সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৩:৫৭
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ
চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেটার তৈরি 'স্মার্ট গ্লাস' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চশমা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্ক পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট সম্প্রতি তাদের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জারি করা এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে 'রে-ব্যান মেটা গ্লাস'-কে নতুন "নিরাপত্তা ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ঝুঁকি" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

 

সাধারণ চশমার মতো দেখতে এই ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অপরাধীরা বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা পুলিশ স্টেশন এবং কারাগারের ভেতরের স্পর্শকাতর তথ্য গোপনে ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

'প্রপার্টি অব দ্য পিপল' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রকাশ করা নথিতে দেখা গেছে, মেইন থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অপরাধী ও সন্ত্রাসীরাও এই চশমার মাধ্যমে পুলিশি স্থাপনার লেআউট, নজরদারি ক্যামেরার অবস্থান এবং টহল ব্যবস্থার গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারে।

 

দৃষ্টান্ত হিসেবে মেমোটিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে এক ব্যক্তি মেটা গ্লাস ব্যবহার করে সাউথ ক্যারোলিনার একটি ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থা গোপনে ধারণ করে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন।

 

নিরাপত্তার এই ঝুঁকির কারণে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) ইতোমধ্যে তাদের ফেডারেল ওয়ার্কস্পেসে কর্মীদের মেটা গ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের চশমাগুলো গোপনে রেকর্ডিংয়ের জন্য তৈরি হয়নি; বরং ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ডিভাইসে থাকা একটি উজ্জ্বল সাদা এলইডি আলো জ্বলে ওঠে যা বন্ধ করার কোনো উপায় নেই।

 

তবে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায় তখন সেটি বৈধ থাকে, কিন্তু জনগণ যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে সক্ষম হয়, তখনই তারা একে 'নিরাপত্তা ঝুঁকি' বলে অভিহিত করে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স

মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি।   রোববার দুপুরে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় নির্ধারিত অংশের বাইরে চলে যায়। বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট এগিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে ধাক্কা দেয়। পরে বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে পাশের সড়কে গিয়ে একটি গাড়িতেও আঘাত করে।   মায়ামি-ডেড শেরিফ রোজি কর্দেরো-স্টুটজ মঙ্গলবার নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেন। তারা হলেন ৫৫ বছর বয়সী রোলান্ডো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারানহো, ৭৫ বছর বয়সী হুলিও সি. পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাহার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেইস কেভেদো।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনই প্রফেশনাল ওশান সার্ভিস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। বিমান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানে তারা ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন।   দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটজনক। আরেকজনের অবস্থা স্থিতিশীল। বিমানে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটও আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনটিএসবি’র ৩২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল বিমানটির গতি, আবহাওয়া, বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।   তদন্তে বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। এসব রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের গতি, অবস্থান এবং ককপিটে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমান থামানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম বা ইমাস নেই। রানওয়ের শেষে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাটি দ্রুতগতির বিমানকে থামাতে সাহায্য করতে পারে।   তবে মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।   তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। তাই পাইলটের ভুল, আবহাওয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এখনই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যসহ তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:৪১
বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য

বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য

চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

চোখে সাধারণ চশমা, রেকর্ড হচ্ছে সবকিছু! মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন পুলিশ

মার্কিন সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নতুন নিয়মে ২০২৬ সালে ৬২ বছরে পৌঁছানো ব্যক্তিদের পূর্ণ অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭ বছর। ছবি: সংগৃহীত

‘বদলে গেছে অবসরের বয়স!’ ২০২৬ সালে মার্কিন সোশ্যাল সিকিউরিটিতে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় নজিরবিহীন ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব, খরচ ছাড়াতে পারে ২ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন করে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি এবং নতুন প্রস্তাবিত ফি—উভয়ই যদি একসঙ্গে কার্যকর হয়, তবে একজন বিদেশি কর্মীকে স্পন্সর করতে মার্কিন নিয়োগদাতাদের ২ লাখ ডলারেরও বেশি গুনতে হবে।   উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ছাড়প্রাপ্ত আবেদনসহ বার্ষিক কোটার আওতাধীন সকল এইচ-১বি পিটিশনের ক্ষেত্রেই এই নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। বিদ্যমান ফাইলিং ফি এবং অন্যান্য খরচের সঙ্গে সম্পূর্ণ অতিরিক্ত হিসেবে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করতে হবে নিয়োগদাতাদের।   এই প্রস্তাব মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর, বিশেষ করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ অনুমোদন যেহেতু ভারতীয় নাগরিকরাই পেয়ে থাকেন, তাই এই নিয়মের ফলে মার্কিন টেক জায়ান্টগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় পেশাজীবীরা আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।   ডিএইচএস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ফি-এর মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি ডলার রাজস্ব হিসেবে সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার ব্যয়ভার মেটাতে ব্যবহার করা হবে।   বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দফতর এবং শ্রম বিভাগের অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কাজের খরচও এই খাত থেকে নির্বাহ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি কর্মসূচি ঢেলে সাজানো এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ বাড়ানোর ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপেরই অংশ এই নতুন প্রস্তাব।   তবে নতুন এই ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ডিএইচএস প্রস্তাবটিকে একটি খসড়া নিয়ম হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত নিয়ম জারির পরই কেবল এটি বাস্তবায়িত হতে পারে। এদিকে, আগের ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে আইনি লড়াই চলছে।   আইনি এই জটিলতা এবং নতুন ফি-এর প্রস্তাব মিলে মার্কিন নিয়োগদাতা ও বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১২:৪৬
মিসিসিপির জ্যাকসন শহরের ব্রেন্টস ড্রাগস ডিনারে ট্যাপের পানির পরিবর্তে বোতলজাত ও গ্যালনের নিরাপদ পানি ব্যবহার করছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

