সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভিডিও

বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও রেকর্ড করা বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের সময় উড়োজাহাজে ওঠার যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচনায় আসা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তাহসিফ গত ২৭ অক্টোবর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বসবাস করতেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ভিডিওটির সঙ্গে কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।   তাহসিফের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র। মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: দি ডেইলি স্টার

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আটককৃতরা ছবি:সংগৃহীত।
লিবিয়ায় প্রবাসীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২জন

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৫৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার জন্য লিবিয়ার ত্রিপোলিতে থাকতেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় বাসার সামনে থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত একটি ভবনে আটকে রাখা হয় এবং তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।    পিবিআই জানায়, অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধর করে সেই দৃশ্য ইমো ভিডিও কলের মাধ্যমে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে দেখানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই অর্থ পাঠান ফাতেমা।    অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পরও ইদ্রিসকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পিবিআই বলছে, এ সময় লোহার রড দিয়ে মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে মাত্র একটি রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পরিবার পরে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও অর্থ পাঠায়। পিবিআইয়ের হিসাবে, সব মিলিয়ে পরিবারটির কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। প্রায় এক মাস ১৪ দিন আটকে রাখার পর ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি ২০২৫ সালের ২২ জুলাই দেশে ফেরেন।    দেশে ফিরে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ইদ্রিস। তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মর্জিনা বেগম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পিবিআই জানিয়েছে, মর্জিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   পিবিআইয়ের ভাষ্য, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যারা লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান চলছে। 

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লোডশেডিংয়ের ভিডিও করে চাকরি হারানো সুমনের নতুন পেশা
লোডশেডিংয়ের ভিডিও করে চাকরি হারানো সুমনের নতুন পেশা, ৩ ঘণ্টায় আয় ২ হাজার

লোডশেডিংয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় আসা মাদারীপুরের বিদ্যুৎকর্মী সুমন হোসেন চাকরি হারানোর পর নতুন পেশা বেছে নিয়েছেন। নতুন কাজে মাত্র তিন ঘণ্টায় ২ হাজার টাকা আয় করার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।   সুমন হোসেন ‘বিদ্যুৎ প্রতিদিন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করতেন। তার দাবি ছিল, বিদ্যুৎ অফিস কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে, তা সাধারণ মানুষকে বোঝানো এবং বিদ্যুৎ অফিস ও কর্মীদের ওপর ক্ষোভ থেকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোই ছিল তার উদ্দেশ্য।   তবে এসব ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েন বলে জানান। পরে ১২ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাদারীপুরের মিঠাপুকুর স্টেশনে লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে কর্মরত ছিলেন।   চাকরি হারানোর পর নিজের নতুন কর্মজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সুমন। সেখানে তিনি জানান, নতুন পেশায় মাত্র তিন ঘণ্টা কাজ করেই ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তবে নতুন পেশাটি কী, তার বিস্তারিত তথ্য নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।   এর আগে চাকরি হারানোর পর দেওয়া এক পোস্টে সুমন নিজের তৈরি ভিডিও নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকদের বোঝানো যে বিদ্যুৎ অফিসগুলো কীভাবে লোডশেডিং পরিচালনা করে। কিন্তু ভিডিওটি বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় পরিস্থিতি তার ধারণার বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।   সুমন আরও জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না। চাকরি হারানোর পর নতুন পেশায় তার এই আয়ের দাবি ফের তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান
মার্কিন সেনাদের ফোনের ভিডিওতেই গোপন তথ্যপাচ্ছে ইরান! ফোন ব্যাবহারে কড়াকড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার আরও সীমিত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। কারণ, সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ইরানকে মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান, হামলার ফলাফল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে সহায়তা করছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।    চিঠিতে অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ব্যবহার করে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করতে পারছে। এতে পরবর্তী হামলা আরও নিখুঁতভাবে চালানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন সেনা ও মিত্র দেশগুলোর বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটিতে মোতায়েন সেনাদের কাছ থেকে শিগগিরই মোবাইল ফোন জমা নেওয়া হতে পারে। যদিও সেন্টকম এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেনি। তাদের ভাষ্য, এটি মূলত সেনাদের অপারেশনাল নিরাপত্তা (অপসেক) আরও জোরদার করার একটি সতর্কবার্তা।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় এক মার্কিন সেনা মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে কুপার উল্লেখ করেন, এ ধরনের ভিডিও থেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু, সেনাদের আশ্রয়স্থল এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।   মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধক্ষেত্রে মোবাইল ফোন, জিপিএস তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেনা সদস্যদের অনলাইন কার্যক্রম প্রতিপক্ষের জন্য গোয়েন্দা তথ্যের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ড. ফেরদৌস সালেহীনের লেখা সূরা আল-ফাতিহার তাফসির ও জীবনের প্রতিফলনবিষয়ক নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন বা উপস্থাপনা। ছবি: সংগৃহীত

সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি

অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০