সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভারমন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে ভারমন্ট বাদ পড়ায় বিতর্ক
জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে গিয়ে মানচিত্রের ভুলে সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ করতে গিয়ে একটি অঙ্গরাজ্যই বাদ পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) প্রকাশিত গ্রাফিকে। মানচিত্রে ভারমন্টকে খুঁজে না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ জানতে চেয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটি কোথায়, আবার কেউ ধারণা করছেন, গ্রাফিকটি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।   চলতি সপ্তাহে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ। এ উপলক্ষে বিভাগের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি গ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। পোস্টের সঙ্গে জানানো হয়, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য আমেরিকানদের জ্বালানি ব্যয় কমানো। কিন্তু পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসে মানচিত্রের একটি বড় ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশ দেখানো হলেও ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যটি গ্রাফিকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিষয়টি নিয়ে এক্সে কমিউনিটি নোটও যুক্ত করা হয়, যেখানে সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন তোলা হয়—‘ভারমন্ট কোথায়?’ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই একই প্রশ্ন করেন। কেউ মানচিত্রে অঙ্গরাজ্যটির অনুপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ গ্রাফিক তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জানান। কয়েকজন ব্যবহারকারী ধারণা করেন, এআই দিয়ে মানচিত্রটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্রাফিকটি তৈরিতে সত্যিই এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মানচিত্রে ভারমন্ট বাদ পড়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। কেন এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল মানচিত্রটি প্রকাশের পেছনে ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা। গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা করে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৬৩টি জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে ৬১টি আদিবাসী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।   প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে যেসব আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি কিছু বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক গরম রাখার ব্যবস্থা চালু করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড়ের তুলনায় আদিবাসী পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। দেশটিতে আনুমানিক ১৭ হাজার আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব সমস্যা কমানো এবং জ্বালানির সুবিধা বাড়ানোই প্রকল্পগুলোর অন্যতম লক্ষ্য। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্প বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আনলিশিং আমেরিকান এনার্জি’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত গ্রাফিকটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কতটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। আলাস্কা ও ওকলাহোমায় প্রকল্পের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মানচিত্রে ভারমন্টের অনুপস্থিতি বিনিয়োগের মূল ঘোষণা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে গ্রাফিকের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সরকারি গ্রাফিকে ভুলের ঘটনা নতুন নয় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত সরকারি উপকরণে ভুল ধরা পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের পদবি লেখা একটি ফলকে বানান ভুল দেখা যায়। সেখানে ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখার জায়গায় ‘এসসেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখা হয়েছিল। ভুলটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তা নিয়ে বিদ্রূপ করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি উপস্থাপনায় আফ্রিকার মানচিত্রেও বড় ধরনের ভুল দেখা যায়। সেখানে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল। পরে রয়টার্সের বিশ্লেষণে মানচিত্রটিতে ওপেনএআইয়ের সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতবাহী এআই ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়। পররাষ্ট্র দপ্তর ওই উপস্থাপনার কারণে বিভ্রান্তি তৈরির দায় স্বীকার করে।   এ ছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি নথিতেও বানান ভুল নজরে আসে। সেখানে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ লেখার পরিবর্তে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনিতেস স্টেটস’ লেখা হয়েছিল। ভারমন্ট বাদ পড়ার ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তবে সরকারি ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে এমন ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি বিভাগের ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্বালানি সুবিধা বাড়ানো ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা। কিন্তু গ্রাফিকের ভুলের কারণে এখন আলোচনায় এসেছে সরকারি তথ্যচিত্র তৈরির নির্ভুলতা ও প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের খামারভিত্তিক স্কুলে গরু পালন ও ফসল ফলিয়ে পড়াশোনার খরচ প্রায় ৪০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টে একটি আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞানের ক্লাস করার পাশাপাশি ভুট্টা তোলে, পশুর যত্ন নেয়, বাসন ধোয়। মিল্টন একাডেমির অধিভুক্ত মাউন্টেন স্কুলে ২০২৬ সালের শরৎ ও ২০২৭ সালের বসন্ত সেমিস্টারের নির্ধারিত ফি ৩৯ হাজার ৭৫০ ডলার। খামারের কাজ ও উচ্চ ফি নিয়ে ৩ অক্টোবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   ভারমন্টের ভারশায়ারে ৪১৮ একর জায়গাজুড়ে স্কুলটির কার্যক্রম। দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সেখানে একটি সেমিস্টার পড়তে পারে; অধিকাংশই একাদশ শ্রেণির। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রচলিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খামার, বন ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।   শিক্ষার্থীরা সাধারণত সপ্তাহে প্রায় আট ঘণ্টা খামারের কাজে অংশ নেয়। ফসল তোলা, ভেড়া ও গরুর দেখাশোনা এবং কাঠ কাটার পাশাপাশি রান্নাঘর ও শ্রেণিকক্ষের কাজও ভাগ করে করতে হয়। একই সময়ে অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট বা এপি ক্যালকুলাসের মতো বিষয় পড়ার সুযোগ থাকে। ফলে প্রায় ৪০ হাজার ডলার শুধু কৃষিকাজ শেখার ফি নয়; এটি পূর্ণ আবাসিক শিক্ষাক্রমের নির্ধারিত খরচ।   স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফি থেকে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম, শিক্ষা সফর, বই, পাঠ্য উপকরণ ও দলগত কর্মসূচির ব্যয় মেটানো হয়। তবে যাতায়াতের খরচ পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনে বাইরে ব্যবহারের সরঞ্জাম স্কুল থেকে ধার নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।   পূর্ণ ফি সব পরিবারকে দিতে হয় না। মাউন্টেন স্কুল আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেয়, যা ফেরত দিতে হয় না। স্কুলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভর্তি মৌসুমে গৃহীত শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশকে এমন সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে স্কুলটির পরিচালকের দেওয়া হিসাবে, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা পায়।   