জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে গিয়ে মানচিত্রের ভুলে সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ করতে গিয়ে একটি অঙ্গরাজ্যই বাদ পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) প্রকাশিত গ্রাফিকে। মানচিত্রে ভারমন্টকে খুঁজে না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবহারকারীরা। কেউ জানতে চেয়েছেন, অঙ্গরাজ্যটি কোথায়, আবার কেউ ধারণা করছেন, গ্রাফিকটি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।
চলতি সপ্তাহে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ। এ উপলক্ষে বিভাগের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের একটি গ্রাফিক প্রকাশ করা হয়। পোস্টের সঙ্গে জানানো হয়, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়নে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য আমেরিকানদের জ্বালানি ব্যয় কমানো।
কিন্তু পোস্টটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসে মানচিত্রের একটি বড় ভুল। যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশ দেখানো হলেও ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যটি গ্রাফিকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বিষয়টি নিয়ে এক্সে কমিউনিটি নোটও যুক্ত করা হয়, যেখানে সংক্ষিপ্তভাবে প্রশ্ন তোলা হয়—‘ভারমন্ট কোথায়?’
পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই একই প্রশ্ন করেন। কেউ মানচিত্রে অঙ্গরাজ্যটির অনুপস্থিতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ গ্রাফিক তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ জানান। কয়েকজন ব্যবহারকারী ধারণা করেন, এআই দিয়ে মানচিত্রটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে গ্রাফিকটি তৈরিতে সত্যিই এআই ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে মানচিত্রে ভারমন্ট বাদ পড়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
কেন এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল
মানচিত্রটি প্রকাশের পেছনে ছিল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা। গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা করে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে পরিচালিত ৬৩টি জ্বালানি প্রকল্পের জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি কেন্দ্রীয় তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি অঙ্গরাজ্যে বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে ৬১টি আদিবাসী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে যেসব আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি কিছু বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক গরম রাখার ব্যবস্থা চালু করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড়ের তুলনায় আদিবাসী পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। দেশটিতে আনুমানিক ১৭ হাজার আদিবাসী পরিবারের বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব সমস্যা কমানো এবং জ্বালানির সুবিধা বাড়ানোই প্রকল্পগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্প বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আনলিশিং আমেরিকান এনার্জি’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশিত গ্রাফিকটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কতটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। আলাস্কা ও ওকলাহোমায় প্রকল্পের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু মানচিত্রে ভারমন্টের অনুপস্থিতি বিনিয়োগের মূল ঘোষণা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে গ্রাফিকের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সরকারি গ্রাফিকে ভুলের ঘটনা নতুন নয়
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত সরকারি উপকরণে ভুল ধরা পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের পদবি লেখা একটি ফলকে বানান ভুল দেখা যায়। সেখানে ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখার জায়গায় ‘এসসেক্রেটারি অব ওয়ার’ লেখা হয়েছিল। ভুলটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তা নিয়ে বিদ্রূপ করেন।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি উপস্থাপনায় আফ্রিকার মানচিত্রেও বড় ধরনের ভুল দেখা যায়। সেখানে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশের অবস্থান ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল। পরে রয়টার্সের বিশ্লেষণে মানচিত্রটিতে ওপেনএআইয়ের সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হওয়ার ইঙ্গিতবাহী এআই ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়। পররাষ্ট্র দপ্তর ওই উপস্থাপনার কারণে বিভ্রান্তি তৈরির দায় স্বীকার করে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি নথিতেও বানান ভুল নজরে আসে। সেখানে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ লেখার পরিবর্তে ‘প্রেসিডেন্ট অব দ্য ইউনিতেস স্টেটস’ লেখা হয়েছিল।
ভারমন্ট বাদ পড়ার ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত এআই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তবে সরকারি ঘোষণার সঙ্গে প্রকাশিত একটি মানচিত্রে এমন ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জ্বালানি বিভাগের ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের জ্বালানি সুবিধা বাড়ানো ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা। কিন্তু গ্রাফিকের ভুলের কারণে এখন আলোচনায় এসেছে সরকারি তথ্যচিত্র তৈরির নির্ভুলতা ও প্রকাশের আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসা থাকার পরও কোনো ঘটনায় গ্রে প্তার হলে ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন আইনি ও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে পারেন বিদেশি নাগরিকেরা। পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে দেশটির ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখেও পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশি ভিসাধারীদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় সম্ভাব্য এসব পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি গ্রে প্তার হলে তাঁর মার্কিন ভিসা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও ভবিষ্যতে প্রবেশের যোগ্যতা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে। তবে শুধু গ্রে প্তার হওয়ার কারণেই সবার ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন নয়। অভিযোগের ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভিসাধারীদের পাশাপাশি দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা কিংবা অস্থায়ী কাজের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত মেনে চলতে হয়। দেশটিতে অবস্থানকালে কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে তার প্রভাব ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি ভিসা ও ভবিষ্যৎ ভ্রমণের ওপরও পড়তে পারে। এর আগে ১০ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি সতর্কবার্তায় শারীরিক হামলা, চুরি, ডাকাতি কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্যের স্থানে প্রবেশের মতো ঘটনায় জড়িত হওয়ার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জানিয়েছিল মার্কিন দূতাবাস। এসব ঘটনায় ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্যতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থানীয় আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভ্রমণের অনুমতি পাওয়া মানেই দেশটির সব আইন ও নিয়মের বাইরে থাকার সুযোগ নয়। তাই ভিসাধারীদের নিজ নিজ ভিসার শর্ত, অনুমোদিত কার্যক্রম এবং অবস্থানের মেয়াদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। মার্কিন ভিসা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। দেশটির বিমানবন্দর বা স্থলসীমান্তে পৌঁছানোর পর কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি ও অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ করেন। একইভাবে ভিসার বৈধতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিবাসনগত অনুমতি এক বিষয় নয়। এ কারণে ভিসা বাতিল হলেই কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। কোনো ব্যক্তির অবস্থান, আইনি পরিস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করে। ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর অতীত আইনি রেকর্ড ও অভিবাসনসংক্রান্ত ইতিহাস বিবেচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ভিসার আবেদনে প্রতারণার মতো কারণে কেউ ভিসা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের অযোগ্যতা দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ীও হতে পারে। তবে সব ধরনের অভিযোগ বা গ্রে প্তারের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অভিযোগের প্রকৃতি, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই কোনো আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে নিজের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নির্দিষ্টভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা নিয়েও সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাস। ভিসায় অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া কিংবা বৈধ অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভিজিট ভিসায় যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাঁদের অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করা থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হলে নিজের ভিসা ও অভিবাসনগত অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ সতর্কবার্তার মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কিংবা অবস্থানের সময় দেশটির আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। বৈধ ভিসা থাকলেও আইনগত পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে ভ্রমণের সুযোগে প্রভাব পড়তে পারে—তাই ভিসাধারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা
জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে গিয়ে মানচিত্রের ভুলে সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন
ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু, জ্বলন্ত গাড়িতে আটকে ছিলেন সবাই
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যেই তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাম বাড়ার কারণে চালকদের বাড়তি খরচের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে—এমন সতর্কতা তাঁর উপদেষ্টারা দিলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সমালোচনার আশঙ্কা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না। জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানার মতো তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসছে। ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। তবে উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনামূলক শিরোনাম হতে পারে। মানুষ যখন জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে, তখন প্রেসিডেন্ট তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন—এমন সমালোচনা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, এসব নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনছেন। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনার সঙ্গে বর্তমান জ্বালানির দাম ও আগের সময়ের সর্বোচ্চ দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দেশটিতে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ২৯ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক মাসে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এক বছর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ০৬ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় এখন চালকদের প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ২৩ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যান্য জ্বালানির দামও চালকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৫ অক্টোবর মধ্যম মানের পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৮০ ডলার। উন্নত মানের পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২০ ডলার। ডিজেলের গড় দাম পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ ডলারে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফার জন্য এটি যেন একটি সফল প্রেসিডেন্সি। তাঁর মন্তব্যে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভ এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত এক জরিপে ৭৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। বিপরীতে ২৪ শতাংশ ভোটার তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৭ শতাংশ ট্রাম্পের জ্বালানির দাম সামলানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। একই মত দিয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের ৪২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিজের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী কোম্পানি ও তেলসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যগুলো বেশি আয় করতে পারে। তবে সেই সুবিধা সব সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল, ডিজেল ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের আয় বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, পাম্পে জ্বালানির দাম আবার কমবে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সময় জাতীয় গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি জলতীরবর্তী পার্কে অগভীর কবর থেকে এক নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফার রকওয়ে এলাকার রকওয়ে কমিউনিটি পার্কে মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিচ ৫৮তম স্ট্রিট ও আলমেডা অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি স্থানে মাটির নিচে চাপা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ওই নারীকে অচেতন ও কোনো সাড়া না দেওয়া অবস্থায় পায়। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় ছিল। তবে ওই নারী কত দিন আগে মারা গেছেন, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিংবা কীভাবে তাঁকে সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের ফল থেকে মৃত্যুর সময় ও কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর পরিচয় ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল রকওয়ে কমিউনিটি পার্ক কুইন্সের ফার রকওয়ে এলাকায় অবস্থিত একটি বড় পার্ক। প্রায় ২৫৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত পার্কটির একাংশ জ্যামাইকা উপসাগরের তীরঘেঁষা। জনসাধারণের ব্যবহারের এই পার্কে অগভীর কবরের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, কিংবা মরদেহটি অন্য কোথাও থেকে এনে সেখানে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখনো ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে। ময়নাতদন্তের ফল ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’