- প্রচ্ছদ
- Topic
পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে। লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল। নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ থামালে ভয় বা নার্ভাসনেস থেকে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী বা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কম পরিচিত চালকদের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ট্রাফিক স্টপে বলা কিছু কথা পরে টিকিট, তদন্ত বা আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বা এসিএলইউর সর্বশেষ “নো ইয়োর রাইটস” নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ গাড়ি থামালে চালক ও যাত্রী উভয়েরই চুপ থাকার অধিকার রয়েছে। তবে চালককে পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে শান্ত থাকা, হঠাৎ নড়াচড়া না করা এবং হাত দৃশ্যমান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, “আপনি আমার গাড়ি সার্চ করতে পারেন” এমন সম্মতি দেওয়ার আগে নিজের অধিকার জানা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একজন চালক পুলিশের কাছে নিজের গাড়ি সার্চ করার সম্মতি দিতে বাধ্য নন। পুলিশ যদি সার্চের অনুমতি চায় এবং চালক সম্মতি দিতে না চান, তিনি শান্তভাবে বলতে পারেন, “অফিসার, আমি সার্চে সম্মতি দিচ্ছি না।” তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। গাড়ি সার্চ করতে পুলিশের সব ক্ষেত্রেই ওয়ারেন্ট প্রয়োজন হয়, এমন দাবি সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গাড়ির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। বৈধ আইনি ভিত্তি থাকলে কোনো কোনো পরিস্থিতিতে চালকের সম্মতি বা আগে থেকে নেওয়া ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ গাড়ি সার্চ করতে পারে। তাই সম্মতি না দেওয়া মানেই পুলিশ কোনো অবস্থাতেই সার্চ করতে পারবে না, বিষয়টি এমন নয়। দ্বিতীয়ত, পুলিশ কেন থামিয়েছে জানতে চাইলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। “আমি জানতাম না এটা বেআইনি”, “আমি স্পিড লিমিট খেয়াল করিনি” বা “দুঃখিত, আমি নতুন” ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী অফিসারের নোট বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু “সরি” বললেই আইনগতভাবে কেউ দোষী হয়ে যান, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। একইভাবে এমন বক্তব্য দিলে ট্রাফিক টিকিট ডিসমিস হওয়ার সম্ভাবনা “৯০ শতাংশ কমে যায়” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যও নেই। দোষী বা নির্দোষ নির্ধারণের বিষয়টি নির্ভর করে অভিযোগ, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট আদালত বা ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। এসিএলইউর পরামর্শ হলো, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বা অজুহাত না দেওয়া। চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে চাইলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো যেতে পারে। তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া ডকুমেন্ট দেখানো উচিত নয়। তৃতীয়ত, গাড়িতে অবৈধ কিছু থাকার কথা বা অ্যালকোহল গ্রহণের বিষয়ে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার আগে আইনি পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পুলিশ “আপনি জানেন কেন আপনাকে থামিয়েছি?” অথবা অ্যালকোহল গ্রহণ করেছেন কি না, এমন প্রশ্ন করতে পারে। সাধারণ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও যাত্রীর চুপ থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, যদিও পরিচয়, ড্রাইভিং ডকুমেন্ট, ডিইউআই তদন্ত এবং বিভিন্ন স্টেটের আইনের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে ডিইউআই বা অ্যালকোহল ও মাদকসংক্রান্ত ড্রাইভিংয়ের ঘটনায় বিষয়টি শুধু ট্রাফিক টিকিটে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। গ্রেফতার, ক্রিমিনাল চার্জ, ড্রাইভার লাইসেন্স সাসপেনশন এবং কিছু ননইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন বা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে “ডিইউআই বর্তমানে ভিসা বাতিলের এক নম্বর কারণ” এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি র্যাঙ্কিং পাওয়া যায় না। চতুর্থত, পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তর্ক, শারীরিক প্রতিরোধ, পালানোর চেষ্টা বা হঠাৎ পকেট কিংবা গ্লাভ বক্সে হাত দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এসিএলইউর নির্দেশনা হলো, শান্ত থাকতে হবে, দৌড়ানো বা বাধা দেওয়া যাবে না এবং হাত এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে অফিসার দেখতে পারেন। লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন গ্লাভ বক্সে থাকলে সেটি বের করার আগে অফিসারকে জানানো নিরাপদ অভ্যাস। যেমন বলা যেতে পারে, “আমার লাইসেন্স গ্লাভ বক্সে আছে, আমি কি সেটি বের করব?” কোনো সার্চে সম্মতি না থাকলে শান্তভাবে সেটিও জানানো যায়। তবে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়। নিজের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হলে ঘটনার সময়, স্থান, অফিসারের নাম বা ব্যাজ নম্বর, প্যাট্রোল কার নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য পরে লিখে রাখা যেতে পারে। পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করার ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। এসিএলইউর ২০২৬ সালের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তার ছবি বা ভিডিও ধারণ সাধারণভাবে ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের সুরক্ষার আওতায় পড়ে। নিউইয়র্কেও আইনসম্মতভাবে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারেন। তবে রেকর্ড করার সময় পুলিশি কাজে শারীরিক বাধা সৃষ্টি করা বা বৈধ নির্দেশ অমান্য করা উচিত নয়। পুলিশ গাড়ি থামালে নিরাপদ জায়গায় দ্রুত গাড়ি থামানো, ইঞ্জিন বন্ধ করা, জানালা আংশিক নামানো এবং হাত স্টিয়ারিং হুইলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে এসিএলইউ। পুলিশ চাইলে ড্রাইভার লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের প্রমাণ দেখাতে হবে। হঠাৎ কোনো নড়াচড়া না করে ডকুমেন্ট কোথায় রয়েছে তা আগে জানানো নিরাপদ। ট্রাফিক টিকিট পাওয়ার পরও সেটির নির্দেশনা ভালোভাবে পড়া জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্কে টিকিটের ধরন ও কোথায় সেটি ইস্যু হয়েছে তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করে। নিউইয়র্ক সিটির নন-ক্রিমিনাল ট্রাফিক টিকিট সাধারণত ডিএমভির ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরো পরিচালনা করে এবং সেখানে চালককে অভিযোগে গিল্টি অথবা নট গিল্টি প্লি করার সুযোগ দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের টিকিট সাধারণত স্থানীয় কোর্টে নিষ্পত্তি হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাফিক স্টপের আইন ও প্রক্রিয়া স্টেটভেদে আলাদা হতে পারে। তাই “সব পরিস্থিতিতে এই একটি বাক্য বললেই নিরাপদ” এমন কোনো নিয়ম নেই। শান্ত থাকা, মিথ্যা তথ্য না দেওয়া, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং ডকুমেন্ট দেখানো এবং নিজের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। কোনো ট্রাফিক স্টপ, ডিইউআই, গ্রেফতার বা ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্টেটের যোগ্য অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবর্জনা, ময়লা ডায়াপার, পশুর মলমূত্র ও অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্যে ভরা একটি অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজে শিশুটিকে রাখা হতো। গত ২৭ জুলাই মলমূত্রে নোংরা একটি ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ডিভান উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং শিশুটির মা ২২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা প্রাইসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে অ্যালেন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অ্যালেন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়ামস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, শিশুটি মলমূত্রযুক্ত ডায়াপারের অংশ খাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি আরও জানান, এর আগেও শিশুটি নোংরা ডায়াপার মুখে নিয়েছিল। শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মুখে রক্তপাত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব আঘাতকে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে শিশুটির থাকার পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন গ্যারেজে বসবাস করত। সেখানে প্রচুর আবর্জনা, বিয়ার ক্যান, ব্যবহৃত ডায়াপার এবং বিড়ালের মূত্র ছিল। শিশুটির খেলার খাঁচাটিও দূষিত মেঝের ওপর রাখা ছিল। পুলিশের পরিদর্শনে ওই এলাকায় পশুর মূত্র ও মল, কাঁচা পয়ঃবর্জ্য, পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘরটিতে মাছি ও মাকড়সার উপস্থিতি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে বাইরে ব্যবহারের পানির পাইপ দিয়ে গোসল করানো হতো। এমনকি উইলিয়ামস শিশুটিকে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়াতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির মা তাকে এ ধরনের খাবার না দিতে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি নিয়মিত ডায়াপার, সোফার কুশনসহ অনিরাপদ বিভিন্ন জিনিস মুখে নিত। পরিবারের সদস্যরাও শিশুটির চারপাশের পরিবেশ যে অত্যন্ত নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নোংরা ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কলম্বিয়ার একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক শিশুকন্যা ও তার কয়েক মাস বয়সী ছোট ভাইকে। পুলিশ জানিয়েছে, ছোট্ট মেয়েটি সারারাত তার ভাইকে বুকে জড়িয়ে আগলে রেখেছিল, যাতে সে ঠান্ডা ও অন্য যেকোনো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার কিন্দিও বিভাগের মন্টেনেগ্রো এলাকার একটি বনাঞ্চলে। নিয়মিত টহলের সময় পুলিশের সদস্যরা হঠাৎ একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দ অনুসরণ করে তারা ঘন ঝোপঝাড়ের মধ্যে পৌঁছে দেখতে পান, একটি ছোট মেয়ে তার কয়েক মাস বয়সী ভাইকে কোলে নিয়ে বসে আছে। আশপাশে আর কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল না। