- প্রচ্ছদ
- Topic
বজ্রপাত
যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রপাতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের ছোট ভাইকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক তরুণ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বজ্রঝড়ের সময় তিনি ছোট ভাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিতে গিয়ে নিজেই বজ্রপাতের শিকার হন। তার এই আত্মত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার জানায়, দুই ভাই বাইরে অবস্থান করছিলেন যখন হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি ঘটে। বজ্রপাতের আশঙ্কা বুঝতে পেরে বড় ভাই ছোট ভাইকে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করেন এবং নিরাপদ স্থানে ঠেলে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত তার শরীরে আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে ছোট ভাই প্রাণে বেঁচে যান এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। নিহতের পরিবার বলেছে, তিনি সবসময় পরিবারের সবার নিরাপত্তাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিতেন। শেষ মুহূর্তেও তিনি সেই দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে একজন প্রকৃত নায়ক হিসেবে স্মরণ করছেন। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিহত তরুণের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে তাকে সাহস ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, বজ্রঝড় শুরু হলে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান, গাছের নিচে বা জলাশয়ের পাশে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বজ্রপাতের সময় দ্রুত কোনো নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের মাউন্ট ব্লু স্কাইয়ের চূড়ায় বজ্রপাতের হাত থেকে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির শেরিফ অফিস ও নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত ওই কিশোরের নাম লেভি স্ট্রবেল। রোববার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির জননিরাপত্তা সংস্থাগুলো মাউন্ট ব্লু স্কাইয়ের চূড়ায় বজ্রপাতের কারণে হতাহতের ঘটনার খবর পায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ক্লিয়ার ক্রিক ফায়ার অথরিটি, ক্লিয়ার ক্রিক ইএমএস, ডেনভার মাউন্টেন পার্ক, আলপাইন রেসকিউ টিম এবং ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টি শেরিফ অফিস। ডেনভার মাউন্টেন পার্কের রেঞ্জাররা তাৎক্ষণিকভাবে লেভিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও দুর্ভাগ্যবশত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ক্লিয়ার ক্রিক কাউন্টির করোনার অফিস নিহত কিশোরকে লেভি স্ট্রবেল হিসেবে শনাক্ত করে। শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় আহত লেভির ছোট ভাইকে 'ফ্লাইট ফর লাইফ কলোরাডো'র একটি হেলিকপ্টারে করে দ্রুত ডেনভার এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানা যায়নি। এক শোকবার্তায় স্ট্রবেল পরিবার জানিয়েছে, "মাউন্ট ব্লু স্কাইতে বজ্রপাতে আমাদের প্রিয় লেভির আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শেষ মুহূর্তে লেভি তার ছোট ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তার জীবনের চিরচেনা সাহস ও নিঃস্বার্থতার চরম উদাহরণ রেখে গেছে।" শেরিফ অফিস জানিয়েছে, দুই ভাই পাঁচজনের একটি দলের সঙ্গে পাহাড়ে হাইকিংয়ে গিয়েছিল। দলের অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন, তবে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল। কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।" ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বজ্রপাতে এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত সদস্যের নাম বিনীত কুমার দুবে (৪৬)। তিনি বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল ছিলেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলায়। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছিল। মিঠিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে টহল দেওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে। ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঙ্গা নদী পারাপারের সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তারা প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় বা নদীতে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও নদীপথে চলাচলকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় তা দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সময় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা স্থান, জলাশয় ও উঁচু গাছের নিচে অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।