খামারে কাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি রয়েছে। সেমিস্টারের শুরুতে তাঁদের ফোন জমা দিতে হয়; ল্যাপটপ মূলত পড়াশোনার জন্য ব্যবহার করা যায়। কয়েক দিনের প্রকৃতিনির্ভর একক ভ্রমণও কর্মসূচির অংশ। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব অভিজ্ঞতার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের নিজের কাজের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে শেখানো।   কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আশা করেন, ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা কলেজে ভর্তির আবেদনে কাজে আসবে। স্কুলও আবেদন ও প্রবন্ধ লেখায় পরামর্শ দেয়। তবে ভর্তি পরামর্শক অ্যাডাম নগুয়েন বলেছেন, শুধু ব্যয়বহুল একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কলেজে বাড়তি সুবিধার নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষার্থীর নিজের আগ্রহ ও শেখার লক্ষ্যটির সঙ্গে কর্মসূচির সম্পর্ক থাকাই তাঁর মতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: মাউন্টেন স্কুলের ফি ও কর্মসূচির তথ্য।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্টে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি করার ঘটনায় হামলাকারী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন নাগরিক

২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর ভারমন্টের বার্লিংটনে ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিতে হিশাম আওয়ারতানি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে কোমর থেকে নিচের অংশের চলাচলের ক্ষমতা হারান। তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদালহামিদও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।   মামলার বিচার চলে এক সপ্তাহ ধরে। এতে তিন ভুক্তভোগী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাক্ষ্য দেন। সোমবার কয়েক ঘণ্টার পরিবর্তে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর জুরি রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন এবং স্বজন ও সমর্থকদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান।   ইটন গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তার আইনজীবীরা মূলত দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে তার কাজের অপরাধমূলক চরিত্র বোঝার সক্ষমতা ছিল না। প্রতিরক্ষা পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফাবিয়ান সালেহর মতে, ইটন ভ্রান্ত ধারণাজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার বিশ্বাস ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকে এফএম রেডিও ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি নির্দেশনা পাচ্ছেন।   ইটনের আইনজীবীরা আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন তাকে একটি ইহুদি পরিবারের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ঈশ্বরও তাকে কাজটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, এই মানসিক অবস্থার কারণে ইটন নিজের কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি ও অপরাধমূলক চরিত্র যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি।   তবে প্রসিকিউশন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। তাদের বিশেষজ্ঞ ডা. জিলাম বিসওয়াস আদালতে বলেন, ইটনের গুরুতর মানসিক রোগের পূর্বনির্ণয়ের রেকর্ড ছিল না এবং ঘটনার সময় তিনি আইনগতভাবে উন্মাদ ছিলেন না। প্রসিকিউশনের যুক্তি ছিল, তার কর্মকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পরিস্থিতিগত কারণ থাকলেও সেগুলো আইনগতভাবে উন্মাদনার প্রতিরক্ষার মানদণ্ড পূরণ করে না।   ঘটনার দিন তিন শিক্ষার্থী থ্যাংকসগিভিং ছুটিতে বার্লিংটনে ছিলেন। তারা হিশাম আওয়ারতানির দাদি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর তারা ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের কাছে হাঁটছিলেন এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষায় কথা বলছিলেন। তাদের দুজনের গলায় ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ ছিল। আদালতে তারা জানান, ইটন কোনো কথা না বলে তাদের দিকে এগিয়ে এসে পিস্তল বের করে গুলি চালান।   পুলিশ পরে ইটনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি রুগার পিস্তলসহ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গুলির খোসার সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের মিল পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনের তথ্যও তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকার সঙ্গে যুক্ত করে বলে প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরে।   হামলার পর ঘটনাটি সম্ভাব্য বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। তবে ইটনের বিরুদ্ধে আলাদা কোনো বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের ফিলিস্তিনি পরিচয়ের সঙ্গে হামলার সম্পর্ক থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ইটনের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরাও দীর্ঘদিন ধরে হামলাটিকে ফিলিস্তিনি পরিচয়ের কারণে সংঘটিত বলে মনে করে আসছেন। তবে আদালতে যে অভিযোগে বিচার হয়েছে, তা ছিল হত্যাচেষ্টা।   এই হামলার সময় গাজা যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে আরব, মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। তিন শিক্ষার্থীই রামাল্লায় বড় হয়েছেন এবং পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। হামলার পর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   রায়ের পর ইটনকে সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতিটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগে ন্যূনতম ২০ বছর করে কারাদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ভারমন্ট পাবলিক, আল জাজিরা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গু লি, দুই বছর পর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হা মলাকারী
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গু লি, দুই বছর পর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হা মলাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে জেসন ইটন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। সোমবার আসামিপক্ষের 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার' দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের থ্যাংকসগিভিং ছুটির পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় ওই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হিশাম আওয়ারতানি কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদুল হামিদ গুরুতর আহত হন।   হামলাকারী জেসন ইটন নিজে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিআইএ ও মোসাদের নির্দেশে এমন কাজ করেছেন বলে তার ভ্রম হয়েছিল। তবে সপ্তাহব্যাপী বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের ডাকা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং আহত তিন তরুণের জবানবন্দি গ্রহণের পর জুরি বোর্ড আসামির ওই যুক্তি খারিজ করে দেয়।   হামলার শিকার ওই তিন তরুণ শৈশবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঘটা এই হামলার ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং একে 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   তবে বিচার শেষে রায় ঘোষণার সময় আসামিকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে গ্যালারির সামনের সারিতে বসে থাকা আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ইটনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০