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত দুই শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে বা কখন ওই দুই শিশু সেখানে পৌঁছেছে, কিংবা কে বা কারা তাদের জঙ্গলে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশু দুটিকে সেখানে রেখে যাওয়ার পেছনের ঘটনা এবং তাদের পরিবারের পরিচয় জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুরো ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে শিশুকন্যার সাহস ও দায়িত্ববোধ। নিজেও ছোট হওয়া সত্ত্বেও সে সারাক্ষণ তার ভাইকে কোলে নিয়ে আগলে রেখেছিল। উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি এক মুহূর্তের জন্যও ভাইকে ছেড়ে দেয়নি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই শিশুকন্যার সাহস ও ভাইয়ের প্রতি তার ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। তবে একই সঙ্গে কী পরিস্থিতিতে শিশু দুটিকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হলো, সে প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিশু দুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখা হবে এবং তাদের পরিবারের সন্ধানে কাজ চলছে।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কাছে আন্তর্জাতিক ড্রাইভ এলাকার একটি মহাসড়কের পাশ থেকে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুজন পথচারী আন্তর্জাতিক ড্রাইভ ও কন্টিনেন্টাল গেটওয়ের সংযোগস্থলের কাছে হাঁটার সময় দেহাবশেষ দেখতে পান। পরে তাঁরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। খবর পাওয়ার পর শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। দেহাবশেষের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ জানতে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন দেহাবশেষটি কত পুরোনো, এটি কার এবং কীভাবে ওই স্থানে এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঙ্গে কোনো অপরাধ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা পরীক্ষকের গাড়ি থাকার কথা জানিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেহাবশেষের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে অপরাধ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় ও চিকিৎসা পরীক্ষকের দপ্তর দেহাবশেষ পরীক্ষা করে পরবর্তী তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ডে চলমান কানওয়ার যাত্রার মধ্যে শতাধিক হর্ন লাগানো একটি অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। বাইকটি পুলিশ সদস্য থানায় নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শব্দদূষণ ও যানবাহনে বেআইনি পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বাইকটির বিভিন্ন অংশে বিপুলসংখ্যক হর্ন লাগানো হয়েছে। পরে একজন পুলিশ সদস্য সেটি চালিয়ে থানার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মোটরসাইকেলটিতে ১০০টিরও বেশি হর্ন ছিল। তবে হর্নের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বাইকটির অস্বাভাবিক সাজসজ্জা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ এটিকে যানবাহনে পরিবর্তনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করতে পারে এমন পরিবর্তিত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। কানওয়ার যাত্রার সময় উত্তরাখণ্ডে পরিবর্তিত সাইলেন্সার ও অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে এমন যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জুলাই মাসেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এমন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে, এবারের কানওয়ার যাত্রায় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে। যাত্রাপথে নিরাপত্তা, যান চলাচল ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত এই মোটরসাইকেলের ভিডিও ঘিরে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে ধর্মীয় আয়োজনের সময় ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস ও বিনোদনের সঙ্গে জননিরাপত্তা এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা যায়।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বিদেশিকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রেখে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির জুডিশিয়ারি পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশির বয়স ৩৫ ও ৪৩ বছর। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের মুদ্রা ‘টাকা’র নামে। পর্তুগালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জরনাল দে নোতিসিয়াসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন লিসবনের একটি সড়ক থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই বিদেশিকে জোর করে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হলেও পুরো সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পর্তুগালের জুডিশিয়ারি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটকে রাখার সময় ভুক্তভোগীকে বারবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার মুক্তির বিনিময়ে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মুক্তিপণের