জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মাত্র স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়ে এর প্রমাণ আগেই দিয়েছেন।   আদালতের নির্দেশ বারবার উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও চরম ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন পিটিআইয়ের এই শীর্ষ নেতা। গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সপ্তাহে দুবার ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবার, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নির্দেশ দিলেও গত কয়েক মাস ধরে তা একেবারেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না।   আফ্রিদির অভিযোগ, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালত বর্তমানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একেবারেই অসহায়। তার দাবি, খোদ সরকারের মন্ত্রীরাই এখন স্বীকার করছেন যে, দেশের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং অকার্যকর হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আফ্রিদি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কাজই না করতে পারে, তবে সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকায় সেগুলো চালু রেখে অর্থের অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আল্লাহর ঘর দেখেই শেষ হলো জীবনের সফর, মক্কায় কাবার সামনে মৃ ত্যু পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রীর
আল্লাহর ঘর দেখেই শেষ হলো জীবনের সফর, মক্কায় কাবার সামনে মৃ ত্যু পাকিস্তানি ওমরাহযাত্রীর

মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ করেই আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জেগেছিল মনে। সেই টানে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে গিয়েছিলেন পবিত্র মক্কায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাবার সামনে পৌঁছাতেই ঘটল এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে 'আল্লাহু আকবার' ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা হাজি আবদুল লতিফ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে পবিত্র মসজিদুল হারামে এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে।   ‘বাও’ নামে পরিচিত আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি বেসরকারি স্কুলে বই সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে তিনি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট জমা দেন। এরপর গত ১১ আগস্ট ছেলে আরসালানকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছান। জেদ্দা থেকে মক্কার পথে তিনি বারবার সময় দেখছিলেন এবং দ্রুত কাবার সামনে যাওয়ার জন্য চালককে তাগাদা দিচ্ছিলেন। ছেলেকে তিনি বারবার বলছিলেন যে তার শরীর পুরোপুরি সুস্থ, শুধু যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর ঘরটি তিনি একবার দেখতে চান।   বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় মক্কার হোটেলে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি তাকে দমাতে পারেনি। বিশ্রাম না নিয়েই ছেলেকে সঙ্গে করে তিনি সরাসরি হারাম শরিফে ছুটে যান। আরসালান জানান, কাবার কাছাকাছি পৌঁছাতেই তার বাবার মাঝে এক অদ্ভুত অস্থিরতা কাজ করছিল; শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল আর তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফ দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কাবার দিকে তাকিয়ে জিকির করতে করতেই একপর্যায়ে তিনি সেখানে বসে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।   তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসকরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ততক্ষণে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ওমরাহ শেষে আর দেশে ফেরা হলো না আবদুল লতিফের। তবে জীবনের শেষ ও সবচেয়ে লালিত স্বপ্ন—আল্লাহর ঘর স্বচক্ষে দেখা—পূরণ করেই যেন পরম শান্তিতে এই পৃথিবীর সফর শেষ করলেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়: রিয়াদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ।   সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে।    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।    চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে।    এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা।    তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।    চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়।    বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে।    চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।    অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়।    অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০