ব্রিটেনে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তান প্রথম বাংলাদেশ দ্বিতীয়
যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের অংশ অন্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দেশটির হোম অফিসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছর যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবি পরিচয়কে আবেদনের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ১ হাজার ৩৭৭টি আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৫৭৮টি করেছিলেন পাকিস্তানি নাগরিকরা, যা মোটের ৪২ শতাংশ।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছর ধরেই যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করে করা আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৩ সালে এই ধরনের আবেদনে পাকিস্তানিদের অংশ ৪২ শতাংশ হলেও সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের হিসাবে পাকিস্তান ছিল চতুর্থ সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ। ওই বছর যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের ৬ শতাংশ এসেছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে।
অর্থাৎ, সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তানি নাগরিকদের যে অংশ, যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তি করা মামলায় তাদের অংশ তার তুলনায় অনেক বেশি। তবে এই পরিসংখ্যানকে পাকিস্তানি নাগরিকদের যৌন অভিমুখিতা সম্পর্কে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। হোম অফিস নিজেই সতর্ক করেছে, এসব তথ্য মূলত আবেদনকারীরা তাদের আবেদনে যৌন অভিমুখিতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কি না, তার ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যক্তি নিজের যৌন অভিমুখিতা প্রকাশ না করলে তা এই পরিসংখ্যানে নাও আসতে পারে।
২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতাকে আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা আশ্রয় মামলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৪৩০টি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে আশ্রয় বা অন্য কোনো ধরনের সুরক্ষা বা থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। সংখ্যার হিসাবে ২ হাজার ১৩৩টি সিদ্ধান্তে আবেদনকারীরা প্রাথমিক পর্যায়েই সুরক্ষা বা অন্য ধরনের অনুমতি পেয়েছেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৩ সালে করা আবেদন এবং ২০২৩ সালে দেওয়া সিদ্ধান্ত একই বিষয় নয়। হোম অফিস জানিয়েছে, কোনো আবেদনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে ওই বছরের ৬২ শতাংশ অনুমোদনের হারকে শুধু ২০২৩ সালে জমা পড়া আবেদনগুলোর ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
হোম অফিসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব পরিসংখ্যানে এমন আশ্রয় আবেদন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে লেসবিয়ান, গে বা বাইসেক্সুয়াল পরিচয় বা যৌন অভিমুখিতা আবেদনের ভিত্তির অংশ হিসেবে কোনো পর্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি আবেদনকারীকে কেবল যৌন অভিমুখিতার কারণেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, কোনো আবেদনকারী যৌন অভিমুখিতার বিষয় উল্লেখ না করেও অন্য কোনো ভিত্তিতে সুরক্ষা পেতে পারেন।
ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের এই ধরনের আবেদনের উচ্চ হার নিয়ে পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখালেও, কতগুলো আবেদন সত্যিকার অর্থে যৌন অভিমুখিতার কারণে নিপীড়নের আশঙ্কার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং কতগুলো ক্ষেত্রে অন্য কারণ কাজ করেছে, তা শুধু এই তথ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। হোম অফিসের পরিসংখ্যানও আবেদনকারীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, কোনো ব্যক্তির যৌন পরিচয় বা দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বতন্ত্র যাচাইয়ের ফল নয়।
সূএ: ইউকে বাংলা পোস্ট
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনেপাল ও চীনের সীমান্তে হিমবাহ ধসে তৈরি ধ্বংসাবশেষের বাঁধে সৃষ্টি হওয়া হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। হ্রদটি ভেঙে গেলে আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আবারও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এক দিন আগে এর পানির পরিমাণ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার ছিল। হ্রদটির পানি আরও বাড়তে থাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনা উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। বুধবার হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীগুলোর ওপর দিয়ে নেমে এসে বিভিন্ন এলাকা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর পরই উজানে ধ্বংসাবশেষের বাঁধ তৈরি হয়ে হ্রদটির সৃষ্টি হয় এবং সেখানে পানি জমতে থাকে। চীনের পাঠানো আট সদস্যের প্রকৌশলী দল বৃহস্পতিবার হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা আকাশপথে জরিপ ও ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরির কাজ করে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, হ্রদের ঝুঁকি কমানোর একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হলো বাঁধের নিচু অংশে পানি বের হওয়ার জন্য একটি নালা তৈরি করা। তবে পানির প্রবাহের গতি এবং হ্রদে পানি জমার হার হিসাব করে নালাটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণ করতে হবে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। সীমান্তবর্তী গিরং বন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে উজানের মাটি ও পাথর আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহজুড়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিমাণ পানি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান। পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। ফলে হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হ্রদটি উপচে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কায় উঁচু এলাকায় সরে যেতে শুরু করেছেন। চীনের পাশাপাশি নেপালও নতুন করে বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। এদিকে বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুই দেশে প্রায় ১ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক থাকতে পারেন। হ্রদটির পানি বাড়তে থাকা এবং নতুন বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে থামানো হলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হ্রদের বাঁধের ঝুঁকি কমানো এবং পানি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের নতুন শর্ত, শুরু নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা
ব্রিটেনে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে আশ্রয় আবেদনে পাকিস্তান প্রথম বাংলাদেশ দ্বিতীয়
অন্য ছেলের হাত বসেছিল শরীরে, বদলে গেল চামড়ার রংও! যেন নিজেরই হাত ফিরে পেলেন তরুণী
ভারতের একটি ইন্ডিগো ফ্লাইটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘটা করে ঘরোয়া খাবারের আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন যাত্রী থেপলা, ধোকলা, সমুচা, নামকিন ও বিভিন্ন চাটনি-সস বের করে ডিসপোজেবল প্লেটে খাবার পরিবেশন করে একসঙ্গে খেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ফ্লাইটের ভেতরে এমন আয়োজন কতটা শোভন ও যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক, তা নিয়ে অনলাইনে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে পরিবারের একজন নারী অন্যদের প্লেট দিয়ে খাবার পরিবেশন করছেন। পরিবারের কয়েকজনকে খাবার হাতে কেবিনের ভেতর চলাফেরা করতেও দেখা যায়। একই সময়ে কয়েকজন তরুণীকে নখে প্রেস-অন নেইল লাগাতেও দেখা যায়। ভিডিওটি পোস্ট করা যাত্রী ইয়েশভি পরে সমালোচনার জবাব দিয়ে দাবি করেন, পরিবারটি অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নাশতা না করেই ফ্লাইটে উঠেছিলেন এবং প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে খাবার শেষ করেন। পরে তার মা সবার ব্যবহৃত প্লেট ও অন্যান্য আবর্জনা একটি বড় ব্যাগে সংগ্রহ করেন। ফ্লাইটের আইলও খালি রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে এসব ব্যাখ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক থামেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, উড়োজাহাজের মতো সীমিত জায়গার মধ্যে এত বড় পরিসরে খাবার পরিবেশন ও যাত্রীদের চলাচল কতটা উপযুক্ত। কেউ কেউ খাবারের গন্ধ এবং অন্য যাত্রীদের অস্বস্তির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। এদিকে ইন্ডিগোর প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা ফ্লাইটে কিছু খাবার সঙ্গে নিতে পারেন। তবে এলোমেলো, অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার কেবিনে নেওয়ার অনুমতি নেই। ফলে ভাইরাল ভিডিওটি শুধু খাবার বহন নিয়ে নয়, বরং উড়োজাহাজের মতো শেয়ার করা পাবলিক স্পেসে যাত্রীদের আচরণ, অন্যদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং কেবিন শিষ্টাচার নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
১০ বছরের ছেলেকে বিমানবন্দরে ফেলে ছুটিতে চলে গেলেন বাবা-মা, হতবাক সবাই
ফিলিস্তিন কে সাপোর্ট করায় ইহুদির গালে মুসলিম ব্যক্তি চুমু
যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের আইটি ক্যারিয়ার ছেড়ে কৃষিতে, এখন বার্ষিক আয় ‘৬০০ কোটি রুপি’
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মানতে পাকিস্তান কোনোভাবেই বাধ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহের আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে নিজেদের আবদ্ধ রাখতে রাজি নয় পাকিস্তান। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বদলে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই এমন আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের এই সাহসী ও স্পষ্ট অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, আর্থিক নেটওয়ার্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর এমন চাপ প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে ইরানকে বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো বহুমুখী স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখার এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তান মূলত আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে তারা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ধরে রাখতে চায়, তেমনি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রাখার পরিষ্কার বার্তা দিল। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পর পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে।
ইউক্রেনের ৯ শহরে একযোগে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হা মলা, নি হত ২
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসে ৬৫ মার্কিন নাগরিকসহ নিখোঁজ ১ হাজার ৪০০, নি হত ৩৬০