অর্থ পরিশোধের পর ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের কারণে পরে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জুডিশিয়ারি পুলিশের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক বিচারিক শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হবে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। লিসবনের তদন্ত ও প্রসিকিউশন বিভাগের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে টানা কয়েক রাত ধরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশের তথ্যমতে, শতাধিক বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একজন কর্মকর্তা পাথরের আঘাতে আহত হন, একজন নারী কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেকজন কর্মকর্তার ওপর থুতু নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। সহিংসতার কারণে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট এলাকায় মুখ ঢেকে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত টহলসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের এমপি টেরি জার্মি এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাইরের উসকানিদাতারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে। এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে থেটফোর্ডের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ বার্নহাম সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। কয়েক মাস ধরেই এ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ চলছিল। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে। পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন। পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না। তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন। চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রেমিকের বাড়িতে টানা পাঁচ দিন অনশনের পর সালিশের মাধ্যমে বিয়ে করা ১৯ বছর বয়সী মোনিয়া রহমান মুন্নির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় স্বামীর বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মুন্নির পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বুধবার সকালে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত মোনিয়া রহমান মুন্নি ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া ভূঁইয়াবাড়ীর মঞ্জু মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে জিহাদ ভূঁইয়া। মুন্নির মা রিনা বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিয়ের আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিহাদ মুন্নির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। পরিবারের ভাষ্য, নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। এরপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে কয়েক মাস আগে জিহাদের বাড়িতে গিয়ে টানা পাঁচ দিন অনশন করেন মুন্নি। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় গ্রাম্য সালিশ বসে। গত ৩০ এপ্রিল ৯ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু সংসার শুরুর তিন মাসের মধ্যেই মুন্নির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জিহাদ ও তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তাদের অবস্থান কিংবা অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরিবারের অভিযোগও তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক প্রেমিকার ওপর বেআইনিভাবে নজরদারি চালানোর অভিযোগে জেমস ইক্সকয় নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেল পুলিশ বিভাগের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে অত্যন্ত সন্তর্পণে একটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস বসানোর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই নারীর আরেক সাবেক প্রেমিকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতড়াতে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ মোটর ভেহিকেলসের (ডিএমভি) ডেটাবেসে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন বলেও প্রমাণ মিলেছে। গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আগামী ২ অক্টোবর ফল্টজ ক্রিমিনাল জাস্টিস সেন্টারে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন শপথপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ইক্সকয় তার ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। যাদের ওপর তিনি নজরদারি চালাচ্ছিলেন, তারা ঘুণাক্ষরেও এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কিছু টের পাননি। অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে কম্পিউটার ডেটা ব্যবহার করায় তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি) অভিযোগ এবং ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইসের অবৈধ ব্যবহারের জন্য একটি লঘুতর অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আরও জানান, জনগণের সেবা করার পবিত্র দায়িত্ব ভুলে যখন কোনো কর্মকর্তা নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে এভাবে ডেটাবেস হ্যাক করেন এবং