সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিচারক

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিচারকদের নির্বাসন মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা বা ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার’ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক আদেশে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও রিপাবলিকান শাসিত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তি বহাল থাকল, যার মাধ্যমে বিচারকদের এই বহু পুরোনো ক্ষমতাটি বাতিল করা হয়েছিল।   বাল্টিমোরসহ তিনটি মার্কিন শহর এবং একটি অভিবাসী অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর করা জরুরি আবেদনটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এক বাক্যের আদেশে খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। আদেশের বিষয়ে কোনো বিচারপতি প্রকাশ্য ভিন্নমতও পোষণ করেননি।   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অভিবাসন বিচারকরা তাঁদের ওপর থাকা মামলার বাড়তি চাপ কমাতে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার’ বা প্রশাসনিক সমাপ্তি নামের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছিলেন। মূলত একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা পিটিশন বা ফৌজদারি সাজার আপিলের মতো অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন মামলা স্থগিত রাখা হতো।   তবে টেক্সাস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মতো সমালোচকদের দাবি, এই নিয়মের সুযোগ নিয়ে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান, যা একধরনের সাধারণ ক্ষমার মতো কাজ করে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রশাসন বিচারকদের মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে এই পদ্ধতিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি রূপ দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগ ঘোষণা দেয় যে তারা বাইডেন আমলের এই নিয়ম রক্ষায় আদালতে আইনি লড়াই চালাবে না।   এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুন টেক্সাস অঙ্গরাজ্য নিয়মটিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করে এবং একই দিন ট্রাম্প প্রশাসন ও টেক্সাস একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। উইচিটা ফলস-এর ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ রিড ও'কনর দ্রুত এই চুক্তি অনুমোদন করে বাইডেন আমলের নিয়মটিকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং দেশব্যাপী স্থায়ীভাবে তা বাতিল করেন।   এই আদেশের বিরুদ্ধে বাল্টিমোর, নিউ হ্যাভেন ও কলম্বাস—এই তিন শহর এবং আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রো লিগ্যাল দে লা রাজা আইনি লড়াইয়ে যুক্ত হতে চাইলেও বিচারক ও'কনর তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ফিফথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-ও এই চুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানায়।   সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া আবেদনে শহরগুলো অভিযোগ করেছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অপছন্দের একটি নিয়ম বাতিল করতে আদর্শগতভাবে সমমনা টেক্সাসের সঙ্গে যোগসাজশ করে ‘সাজানো মামলার’ মাধ্যমে ফেডারেল আইন এড়িয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগকে নির্বাচনে অননুমোদিত ভোট ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ
ভোটার তালিকা যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদ্ধতি বেআইনি ঘোষণা করলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক

ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগকে নির্বাচনে অননুমোদিত ভোট ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা পরিচালনা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়িত্ব এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, বিচার বিভাগ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের কাছে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা চেয়েছিল। এসব তালিকায় সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ও জন্মতারিখের মতো সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্য তথ্য দিয়েছে, অন্যরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে গেছে।   রায়ের তাৎপর্য শুধু নির্বাচনী প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং সরকারি তথ্যভান্ডারের ভুলের কারণে যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার যাচাইয়ের সব পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না; এটি নির্দিষ্ট সরকারি উদ্যোগ ও তার আইনি ভিত্তি নিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার পর ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক
আইসিইর কর্মকাণ্ডে আপত্তি তোলার ৪৮ ঘণ্টায় বরখাস্ত বিচারক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক ক্লোয়ি ডিলন অভিযোগ করেছেন, আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাসাইলামপ্রার্থীকে আটক করার ঘটনায় আইনি ও ডিউ প্রসেস নিয়ে উদ্বেগ জানানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এ অভিযোগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন।    ডিলন ২০২২ সালে সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টে বিচারক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে এক কিশোর অ্যাসাইলামপ্রার্থী তাঁর আদালতে হাজির হন। আইসিই তাঁর অ্যাসাইলাম মামলা বাতিল করে তাকে এক্সপেডাইটেড রিমুভাল প্রক্রিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিলন সেই পদক্ষেপে আপত্তি জানান এবং ওই ব্যক্তিকে আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেন।    এরপর আদালত থেকে বের হওয়ার পর আইসিই ওই কিশোরকে আটক করে বলে ডিলনের অভিযোগ। পরে তাঁর ফাইল পর্যালোচনা করে ডিলনের মনে হয়, ওই ব্যক্তি সম্ভবত একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর এবং তাকে সরাসরি এক্সপেডাইটেড রিমুভালে পাঠানো নিয়ে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। একই দিন তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ই-মেইল করে সম্ভাব্য আইন ও ডিউ প্রসেস লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ জানান।    