সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৫৭
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

 

সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে।

 

দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।

 

নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।

 

তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে গোপন নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪২ বছরের কর্মী
যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে গোপন নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪২ বছরের কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষার অতিগোপন তথ্য ফাঁস করে সাংবাদিক প্রেমিকার সাবস্ট্যাক নিউজলেটারে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এক সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। শুক্রবার ওয়াশিংটনে ৪২ বছর বয়সী ওই কর্মী ইয়ান ব্রিংকম্যানের নিজ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জাতীয় প্রতিরক্ষার সংবেদনশীল তথ্য পাচারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   আদালতে জমা দেওয়া এফবিআই এজেন্টের হলফনামা অনুযায়ী, ব্রিংকম্যান বারবার অতিগোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে প্রবেশ করেছেন এবং সেগুলো তার সাংবাদিক প্রেমিকার কাছে পাচার করেছেন। যদিও হলফনামায় ওই সাংবাদিককে কেবল 'ইনডিভিজুয়াল ১' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তার প্রকাশিত নিবন্ধের উদ্ধৃতি থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি 'ক্যাপিটাল অ্যান্ড এম্পায়ার' নিউজলেটারের লেখিকা আইদা শ্যাভেজ।   ২০২৬ সালে শ্যাভেজের প্রকাশিত অন্তত পাঁচটি সাবস্ট্যাক নিবন্ধে এমন কিছু তথ্য ছিল, যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর অতিগোপনীয় প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। ফোন রেকর্ড, ডাটাবেস এক্সেস লগ, ব্যাজ-সোয়াইপ রেকর্ড এবং ইমেলের মতো সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ এই পাচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এক বিবৃতিতে জানান, ব্রিংকম্যান নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের অন্যতম সংরক্ষিত গোপন রহস্যগুলো হাতিয়ে নিয়েছেন এবং এমন একজনকে দিয়েছেন যিনি সেগুলো প্রকাশ করবেন জেনেই তিনি এ কাজ করেছেন।   এটিকে তিনি শপথ এবং মার্কিন জনগণের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন। ব্রিংকম্যানের লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা ছিলেন এবং সর্বশেষ ডেলয়েট-এ ম্যানেজার ও সিনিয়র স্ট্র্যাটেজি সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ৮:৪৫
নিউইয়র্কে ১৪ বছরের জিনিয়াস কিশোরের গ্র্যাজুয়েশন আটকে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

নিউইয়র্কে ১৪ বছরের জিনিয়াস কিশোরের গ্র্যাজুয়েশন আটকে দিল স্কুল কর্তৃপক্ষ

ভারতের আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের আম্বানির তেল শোধনাগারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সহযোগিতা বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর

যুক্তরাষ্ট্রে জোড়া খুনের দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্তে সহায়তা করল রোবট কুকুর

সাহী চৌধুরীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য টিমোথি এম. কেনেডি
বাফেলোর বাংলাদেশি সাহী চৌধুরীর জনসেবার অবদান কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তুলে ধরলেন কেনেডি

নিউইয়র্কের বাফেলোতে জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাহী চৌধুরীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য টিমোথি এম. কেনেডি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সুপ্রভাত মিশিগানের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের কংগ্রেশনাল রেকর্ডে তাঁর কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন কেনেডি। বাফেলো ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্কের স্থানীয় জনজীবনে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে ওই বক্তব্যে।      প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সাহী চৌধুরী স্থানীয় ব্যবসা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অঙ্গরাজ্য, নগর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠন থেকেও সম্মাননা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কংগ্রেশনাল রেকর্ডে বক্তব্যটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তারিখ, পৃষ্ঠা বা মূল নথির অনুলিপি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে স্বীকৃতির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।    বাফেলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সাহীর সম্পৃক্ততার তথ্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও রয়েছে। ২০২৪ সালে শহরের প্রথম ঈদ ফেস্ট আয়োজনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁকে ইউনাইটেড বাফেলো ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাফেলো কমন কাউন্সিলের কমিউনিটি লিয়াজোঁ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই আয়োজনে স্থানীয় বাঙালি সংগীতশিল্পী, খাবার বিক্রেতা, পোশাক ও গয়নার ব্যবসায়ীদের একত্র করার উদ্যোগে তিনি যুক্ত ছিলেন।      এর আগে ২০২৩ সালে সাহীকে ‘৩০ আন্ডার ৩০’ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হওয়ার অভিনন্দন জানিয়েছিল বাফেলো কমন কাউন্সিলের ফেসবুক পেজ। সে সময় তাঁকে ফিলমোর ডিস্ট্রিক্টের কাউন্সিল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। সুপ্রভাত মিশিগানের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বাফেলোতে বসবাস করেন এবং তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট শহরে। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২:১৫
প্রথম দিনেই ডিসপ্লেতে ফাটলের অভিযোগ উঠল অ্যাপলের নতুন ফোনে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

২ হাজার ডলারের আইফোন ডুও বাজারে আসতেই ডিসপ্লে ফেটে যাওয়ার অভিযোগ

২০২৭ সালে কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় বিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ নর্দমায় প্রবেশের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে ম্যানহোল দিয়ে নর্দমায় নেমে গয়না খুঁজছিলেন তাঁরা, গ্রেপ্তার ৫

ফ্লোরিডার বার্টো শহরের একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর সামনে গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বার্টো শহরে খাবারের দোকানের গাড়ির সারিতে বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বার্গার কিংয়ের গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি হাতে পেয়ে গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির চতুর্থ জন্মদিন ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। পোল্ক কাউন্টির শেরিফ গ্রেডি জাড এ তথ্য জানিয়েছেন।   শেরিফের কার্যালয়ের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটের দিকে শিশুটির বাবা রাতের খাবার কিনতে বার্গার কিংয়ের গাড়ির সারিতে ছিলেন। খাবারের দাম পরিশোধের সময় তাঁর ক্রেডিট কার্ডটি কাজ করছিল না। বিকল্প উপায়ে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি গাড়িটি পার্ক করেন। এ সময় কোমরে রাখা গ্লক পিস্তলটি অস্বস্তির কারণে বের করে গাড়ির আসনে রাখেন বলে জানিয়েছেন শেরিফ। পেছনের আসনে থাকা শিশুটি তখন বন্দুকটি হাতে পেয়ে ট্রিগারে চাপ দেয়।   পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির শব্দ শুনে শিশুটির বাবা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির চারপাশে ছোটাছুটি শুরু করেন। পাশের একটি গাড়িতে থাকা এক নারী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে দ্রুত লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করেছেন।   ঘটনাটিকে ভয়াবহ মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন শেরিফ গ্রেডি জাড। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রার্থনা করেন, তাহলে এই পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তাঁর কর্মকর্তাদেরও মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে। বার্টো পুলিশের উপপ্রধান কাইল ডাউডি বলেন, এই ঘটনায় একটি পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে এবং পুরো সম্প্রদায় শোকাহত। চার বছর বয়সে পা দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে শিশুটির এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ ঘটনায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেরিফ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার আইনে কোনো শিশুর নাগালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কারণে সে নিজে বা অন্য কেউ আহত হলে অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলির দপ্তর। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বাবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পক্ষে তাঁর দপ্তরের বিশেষ আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন শেরিফ। তদন্তের তথ্য পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা জানিয়েছে, পরিবারটি ঘটনার প্রায় চার মাস আগে কানেকটিকাট থেকে ফ্লোরিডায় চলে এসেছিল। নতুন অঙ্গরাজ্যে এসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অর্থ পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন শিশুটির বাবা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এ পরিস্থিতি কীভাবে ঘটনার দিকে গড়াল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও ফক্স ১৩ টাম্পা।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২২:২১
নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে বাতিল হয়েছে নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

জালিয়াতির আশ্রয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, ১৩ বছর পর বাতিল মার্কিন নাগরিকত্ব

নিউইয়র্কের কুইন্সে ভবন থেকে ইট পড়ে আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। চিকিৎসকেরা তার ভাঙা হাড়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ইট খসে পড়ে ৬ বছরের শিশুর পা ভাঙল

শিকাগোর আবাসিক এলাকায় অন্ধ এক হরিণকে ঘাসের কাছে যেতে সাহায্য করত ১০ বছরের এক শিশু। পরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল প্রাণীটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রতিদিন অন্ধ হরিণকে খাবার খুঁজতে সাহায্য করত ১০ বছরের শিশু, পাশে দাঁড়ালেন প্রতিবেশীরা

0 Comments