জিপিএস ট্র্যাকার লাগান, তখন এমন বিভ্রান্তিকর ও জঘন্য কাজের পরিণতি হিসেবে তাকে জেলের সেলেই সময় কাটাতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ জুলাই ইক্সকয় অনুমতি ছাড়াই ডিএমভি ডেটাবেস থেকে ওই নারীর অপর সাবেক প্রেমিকের গাড়ির নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। এর ঠিক এক মাস পর, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তিনি তার সাবেক প্রেমিকার গাড়িতে গোপনে ওই জিপিএস ট্র্যাকারটি স্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আদালতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে ইক্সকয়কে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত কাউন্টি জেলে কাটাতে হতে পারে। এই পুলিশ কর্মকর্তার দ্বারা অন্য কেউ একই ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে বা কারও কাছে এ বিষয়ে আরও তথ্য থাকলে তাদের বেল গার্ডেন্স পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে নিজ বাড়ির ভেতর থেকে এক বাবা ও তার দুই কিশোরী মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। উইনেকনে পুলিশ বিভাগ এবং উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি ও ওয়েলফেয়ার চেকের (নিরাপত্তা তল্লাশি) কল পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তারা বাড়ির ভেতর তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নিহতরা হলেন ৫৭ বছর বয়সী বাবা জেফরি মানকে এবং তার দুই মেয়ে, ১১ বছর বয়সী লিনোরা মানকে ও ১৬ বছর বয়সী জায়েইলিন মানকে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবরে নিহতদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। শোকসন্তপ্ত এই পরিবারের এমন কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে এরই মধ্যে স্থানীয় কমিউনিটি এগিয়ে এসেছে। আর্থিকভাবে বা অন্য কোনো উপায়ে সাহায্য করতে আগ্রহীদের জন্য 'গিভসেন্ডগো' (GiveSendGo) নামের একটি ফান্ডরেইজার পেজ এবং 'মিল ট্রেইন' (Meal Train) সাইন-আপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে দুর্ঘটনা রোধে অভিনব এক কৌশল বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ডানেলেন শহরের পুলিশ। ব্যস্ত রাস্তায় নজরদারি চালাতে রীতিমতো রাস্তার ধারের ঝোপঝাড় বা গাছের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ডানেলেন বোরো পুলিশ বিভাগের পরিচালিত ছয় ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহারের দায়ে মোট ৭৪ জন চালককে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউয়ের মতো একটি ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পথচারী ও যানবাহনের প্রচণ্ড ভিড় থাকা সত্ত্বেও যেসব চালক স্টিয়ারিংয়ে বসে ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন ছিলেন, তারাই মূলত পুলিশের এই ফাঁদে পড়েন। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঘিলি-স্টাইলের ক্যামোফ্লেজ স্যুট পরে একেবারে ঝোপঝাড়ের রূপ ধারণ করেন এবং দূরবীনের সাহায্যে রাস্তার ট্রাফিকের ওপর নজর রাখেন। কোনো চালককে ফোন ব্যবহার করতে দেখলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সংকেত দিতেন এবং তারা গাড়িটি থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন। পরিস্থিতি আরও মজাদার করতে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা এমন একটি কালো টি-শার্ট পরেছিলেন, যার ওপর বড় করে লেখা ছিল 'নট আ কপ' (আমি পুলিশ নই)। পুলিশের মতে, যারা গাড়ি চালানোর চেয়ে ফোনে বেশি মনোযোগী, তারা চারপাশের এই অদ্ভুত বিষয়গুলোও খেয়াল করতে চরমভাবে ব্যর্থ হন। আর চালকদের এই অসচেতনতাই দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ। ছয় ঘণ্টার মধ্যে ৭৪টি মামলা দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, জনবহুল এলাকাতেও চালকদের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা কতটা উদ্বেগজনক। রসিকতার ছলে হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে চালকদের একটি কড়া ও বাস্তবমুখী বার্তা দিয়েছে ডানেলেন পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা গাড়ি থামানোর আগে কোনো টেক্সট বা নোটিফিকেশন চেক না করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরের একটি ইন-এন-আউট বার্গার রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল এবং সক্রিয় বন্দুকধারীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অভিযান চালানো হয়। হামলায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও নিহত হয়েছে। টুইন ফলস পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ হিকস জানান, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার কাজ চলায় এখনই মোট নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে না। আহত কয়েকজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ এখনও হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রয়োজনে এফবিআইও তদন্তে সহায়তা করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি টুইন ফলসের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত নতুন খোলা ইন-এন-আউট শাখায় ঘটে। ঘটনার পর আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনসাধারণকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী নিহত হওয়ায় বর্তমানে জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই।