ডিলনের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তিনি চাকরি থেকে বরখাস্তের নোটিশ পান। নোটিশে তাঁর চাকরি শেষ করার কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আর্টিকেল ২ উল্লেখ করা হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    ডিলন দাবি করছেন, তাঁর বরখাস্ত ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের প্রতিশোধ। মামলায় তিনি হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইন, প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী এবং অন্যান্য সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন প্রতিকার চেয়েছেন।    মামলাটি ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ৩:২৬-cv-10143 এবং বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, সির্স ওয়েন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।    তবে বিচার বিভাগ ডিলনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিওজির একজন মুখপাত্র অভিযোগটিকে “patently false” বা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চলমান মামলা ও কর্মীসংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণত মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে বিভাগটি।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কোর্ট ব্যবস্থায় চলমান বড় পরিবর্তনের মধ্যেই সামনে এসেছে। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ১২০ জনের বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে বলে বিচারকদের ইউনিয়ন দাবি করেছে। তবে বরখাস্তের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব রয়েছে।    ডিলনের মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইসিইর করা ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন সবসময় অনুমোদনের বিষয়ে বিচারকদের ওপর চাপ ছিল। ডিলনের দাবি, তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নজরে রাখছে। এটি অবশ্য মামলার অভিযোগ - আদালত এখনো এসব দাবি সত্য বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি।    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্ট ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানকার মামলাগুলো অন্য আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডিলনের মামলাটি তাই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত, আইসিইর ইনফোর্চমেন্ট এবং বিচারকদের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন আটকে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান। বুধবার মেরিল্যান্ডের এই বিচারক আদেশটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।    ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। এতে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর পাশাপাশি বিদেশি সরকারের কর্মী, ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়।    এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বা সাময়িক ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সেই উদ্যোগ অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যাত হয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিক।    নতুন আদেশের ক্ষেত্রেও বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে যেসব শিশুকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন আদেশ “প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক”।    বোর্ডম্যানের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওই শ্রেণির শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার বা স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন কীভাবে আদেশটি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।    ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, নতুন আদেশটি আগেরটির তুলনায় অনেক সীমিত এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই মামলাটি এখনই বিবেচনা করা উচিত নয়। বিচারক অবশ্য সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদনের সময় বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্টাটাস-এর প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন নির্বাহী আদেশটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
আসমা আলী, মিসিসিপির একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
বৈধ অভিবাসীর পক্ষে রায় দিল মার্কিন আদালত
ডিপোর্টেশনের কাগজে জোর করে সই করিয়েছে আইসিই, বৈধ অভিবাসীর পক্ষে রায় দিল মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করা এক অভিবাসীকে জোরপূর্বক ডিপোর্টেশনের কাগজে সই করানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। একই সঙ্গে ওই তরুণকে মুক্তির নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, আইসিই কর্মকর্তাদের আচরণে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।    আদালতের নথি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং টোঙ্গান বংশোদ্ভূত ২০ বছর বয়সী কর্নেলিয়াস কাইহাউ হোলানি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করে সান ফ্রান্সিসকোর একটি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তাকে এমন একটি নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা পরে সরকার তার ডিপোর্টেশনের অধিকার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ত্যাগ হিসেবে উপস্থাপন করে।    নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতের বিচারক নোয়েল ওয়াইজ তার তিন পৃষ্ঠার আদেশে বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হচ্ছে আইসিই কর্মকর্তারা জোরপূর্বক ওই স্বাক্ষর নিয়েছেন। ফলে হোলানির যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।  বিচারক আরও নির্দেশ দেন, মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলাকালে হোলানিকে মুক্তি দিতে হবে। আদালত উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা পূর্বে অভিবাসন আইন ভঙ্গের ইতিহাস পাওয়া যায়নি।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্যে এটি নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসীদের পর্যাপ্ত আইনি পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়।    তবে এই মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে কী যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি এখনো শেষ হয়নি। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০