‘বিশুদ্ধ পানি কোনো সাংবিধানিক অধিকার নয়!’ ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়

মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর চার মাসের কঠিন আইনি লড়াই শেষে আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন ব্রায়ান মোরালেস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হয়েও মেক্সিকোয় ডিপোর্ট! ৪ মাসের লড়াই শেষে দেশে ফিরলেন টেক্সাসের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে দরিদ্রদের জন্য নির্মিত হাজার হাজার সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট বর্তমানে খালি পড়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত

‘বাড়ি খালি, তবু গৃহহীন!’ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে দরিদ্রদের আবাসনে ভয়াবহ বৈষম্য

যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের নতুন ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বুলেটিনে সুখবর, বাংলাদেশিদের কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য একাধিক পরিবারভিত্তিক ও চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১, এফ-২এ, এফ-২বি, এফ-৩ ও এফ-৪ শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ এগিয়েছে। বাংলাদেশকে আলাদা কোনো দেশের তালিকায় রাখা হয়নি। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হয়েছে আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত নয় এমন দেশগুলোর সাধারণ শ্রেণির তারিখ।    আগস্টের তুলনায় এফ-১ শ্রেণিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে এগিয়ে ২২ জানুয়ারি ২০২০ হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৩ মাসের বেশি অগ্রগতি হয়েছে। এই শ্রেণিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত।   এফ-২এ শ্রেণিতেও অগ্রগতি হয়েছে। আগস্টে যেখানে তারিখ ছিল ২২ জুলাই ২০২৬, সেপ্টেম্বরে তা এগিয়ে হয়েছে ২২ আগস্ট ২০২৬। এই শ্রেণিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানরা অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেপ্টেম্বরের আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের তালিকায় এফ-২এ শ্রেণি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।    এফ-২বি শ্রেণিতে আগস্টের ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে তারিখ এগিয়ে ২২ আগস্ট ২০১৯ হয়েছে। এফ-৩ শ্রেণিতে ১৫ মে ২০১২ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১৪ এবং এফ-৪ শ্রেণিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে এগিয়ে ২২ অক্টোবর ২০১১ হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য কয়েক বছর পর্যন্ত অগ্রগতি দেখা গেছে।    চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পঞ্চম শ্রেণির সাধারণ অংশে সেপ্টেম্বরে ভিসা নম্বর পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ অপরিবর্তিত রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির তারিখ আগস্টের ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ হয়েছে।    তবে ভিসা বুলেটিনে তারিখ এগিয়ে যাওয়াকে সরাসরি ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। একজন আবেদনকারীর অগ্রাধিকারের তারিখ সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখের আগের হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।    এবারের বুলেটিনে কেন এত অগ্রগতি হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার হার কমে যাওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে অন্য দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকা ভিসা সংখ্যা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন অভিবাসী ভিসা শ্রেণির তারিখ এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে ভবিষ্যতে এসব তারিখ আবার পিছিয়েও যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, জানুয়ারি ২০২৬ সালে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর যে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল, আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে সেটি আর কার্যকর নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন।    সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ ইতিবাচক। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক একাধিক শ্রেণিতে অগ্রাধিকারের তারিখ কয়েক বছর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিজের অগ্রাধিকারের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির সর্বশেষ তারিখ মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১১:১৮
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৪০তম ফোবানার এজিএমে ২০২৮ সালের ৪২তম সম্মেলনের হোস্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বিএএম। ছবি: সংগৃহীত

২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানার আয়োজক মিশিগানের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিলের সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়ানোর কথা ভাবছেন রিপাবলিকানরা। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটি তহবিল সংকটে ট্যাক্স বাড়ানোর পক্ষে রিপাবলিকানরা

0 Comments