চার দশক আগে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের এক মোটরসাইকেল পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের রায় বহাল রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে। মামলাটি ১৯৮৩ সালের। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলএপিডি কর্মকর্তা পল ভার্না লেক ভিউ টেরেস এলাকায় একটি চুরি করা গাড়ি থামালে গাড়িতে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কেনেথ গে এবং রেনার্ড কামিংস অভিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে প্রথম বিচারে কেনেথ গে দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে তার আইনজীবীর অদক্ষতার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর পুনর্বিচারে জুরি আবারও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে নিহত কর্মকর্তা পল ভার্নার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা সে সময় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল এবং চুরি করা গাড়িতে অস্ত্রসহ চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়পত্র চাইলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কেনেথ গের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর থাকবে। অপর আসামি রেনার্ড কামিংসও পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মেকানিকভিলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া চার শিশুসহ মা ও নানির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছিল পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ওই চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ৪৪ বছর বয়সি মা সারাহ মায়ার্স ও ৬৪ বছর বয়সি নানি অ্যামি স্টেডম্যান নিজেরা আত্মহত্যা করেছিলেন। ২৩ জুন ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। নিহত চার শিশু ছিল—১৩ বছর বয়সি হার্পার, ১১ বছরের হাডসন এবং ১০ বছর বয়সি যমজ ভাই-বোন গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমন। পুলিশ শিশুদের এই মৃত্যুকে সে সময় আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছিল। মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান উইলিয়াম র্যাবিট জানিয়েছিলেন, নিহত শিশুদের মধ্যে একজনকে মারাত্মক ছুরিকাঘাতে এবং বাকি তিনজনকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের প্যাকেটের সূত্র ধরে একে 'ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগ' বলে উল্লেখ করেছিল পুলিশ। এছাড়া ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটের ভিত্তিতে প্রথমে এই হত্যাকাণ্ডে শুধু নানি অ্যামি স্টেডম্যানের জড়িত থাকার কথা ভাবা হলেও, পরে মা সারাহ মায়ার্সেরও সম্পৃক্ততা থাকার সন্দেহ করা হয়েছিল। পুলিশ তখন টক্সিকোলজি (বিষবিদ্যা) পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিল। প্রতিবেশীদের অনুরোধে পুলিশ ওই অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে পচে যাওয়া মরদেহগুলো উদ্ধার করেছিল। জানা গিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমনের সাথে তাদের মা সারাহর অভিভাবকত্ব নিয়ে তিক্ত আইনি লড়াই চলছিল। উটাহ অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ব্র্যাডি ২০১৯ সালের পর থেকে সন্তানদের সরাসরি দেখেননি, তবে সেবার গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহতে যাওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর আগে ৭ জুন সর্বশেষ তিনি তার সন্তানদের সাথে কথা বলেছিলেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহত চার শিশুর দেহাবশেষ উটাহতে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় তাদের দাদার সমাধির পাশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে সুইমিং পুলে ডুবে যাওয়ার পর ভুলবশত মৃত ঘোষণা করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রসিকিউটররা। শুরুতে পুলিশের সুপারিশে অবহেলার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৮ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। পরিবারের বাড়ির সুইমিং পুলে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালের মর্গে কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কর্মীরা শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসায় সে বেঁচে যায়। ঘটনার পর গিলবার্ট পুলিশ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনার সুপারিশ করেছিল। তবে ম্যারিকোপা কাউন্টির অ্যাটর্নি র্যাচেল মিচেল জানান, তদন্তে দেখা গেছে বাড়িতে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা ছিল, ঘটনার সময় কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক উপস্থিত ছিলেন এবং বাবা-মা মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব কারণ বিবেচনায় অভিযোগ দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের নথিতে আরও উঠে এসেছে, হাসপাতালে শিশুটিকে মৃত ঘোষণার আগে ও পরে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাকর্মী তার মধ্যে জীবনের লক্ষণ দেখতে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল জানিয়েছে, পুরো ঘটনার অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিশুটি বর্তমানে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রোগীকে মৃত ঘোষণার চিকিৎসা-প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বন্দুক সহিংসতার বলি হচ্ছে নিরীহ শিশু-কিশোররা। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর শহরটিতে বন্দুক হামলায় অন্তত ৫০ জন শিশু-কিশোর গুলিবিদ্ধ বা নিহত হয়েছে। এই সহিংসতার সর্বশেষ মর্মান্তিক শিকার হয়েছে ব্রঙ্কসের ১২ বছর বয়সী জ্যাকব ফ্রেইটেস। গত ২৫ জুলাই স্থানীয় একটি দোকান (বোদেগা) থেকে বল কিনে বের হওয়ার সময় রাস্তায় গোলাগুলির মাঝে পড়ে যায় সে। নিউইয়র্ক পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টের ছেলে জ্যাকব বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দৌড়ে দোকানে ঢুকে পড়ে এবং মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে, যা সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে। পরে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জ্যাকবের মৃত্যুর আগে থেকেই কিশোরদের ওপর এমন বন্দুক হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটে আসছিল। জ্যাকব নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন আগে ২৩ জুলাই ব্রুকলিনের বুশউইকে এক বিবাদের জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুলি লাগে। এছাড়া ২০ জুলাই ব্রুকলিনের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে গোলাগুলির ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীও গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জুনের শেষভাগ পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে বন্দুক হামলার শিকার হওয়া ৪৯ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই হামলাগুলোর সাথে জড়িত সন্দেহভাজন ৪৯ জন হামলাকারীর বয়সও ১৮ বছরের নিচে, যারা বয়সের কারণে আইনত ভোট দেওয়ারও যোগ্য নয়। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তরুণদের জড়িত থাকার বা শিকার হওয়ার ঘটনা কিছুটা কমেছে। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৮ বছরের কম বয়সী ৫৭ জন হামলার শিকার হয়েছিল এবং সন্দেহভাজন হামলাকারী ছিল ৫৩ জন। নিউইয়র্ক পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সব বয়সীদের মিলিয়ে বন্দুক হামলার মোট সংখ্যা ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কিন্তু সামগ্রিক হামলার সংখ্যা কমলেও ১৮ বছরের কম বয়সী হামলাকারীদের অনুপাত উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১৮ সালের একই সময়ে যেখানে তরুণ হামলাকারীর হার ছিল মাত্র ৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছর বয়সী এক শিশুর চোখের সামনে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর ঘটনায় চরম অবহেলার অভিযোগে তার বাবা ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, শিশুটি যখন ভুলবশত 'ক্র্যাটম' (kratom) নামের বড়ি খেয়ে ফেলে, তখন তার ঠোঁট নীল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি শুরু হয়। শিশুটির এমন ভয়াবহ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখার পরও তারা জরুরি সহায়তা নম্বর ৯১১-এ কল করে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য নেননি। জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অভিযুক্ত বাবা তার মেয়েকে নিজের বোনের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন শিশুটি আর কোনো সাড়া দিচ্ছে না। চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির মৃত্যু মূলত 'তীব্র মাইট্রাজিনাইন বিষক্রিয়া' (acute mitragynine intoxication)-এর কারণে হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, কৃত্রিমভাবে তৈরি এসব বড়ির মিশ্রণে অনেক সময় ৭-ওএইচ (7-OH) বা ৭-হাইড্রোক্সিমাইট্রাজিনাইনের মতো ভয়ংকর অবৈধ পদার্থ থাকতে পারে, যা শিশু তো বটেই, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব চলাকালে ভিড়ের ওপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবদুল বি. পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামি চরমপন্থার সম্ভাব্য যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্লিনের প্রাইড অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ভ্যান মানুষের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থামাতে গুলি চালায় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য চরমপন্থী সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটে বার্লিনের বড় এলজিবিটি+ উৎসব প্রাইড উদযাপনের সময়। গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর উৎসবস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমাগমস্থলে যানবাহন ব্যবহার করে হামলার ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে দেশটিতে বিভিন্ন হামলার পর বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বার্লিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর উৎসবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।